খুঁজুন
                               
, ,
           

জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার আলো, দেখার কেউ নেই?

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার আলো, দেখার কেউ নেই?

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়া। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সমন্বয় পাড়া উচ্চবিদ্যালয়। একসময় যে প্রতিষ্ঠানকে এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল, এক দশক পেরিয়েও সেই বিদ্যালয়ে কাটেনি অবকাঠামোগত সংকট। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষার পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন নিয়ে রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন।

জরাজীর্ণ টিনের চাল, বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়া শ্রেণিকক্ষ, পাখার অভাব এবং ব্যবহারের অনুপযোগী শৌচাগার—সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, নিয়োগপ্রক্রিয়া, উপস্থিতি এবং সরকারি শিক্ষা উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও উঠেছে অভিযোগ। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা কতটা পূরণ হচ্ছে, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোর টিনের চাল পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে চাল চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে বসে পাঠ নেওয়া যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি বই-খাতা ভিজে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে পাখার ব্যবস্থা না থাকায় গরমের সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

শুধু শ্রেণিকক্ষের পরিবেশই নয়, বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও বাথরুমের অবস্থাও সন্তোষজনক নয় বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, মনোযোগ ধরে রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যেসব মৌলিক সুবিধা প্রয়োজন, সেগুলোর ঘাটতি থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়া এবং গরমে পাখা না থাকার মতো সমস্যাগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার জন্য বাড়তি বাধা তৈরি করছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার পরিবেশের উন্নয়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৭২ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। তবে সরেজমিনে শ্রেণিকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। যদিও ওই সময়ের উপস্থিতি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সামগ্রিক চিত্র কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা, নিয়মিত উপস্থিতির হার এবং শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হলে বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং পাঠদানের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর নজরদারি জোরদার করবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের নিয়োগ নীতিমালা অনুসারে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা আটজন হওয়ার কথা। অথচ বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় ১২ জনের নাম পাওয়া গেছে।

নীতিমালায় নির্ধারিত জনবলকাঠামো এবং হাজিরা খাতায় থাকা নামের মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ কী, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অনুমোদিত পদ, নিয়োগের ধরন ও কর্মরত ব্যক্তিদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষক থাকা যেমন জরুরি, তেমনি অনুমোদিত জনবলকাঠামো অনুসরণ এবং উপস্থিতির স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১০-এর সংশোধনী-২০১৩ অনুসরণ না করেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে বিস্তারিত নথিপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত করা এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতো।

প্রধান শিক্ষক নূর-ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও জনবলসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে নিয়মিত ক্লাস হয় না। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হলেও তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।

একইভাবে বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত সংগীতচর্চা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি পাঠ্যবই সরবরাহের পরও কিছু বই শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছে শ্রেণিকক্ষে পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ বাড়ানো। কিন্তু সরবরাহ করা বই যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো এবং ডিজিটাল ল্যাবসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ নিয়মিত পাঠদানে ব্যবহার করা না হলে এসব উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন।

এ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র, বই বিতরণের হিসাব এবং ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম যাচাই করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের বাইরের সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। এই এলাকার সন্তানদের জন্য এটি একটি আশার জায়গা। কিন্তু অবকাঠামোর এমন বেহাল দশা দেখে কষ্ট হয়। যে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখাবে, সেই প্রতিষ্ঠানই যেন নানা সমস্যায় অন্ধকারে পড়ে আছে।

তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়টি ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ও হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু প্রতিষ্ঠা করা বা এমপিওভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, নিয়মিত পাঠদান পায় এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। অন্যদিকে গরমের সময় পাখা না থাকায় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা কঠিন বলে জানিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে এবং বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নত হলে নিয়মিত পাঠদান আরও স্বাভাবিক হবে এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে একমত স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার, নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনও করেছেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতার মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবলসংক্রান্ত অভিযোগ এবং শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সমন্বয় পাড়া উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তও হয়েছে। তবু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষা উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

এখন বিদ্যালয়টির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কার বা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত পাখা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা, শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ ও উপস্থিতির নথি যাচাই এবং ডিজিটাল ল্যাবসহ শিক্ষা উপকরণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উপস্থিতি, বই বিতরণের হিসাব এবং পাঠদানের নিয়মিততা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

দাশিয়ারছড়ার এই বিদ্যালয় স্থানীয় শিশুদের জন্য সম্ভাবনার একটি জায়গা। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বা এমপিওভুক্তির স্বীকৃতি নয়, প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে বিদ্যালয়টি কবে মানসম্মত শিক্ষার উপযোগী হয়ে উঠবে, এখন সেই অপেক্ষায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

অবরোধে সাজেকে পর্যটক যাতায়াতে নতুন সময়সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
অবরোধে সাজেকে পর্যটক যাতায়াতে নতুন সময়সূচি

সড়ক অবরোধের কারণে রাঙ্গামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত দুইবারের পরিবর্তে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় একবার সরকারি নিরাপত্তা স্কর্ট চলবে। এর মাধ্যমে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকেরা ফিরতে পারবেন এবং নতুন পর্যটকেরাও সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছে সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি।

সমিতির দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক জানান, সড়ক অবরোধের কারণে নিয়মিত নিরাপত্তা স্কর্টের সংখ্যা কমিয়ে একবার করা হয়েছে। দুপুর ২টার ওই স্কর্টে সাজেক থেকে পর্যটকেরা ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে নতুন পর্যটকদেরও সাজেকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ

রোববার সকাল থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধের সমর্থকেরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পর্যটকদের যাতায়াতে অনিশ্চয়তা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত সাজেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা সেখানে বেড়াতে যান। তবে সড়ক অবরোধের কারণে যাতায়াত ব্যাহত হলে পর্যটকদের চলাচল ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা স্কর্টের সময়সূচি পরিবর্তন করে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকলে পরবর্তী সময়ে যাতায়াত পরিস্থিতি কী হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

আগেই দেওয়া হয়েছিল অবরোধের ঘোষণা

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরদিন সকাল থেকে সেই কর্মসূচি শুরু হয়।

অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা স্কর্টের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ২টার স্কর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের চলাচল কিছুটা সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

উপহাসের ‘তেলাপোকা’ এখন মোদির মাথাব্যথা!

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, সন্ধানী বার্তা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
উপহাসের ‘তেলাপোকা’ এখন মোদির মাথাব্যথা!

ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর উপহাসের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু। অথচ আত্মপ্রকাশের চার মাসও না পেরোতেই ভারতের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নতুন দল—করোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নাম নিয়ে কটাক্ষের মধ্যেই এবার তাদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অভিযোগের তদন্তের দাবিতে কর্মসূচি শুরুর আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ নেতাকর্মীদের আটক করেছে পুলিশ। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রতিবাদ ঠেকাতে সরকারের এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান অবতরণ করতেই অভিজিৎকে আটক করা হয় বলে খবর। তাঁর সঙ্গে দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয়েছে। অভিজিতের অভিযোগ, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার সময়ও এমন আচরণ দেখা যায়নি। তাঁর ভাষায়, ‘এটা একনায়কতন্ত্র—আমাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। আমরা গ্রেপ্তার হতেই এসেছি, আপনাদের ভয় পাই না।’

  • মোদির ভারতে প্রতিবাদই অপরাধ
  • ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে তদন্তের দাবিতে সিজেপির কর্মসূচি
  • ধরপাকড় ঘিরে জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফেরাল বিরোধীরা

বিক্ষোভের আগেই ধরপাকড়
দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর আগেই বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। _দ্য হিন্দু_-র বরাতে এক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটকের খবর সামনে এসেছে। আটক ব্যক্তিদের পুলিশ ভ্যানে তুলে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানা গেছে।

সিজেপির অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। দলটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি। একইভাবে, বিক্ষোভকারীদের আটক করার ক্ষেত্রে পুলিশের আইনি ভিত্তি ও পদক্ষেপের যৌক্তিকতাও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা
দিল্লির ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ তুলেছেন বিরোধী নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন। যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দক্ষিণ অ্যাভিনিউ এলাকায় দলের সাংসদদের নিয়ে ধর্নায় বসেন। পরে তাঁকেসহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। সোমবার ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত মিছিলে যোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও সিজেপি নেতাদের আটকের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আটক করে তরুণদের প্রতিবাদ থামানো যাবে না। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও দিল্লিকে কার্যত ‘মুক্ত কারাগার’ বানানোর অভিযোগ তুলেছেন।

ভোটার তালিকা নিয়ে আস্থার প্রশ্ন
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু একটি নতুন দলের বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটার তালিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভিত্তি। সেখানে নাম বাদ পড়া নিয়ে অভিযোগ উঠলে তার স্বচ্ছ তদন্ত এবং আপত্তি জানানোর কার্যকর সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া অনিয়মকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা বলা যায় না; আবার যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়াই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়াও যুক্তিসংগত নয়।

একইভাবে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন থাকলেও ব্যাপক আটক, বিশেষত কর্মসূচিতে পৌঁছানোর আগেই নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা, আইনি কারণ এবং তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।

সিজেপিকে ঘিরে উপহাস থেকে রাজনৈতিক উদ্বেগ—এই পরিবর্তনের পেছনে দলের প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দিল্লির ঘটনাপ্রবাহ নতুন দলটির চেয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে: নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব কি তদন্ত ও সংলাপের মাধ্যমে দেওয়া হবে, নাকি কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপই হয়ে উঠবে প্রধান প্রতিক্রিয়া?

কালের আলো/আরএ/এমকে

পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনে মেহজাবীন, কালো পোশাকে মুগ্ধতা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনে মেহজাবীন, কালো পোশাকে মুগ্ধতা

জমকালো সাজসজ্জা নয়, বরং ক্লাসিক ফ্যাশন আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতেই ভক্তদের নজর কেড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশন থেকে অনুপ্রাণিত কালো পোশাকে নতুন লুকে ধরা দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই ব্যতিক্রমী সাজের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। আধুনিক গ্ল্যামারের সঙ্গে ভিন্টেজ ফ্যাশনের মেলবন্ধনে অভিনেত্রীর নতুন লুক নজর কেড়েছে অনুরাগীদের।

মেহজাবীনের নতুন সাজে ছিল না অতিরিক্ত জাঁকজমকের আয়োজন। বরং পোশাকের নকশা, রঙের ব্যবহার, মানানসই অনুষঙ্গ এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির মধ্য দিয়েই ফুটে উঠেছে তাঁর ফ্যাশন-সচেতনতা। কালো রঙের পোশাকে অভিনেত্রীকে দেখা গেছে এক সাহসী ও আভিজাত্যপূর্ণ অবতারে। তাঁর পুরো সাজে পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনের ছাপ থাকলেও উপস্থাপনায় ছিল আধুনিকতার স্পষ্ট প্রভাব।

পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনে নতুন মেহজাবীন

মেহজাবীনের নতুন লুকের মূল আকর্ষণ কালো হল্টার-নেক পোশাক। পোশাকটির সুইং স্টাইল ও ঘেরযুক্ত স্কার্টে ফুটে উঠেছে পুরোনো দিনের ফ্যাশনের বৈশিষ্ট্য। ফিটেড কোমরের নকশা পুরো সাজে এনেছে সুসংহত ও আকর্ষণীয় অবয়ব। পঞ্চাশের দশকের নারীদের জনপ্রিয় পোশাকধারার সঙ্গে এই নকশার মিল থাকায় লুকটিতে তৈরি হয়েছে রেট্রো আবহ।

ভিন্টেজ ফ্যাশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পুরোনো সময়ের নকশাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। পোশাকের কাট, কোমরের গড়ন ও স্কার্টের ঘেরের মতো উপাদান সেই ধারাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। মেহজাবীনের পোশাকেও এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয় দেখা গেছে।

কালো রঙের ব্যবহার তাঁর সাজে যোগ করেছে আভিজাত্য। এই রং যেমন ক্লাসিক, তেমনি বিভিন্ন ধরনের অনুষঙ্গের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। মেহজাবীন সেই পরিচিত রংকেই বেছে নিয়েছেন ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার জন্য। ফলে তাঁর লুকটি হয়ে উঠেছে একই সঙ্গে মার্জিত, সাহসী ও নজরকাড়া।

লাল লিপস্টিক ও গ্লিটার হিলে গ্ল্যামারের ছোঁয়া

পোশাকের পাশাপাশি মেহজাবীনের সাজের অন্যান্য উপকরণও নজর কেড়েছে। কালো পোশাকের সঙ্গে উজ্জ্বল লাল লিপস্টিক তাঁর লুকে এনেছে বৈপরীত্য। ক্লাসিক ফ্যাশনে লাল লিপস্টিকের ব্যবহার দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি ধারা। কালো পোশাকের সঙ্গে এই রঙের সমন্বয় পুরো সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

এর সঙ্গে ছিল গ্লিটারযুক্ত অ্যাঙ্কেল-স্ট্র্যাপ হিল। জুতার ঝলমলে উপস্থাপনা রেট্রো সাজে যোগ করেছে আধুনিক গ্ল্যামার। অন্যদিকে পরিমিত মেকআপ ও সাবলীল উপস্থিতি পুরো লুককে ভারসাম্যপূর্ণ রেখেছে।

ফ্যাশনে পোশাকের পাশাপাশি জুতা, মেকআপ ও অন্যান্য অনুষঙ্গের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত উপকরণ ব্যবহার না করেও কীভাবে একটি সাজকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, মেহজাবীনের এই লুকে তারই প্রকাশ দেখা গেছে। প্রতিটি উপকরণ যেন মূল পোশাকের সৌন্দর্যকে সামনে রেখেই সাজানো হয়েছে।

নতুন ছবি ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহজাবীনের নতুন ছবিগুলো প্রকাশের পর ভক্তদের প্রশংসা পেতে শুরু করেন তিনি। তাঁর পোশাক, সাজ ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্তব্যের ঘরে ভালোবাসা ও প্রশংসা জানিয়েছেন অনেকে।

অভিনেত্রীও ভালোবাসার ইমোজির মাধ্যমে অনুরাগীদের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন। এতে ভক্তদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও ছবিগুলোতে মোট কতটি প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য এসেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

তারকাদের নতুন ফটোশুট বা ফ্যাশনধর্মী ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে পরিচিত স্টাইলের বাইরে কোনো অভিনেত্রীকে ভিন্নধর্মী সাজে দেখা গেলে তা বাড়তি মনোযোগ পায়। মেহজাবীনের এবারের রেট্রো লুকও সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

জমকালো আয়োজন ছাড়াই স্টাইল স্টেটমেন্ট

ফ্যাশনে নজর কাড়ার জন্য সব সময় ভারী গহনা, জমকালো পোশাক কিংবা অতিরিক্ত মেকআপের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় একটি ক্লাসিক রং, পোশাকের সঠিক নকশা এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনাই আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে পারে। মেহজাবীনের নতুন লুক সেই ধারণাকেই সামনে এনেছে।

পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশন থেকে অনুপ্রাণিত পোশাকের সঙ্গে আধুনিক অনুষঙ্গ যুক্ত করে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব স্টাইল। কালো পোশাকের আভিজাত্য, লাল লিপস্টিকের উজ্জ্বলতা এবং গ্লিটার হিলের ঝলক—সব মিলিয়ে সাজটি পেয়েছে স্বতন্ত্র মাত্রা।

মেহজাবীন চৌধুরী অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের কারণেও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকেন। তাঁর নতুন এই লুকেও সেই বৈচিত্র্য স্পষ্ট। ভিন্টেজ ফ্যাশনের আবেদনকে আধুনিক গ্ল্যামারের সঙ্গে মিলিয়ে আবারও নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

সব মিলিয়ে পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশন, কালো পোশাক ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির সমন্বয়ে মেহজাবীনের নতুন লুক হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়। জমকালো সাজ ছাড়াও যে ক্লাসিক ফ্যাশনের মাধ্যমে নজর কাড়া সম্ভব, তাঁর এই উপস্থিতি যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

কালের আলো/এসএ