খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের হাতে আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের হাতে আটক ৩

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সন্দেহভাজন ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।

ঘটনার পর ককটেল নিক্ষেপে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহী সেখানে এসে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় তারা আশপাশ পর্যবেক্ষণ করে দুটি ককটেল নিক্ষেপের পর আগারগাঁও হয়ে কাফরুল রোডের দিকে চলে যান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় আটক তিনজনের পরিচয় এবং তাদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কলকাতার হাসপাতালে মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
কলকাতার হাসপাতালে মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স কত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। চট্টগ্রাম মহানগর নিষিদ্ধ যুবলীগের সদস্য জয়নাল আবেদীন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোটনের মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে।

পাঁচ বছর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও যুক্ত হন।

চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা রোটন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের উপকমিটিতেও ছিলেন

২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি দলীয় পরিমণ্ডলে পরিচিতি পান।

দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

 

ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ই-পোস্ট সেন্টারের স্বীকৃতি আছে, নেই কম্পিউটার-ইন্টারনেট

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বদলে গেছে যোগাযোগব্যবস্থা। চিঠির বদলে এখন মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বার্তা। সরকারি সেবাও ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অথচ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরে এখনো চলছে উল্টো চিত্র। মাটি ও ধানের তুষে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরেই অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলছে ডাকসেবা। টিনের চালায় ছিদ্র, ভাঙা দরজা-জানালা আর স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই সংরক্ষণ করতে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র ও দাপ্তরিক নথি।

শুধু অবকাঠামোর সংকটই নয়, ডিজিটাল সেবার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় এক দশক পরও এখানে নেই কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ। কাগজে-কলমে ই-পোস্ট সেন্টার হলেও বাস্তবে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। অথচ আশপাশের প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকার মানুষের ডাকসেবার অন্যতম ভরসা এই ছোট্ট ঘরটি।

স্থানীয় ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য সারওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের পূর্বপুরুষদের মৌখিক অনুমতিতে তাদের একটি টিনের চালার মাটির ঘরে ডাকঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কেটে গেছে কয়েক দশক। কিন্তু ডাকঘরটির জন্য নির্মাণ করা হয়নি কোনো স্থায়ী সরকারি ভবন। পুরোনো ঘরটিরও উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি।

বর্তমানে সরকারহাটের পাশে অবস্থিত এই ডাকঘরটির আয়তন মাত্র ১০ বাই ১২ ফুট। ছোট্ট এই কক্ষেই চিঠিপত্র গ্রহণ, বাছাই ও বিতরণের কাজ চলে। ডাকঘরটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন—পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ আমির হোসেন এবং চিঠি বিলিকারক মিজানুর রহমান।

সরকারিভাবে অফিসের জন্য বরাদ্দ রয়েছে তিনটি চেয়ার ও একটি টেবিল। রেজিস্টার খাতা, কলম, কাগজসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ১৫ টাকা। ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকেও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডাকঘরটির টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতরের কাগজপত্র ও আসবাব ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথি রক্ষায় ব্যবহার করতে হয় পলিথিন। দরজা-জানালাও ভাঙাচোরা। দেয়ালের নিচের অংশ থেকে ধানের তুষের প্রলেপ খসে পড়ছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় পুরো ঘরটির অবস্থা এমন হয়েছে যে বাইরে থেকে দেখলে একে পরিত্যক্ত স্থাপনা বলে মনে হতে পারে।

ঘরটির দুর্বল কাঠামো নিয়ে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ডাকসেবা চালু রাখা যেমন কঠিন, তেমনি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আমির হোসেন জানান, ছাদের টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব রয়েছে, আর দরজা-জানালায় ধরেছে ঘুণ। বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে মেরামতের খরচও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়। মাসে ১৫ টাকার বরাদ্দ দিয়ে প্রয়োজনীয় কলম ও কাগজ কেনাই কঠিন।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই মাটির ঘরটির উন্নয়ন সম্ভব। এতে শুধু ডাকসেবার পরিবেশই ভালো হবে না, বরং দেশের ডাকব্যবস্থার ইতিহাসের একটি পুরোনো নিদর্শনও সংরক্ষণ করা যাবে।

ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমে গেলেও তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি। ডাকঘরের রেজিস্টার খাতার তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২২ কর্মদিবসে এই কেন্দ্র থেকে ৩২৪টি চিঠি বিলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্টার্ড চিঠি ৩০৩টি এবং সাধারণ চিঠি ২১টি।

বিলি করা চিঠির বেশির ভাগই সরকারি ও চাকরিসংক্রান্ত। ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা এখন একেবারেই কম। তবু সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাকঘরটির গুরুত্ব রয়ে গেছে।

আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও স্থানীয় মানুষের কাছে এই ডাকঘর তাই কেবল পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি সেবাকেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

২০১৭ সালে তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘরকে ‘ই-পোস্ট সেন্টার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে ডাকসেবায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে চালু হয়নি ডিজিটাল সেবা। কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় কাগজে-কলমে থাকা এই স্বীকৃতি বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে আনোয়ারা উপজেলার ১৩টি ডাকঘর ও উপ-ডাকঘরকে ই-পোস্ট সেন্টার ঘোষণা করা হয়। তবে এসব কেন্দ্রে শুরু থেকে কার্যকরভাবে ডিজিটাল সেবা চালু করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা ডাকঘর ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা পোস্টমাস্টার ছৈয়দুল কায়ছার বলেন, তিনি চলতি বছর এখানে যোগদান করেছেন। তাই এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

পটিয়া উপ-বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী কম্পিউটার, ইন্টারনেট, প্রিন্টারসহ প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি থাকার কথা। তবে এসব যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে ডাকঘরটিকে রক্ষা করতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে জমি ও বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডাক বিভাগ।

পোস্ট অফিস পরিদর্শক রাজিব দাশ বলেন, ভবন নির্মাণ মূলত বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। রাস্তার পাশে তিন শতক জমি দাতা পাওয়া গেলে ডাক বিভাগের কাছে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডাকসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জমি, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ওপর।

একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, অন্যদিকে মাটির ঘরে বৃষ্টির পানি ঠেকিয়ে ডাকসেবা চালিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা—তৈলারদ্বীপ উপ-ডাকঘর যেন সেই বৈপরীত্যেরই প্রতিচ্ছবি। কয়েক দশক ধরে মানুষের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য এখন জরুরি নিরাপদ ভবন, কার্যকর ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত পরিচালন ব্যয়। তা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই ডাকঘরের সেবা অব্যাহত রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক আটক, নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের একাধিক চলাচল। বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, কোথাও কোথাও বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।

বিক্ষোভের আগেই আটক নেতারা

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছান সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি ১০ অক্টোবর, সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন।

বিমান থেকে নামার আগেই সিজেপির নেতারা ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। ওই ভিডিওতে পুলিশ ও নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। লাইভে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হব জেনেই আমরা দিল্লিতে এসেছি। ভয় পাই না।’

পরে পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। দিল্লি পুলিশও আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সিজেপি এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই নেতাদের আটক করা হয়েছে। দলটির দাবি, এটি নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দিল্লিতে না যাওয়ার অনুরোধ অমান্য করায় গুরুগ্রামের বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে পুলিশের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির আইনি সহায়তাকারী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বন্ধ মেট্রো স্টেশন

সিজেপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করছে।

এ ছাড়া দিল্লির সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো থেকে তরুণদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠন। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানানো।

তবে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে সিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল রাজধানীর শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভ, আটক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে দিল্লির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, ইন্টারনেট বন্ধের পরিধি এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ