দিল্লিতে কেজরিওয়াল-মমতাসহ আটক একাধিক নেতা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে নির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থান থেকে বিরোধী নেতা, রাজনৈতিক কর্মী ও আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও জনজীবনেও প্রভাব পড়ে।
বাড়ির সামনে থেকে আটক কেজরিওয়াল
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজ বাড়ির বাইরে থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি হাট থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় নেহা বোরা, যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।
তবে তাঁদের আটকের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাড়ির সামনে অবস্থান থেকে আটক মমতা
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দিল্লি পুলিশ আটক করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নিজের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মমতার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যও ছিলেন। তাঁদেরও পুলিশ আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
ধ্রুব রাঠিসহ আটক শত শত মানুষ
এর আগে গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করে পুলিশ। তিনি সিজেপির ডাকে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। সংগঠনটির আইনি সহায়তাকারী রত্না সিংহকেও আটক করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির লাইভ প্রতিবেদনে কয়েক শ আন্দোলনকারীকে আটক করার কথা জানানো হয়। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা ও পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে।
৪৫ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, কঠোর নিরাপত্তা
সিজেপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখা হয়। দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়।
এ ছাড়া দিল্লির নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং বিভিন্ন ট্রেনের চলাচল বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
কেন এই বিক্ষোভ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ছাত্রসংগঠন এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয়। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলেন।
তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের বিপরীতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা এবং আটক ব্যক্তিদের আইনি অবস্থান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
বিক্ষোভ ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটকের ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কালের আলো/এসএ




আপনার মতামত লিখুন
Array