তারকাবিহীন দুই সিনেমা নিয়ে পূজার প্রস্তুতি
ঈদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা মুক্তির যে প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, সময়ের সঙ্গে তার বাইরে নতুন উৎসবকেও ঘিরে তৈরি হচ্ছে চলচ্চিত্রের বাজার। দুই ঈদের পাশাপাশি এখন দুর্গাপূজাকেও সিনেমা মুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছেন নির্মাতা ও প্রযোজকেরা। তবে এবারের দুর্গাপূজায় বড় কোনো তারকার সিনেমা নেই। এখন পর্যন্ত মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে দুটি ছবি—‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাট-পিস’। তারকানির্ভরতার বদলে গল্প, বিষয়বস্তু ও নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে দর্শক টানাই হবে সিনেমা দুটির নির্মাতাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঈদকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি সিনেমা মুক্তি পেতে দেখা গেছে। প্রতি ঈদে চার-পাঁচটি কিংবা তারও বেশি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে এসেছে। এসব ছবির বড় অংশেই অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ও তারকাশিল্পীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্গাপূজাকেও সিনেমা মুক্তির বিকল্প উৎসব হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এবারের দুর্গাপূজায় এখন পর্যন্ত দুটি সিনেমা মুক্তির ঘোষণা এসেছে। ছবি দুটির নির্মাতা ও প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের জন্য হল বুকিংয়ের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। বড় তারকার উপস্থিতি না থাকলেও উৎসবের ছুটি এবং দর্শকের সিনেমা দেখার আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে ভালো সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা তাঁদের।
পূজায় মুক্তির প্রস্তুতি নেওয়া সিনেমা দুটির একটি কামরুজ্জামান পরিচালিত ‘স্নেহের বন্ধন’। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয় চৌধুরী ও মৌ খান। ইতোমধ্যে সিনেমাটির অফিসিয়াল পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের জন্য হল বুকিংয়ের কাজও চলছে।
পরিচালক কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলোতে উৎসবের আবহ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে ২০টি হলে সিনেমাটি প্রদর্শনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তাঁর টিম।
কামরুজ্জামানের মতে, দুর্গাপূজার ছুটি দীর্ঘ হলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ছোটবেলায় পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও অ্যাকশনধর্মী গল্পের সিনেমা মুক্তি পেতে দেখেছেন তিনি। নিজের সিনেমাকেও সেই ধারার ছবি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নির্মাতার বিশ্বাস, সিনেমা সফল হওয়ার জন্য শুধু তারকা শিল্পীর উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়; ভালো গল্পও দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানতে পারে। দর্শক ছবিটির গল্প পছন্দ করলে তাঁরা সিনেমা দেখতে হলে আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।
‘স্নেহের বন্ধন’ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিনেমাটির নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ছবিটির মুক্তি, গল্প ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে এবারের পূজায় মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইফফাত জাহান মম পরিচালিত ও প্রযোজিত সিনেমা ‘কাট-পিস’। পোশাকশিল্পের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। নির্মাতার ভাষ্য, বাংলাদেশের নাগরিক জীবনে ঝুট ব্যবসা পরিচিত একটি বাস্তবতা হলেও এর সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবন, অর্থনৈতিক স্বার্থ, ক্ষমতার সম্পর্ক এবং ব্যবসাটির আড়ালে থাকা সংঘাত মূলধারার চলচ্চিত্রে খুব বেশি উঠে আসেনি।
এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই সিনেমাটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন মম। তাঁর প্রত্যাশা, পরিচিত একটি ব্যবসার অন্দরমহলের গল্প দর্শকের সামনে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
মম মনে করেন, ঝুট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্বার্থ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অন্ধকার জগতের সংঘাত নিয়ে বাস্তবধর্মী গল্প বলার সুযোগ রয়েছে। ‘কাট-পিস’-এর মাধ্যমে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। দর্শক সিনেমাটি পছন্দ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন নির্মাতা।
‘কাট-পিস’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে সিফাত আমিন শুভর। ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন নানজীবা তোরসা। দুর্গাপূজার উৎসবের সঙ্গে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে মিলিয়ে দেখছেন এই অভিনেত্রী।
তোরসার প্রত্যাশা, পূজার আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি দর্শক প্রেক্ষাগৃহেও সময় কাটাবেন। ছোটবেলায় দুর্গাপূজার মেলায় যাওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তখন সবাই মিলে আনন্দ করতেন এবং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হতো। এবারও সেই সম্প্রীতি বজায় থাকবে বলে আশা করছেন তিনি।
একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে ঘোরার পাশাপাশি দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখবেন বলেও প্রত্যাশা নানজীবা তোরসার।
‘কাট-পিস’ সিনেমাটির পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে দেশের প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। নির্মাতা ইফফাত জাহান মম মনে করেন, দর্শকের মধ্যে ছবিটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি করা এবং সিনেমাটিকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, ব্যবসায়িক কৌশল ও দর্শকের আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রে জাজ মাল্টিমিডিয়ার অভিজ্ঞতা সিনেমাটির জন্য সহায়ক হতে পারে। দর্শকের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array