খুঁজুন
                               
, ,
           

স্টারলিংকের পথ আটকে আম্বানি? ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
স্টারলিংকের পথ আটকে আম্বানি? ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু নিয়ে জটিলতার মধ্যে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। এ বিলম্বের জন্য ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে দায়ী করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে করা মাস্কের মন্তব্য ঘিরে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মাস্কের অভিযোগ, নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় প্রভাব খাটিয়ে স্টারলিংকের ভারতে কার্যক্রম শুরুর পথে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তবে ভারতের সরকার এসব অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার অনুমোদন ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম মেনেই এগোতে হচ্ছে। ফলে স্টারলিংকের কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার পেছনে করপোরেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আম্বানিকে নিশানা করে মাস্কের ক্ষোভ

ভারতে স্টারলিংক চালুর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় মুকেশ আম্বানির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইলন মাস্ক। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, আম্বানি নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে এবং স্টারলিংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ঠেকাতে সরকারের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছেন।

মাস্কের মতে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু হলে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সহজ হতে পারে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসা ও ইন্টারনেটনির্ভর উদ্যোগগুলোও উপকৃত হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অনুমোদনপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকেই নয়, বরং নতুন প্রযুক্তির বিস্তারকেও প্রভাবিত করতে পারে।

তবে আম্বানি ব্যক্তিগতভাবে অনুমোদন আটকে রেখেছেন—মাস্কের এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি। তাই বিষয়টিকে মাস্কের অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

সরকারের বক্তব্য, নিয়ম সবার জন্য এক

স্টারলিংকের অনুমোদন নিয়ে মাস্কের অভিযোগের জবাবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে লাইসেন্স ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। স্টারলিংকের পাশাপাশি জিও ও এয়ারটেলের মতো প্রতিষ্ঠানও এ বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের একই ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ভারতের টেলিকমমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও বলেছেন, সরকার কোনো খাতেই একচেটিয়া আধিপত্য বা একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকে প্রশ্রয় দেয় না। সরকারের এই অবস্থান অনুযায়ী, স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুতে বিলম্বকে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না; বরং নির্ধারিত নীতিমালা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়াও বিবেচনায় নিতে হবে।

জিও-এয়ারটেলের সঙ্গে চুক্তি, তবু চালু হয়নি সেবা

ভারতে কার্যক্রম শুরু করতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেসএক্স। অনুমোদন পাওয়ার শর্তে গত বছর রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের সঙ্গে চুক্তিও করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এসব চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রয়োজনীয় কিছু ছাড়পত্র পাওয়া গেলেও বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ভারতের গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের সেবা চালুর সময়সূচি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারের অনুমোদন, নিরাপত্তা যাচাই, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় বিধিবিধান মেনে চলা জরুরি। এসব ধাপ সম্পন্ন না হলে কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারে না।

স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়ে মতবিরোধ

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েও ভারতে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। মাস্কের প্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় স্পেকট্রাম বরাদ্দের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে রিলায়েন্স জিও চেয়েছিল, তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে বণ্টন করা হোক।

শেষ পর্যন্ত ভারত সরকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় স্পেকট্রাম বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে স্পেকট্রাম বরাদ্দের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক মিটলেও স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরু করার সব বাধা দূর হয়নি।

এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশের নিয়ম এবং বিদ্যমান টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সেবার প্রতিযোগিতা। তবে নীতিগত মতপার্থক্য থাকলেই কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীর সেবা আটকে দিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আলাদা প্রমাণ প্রয়োজন।

টেসলার ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জের মুখে মাস্ক

ভারতে শুধু স্টারলিংক নয়, বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইলন মাস্ক। টেসলার গাড়ি বাজারজাতকরণে দেশটির উচ্চ আমদানি শুল্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। স্থানীয় উৎপাদন, আমদানি নীতি ও বাজারের প্রতিযোগিতার মতো বিষয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার ভারতে প্রযুক্তি ও গাড়ির ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে গিয়ে মাস্ককে স্থানীয় নীতি ও বাণিজ্যিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হচ্ছে। স্টারলিংককে ঘিরে সাম্প্রতিক বিরোধ সেই চ্যালেঞ্জকে আরও সামনে এনেছে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে?

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচলিত ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন—এমন প্রত্যন্ত এলাকাতেও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এ কারণে ভারতীয় বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সেবার মূল্য, নীতিগত অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা—সবই এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

একদিকে মাস্কের অভিযোগ, অন্যদিকে ভারত সরকারের নিয়ম মেনে চলার অবস্থান—দুইয়ের মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্য আলোচনায়। শেষ পর্যন্ত স্টারলিংক কবে ভারতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে, তা নির্ভর করবে বাকি অনুমোদনপ্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় তার ওপর।

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ

কালের আলো/এসএ

 

কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে মিলল পৌনে তিন কোটি টাকার অলংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে মিলল পৌনে তিন কোটি টাকার অলংকার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ডায়মন্ড, প্লাটিনাম ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। এ ঘটনায় এক যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্বর্ণ চোরাচালানের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তারা নজরদারি শুরু করেন।

এ সময় মো. জনি রহমান নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করেন। তার ব্যাগ স্ক্যান করার সময় আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ডায়মন্ডখচিত স্বর্ণালংকার, প্লাটিনামের আংটি ও বিভিন্ন মূল্যবান পাথর পাওয়া যায়।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ডখচিত ১৮ ক্যারেটের সোনার ৩৮৯টি আংটি, যার ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এ ছাড়া ডায়মন্ডখচিত প্লাটিনামের ১৫১টি আংটি, সাদা সোনার তিনটি আংটি, রুপার দুটি আংটি, পাঁচটি সোনার লকেট, একটি সোনার চেইন এবং ৪৭২টি সোনার নাকফুল জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫ ক্যারেটের ডায়মন্ড পাথর, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরসহ মোট ৭২০টি পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড পাওয়া যায়।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে এসব পণ্য আনার কারণে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ফৌজদারি মামলা করেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নিউইয়র্কে শাকিবের সঙ্গে দীঘির ছবি ভাইরাল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে শাকিবের সঙ্গে দীঘির ছবি ভাইরাল
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান ও অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির একটি ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সহশিল্পী শাকিবের সঙ্গে দেখা হয়েছে দীঘির। সেই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর স্মৃতিচারণে মেতেছেন ভক্তরা।

শাকিব খান ও দীঘিকে একসঙ্গে দেখে অনেকের মনে পড়েছে ২০০৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘চাচ্চু’র কথা। সেই সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন দীঘি। সময়ের ব্যবধানে ছোট্ট জুঁই এখন বড় হয়েছেন, নিজেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অভিনয়শিল্পী হিসেবে।

নিউইয়র্কে একই অনুষ্ঠানে শাকিব-দীঘি

শনিবার (১০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন শাকিব খান ও দীঘি। সেখানেই তাদের দেখা হয় এবং একসঙ্গে ছবি তোলেন তারা।

দীঘির প্রকাশ করা ছবিতে শাকিব খানকে কালো শার্ট, ব্লেজার ও সানগ্লাসে দেখা গেছে। অন্যদিকে দীঘির পরনে ছিল নীল ও সোনালি নকশার পোশাক। ছবির ক্যাপশনে শাকিবকে ‘মেগাস্টার’ বলে উল্লেখ করেছেন দীঘি।

ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ পুরোনো দিনের সিনেমার স্মৃতি সামনে এনেছেন, কেউ আবার শাকিব ও দীঘিকে নতুন কোনো চলচ্চিত্রে একসঙ্গে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

‘চাচ্চু’ সিনেমায় ছোট্ট জুঁইয়ের চরিত্রে দীঘি

পরিচালক এফ আই মানিকের ‘চাচ্চু’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালে। ব্যবসাসফল এই চলচ্চিত্রে শাকিব খানের ভাইয়ের মেয়ে জুঁই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দীঘি। শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে এবং তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

সিনেমাটিতে শাকিব খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন অপু বিশ্বাস ও ডিপজলসহ অন্য শিল্পীরা। চলচ্চিত্রটি সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় কাজগুলোর একটি হিসেবেও পরিচিত।

শিশুশিল্পী হিসেবে দীঘির জনপ্রিয়তার পেছনে ‘চাচ্চু’র ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী সময়ে শাকিব খানের সঙ্গে ‘দাদীমা’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’, ‘১ টাকার বউ’ ও ‘তোর কারণে বেঁচে আছি’র মতো চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে।

ভক্তদের স্মৃতিতে পুরোনো জুটি

শাকিব ও দীঘির সাম্প্রতিক ছবিটি ঘিরে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে শৈশবের সিনেমার স্মৃতি। কেউ মজা করে দীঘির সঙ্গে শাকিবের সম্পর্ককে ‘চাচা-ভাতিজি’র পর্দার পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়েছেন। আবার কেউ তাদের নতুন করে পর্দায় একসঙ্গে দেখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

একসময় শিশুশিল্পী দীঘিকে শাকিব খানের সঙ্গে পর্দায় দেখে অভ্যস্ত ছিলেন দর্শক। এখন দুজনই নিজ নিজ অবস্থানে পরিচিত মুখ। তাই নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা শুধু একটি ছবি প্রকাশের ঘটনা নয়, বরং পুরোনো ঢালিউডের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার উপলক্ষও হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল, হাসপাতালে ভর্তি ২১৯৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল, হাসপাতালে ভর্তি ২১৯৩

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২৩৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৩ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৫৩০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৫০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৫০ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬০ জন, রংপুর বিভাগে ৮৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৯ হাজার ২৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮০৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আরও ১ হাজার ৭৯৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের।

এর আগের বছর, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। সে বছর মারা যান ৫৭৫ জন।

আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। ওই বছর রোগটিতে মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।

চলতি বছরেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি