খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে খোদাবক্সপুরে ঘরহারা দেড় শতাধিক পরিবার

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে খোদাবক্সপুরে ঘরহারা দেড় শতাধিক পরিবার

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাঙনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে মানুষের ঠিকানা। একের পর এক বসতভিটা ও কৃষিজমি নদে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরের বাসিন্দাদের। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে, আবার অনেকের শেষ আশ্রয়টুকুও এখন ঝুঁকির মুখে।

নদের তীরে দাঁড়িয়ে সত্তরোর্ধ্ব আবদুল মান্নান নিজের জীবনের দীর্ঘ দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আর কত ভাঙব, আর কতবার বানামু? আমার সবই শেষ হইয়া গেছে। জীবনে চারবার বসতভিটা হারিয়েছি। নদে খাইছে ২০ একর জমি।’

সন্তানদের জন্য কিছু সম্পদ রেখে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল মান্নানের। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সেই স্বপ্নের প্রায় সবটুকুই হারিয়ে গেছে। মেজো ছেলের সঙ্গে যে বাড়িতে এখন আশ্রয় নিয়েছেন, সেটিও ভাঙনের কিনারায়। ইতিমধ্যে বাড়িটির দুটি ঘর ভেঙে পড়েছে।

মান্নানের মতো এমন দুর্ভোগের শিকার খোদাবক্সপুরের বহু পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাবে, গত দুই বছরে গ্রামটিতে প্রায় ১৫০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। চলতি বছরেই আরও ১৫ থেকে ২০টি পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে। তাঁদের দাবি, অব্যাহত ভাঙনে গ্রামের প্রায় অর্ধেক এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে বহু বসতবাড়ি ও কৃষিজমি।

বসতবাড়ির উঠানেই ভাঙনের আতঙ্ক

গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায় বসতি ও ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বলতে প্রায় কিছুই নেই। বাড়ির উঠান গিয়ে ঠেকেছে ভাঙনের কিনারায়। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালা একে একে নদের দিকে হেলে পড়ছে। কোথাও বসতঘরের পাশের মাটিও ধসে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কখন নদ আরও কাছে চলে আসে, কখন পায়ের নিচের মাটি সরে যায়—এ নিয়ে তাঁদের সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষ করে রাতে ভাঙনের শব্দ শুনলে অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

ইতিমধ্যে কিছু পরিবার নদীর ওপারে জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে নতুন করে ঘর তুললেও স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা নেই। চরভূমিও নদভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় নতুন করে ঘর বাঁধার পর আবারও সব হারানোর আশঙ্কা তাঁদের পিছু ছাড়ছে না।

জমি-ঘর হারিয়ে নিঃস্ব মিলিক জান

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে মিলিক জানেরও। সাত বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। পাঁচ মাস আগে মারা গেছে এক ছেলে। স্বামী রেখে গিয়েছিলেন ২২ কাঠা জমি। সেই জমিও এখন নদে বিলীন হয়েছে।

মিলিক জান বলেন, ‘আমার সুখের সংসার আছিন। স্বামী জমিজমা থুইয়া গেছিন। কত ধান হইত, কত ফসল হইত! গোলায় ধান উঠত, বাড়িতে মানুষের আনাগোনা আছিল। জমিন নদ নিয়া গেছে। বাড়ি আছিন, ভাঙছে। গাছপালা আছিন, হেইগুলাও নদের পেটে। অহন সেই জমিন খুঁজলে নদের পানি ছাড়া আর কিছুই দেহা যায় না।’

তাঁর কথায় উঠে আসে, নদভাঙনে শুধু জমি বা ঘরবাড়িই হারায় না; হারিয়ে যায় পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি, জীবিকার অবলম্বন এবং দীর্ঘদিনের স্মৃতিও।

আশপাশের এলাকাতেও ভাঙন

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন শুধু খোদাবক্সপুরে সীমাবদ্ধ নেই। গৌরীপুরের পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচারচর এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরদড়ি-কুষ্টিয়া ও চর শ্রীকলদীসহ কয়েকটি এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, কোথাও বসতভিটা পড়েছে ঝুঁকিতে।

ভাঙনামারী ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, বর্ষায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়লেই ভাঙন তীব্র হয়। ইতিমধ্যে গ্রামের অনেক জমি নদে চলে গেছে। আরও অনেক জমি ও বাড়িঘর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর তীররক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙনের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ভাঙন শুরু হওয়ার পর জিও ব্যাগ বা জিও টিউব ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি নদীর গতিপথ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে: পাউবো

ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও নদীতীরের মানুষের নিরাপদ বসতি নিশ্চিত করা, কার্যকর তীররক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, প্রায় ২৭০ মিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে।

তিনি বলেন, চরদড়ি-কুষ্টিয়ার প্রায় ৬০ মিটার অংশে জিও টিউব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। চর শ্রীকলদীতে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। খোদাবক্সপুর ও মরিচারচরেও একই ধরনের জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে।

ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খোদাবক্সপুরে ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়েও অভিযোগ

নদভাঙনের পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নদ থেকে বালু তোলার কারণে কোনো কোনো স্থানে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, গত তিন মাসে দুটি বড় অভিযানে ৪৭টি ড্রেজার ধ্বংস করা হয়েছে। এরপরও রাত ও ভোরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি মামলা করা হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে একের পর এক পরিবার যখন বসতভিটা ও জীবিকার অবলম্বন হারাচ্ছে, তখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি—জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তাঁদের আশঙ্কা, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে নদীতীরের আরও বহু পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনিশ্চিত জীবনের পথে পা বাড়াতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে মিলল পৌনে তিন কোটি টাকার অলংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে মিলল পৌনে তিন কোটি টাকার অলংকার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ডায়মন্ড, প্লাটিনাম ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। এ ঘটনায় এক যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্বর্ণ চোরাচালানের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তারা নজরদারি শুরু করেন।

এ সময় মো. জনি রহমান নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করেন। তার ব্যাগ স্ক্যান করার সময় আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ডায়মন্ডখচিত স্বর্ণালংকার, প্লাটিনামের আংটি ও বিভিন্ন মূল্যবান পাথর পাওয়া যায়।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ডখচিত ১৮ ক্যারেটের সোনার ৩৮৯টি আংটি, যার ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এ ছাড়া ডায়মন্ডখচিত প্লাটিনামের ১৫১টি আংটি, সাদা সোনার তিনটি আংটি, রুপার দুটি আংটি, পাঁচটি সোনার লকেট, একটি সোনার চেইন এবং ৪৭২টি সোনার নাকফুল জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫ ক্যারেটের ডায়মন্ড পাথর, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরসহ মোট ৭২০টি পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড পাওয়া যায়।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে এসব পণ্য আনার কারণে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ফৌজদারি মামলা করেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নিউইয়র্কে শাকিবের সঙ্গে দীঘির ছবি ভাইরাল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে শাকিবের সঙ্গে দীঘির ছবি ভাইরাল
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান ও অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির একটি ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সহশিল্পী শাকিবের সঙ্গে দেখা হয়েছে দীঘির। সেই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর স্মৃতিচারণে মেতেছেন ভক্তরা।

শাকিব খান ও দীঘিকে একসঙ্গে দেখে অনেকের মনে পড়েছে ২০০৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘চাচ্চু’র কথা। সেই সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন দীঘি। সময়ের ব্যবধানে ছোট্ট জুঁই এখন বড় হয়েছেন, নিজেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অভিনয়শিল্পী হিসেবে।

নিউইয়র্কে একই অনুষ্ঠানে শাকিব-দীঘি

শনিবার (১০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন শাকিব খান ও দীঘি। সেখানেই তাদের দেখা হয় এবং একসঙ্গে ছবি তোলেন তারা।

দীঘির প্রকাশ করা ছবিতে শাকিব খানকে কালো শার্ট, ব্লেজার ও সানগ্লাসে দেখা গেছে। অন্যদিকে দীঘির পরনে ছিল নীল ও সোনালি নকশার পোশাক। ছবির ক্যাপশনে শাকিবকে ‘মেগাস্টার’ বলে উল্লেখ করেছেন দীঘি।

ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ পুরোনো দিনের সিনেমার স্মৃতি সামনে এনেছেন, কেউ আবার শাকিব ও দীঘিকে নতুন কোনো চলচ্চিত্রে একসঙ্গে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

‘চাচ্চু’ সিনেমায় ছোট্ট জুঁইয়ের চরিত্রে দীঘি

পরিচালক এফ আই মানিকের ‘চাচ্চু’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালে। ব্যবসাসফল এই চলচ্চিত্রে শাকিব খানের ভাইয়ের মেয়ে জুঁই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দীঘি। শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে এবং তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

সিনেমাটিতে শাকিব খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন অপু বিশ্বাস ও ডিপজলসহ অন্য শিল্পীরা। চলচ্চিত্রটি সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় কাজগুলোর একটি হিসেবেও পরিচিত।

শিশুশিল্পী হিসেবে দীঘির জনপ্রিয়তার পেছনে ‘চাচ্চু’র ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী সময়ে শাকিব খানের সঙ্গে ‘দাদীমা’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’, ‘১ টাকার বউ’ ও ‘তোর কারণে বেঁচে আছি’র মতো চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে।

ভক্তদের স্মৃতিতে পুরোনো জুটি

শাকিব ও দীঘির সাম্প্রতিক ছবিটি ঘিরে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে শৈশবের সিনেমার স্মৃতি। কেউ মজা করে দীঘির সঙ্গে শাকিবের সম্পর্ককে ‘চাচা-ভাতিজি’র পর্দার পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়েছেন। আবার কেউ তাদের নতুন করে পর্দায় একসঙ্গে দেখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

একসময় শিশুশিল্পী দীঘিকে শাকিব খানের সঙ্গে পর্দায় দেখে অভ্যস্ত ছিলেন দর্শক। এখন দুজনই নিজ নিজ অবস্থানে পরিচিত মুখ। তাই নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা শুধু একটি ছবি প্রকাশের ঘটনা নয়, বরং পুরোনো ঢালিউডের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার উপলক্ষও হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল, হাসপাতালে ভর্তি ২১৯৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল, হাসপাতালে ভর্তি ২১৯৩

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২৩৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৩ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৫৩০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৫০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৫০ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬০ জন, রংপুর বিভাগে ৮৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৯ হাজার ২৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮০৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আরও ১ হাজার ৭৯৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের।

এর আগের বছর, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। সে বছর মারা যান ৫৭৫ জন।

আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। ওই বছর রোগটিতে মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।

চলতি বছরেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি