রেমিট্যান্স বন্ধের চক্রান্ত জনগণকে ক্ষুধার্ত রাখার শামিল: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে চরম দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রেমিট্যান্স বন্ধের চক্রান্ত দেশের কোটি পরিবারের জীবন-জীবিকার ওপর আঘাত হানার শামিল। একই সঙ্গে এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও ‘কমল কুঁড়ি’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘রেমিট্যান্স দেশের কোটি পরিবারের জীবন-জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রেমিট্যান্স বন্ধের চক্রান্ত জনগণকে ক্ষুধার্ত রাখার শামিল।’
তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো কর্মসূচির হুমকি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। যারা এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়, তারা জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা বা অন্য কাউকে আক্রমণ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক করে বিএনপির এই নেতা বলেন, যেকোনো অন্যায় বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কিংবা সংবাদ সম্মেলন করা যেতে পারে। তবে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা বা অন্য কাউকে আক্রমণ করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রিজভীর ভাষ্য, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নিতে যারা রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা কখনোই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করেনি।
তিনি বলেন, ১৯৭১, ১৯৮৬ কিংবা ২০২৪—বিভিন্ন সময়ে তারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সব সময় জনগণ ও দেশের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, শুধু মিছিল ও স্লোগান দেওয়াই ছাত্ররাজনীতির কাজ নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুফি সাধক হাসান বসরীর একটি উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অন্তরের যত্ন নিলে বাহ্যিক সত্তাও সুন্দর হয়ে ওঠে।’
দার্শনিক ফ্রিডরিখ নিৎসের ‘সাফারিং ইজ দ্য রুট অব অল গ্রেটনেস’ উক্তি উদ্ধৃত করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মেধা, জ্ঞান ও গণতন্ত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হতে হবে।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বারবার আন্দোলনের ব্যর্থতায় যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালের উত্তাল ছাত্র আন্দোলন তা ভুল প্রমাণ করেছে। তরুণদের সাহসিকতা ও অগ্রণী ভূমিকার কারণেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমল কুঁড়ির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array