খুঁজুন
                               
, ,
           

লিভার ক্যানসারের আগাম সংকেত হতে পারে শরীরের এই ৭ পরিবর্তন

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
লিভার ক্যানসারের আগাম সংকেত হতে পারে শরীরের এই ৭ পরিবর্তন

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—এসব কারণে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি। উদ্বেগের বিষয় হলো, লিভারে চর্বি জমলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অজান্তেই দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে সমস্যা। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি ধীরে ধীরে লিভারে প্রদাহ, টিস্যুতে ক্ষত এবং সিরোসিসের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। এতে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তবে ফ্যাটি লিভার হলেই লিভার ক্যানসার হবে, এমন নয়। রোগের অগ্রগতি, লিভারে প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে কি না—এসব বিষয় ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি কীভাবে বাড়ে?

লিভারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায় না। তবে কারও কারও লিভারে চর্বি জমার পাশাপাশি প্রদাহ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন প্রদাহ চলতে থাকলে লিভারের টিস্যুতে ক্ষত বা দাগ তৈরি হয়, যাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়। ক্ষতি আরও বাড়লে তা সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।

সিরোসিস লিভার ক্যানসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তবে কিছু ক্ষেত্রে সিরোসিস না থাকলেও লিভার ক্যানসার হতে পারে। তাই শুধু ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হওয়াই নয়, লিভারের সামগ্রিক অবস্থা ও রোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা জরুরি।

শরীরের যে ৭ লক্ষণ অবহেলা করবেন না

ফ্যাটি লিভার ও লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ মানেই ক্যানসার নয়; অন্যান্য রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।

১. কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না এনেও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস লিভারের সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. ক্ষুধা কমে যাওয়া

আগের মতো খেতে ইচ্ছা না করা, দীর্ঘদিন ক্ষুধামন্দা থাকা কিংবা অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

৩. দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা

পেটে বারবার ব্যথা হওয়া বা দীর্ঘদিন অস্বস্তি থাকা অবহেলা করা উচিত নয়। এর পেছনে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে লিভারের অসুস্থতাসহ নানা কারণ থাকতে পারে। নিজে থেকে রোগ নির্ধারণ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো ভালো।

৪. পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি

লিভার পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অবস্থিত। এ জায়গায় বারবার ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন। যদিও এ ধরনের ব্যথা হলেই লিভার ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়; অন্য কারণেও একই উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৫. পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া

পেটের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা পেটে তরল জমে ফোলাভাব তৈরি হওয়া গুরুতর লিভার রোগের লক্ষণ হতে পারে। হঠাৎ পেট ফুলে গেলে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে, দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৬. চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে তাকে জন্ডিস বলা হয়। লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া কিংবা পিত্তনালির সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে জন্ডিস হতে পারে। এ লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭. বিশ্রামেও ক্লান্তি না কমা

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, শরীরে শক্তি না পাওয়া যায় কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। ক্লান্তির পেছনে রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, লিভারের অসুস্থতাসহ নানা কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে কী করবেন?

ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগের পর্যায় ও লিভারের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লিভারের কার্যকারিতা, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসনোগ্রাম বা লিভারে ফাইব্রোসিসের মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষাও করা হয়।

লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে কয়েকটি অভ্যাস সহায়ক হতে পারে—

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: প্রতিদিন হাঁটা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • সুষম খাবার খান: অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন।
  • ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: এসব সমস্যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
  • নিজে থেকে ওষুধ বা ভেষজ উপাদান গ্রহণ করবেন না: লিভার ভালো করার নামে কোনো ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখ-ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা পেট দ্রুত ফুলে ওঠার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার মানেই লিভার ক্যানসার নয়। তবে রোগটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সময়মতো পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

কালের আলো/জেএন

জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার আলো, দেখার কেউ নেই?

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার আলো, দেখার কেউ নেই?

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়া। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সমন্বয় পাড়া উচ্চবিদ্যালয়। একসময় যে প্রতিষ্ঠানকে এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল, এক দশক পেরিয়েও সেই বিদ্যালয়ে কাটেনি অবকাঠামোগত সংকট। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষার পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন নিয়ে রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন।

জরাজীর্ণ টিনের চাল, বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়া শ্রেণিকক্ষ, পাখার অভাব এবং ব্যবহারের অনুপযোগী শৌচাগার—সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, নিয়োগপ্রক্রিয়া, উপস্থিতি এবং সরকারি শিক্ষা উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও উঠেছে অভিযোগ। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা কতটা পূরণ হচ্ছে, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোর টিনের চাল পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে চাল চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে বসে পাঠ নেওয়া যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি বই-খাতা ভিজে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে পাখার ব্যবস্থা না থাকায় গরমের সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

শুধু শ্রেণিকক্ষের পরিবেশই নয়, বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও বাথরুমের অবস্থাও সন্তোষজনক নয় বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, মনোযোগ ধরে রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যেসব মৌলিক সুবিধা প্রয়োজন, সেগুলোর ঘাটতি থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়া এবং গরমে পাখা না থাকার মতো সমস্যাগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার জন্য বাড়তি বাধা তৈরি করছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার পরিবেশের উন্নয়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৭২ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। তবে সরেজমিনে শ্রেণিকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। যদিও ওই সময়ের উপস্থিতি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সামগ্রিক চিত্র কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা, নিয়মিত উপস্থিতির হার এবং শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হলে বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং পাঠদানের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর নজরদারি জোরদার করবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের নিয়োগ নীতিমালা অনুসারে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা আটজন হওয়ার কথা। অথচ বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় ১২ জনের নাম পাওয়া গেছে।

নীতিমালায় নির্ধারিত জনবলকাঠামো এবং হাজিরা খাতায় থাকা নামের মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ কী, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অনুমোদিত পদ, নিয়োগের ধরন ও কর্মরত ব্যক্তিদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষক থাকা যেমন জরুরি, তেমনি অনুমোদিত জনবলকাঠামো অনুসরণ এবং উপস্থিতির স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১০-এর সংশোধনী-২০১৩ অনুসরণ না করেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে বিস্তারিত নথিপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত করা এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতো।

প্রধান শিক্ষক নূর-ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও জনবলসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে নিয়মিত ক্লাস হয় না। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হলেও তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।

একইভাবে বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত সংগীতচর্চা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি পাঠ্যবই সরবরাহের পরও কিছু বই শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছে শ্রেণিকক্ষে পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ বাড়ানো। কিন্তু সরবরাহ করা বই যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো এবং ডিজিটাল ল্যাবসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ নিয়মিত পাঠদানে ব্যবহার করা না হলে এসব উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন।

এ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র, বই বিতরণের হিসাব এবং ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম যাচাই করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের বাইরের সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। এই এলাকার সন্তানদের জন্য এটি একটি আশার জায়গা। কিন্তু অবকাঠামোর এমন বেহাল দশা দেখে কষ্ট হয়। যে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখাবে, সেই প্রতিষ্ঠানই যেন নানা সমস্যায় অন্ধকারে পড়ে আছে।

তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়টি ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ও হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু প্রতিষ্ঠা করা বা এমপিওভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, নিয়মিত পাঠদান পায় এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। অন্যদিকে গরমের সময় পাখা না থাকায় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা কঠিন বলে জানিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে এবং বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নত হলে নিয়মিত পাঠদান আরও স্বাভাবিক হবে এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে একমত স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার, নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনও করেছেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতার মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবলসংক্রান্ত অভিযোগ এবং শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সমন্বয় পাড়া উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তও হয়েছে। তবু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষা উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

এখন বিদ্যালয়টির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কার বা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত পাখা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা, শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ ও উপস্থিতির নথি যাচাই এবং ডিজিটাল ল্যাবসহ শিক্ষা উপকরণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উপস্থিতি, বই বিতরণের হিসাব এবং পাঠদানের নিয়মিততা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

দাশিয়ারছড়ার এই বিদ্যালয় স্থানীয় শিশুদের জন্য সম্ভাবনার একটি জায়গা। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বা এমপিওভুক্তির স্বীকৃতি নয়, প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে বিদ্যালয়টি কবে মানসম্মত শিক্ষার উপযোগী হয়ে উঠবে, এখন সেই অপেক্ষায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ওমরাহ পালন করে আবেগঘন যে বার্তা দিলেন কেয়া পায়েল

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ওমরাহ পালন করে আবেগঘন যে বার্তা দিলেন কেয়া পায়েল

পবিত্র নগরী মক্কায় ওমরাহ পালন করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। পবিত্র কাবা শরিফের সামনে থেকে নিজের জীবনের বিশেষ মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। তবে ধর্মীয় এই অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন কেয়া পায়েল। ভিডিওতে কালো বোরখা পরা অবস্থায় পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দেখা যায় তাকে। ওমরাহ পালনের এই বিশেষ মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ভিডিওটির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন।’

নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা

ওমরাহ পালনের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ ও নেতিবাচক মন্তব্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কেয়া পায়েল। অন্যকে ছোট করে মন্তব্য করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘কেউ বাজে মন্তব্য করে নিজের নিচু মানসিকতার পরিচয় দেবেন না। আপনার মন্তব্য আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতারই পরিচয় বহন করে। তাই অন্যকে ছোট করার আগে নিজের মানসিকতার দিকে একটু নজর দিন।’

অভিনেত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়া এবং অনলাইনে অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মুহূর্তও ভাগ করেন ভক্তদের সঙ্গে

ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন কেয়া পায়েল। বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয় তিনি। সেখানে নিজের কাজের খবরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী।

এবার পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন এবং কাবা শরিফের সামনে থেকে নিজের অনুভূতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আলোচনায় এলেন কেয়া পায়েল। একই সঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কালের আলো/জেএন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আহ্বান

ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর বছিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে প্রতি শনিবার সারা দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা, গ্রাম ও শহরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কর্মসূচির আওতায় সবাই নিজ নিজ বাসার আঙিনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের আবাসস্থল অন্তত ১০ মিনিট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

তিনি বলেন, বর্জ্যের সঙ্গে মশার বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। গত নয় বছরের তুলনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছিলায় একটি নান্দনিক কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার ফুটপাতসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। জনগণ যা চাইবে, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। অটোরিকশা ও হকার উচ্ছেদসহ জনস্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঢাকা গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী। এ ছাড়া ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি