খুঁজুন
                               
, ,
           

সমুদ্র থেকে জীবিকা, কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সমুদ্র থেকে জীবিকা, কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

সমুদ্রসৈকত, ঝাউবন, লেম্বুরবন, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর, মিশ্রীপাড়া ও রাখাইন সংস্কৃতি—প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এমন বৈচিত্র্য নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। একসময় যেখানে ছিল হাতেগোনা কয়েকটি ছোট দোকান ও সীমিত আবাসন, সেখানে এখন গড়ে উঠেছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসেবা ও নানা ধরনের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা।

পর্যটন ঘিরে বদলেছে অনেক মানুষের জীবনযাত্রা, তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ। তবে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সবার জীবনে সমানভাবে আসেনি সমৃদ্ধি।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা কুয়াকাটায় আসেন। তাঁদের আগমনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের ব্যবসা। কেউ চালান হোটেল, কেউ রেস্তোরাঁ, আবার কেউ অটোরিকশা চালিয়ে, ছবি তুলে কিংবা শুঁটকি ও শামুক-ঝিনুকের তৈরি পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পর্যটকদের আনাগোনা স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি অবহেলিত ও বেকার মানুষের জন্যও উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছে।

১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা করার আগেই সেখানে ছোট ছোট দোকান গড়ে উঠেছিল। এসব দোকানে মূলত চা ও হালকা খাবার বিক্রি হতো। রাতে থাকার ভালো ব্যবস্থা ছিল না। হাতে গোনা কয়েকটি হোটেল ছিল গোলপাতার ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দেওয়া দোচালা ঘরের মতো। তখন মাঝেমধ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর সদস্য ও আশপাশের মানুষ সেখানে যাতায়াত করতেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌর এলাকা ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটেছে। একসময় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল কুয়াকাটা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের আলীপুর বাজার। সেখানে স্থানীয় খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যেত।

২০০০ সালের দিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা আবাসিক হোটেল নির্মাণে উদ্যোগী হন। সৈকত ও বেড়িবাঁধের মাঝেও গড়ে ওঠে ছোট ছোট দোকান। পরে পর্যটনের সম্ভাবনা দেখে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানি জমি কিনতে শুরু করেন। একে একে তৈরি হয় খাবারের হোটেল, রেস্তোরাঁ, ঝিনুকের দোকান ও নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাড়তে থাকে জমির দাম।

এ পরিবর্তনের ফলে স্থানীয়দের একাংশের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। একসময় তিন চাকার ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখন বহুতল হোটেলের মালিক। পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে অনেকে বেকারত্ব কাটিয়ে উঠেছেন। বেড়েছে শিক্ষার সুযোগ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছে।

তবে পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। উপকূলজুড়ে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোর অনেকের জীবনে এখনো রয়ে গেছে নানা সংকট।

দূরদূরান্ত থেকে আসা একজন পর্যটক কুয়াকাটায় নেমে অটোরিকশায় হোটেলে যান, রেস্তোরাঁয় খাবার খান, সৈকতে ঘোরেন, ছবি তোলেন কিংবা সমুদ্রে গোসল করেন। কেউ ঘুরে দেখেন গঙ্গামতি ও লেম্বুরবন, কেউ যান মিশ্রীপাড়া বা অন্য কোনো দর্শনীয় স্থানে। ফেরার সময় অনেকে কেনেন শুঁটকি, শামুক-ঝিনুকের তৈরি পণ্য কিংবা স্থানীয় হস্তশিল্প।

দেখতে সাধারণ একটি ভ্রমণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন হোটেলকর্মী, বাবুর্চি, ওয়েটার, অটোরিকশাচালক, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার, দোকানি, শুঁটকি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ বহু মানুষ। পর্যটকের ব্যয় তাই শুধু একটি হোটেল বা রেস্তোরাঁর আয় নয়; তা বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকায়ও অবদান রাখে।

বর্তমানে কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বড় একটি পর্যটন অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। সৈকতের পাশাপাশি ঝাউবন, লেম্বুরবন, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর ও মিশ্রীপাড়ার মতো স্থানগুলোও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

পর্যটকেরা যত বেশি সময় অবস্থান করেন, স্থানীয় অর্থনীতিতে তাঁদের ব্যয়ের সুযোগও তত বাড়ে। এক দিনের পর্যটকের তুলনায় দুই-তিন দিন অবস্থান করা পর্যটক সাধারণত আবাসন, খাবার, পরিবহন ও কেনাকাটায় বেশি ব্যয়ের সুযোগ পান। তাই পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়ানো কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে।

কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বাইরের প্রতিষ্ঠানসহ বর্তমানে এখানে দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব হোটেলে প্রায় ৩০ হাজার পর্যটকের থাকার ধারণক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, হোটেলের শ্রেণি, কক্ষসংখ্যা ও পর্যটকদের তথ্যের সমন্বিত হিসাব ছাড়া প্রকৃত ধারণক্ষমতা নির্ধারণ কঠিন।

একটি হোটেল পরিচালনার সঙ্গে ব্যবস্থাপক, অভ্যর্থনাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাবুর্চি, ওয়েটার, ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত থাকেন। পাশাপাশি লন্ড্রি, খাবার সরবরাহ, মাছ-মাংস, শাকসবজি, পানীয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারীরাও এ অর্থনীতির অংশ।

পর্যটন মৌসুমে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজের চাপ বাড়ে। বিশেষ করে শীতকাল, সাপ্তাহিক ছুটি, ঈদ, দুর্গাপূজা ও দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়লে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। রাস পূজার সময় পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

কুয়াকাটায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ স্থানীয় খাবার ও সামুদ্রিক মাছ। কাঁকড়া, চিংড়ি, কোরাল ও রূপচাঁদার মতো মাছ রেস্তোরাঁগুলোর জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে। পর্যটকদের চাহিদা বাড়লে রেস্তোরাঁর বিক্রির পাশাপাশি মাছ বিক্রেতা, জেলে, আড়তদার ও সবজি বিক্রেতাদের ব্যবসার সুযোগও বাড়ে।

এ ছাড়া শুঁটকি, আচার, শামুক-ঝিনুকের তৈরি সামগ্রী ও স্থানীয় পণ্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। সৈকতে সূর্যাস্ত কিংবা সমুদ্রের সামনে ছবি তোলার জন্য অনেক পর্যটক স্থানীয় ফটোগ্রাফারদের সহায়তা নেন। অটোরিকশাচালক ও ট্যুর গাইডদের জন্যও তৈরি হয় বাড়তি আয়ের সুযোগ।

কুয়াকাটার বিশেষ সম্পদ এর রাখাইন সংস্কৃতি। মিশ্রীপাড়া ও রাখাইন পল্লিকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ ঐতিহ্য, তাঁত, হস্তশিল্প ও স্থানীয় সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এ ঐতিহ্যকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে রাখাইন নারীদের তৈরি তাঁত ও হস্তশিল্পের পণ্য পর্যটকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারলে তাঁদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। একইভাবে হোটেল ও রিসোর্টের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিছানার চাদর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী স্থানীয়ভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে কলাপাড়া ও মহিপুরসহ আশপাশের এলাকার কৃষক, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন।

কুয়াকাটার পর্যটন অর্থনীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না; সেবার মান, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। সৈকত ও বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়াতে স্থানীয় সংস্কৃতি, প্রকৃতি, খাবার ও ঐতিহ্যকে সমন্বিতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, জেলে পরিবার এবং স্থানীয় নারীদের পর্যটন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে পর্যটনের আয় আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র হওয়ার আগে ছিল একটি গ্রাম। রাখাইনদের বসবাস অবশ্য অনেক আগে থেকেই ছিল। একসময় কলাপাড়া উপজেলা সদরে যেতে নৌকা বা ছোট একতলা লঞ্চ ব্যবহার করতে হতো, আর স্থানীয় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল ভ্যান।

তাঁর ভাষ্য, তখন জমিতে তেমন ফসল হতো না। সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপের ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি খাস পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কুয়াকাটায় ডাব, ফুচকা, চা-বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। একসময় পাতার ঘরে বসবাস করা অনেক মানুষ এখন পাকা দালানে বসবাস করছেন।

কুয়াকাটা এখন আর শুধু সমুদ্র দেখার জায়গা নয়। সমুদ্র, বন, চর, রাখাইন সংস্কৃতি, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার ও হস্তশিল্প মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক পর্যটন গন্তব্য। এ সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সমৃদ্ধ হবে, একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগও বাড়বে।

পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা বিনোদন ও অবকাশযাপনের স্থান; আর স্থানীয়দের কাছে এটি সংসার চালানো ও ভবিষ্যৎ গড়ার সম্ভাবনা। এই দুই প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটনের সুফল স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দুর্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার। গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুর্গাপুর থানায় যোগদানের পর এসব অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

থানা সূত্রের দাবি, যোগদানের পর মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের শনাক্ত করতে তালিকা তৈরি করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

ওসি পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগসহ কোনো গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। দুর্গাপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা আয়েন উদ্দিন বলেন, ওসি পঞ্চনন্দ সরকার ভদ্র ও মানবিক আচরণ করেন। তবে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে তাঁর মত।

নুরজাহান বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের কঠোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশের সক্রিয়তা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দুর্গাপুরে অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র বুঝতে অপরাধের পরিসংখ্যান, গ্রেপ্তারের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঘরোয়া হকির প্রত্যাবর্তনে নতুন প্রত্যাশা, ফেয়ার-প্লেতে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
ঘরোয়া হকির প্রত্যাবর্তনে নতুন প্রত্যাশা, ফেয়ার-প্লেতে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। হকির মাঠে ফিরেছে প্রতিযোগিতার প্রাণচাঞ্চল্য। স্টিকে বলের ছন্দ, খেলোয়াড়দের লড়াই আর নতুন সম্ভাবনার হাতছানিতে আবারও মুখর দেশের ঘরোয়া হকি। দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে চলতি বছরের প্রথম বিভাগ হকি লিগ। ১১টি ক্লাবের অংশগ্রহণে এই আয়োজন ঘিরে খেলোয়াড়, সংগঠক ও হকিপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই লিগের মধ্য দিয়ে দেশের হকিতে ফিরবে নিয়মিত প্রতিযোগিতার ছন্দ, উন্মোচিত হবে নতুন প্রতিভার সম্ভাবনা।

  • মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্রথম বিভাগ লিগ-এর উদ্বোধন
  • অংশ নিচ্ছে ১১ ক্লাব, ঘরোয়া হকিতে নতুন উদ্দীপনা
  • নিয়মিত ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশাবাদ বাহফে সভাপতির

প্রত্যাবর্তনের আনন্দে নতুন আশার সূচনা
লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি ঘরোয়া হকি লিগ নিয়মিত আয়োজনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরার সুযোগ খেলোয়াড়দের জন্যও যেন নতুন উদ্দীপনার উৎস! প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নিজেদের দক্ষতা, কৌশল ও সামর্থ্য তুলে ধরার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও পাবেন তাঁরা। নিয়মিত লিগ আয়োজন করা সম্ভব হলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আসবে। ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে এবং জাতীয় দলের জন্য মানসম্পন্ন খেলোয়াড় উঠে আসার পথ আরও উজ্জ্বল হবে।

১১ ক্লাবের অংশগ্রহণে জমবে লড়াই
এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ওয়ারী ক্লাব, হকি ঢাকা ইউনাইটেড, পিডব্লিউডি এসসি, কম্বাইন্ড এসসি, মুক্ত বিহঙ্গ তরুণ সংঘ, ব্যাচেলার্স এসসি, ফরাশগঞ্জ এসসি, শিশু কিশোর সংঘ, ঢাকা ওয়ান্ডার্স, রায়ের বাজার এসসি ও ঢাকা ইয়াং স্টার ক্লাব। ১১টি ক্লাবের অংশগ্রহণ লিগকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরের প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রতিটি ম্যাচই খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জন, ক্লাবগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং দর্শকদের মাঠমুখী করার ক্ষেত্রেও এই প্রতিযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্লাব-স্পন্সরদের হাত ধরে এগিয়ে যাক হকি
দেশের হকিকে আরও গতিশীল করতে ক্লাব ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাহফে সভাপতি। তাঁর এই আহ্বান ঘরোয়া হকির উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ক্লাবগুলোর সক্রিয়তা, পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা এবং ফেডারেশনের ধারাবাহিক উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে হকির জন্য আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন খেলোয়াড়দের ফেয়ার-প্লে ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলার নির্দেশনা দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে লিগের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধি ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

খেলোয়াড় ও হকিপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস
দীর্ঘ বিরতির পর ঘরোয়া হকি মাঠে ফেরায় খেলোয়াড় ও হকিপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস এবারের আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। এই উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে দেশের হকি নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। প্রথম বিভাগ লিগ তাই শুধু ১১টি ক্লাবের শিরোপা লড়াই নয়; এটি খেলাটির বিকাশ, নতুন প্রতিভার উত্থান এবং হকিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার একটি আশাব্যঞ্জক মঞ্চ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই লিগ ঘিরে এখন প্রত্যাশা একটাই—মাঠে ফিরেছে যে প্রাণচাঞ্চল্য, তা যেন ছড়িয়ে পড়ে সারা বছরের হকি কার্যক্রমে। নিয়মিত আয়োজন, সম্মিলিত সহযোগিতা ও খেলোয়াড়দের নিবেদিত পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া হকি হয়ে উঠুক দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আরও উজ্জ্বল অধ্যায়।

কালের আলো/এমএএএমকে

ডিজিটাল যুগে হারাচ্ছে হাতের শিল্প, সংকটে মুজাহিদ

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল যুগে হারাচ্ছে হাতের শিল্প, সংকটে মুজাহিদ

কম্পিউটার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের বিস্তারে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে আঁকা সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। একসময় হাটবাজারের দোকান, রাস্তার পাশের সাইনবোর্ড, যানবাহন কিংবা ঘরের দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠত নানা নকশা ও লেখা। সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রায় কাজ হারাচ্ছেন হাতে আঁকা শিল্পীরা। তাঁদেরই একজন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার প্রবীণ শিল্পী মোহাম্মদ মুজাহিদ হোসেন। চার দশক ধরে রং-তুলিকে সঙ্গী করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন সংসার চালানোই তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

কমলনগরের ফজুমিয়ার হাট বাজারে কাজ করেন মুজাহিদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে হাতে সাইনবোর্ড লেখা, নকশা আঁকা ও বিভিন্ন যানবাহনে রং করার কাজ করে আসছেন তিনি। একসময় এসব কাজের জন্য তাঁর মতো দক্ষ শিল্পীদের ওপর নির্ভর করতেন ব্যবসায়ী ও যানবাহনের মালিকেরা। কিন্তু ডিজিটাল ব্যানার, ফ্লেক্স প্রিন্টিং ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সেই চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে।

আক্ষেপ করে মুজাহিদ হোসেন বলেন, ডিজিটাল ব্যানার আর ফ্লেক্স প্রিন্টিংয়ের ভিড়ে তাঁদের মতো শিল্পীদের কদর আর আগের মতো নেই। বড় ব্যানার, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড তৈরির কাজ এখন যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ফলে হাতে লেখার কাজ কমে গেছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে যে পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন, সেই পেশাতেই এখন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুধু সাইনবোর্ড নয়, বিভিন্ন যানবাহনে নাম লেখা, নকশা আঁকা কিংবা রং করার ক্ষেত্রেও হাতে কাজ জানা শিল্পীদের প্রয়োজন হয়। তবে এ ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ এখন আগের তুলনায় কম পাওয়া যায়।

স্থানীয় ট্রাক্টর মিস্ত্রি নাজিম উদ্দীন বলেন, ট্রাক্টর বা ট্রলি তৈরি করে রং করার পর লেখার জন্য এখন আর আগের মতো শিল্পী খুঁজে পাওয়া যায় না। হাতে সুন্দর করে লেখার কাজ জানেন, এমন মানুষও ক্রমেই কমে আসছেন।

প্রযুক্তির পরিবর্তনে বড় সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের কাজ কমে গেলেও পেশা ছেড়ে দেননি মুজাহিদ হোসেন। পরিবারের ভরণপোষণের তাগিদে এখনো রং-তুলিকেই জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে ধরে রেখেছেন তিনি।

বড় কাজ না পেয়ে এখন ট্রলি, ট্রাক, টেম্পু, ইজিবাইক, অটোরিকশা ও সিএনজির গায়ে নকশা আঁকা কিংবা নাম লেখার কাজ করেন। এসব ছোটখাটো কাজ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালাতে হয় তাঁকে। কাজের অনিশ্চয়তা আর সীমিত আয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে তাঁর টিকে থাকার লড়াই।

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় মানুষের কাজের ধরন বদলাচ্ছে। সহজলভ্য ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশার চাহিদা কমে যাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের চাপে মুজাহিদের মতো শিল্পীরা হারাচ্ছেন কাজের সুযোগ, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে তাঁদের জীবিকা।

অথচ একসময় তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পেত দোকানের সাইনবোর্ড, দেয়াল ও বিভিন্ন যানবাহন। হাতে আঁকা এসব শিল্প ছিল স্থানীয় বাজার ও জনজীবনের পরিচিত দৃশ্যের অংশ। এখন সেই শিল্পের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাও।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাতে আঁকা সাইনবোর্ড ও দেয়াললিখনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ শিল্পীদের বিকল্প কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে এই লোকশিল্পের অবশিষ্ট চর্চাও।

মুজাহিদ হোসেনের রং-তুলির লড়াই তাই শুধু জীবিকা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম নয়, বরং প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যে হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লড়াইও।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি