খুঁজুন
                               
, ,
           

শ্রীপুরে গুলি ছুড়ে প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩ কোটি টাকা লুট

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে গুলি ছুড়ে প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩ কোটি টাকা লুট

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে গুলি করে তিন কোটি টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাপক হিমেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রাইভেটকারচালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় গজারি বনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাইভেটকারচালক লাল মিয়া ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের চার কোটি টাকা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নরসিংদী থেকে প্রাইভেটকারে করে নেওয়া হচ্ছিল। গাড়িটি শ্রীপুরের কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গুলি ছুড়ে গাড়িটির গতিরোধ করেন।

এ সময় হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাপক হিমেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে দুর্বৃত্তরা টাকা ভর্তি তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই দুটি বস্তায় তিন কোটি টাকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে চালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদও আহত হন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, টাকা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ছাগল-ঘরের টাকায় শুরু, রায়হানের সাফল্যগাথা

নীলফামারী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
ছাগল-ঘরের টাকায় শুরু, রায়হানের সাফল্যগাথা

একসময় অভাবের কারণে ঠিকমতো খাবার জুটত না। পড়াশোনার খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হতো। সেই দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন নিয়ে মায়ের দুটি ছাগল ও বাবার একটি টিনের ঘর বিক্রির টাকায় পুরোনো কম্পিউটার কিনেছিলেন রায়হান মিয়া। সেই কম্পিউটারই বদলে দিয়েছে তাঁর জীবনের গতিপথ। ফ্রিল্যান্সিং করে এখন তিনি কোটিপতি। গড়েছেন তিনতলা বাড়ি, কিনেছেন জমি ও গাড়ি। শুধু নিজের ভাগ্য বদলেই থেমে থাকেননি, গ্রামের তরুণদেরও বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের পারেরহাট গ্রামের রায়হান মিয়ার বয়স এখন ৩৩ বছর। ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। তাঁর বাবা অলিয়ার রহমানের পক্ষে অভাবের সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো কঠিন ছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন রায়হান।

অভাবের সংসার থেকে ঢাকায় পড়াশোনা
২০০৭ সালে এসএসসি পাস করার পর কম্পিউটার বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন রায়হান। সেখানে কম্পিউটার বিভাগে পড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন। অনেক সময় টিউশনির আয় দিয়েও প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ত। কখনো কখনো খাবার জোগাড় করাও ছিল তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আর্থিক সংকট তাঁকে থামাতে পারেনি। কম্পিউটার ও প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ থেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু কাজ শেখার পর নিজের একটি কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য ছিল না।

মায়ের ছাগল ও বাবার ঘর বিক্রির টাকা
২০১১ সালে ডিপ্লোমা শেষ করে বাড়ি ফেরেন রায়হান। তখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শুরু করতে একটি কম্পিউটার কেনা জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে সেই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ছেলের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন মা ময়না বেগম। নিজের দুটি ছাগল বিক্রি করে ছয় হাজার টাকা দেন তিনি। অন্যদিকে বাবা অলিয়ার রহমান তিনটি টিনের ঘরের একটি বিক্রি করে পান ২০ হাজার টাকা। মা-বাবার দেওয়া মোট ২৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরোনো কম্পিউটার কেনেন রায়হান। সেই কম্পিউটার নিয়েই শুরু হয় তাঁর ফ্রিল্যান্সিংয়ের যাত্রা। সীমিত সুযোগ-সুবিধা আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত কাজ শেখা ও দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি।

প্রথম কাজেই বাড়তি ১০০ ডলার
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক গ্রাহকের কাছ থেকে ৪৮০ ডলারের একটি কাজ পান রায়হান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করায় গ্রাহক তাঁকে অতিরিক্ত ১০০ ডলারও দেন। প্রথম কাজের এই অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। রায়হানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্কে তাঁর মোট আয় চার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মাসে তাঁর আয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। একসময় যে পরিবারের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজন মেটানো কঠিন ছিল, সেই পরিবারে এখন আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয়ে তিনি তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন, জমি ও গাড়িও কিনেছেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি গড়েছেন খামার
অনলাইন কাজের পাশাপাশি কৃষি ও খামারভিত্তিক উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছেন রায়হান। মাছ চাষের পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খামারে বর্তমানে ৩৫টি গাভি রয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। এ ছাড়া নিজ গ্রামে একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানাও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। নিজের আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন রায়হান।

তরুণদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ
নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন ২০১৮ সালে। ওই বছর ‘সাদিয়া আইটি ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করে গ্রামের তরুণদের বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন তিনি। রায়হানের দাবি, তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েকজন তরুণ এখন মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। তাঁদের একজন রিপন হোসেন জানান, রায়হানের দেওয়া প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা তাঁকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে পেয়েছেন পুরস্কার
ফ্রিল্যান্সিং খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২৩ সালে রাইজিং ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন রায়হান। নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, পরিবারের ত্যাগ ও নিজের পরিশ্রম তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এখন তাঁর লক্ষ্য, নিজের সাফল্যের পাশাপাশি আরও তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাঁদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা। মায়ের দুটি ছাগল ও বাবার একটি ঘর বিক্রির টাকায় কেনা পুরোনো কম্পিউটার থেকে শুরু হওয়া রায়হানের এই পথচলা এখন অনেক তরুণের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

চা পাতার বদলে বাঁশপাতা, চমক দুই শিক্ষার্থীর

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চা পাতার বদলে বাঁশপাতা, চমক দুই শিক্ষার্থীর

চা তৈরির জন্য সাধারণত চা গাছের পাতার কথাই সবার আগে মনে আসে। তবে চায়ের বিকল্প উপাদান হিসেবে বাঁশপাতা ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুই শিক্ষার্থী। বাঁশপাতা থেকে পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ের এক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তাঁরা।

বিজয়ী দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মাইদুল ইসলাম মাহিদ ও আজিজুল ইসলাম। তাঁদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে এক লাখ টাকার তহবিল। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ২৩৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁরা এ সাফল্য অর্জন করেন।

২৩৯ দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সেরা
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁশপাতার সম্ভাবনাময় ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন মাইদুল ইসলাম মাহিদ। পরে সহপাঠী আজিজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেন তিনি।

প্রাথমিক বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁরা বুটক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে নিজেদের ব্যবসায়িক ধারণা আরও পরিমার্জন করে চূড়ান্ত পর্বে উপস্থাপন করেন। শেষ পর্যন্ত ২৩৯টি দলের মধ্যে তাঁদের ধারণাটি বিচারকদের কাছে সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ইউনিলিভার, গ্রিন ভয়েস, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

বাঁশপাতার গুণাগুণ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা
মাইদুল ইসলাম মাহিদ বলেন, বাংলাদেশে বাঁশপাতা ব্যবহার করে চা উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা চিন্তাভাবনা করছিলেন। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আজিজুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন। পরে নির্বাচিত হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি আরও বলেন, বাঁশ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। বাঁশপাতায় সিলিকা, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা পরিবেশবান্ধব চা বাজারে আনতে চান।

বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রয়োজন গবেষণা
উদ্যোক্তাদের ধারণা, বাঁশপাতার চা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের জন্য বিকল্প পানীয় হিসেবে বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বাঁশপাতার চায়ের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং নিয়মিত পান করার নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের উপযোগিতা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও যাচাই করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অর্জনে গর্বিত বিভাগ
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবান্ধব চা তৈরির উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করায় বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের এই গৌরবময় অর্জন বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। বাঁশপাতা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রচলিত চায়ের বাইরে নতুন একটি বিকল্প পণ্য বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের নতুন দৃষ্টান্তও তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সবজির সরবরাহ বাড়ায় গোবিন্দগঞ্জে স্বস্তি

গাইবান্ধা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সবজির সরবরাহ বাড়ায় গোবিন্দগঞ্জে স্বস্তি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিনই পাইকারি বাজারে আসছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, শিম, বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি। সরবরাহ বাড়ায় এসব সবজির পাশাপাশি সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজির দামও কমতে শুরু করেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার গোলাপবাগ পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম ছিল। ফলে নতুন মৌসুমের এসব সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছিল বেশি টাকা। তবে গত কয়েক দিনে বাজারের চিত্র বদলেছে। প্রতিদিন বাড়ছে সবজির আমদানি, আর তার প্রভাব পড়ছে দামে।

বাজারে মিলছে কম দামে শীতের সবজি
গোলাপবাগ পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং বরবটি ৪০ টাকা দরে। এ ছাড়া চিকন বেগুন ২০ টাকা, গোল বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০ থেকে ৩০ টাকা, শসা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং মূলা ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ টাকায়। অন্যদিকে আলুর দামেও ভিন্নতা রয়েছে। সূর্যমুখী ও কার্ডিনাল জাতের আলু প্রতি কেজি ১২ থেকে ১৪ টাকা এবং লাল পাকড়ি আলু ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের দামেও বড় পতন
কয়েক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। নতুন মরিচ বাজারে আসার আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম দ্রুত কমেছে। বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আগামী দুই সপ্তাহে আরও কমতে পারে দাম
গোলাপবাগ পৌর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, শীতকালীন সবজির আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলু, মূলা, পটল ও পেঁপেসহ সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজির দামও কমছে। বিশেষ করে পেঁপের দাম বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে সব ধরনের সবজির দাম আরও কমতে পারে।

দাম কমায় স্বস্তি, বাজার নজরদারির দাবি
সবজির দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির দামও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন সরবরাহ বাড়ায় তুলনামূলক কম দামে সবজি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে বাজারে সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আবারও দাম বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়মিত বাজার তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দাম কমার এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাদ্যব্যয়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি