পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন বিএনপির
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁদের সতর্ক প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়া এবং বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্যও নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রিজভী বলেন, দুর্গাপূজায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন এবং সবার সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দলীয় নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
তিনি জানান, দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে দুটি কমিটি গঠন করেছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে একটি এবং ইমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলটির পক্ষ থেকে আগেও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক, পরবর্তী জাপান সফর, বিরোধী দলগুলোর কর্মকাণ্ড এবং দলীয় পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং বাজারে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মাদক ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় গুরুত্ব
বৈঠকে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ওই বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। দলের জাতীয় কাউন্সিল কিংবা ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা বার্তা নেই।
বৈঠকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আমান উল্লাহ আমান ও ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array