খুঁজুন
                               
, ,
           

পিথাগোরাসের সূত্র কি তাঁর আবিষ্কার নয়?

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
পিথাগোরাসের সূত্র কি তাঁর আবিষ্কার নয়?
সমকোণী ত্রিভুজের তিন বাহুর সম্পর্ক নির্ণয়ে বহুল পরিচিত পিথাগোরাসের উপপাদ্য। স্কুলের গণিত বইয়ে এই উপপাদ্য পড়েছেন প্রায় সবাই। কিন্তু যে উপপাদ্যটি গ্রিক গণিতবিদ পিথাগোরাসের নামে পরিচিত, সেটি কি সত্যিই তাঁর আবিষ্কার? প্রাচীন সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও গাণিতিক বিশ্লেষণ বলছে, পিথাগোরাসের জন্মের প্রায় এক হাজার বছর আগেই এই সূত্রের ব্যবহার জানত প্রাচীন ব্যাবিলনের মানুষ।

পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী, কোনো সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজের বর্গ অন্য দুই বাহুর বর্গের যোগফলের সমান। অর্থাৎ, ত্রিভুজের তিন বাহুর দৈর্ঘ্য (a), (b) ও (c) হলে এবং (c) অতিভুজ হলে সূত্রটি হবে—(a^2+b^2=c^2)।

এই সূত্র ব্যবহার করে সমকোণী ত্রিভুজের অজানা বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা যায়। জ্যামিতি, স্থাপত্য, প্রকৌশলসহ গণিতের নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে। তবে সূত্রটির নামের সঙ্গে যাঁর পরিচয় জড়িয়ে আছে, তিনি যে প্রথম এটি আবিষ্কার করেছিলেন, এমন প্রমাণ নেই।

পিথাগোরাসের আগেই সূত্রের ব্যবহার

প্রাচীন ব্যাবিলনের মাটির ফলকে পাওয়া গাণিতিক তথ্য থেকে জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দেই সেখানে পিথাগোরাসের উপপাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গাণিতিক জ্ঞান ব্যবহার করা হতো। এর একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো ‘আইএম ৬৭১১৮’ নামের মাটির ফলক। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৭৭০ অব্দে তৈরি এই ফলকে একটি চতুর্ভুজের কর্ণের দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের হিসাব রয়েছে।

অন্যদিকে, পিথাগোরাসের জন্মকাল ধরা হয় খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫৭০ অব্দ। অর্থাৎ ফলকটি তাঁর জন্মের প্রায় ১ হাজার ২০০ বছর আগের।

প্রাচীন ব্যাবিলনের আরেকটি গাণিতিক ফলকেও বর্গক্ষেত্র ও ত্রিভুজসংক্রান্ত হিসাব পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন থেকে গবেষকেরা মনে করেন, ব্যাবিলনীয়রা শুধু সাধারণ গণনাই করত না; জ্যামিতিক সম্পর্ক এবং জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানেও দক্ষ ছিল।

বর্গক্ষেত্রের কর্ণেই লুকিয়ে আছে সূত্র

বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য একটি বর্গক্ষেত্রের কথা ভাবা যাক। বর্গক্ষেত্রের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য যদি (a) হয় এবং কর্ণের দৈর্ঘ্য (d) হয়, তাহলে পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী—

(d^2=a^2+a^2=2a^2)

অর্থাৎ, (d=a\sqrt{2})।

প্রাচীন ব্যাবিলনের গণিতবিদেরা বর্গক্ষেত্রের বাহু ও কর্ণের এই সম্পর্ক জানতেন বলে মাটির ফলকে পাওয়া হিসাব থেকে ধারণা করা হয়। মার্কিন গণিতবিদ ব্রুস র‍্যাটনার তাঁর গবেষণাপত্রে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

স্প্রিঙ্গার জার্নালে প্রকাশিত র‍্যাটনারের গবেষণাপত্রের শিরোনাম ‘Pythagoras: Everyone Knows His Famous Theorem, but Not Who Discovered It 1000 Years Before Him’। এতে তিনি ব্যাবিলনীয় গণিতের বিভিন্ন নিদর্শন বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, পিথাগোরাসের নামে পরিচিত উপপাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ তাঁর জন্মের বহু আগে থেকেই প্রচলিত ছিল।

শুধু ব্যাবিলন নয়, প্রাচীন মিসরেও ছিল প্রয়োগ

পিথাগোরাসের উপপাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘পিথাগোরিয়ান ট্রিপল’ বা পিথাগোরাসের ত্রয়ী। এমন তিনটি ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যাকে এই নামে ডাকা হয়, যাদের জন্য (a^2+b^2=c^2) সম্পর্কটি সত্য।

এর পরিচিত উদাহরণ হলো ৩, ৪ ও ৫। কারণ, (3^2+4^2=9+16=25=5^2)। এই তিনটি দৈর্ঘ্য দিয়ে একটি সমকোণী ত্রিভুজ তৈরি করা সম্ভব।

প্রাচীন মিসরের গাণিতিক নথিতেও এ ধরনের সংখ্যার ব্যবহার পাওয়া যায়। মধ্য মিসরীয় সাম্রাজ্যের সময়কার একটি প্যাপিরাসে এমন একটি সমস্যার উল্লেখ রয়েছে, যার সমাধানে ৬, ৮ ও ১০ সংখ্যার সম্পর্ক দেখা যায়। তবে সেখানে আধুনিক অর্থে সমকোণী ত্রিভুজের উপপাদ্য ব্যাখ্যা করা হয়নি। বরং এটি থেকে বোঝা যায়, নির্দিষ্ট গাণিতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের ধারণা তখনকার মানুষের জানা ছিল।

প্রাচীন ভারতেও ছিল গাণিতিক সূত্রের উল্লেখ

প্রাচীন ভারতের ‘বৌধায়ন শুল্বসূত্র’ নামের গ্রন্থেও সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ম পাওয়া যায়। শুল্বসূত্রগুলো মূলত বৈদিক যজ্ঞের বেদি নির্মাণ ও জ্যামিতিক পরিমাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষকদের আলোচনায় বৌধায়ন শুল্বসূত্রের সময়কাল সাধারণত খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের শুরুর দিক থেকে মধ্যভাগের মধ্যে ধরা হয়। সেখানে বর্গক্ষেত্র, কর্ণ এবং নির্দিষ্ট জ্যামিতিক নির্মাণের হিসাব পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন ভারতীয় গণিতেও এ ধরনের জ্যামিতিক সম্পর্কের ব্যবহার ছিল।

তবে বিভিন্ন সভ্যতায় এই জ্ঞান কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, কিংবা এক সভ্যতার সঙ্গে অন্য সভ্যতার সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তা আদান-প্রদান হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

তাহলে পিথাগোরাসের নামেই পরিচিত হলো কেন?

পিথাগোরাসের ব্যক্তিগত জীবন ও গাণিতিক অবদান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত। তাঁর নিজের লেখা কোনো গ্রন্থ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তিনি দক্ষিণ ইতালির ক্রোটনে একটি দার্শনিক ও গাণিতিক সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন বলে প্রাচীন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই সম্প্রদায়ের অনুসারীদের বলা হতো পিথাগোরীয়।

পিথাগোরীয়দের মধ্যে গণিত, দর্শন ও সংখ্যার ধর্মীয়-দার্শনিক তাৎপর্য নিয়ে চর্চা হতো। তাঁদের অর্জিত জ্ঞানের কিছু অংশ পরবর্তী সময়ে পিথাগোরাসের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় বলে মনে করেন ইতিহাসবিদেরা।

তবে পিথাগোরাস নিজে উপপাদ্যটি প্রমাণ করেছিলেন কি না, অথবা তাঁর বিদ্যালয়ের সদস্যরা এর কোনো নতুন প্রমাণ তৈরি করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। প্রাচীন ব্যাবিলনীয়রা উপপাদ্যটির ব্যবহার জানত—এমন প্রমাণ থাকলেও পিথাগোরাসের অবদান ঠিক কী ছিল, সে বিষয়ে ঐতিহাসিক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আবিষ্কার নয়, জনপ্রিয়তার সঙ্গে জড়িয়ে নাম

গণিতের ইতিহাসে কোনো সূত্রের নাম একজন ব্যক্তির নামে পরিচিত হলেই যে তিনিই প্রথম সেটি আবিষ্কার করেছেন, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে একটি ধারণা জনপ্রিয় হয়েছে, সংরক্ষিত হয়েছে কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছেছে।

পিথাগোরাসের উপপাদ্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন হতে পারে। প্রাচীন ব্যাবিলন, মিসর ও ভারতের গাণিতিক নিদর্শনগুলো দেখায়, সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর সম্পর্ক সম্পর্কে জ্ঞান বিভিন্ন সভ্যতায় বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত হয়েছে।

তাই পিথাগোরাসের উপপাদ্যকে তাঁর একক আবিষ্কার হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করার চেয়ে বলা যুক্তিযুক্ত—তাঁর নামে পরিচিত এই গাণিতিক সূত্রের ইতিহাস তাঁর জন্মেরও বহু আগে শুরু হয়েছিল। হাজার বছরের পুরোনো মাটির ফলকগুলো সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।

সূত্র:উইকিপিডিয়া

কালের আলো/এসএ

‘ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে ট্রাইব্যুনালের ধমক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
‘ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে ট্রাইব্যুনালের ধমক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমেদ। সাক্ষ্য দেওয়ার একপর্যায়ে তাঁকে উদ্দেশ করে পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ এ সময় পলককে কথা কম বলতে বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রোববার (১১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের সময় এ ঘটনা ঘটে। মামলার আসামি জয় পলাতক থাকলেও পলক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।

  • জয়-পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিটিআরসির কর্মকর্তার সাক্ষ্য
  • ইন্টারনেট বন্ধ ও আন্দোলন দমনে ভূমিকার অভিযোগ ঘিরে শুনানি

ইন্টারনেট চালুর বৈঠক নিয়ে আপত্তি
সাক্ষ্যের একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ আসে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে থ্রি-জি ও ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে সাক্ষ্যের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

বক্তব্যের এ অংশ নিয়ে আপত্তি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি, বিষয়টি মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। তাই ওই অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন জানান তাঁরা। সাক্ষীও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে সম্মতি দেন। এ সময় সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।’

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউটর প্রশ্ন করে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছেন। তাই বক্তব্যের কোনো অংশ বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে ‘হোস্টাইল’ করতে হবে। জবাবে মাহদী আহমেদ জানান, সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়েছিল—এমন বক্তব্য আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তবে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তিনি নিজে জানেন না। ২৮ জুলাইয়ের বৈঠকের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

তিন অভিযোগে বিচার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়ের নির্দেশনা ও অনুমোদনে পলক ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনটি পোস্ট দেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, এসব পোস্ট আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে উসকানি সৃষ্টি করেছিল।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও জয়ের নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে পলক আন্দোলন দমনে ইন্টারনেটের গতি কমানো এবং ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এতে আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং তাঁদের শনাক্ত ও দমন করা সহজ হয়। একই অভিযোগে ১৯ জুলাই রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ২৬ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আসামিদের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও রয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শিশু জাবির ইব্রাহিমসহ ৩২ জনকে গুলি করে হত্যা এবং বহু মানুষকে আহত করার ঘটনায় জয় ও পলকের নির্দেশ, জ্ঞাতসার বা সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারাদেশে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি আহত হন। এসব ঘটনায় জয় ও পলকের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

আধুনিক বন্দর, গতিশীল বাণিজ্য—নতুন কৌশলে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
আধুনিক বন্দর, গতিশীল বাণিজ্য—নতুন কৌশলে সরকার

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দরকে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় এনে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সংযোজন এবং ব্যবসাবান্ধব সেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এই কৌশল বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি সঞ্চারের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে এগোচ্ছে সরকার
  • বন্দরের সক্ষমতা ও পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা
  • জাতীয় স্বার্থ, ব্যবসাবান্ধব সেবা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে গুরুত্ব

জাতির বৃহত্তর স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারকে সামনে রেখেই ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি বা জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, দেশীয় বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় এবং ব্যবসায়ী-আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা গেলে দেশের বন্দরব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জন সম্ভব। একটি আধুনিক, দক্ষ ও সমন্বিত বন্দরব্যবস্থা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে বন্দর সক্ষমতার যোগসূত্র
বাংলাদেশের বন্দরব্যবস্থা দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে তৈরি পণ্য রপ্তানি, জ্বালানি সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বন্দরের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কেবল পরিবহন অবকাঠামোর অগ্রগতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচালনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজন পূরণে সরকার এখন জাতীয় বন্দর কৌশল চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে।’

সরকারের যুগান্তকারী এই উদ্যোগের ফলে বন্দর উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের পরিবর্তে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কোন বন্দরে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, কীভাবে বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো যায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কী ধরনের বিনিয়োগ দরকার—একটি সমন্বিত কৌশল এসব বিষয়ে পরিকল্পিত দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় বাড়বে দক্ষতা ও সেবার মান
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না। বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব কর্তৃত্ব, দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যেন সমন্বিত উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এর অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব বা কার্যক্রমের পরিধি উপেক্ষা করা নয়। বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’

দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত। তাই সব পক্ষের দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো হলে বন্দর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে সেবার মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রীর বক্তব্যে অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর যে গুরুত্ব উঠে এসেছে, তা জাতীয় বন্দর কৌশলের ইতিবাচক দিকগুলোর একটি। কারণ, বন্দরের কার্যকারিতা শুধু একটি কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে না; পণ্য খালাস, শুল্কায়ন, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও সরবরাহের প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এসব কার্যক্রমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হলে বন্দর ব্যবহারকারীরা আরও সহজ, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আধুনিক বন্দরের পথে
জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা জাইকার অভিজ্ঞতা এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।’

এই প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রকৃত অর্থেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক পরিচালনপদ্ধতির সমন্বয় বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, টার্মিনাল পরিচালনা, ডিজিটাল সেবা এবং সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে বন্দর পরিচালনার সামগ্রিক মান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের কার্যকারিতা, সেবার মান এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে এসব উদ্যোগের সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।

অবকাঠামো থেকে সেবার উৎকর্ষ—বন্দর উন্নয়নের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে।

মন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি বন্দর উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলে একই অবকাঠামো থেকেও বেশি কার্যকারিতা অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক সড়ক ও নৌপরিবহন সংযোগের উন্নয়ন সরবরাহব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে পারে।

এর ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা সহজ হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সময়মতো পণ্য পরিবহন এবং মানসম্মত বন্দরসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় বন্দর কৌশল এসব চাহিদাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে পারলে তা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ পাবে গুরুত্ব
শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

মন্ত্রীর এই বক্তব্য জাতীয় বন্দর কৌশলকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে। বন্দরের সেবা যত বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হবে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ পরিকল্পনা তত বেশি গতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সহায়ক সেবার উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মেলানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশের বন্দরগুলোর রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে এসব বন্দরকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে পৃথিবী এগিয়েছে, বাংলাদেশও এগিয়েছে। দেশের বন্দর অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। এখন সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রীর মূলত জাতীয় বন্দর উন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছেন। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের সেবার মান ও সক্ষমতাকেও সময়োপযোগী করে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নত ব্যবহার, দক্ষ পরিচালনব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয় দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তুলতে পারে।

মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার
নৌপরিবহনমন্ত্রী এমন উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাইকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি একই সঙ্গে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্টদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানান।

শেখ রবিউল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এ কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সাদা-কালো স্টাইলিশ লুকে নজর কাড়লেন সাদিয়া আয়মান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
সাদা-কালো স্টাইলিশ লুকে নজর কাড়লেন সাদিয়া আয়মান

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও পর্দায় সাবলীল উপস্থিতির মাধ্যমে অল্প সময়েই দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। নাটকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয় থাকেন এই অভিনেত্রী। নিজের কাজের খবর, ছবি কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ঝলক ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। এবার সাদা অফ-শোল্ডার টপ ও কালো প্যান্টে স্টাইলিশ লুকে ধরা দিয়ে অনুরাগীদের নজর কেড়েছেন সাদিয়া।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে নতুন কিছু ছবি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা গেছে আধুনিক ও ফ্যাশনেবল পোশাকে। সাদা রঙের অফ-শোল্ডার টপের সঙ্গে কালো ট্রাউজারের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর নতুন লুক। পোশাকের রঙের বৈপরীত্য, ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং সাবলীল অভিব্যক্তি ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা আকর্ষণ।

সাদিয়ার এই সাজে যেমন আধুনিক ফ্যাশনের ছাপ রয়েছে, তেমনি রয়েছে পরিমিত স্টাইলের প্রকাশ। অতিরিক্ত আয়োজনের বদলে সাদা ও কালো রঙের সমন্বয়েই নিজের উপস্থিতিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন তিনি। ছবিগুলো প্রকাশের পর তাঁর ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে নতুন লুক নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘জীবন একটি রানওয়ে’, ক্যাপশনে আত্মবিশ্বাসী সাদিয়া

নতুন ছবিগুলোর সঙ্গে সাদিয়া আয়মানের দেওয়া ক্যাপশনটিও নজর কেড়েছে। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘Life is a runway and I am serving looks.’ বাংলায় যার ভাবার্থ, ‘জীবন একটি রানওয়ে, আর আমি নিজের স্টাইল দিয়ে নজর কাড়ছি।’

ফ্যাশনের জগতে রানওয়ে হলো এমন একটি মঞ্চ, যেখানে মডেলরা বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক প্রদর্শন করেন। সাদিয়ার ক্যাপশনেও সেই ধারণার রূপক ব্যবহার দেখা যায়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিজের মতো করে উপভোগ করা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে তুলে ধরার ভাবনা এতে ফুটে উঠেছে।

ক্যাপশনটি তাঁর ছবির সঙ্গে মানানসই বলেও মনে করছেন অনেকে। কারণ, ছবিতে পোশাকের পাশাপাশি নিজের উপস্থিতি ও অভিব্যক্তির মধ্য দিয়েও আত্মবিশ্বাসী একটি ভাব প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে ক্যাপশন অনেক সময় ছবির বার্তাকে আরও অর্থবহ করে তোলে। সাদিয়ার ক্ষেত্রেও ছবির সঙ্গে দেওয়া এই বাক্যটি নতুন লুকের আলোচনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

সাদা-কালো পোশাকে আধুনিক ফ্যাশনের ছোঁয়া

সাদিয়া আয়মানের নতুন ছবির অন্যতম আকর্ষণ তাঁর পোশাকের রঙের সমন্বয়। সাদা অফ-শোল্ডার টপের সঙ্গে কালো প্যান্টের সংমিশ্রণ ফ্যাশনে পরিচিত একটি ধারা হলেও সঠিক উপস্থাপনায় তা সহজেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। অভিনেত্রীর এই সাজেও সেই সরলতার সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল দেখা গেছে।

অফ-শোল্ডার পোশাকের কাট লুকটিকে দিয়েছে ভিন্নতা। অন্যদিকে কালো প্যান্টের সঙ্গে সাদা টপের বৈপরীত্য পুরো সাজে এনেছে ভারসাম্য। ক্যামেরার সামনে তাঁর পোজ ও অভিব্যক্তিও ছবির ফ্যাশনধর্মী আবহকে আরও স্পষ্ট করেছে।

তারকাদের ফটোশুটে পোশাক নির্বাচন, রঙের ব্যবহার, ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি ও সামগ্রিক উপস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাদিয়ার এই ছবিগুলোতেও পোশাকের সরলতা ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা বিশেষভাবে চোখে পড়েছে। এ কারণেই তাঁর নতুন লুক ভক্তদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের আগ্রহ

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকাদের সঙ্গে ভক্তদের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নতুন কাজের খবর জানানোর পাশাপাশি ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে শিল্পীরা অনুরাগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। সাদিয়া আয়মানও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ছবি ও কাজের আপডেট প্রকাশ করেন।

নতুন ছবিগুলো প্রকাশের পর তাঁর পোশাক, সৌন্দর্য ও স্টাইল নিয়ে ভক্তদের প্রশংসা দেখা গেছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। কেউ তাঁর আধুনিক ফ্যাশন উপস্থাপনার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ ছবিতে তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির কথা তুলে ধরছেন। তবে পোস্টটির প্রতিক্রিয়ার নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

সাদিয়ার মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে নতুন কোনো ছবি প্রকাশ পেলেই অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে অভিনয়ের বাইরের সাজপোশাক ও ফ্যাশনধারা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল থাকে। নতুন এই ফটোশুটও সেই আগ্রহের অংশ হয়ে উঠেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের প্রকাশ

অভিনেত্রী হিসেবে সাদিয়া আয়মানের পরিচিতি তৈরি হয়েছে তাঁর পর্দার কাজের মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের পোশাক ও স্টাইলের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের উপস্থিতি তুলে ধরেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

শোবিজ অঙ্গনে একজন শিল্পীর পরিচিতি শুধু অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর ব্যক্তিত্ব, পোশাক নির্বাচন, জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরনও আলোচনায় আসে। সাদিয়ার নতুন ছবিতে অভিনয়ের বাইরের সেই স্টাইলিশ দিকটিই সামনে এসেছে।

সাদা অফ-শোল্ডার টপ, কালো প্যান্ট এবং ‘লাইফ ইজ এ রানওয়ে’ ক্যাপশন—সব মিলিয়ে নতুন ছবিতে নিজের ফ্যাশন-সচেতন উপস্থিতি তুলে ধরেছেন সাদিয়া আয়মান। তাঁর এই লুক ঘিরে ভক্তদের আগ্রহই বলে দিচ্ছে, অভিনয়ের পাশাপাশি তারকাদের ব্যক্তিগত স্টাইলও বিনোদনজগতের আলোচনার একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ