খুঁজুন
                               
, ,
           

বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন শুরু, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন জোবাইদা রহমান

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন শুরু, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন জোবাইদা রহমান

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর পরিবর্তে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’-এ ড. ইউনূসের বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর অংশগ্রহণ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। সম্মেলনের যোগাযোগ ও প্রেসবিষয়ক পরিচালক আনা স্টর্মার জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন’। বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকট, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। সম্মেলনটি মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে।

সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে, চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত ভূমিকার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জোবাইদা রহমান। সম্মেলনের ওয়েবসাইটে তাঁর জনস্বাস্থ্য সংস্কার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হাম পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি

বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছিল। এ বিষয়ে সংগঠনগুলো স্মারকলিপি ও পিটিশন পাঠায়।

পিটিশনে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, টিকার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা এবং হাম প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিশু চিকিৎসক, টিকাদান বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

পিটিশনকারীদের বক্তব্য, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।

এদিকে, সম্মেলনস্থলের বাইরে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য জার্মান আওয়ামী লীগ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল বলে সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিবছর এ সম্মেলনে আলোচনা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্লোরাল শাড়িতে নজর কাড়লেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ফ্লোরাল শাড়িতে নজর কাড়লেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। পর্দায় গ্ল্যামারাস উপস্থিতি, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশন-সচেতনতার কারণে বরাবরই আলোচনায় থাকেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয় এই অভিনেত্রী। নিজের নতুন ছবি, ফটোশুট ও বিভিন্ন মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। এবার ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়িতে স্নিগ্ধ ও মার্জিত লুকে ধরা দিয়ে অনুরাগীদের নজর কেড়েছেন জ্যাকলিন।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কয়েকটি নতুন ছবি শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা গেছে হালকা রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়িতে। পোশাকের নকশা, মানানসই গহনা ও পরিপাটি চুলের সাজে তাঁর উপস্থিতিতে ফুটে উঠেছে সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের মিশেল। চেনা গ্ল্যামারাস লুকের বাইরে এই সাজে জ্যাকলিনকে বেশ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে।

ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে একটি ফুলের ইমোজি যুক্ত করেছেন অভিনেত্রী। ছোট্ট এই ইমোজি তাঁর ফুলেল সাজের সঙ্গে মানানসই একটি আবহ তৈরি করেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যে তাঁর নতুন লুক নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।

ফ্লোরাল শাড়িতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

জ্যাকলিনের নতুন লুকের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়ি। ফুলের নকশা সাধারণত পোশাকে কোমলতা ও স্নিগ্ধতার আবহ তৈরি করে। আর শাড়ির সঙ্গে এই নকশার সমন্বয় এনে দেয় ঐতিহ্যবাহী সাজে আধুনিকতার ছোঁয়া। অভিনেত্রীর এবারের উপস্থাপনাতেও সেই বৈশিষ্ট্য চোখে পড়েছে।

শাড়ির সঙ্গে মানানসই গহনা ও পরিপাটি হেয়ারস্টাইল তাঁর সাজকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। অতিরিক্ত জমকালো আয়োজনের বদলে পোশাকের নকশা ও সামগ্রিক উপস্থিতির ওপরই গুরুত্ব পেয়েছে এই লুকে। ফলে সাজটি একই সঙ্গে মার্জিত ও ফ্যাশনেবল হয়ে উঠেছে।

তারকাদের ফ্যাশনে পোশাকের ধরন, রঙের ব্যবহার ও আনুষঙ্গিক উপকরণের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্যাকলিনের ছবিতেও শাড়ি, গহনা ও চুলের সাজের মধ্যে সামঞ্জস্য দেখা গেছে। তাঁর এই উপস্থিতি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রতি ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহও নতুন করে সামনে এনেছে।

নতুন ছবিতে ভক্তদের প্রশংসা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নতুন ছবি প্রকাশিত হলে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল থাকে। জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি।

নতুন ছবিগুলোতে তাঁর স্নিগ্ধ উপস্থিতি ও ফ্লোরাল শাড়ির সৌন্দর্য ভক্তদের নজর কেড়েছে। মন্তব্যের ঘরে অনুরাগীরা তাঁর রূপ ও ফ্যাশন সেন্সের প্রশংসা করে ভালোবাসা জানিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে পোস্টটিতে ঠিক কতটি লাইক বা মন্তব্য এসেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

জ্যাকলিনের ফ্যাশন উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য প্রায়ই দেখা যায়। কখনো পশ্চিমা পোশাকে আধুনিক গ্ল্যামার, আবার কখনো শাড়ি বা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ভিন্ন রূপে হাজির হন তিনি। এবারের ফ্লোরাল শাড়ির সাজেও সেই বৈচিত্র্যের প্রকাশ ঘটেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশনেও পরিচিত জ্যাকলিন

বলিউডে নিজের অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। চলচ্চিত্রের বাইরেও ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন আয়োজনে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করার মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে নিজের বিভিন্ন মুহূর্তও ভাগ করে নেন তিনি।

তারকাদের ব্যক্তিগত স্টাইল অনেক সময় তাঁদের দর্শক-অনুরাগীদের ফ্যাশন ভাবনায় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলে তা নতুন করে আলোচনায় আসে। জ্যাকলিনের ফ্লোরাল শাড়ির লুকেও ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের এমন একটি সমন্বয় দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়ি, মানানসই গহনা ও পরিপাটি সাজে নতুন ছবিতে স্নিগ্ধ সৌন্দর্য ছড়িয়েছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তাঁর এই লুক ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে অভিনেত্রীর ফ্যাশন বৈচিত্র্যের আরেকটি নজরকাড়া উদাহরণ।

কালের আলো/এসএ

যুক্তরাজ্যে ‘কে বিউটি’র প্রচারণায় ক্যাটরিনা কাইফ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে ‘কে বিউটি’র প্রচারণায় ক্যাটরিনা কাইফ

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। অভিনয়ের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর নিজস্ব প্রসাধন ব্র্যান্ড ‘কে বিউটি’ (Kay Beauty) নিয়েও কাজ করছেন এই তারকা। সৌন্দর্যচর্চা ও মেকআপের জগতে ব্র্যান্ডটির কার্যক্রমের মাধ্যমে ভক্তদের কাছে নতুন পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

এবার যুক্তরাজ্যে ব্র্যান্ডটির প্রচারণায় অংশ নিয়ে নতুন লুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছেন ক্যাটরিনা। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী।ছবিগুলোতে তাঁকে পার্পল বা মভ (Mauve) রঙের পোশাকে দেখা গেছে। স্যাটিন ফিনিশের পোশাকে তাঁর সাজে ফুটে উঠেছে আভিজাত্য ও আধুনিকতার ছাপ। পরিমিত মেকআপ, আকর্ষণীয় উপস্থাপনা এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে নতুন ছবিগুলোতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।

তবে এবারের পোস্টে শুধু নিজের সাজই তুলে ধরেননি ক্যাটরিনা। একই সঙ্গে নিজের প্রসাধন ব্র্যান্ডের একটি পণ্যের কথাও জানিয়েছেন। মভ রঙের সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে সাজানো এই প্রচারণায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে ‘কে বিউটি’র লিপ গ্লস স্টেইন।

মভের মায়ায় ক্যাটরিনার নতুন লুক

ক্যাটরিনার নতুন ছবিগুলোর মূল আকর্ষণ মভ রঙের ব্যবহার। বেগুনি ও গোলাপির মাঝামাঝি এই রং ফ্যাশন ও মেকআপে বেশ পরিচিত। কখনো কোমল, কখনো আভিজাত্যপূর্ণ—সঠিক সমন্বয়ে মভ রং সাজে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। ক্যাটরিনার পোশাক ও মেকআপেও সেই রঙের আবেদন ফুটে উঠেছে।

ছবির ক্যাপশনে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থানের দ্বিতীয় দিনের কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি সৌন্দর্যের বিভিন্ন উপস্থাপনাকে মভ রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের মূল ভাবনা ছিল, এবারের প্রচারণায় মভ রঙই সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু।

তারকাদের ফ্যাশন ও মেকআপের ক্ষেত্রে রঙের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পোশাকের রং, ঠোঁটের সাজ এবং সামগ্রিক মেকআপের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলে পুরো লুক আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ক্যাটরিনার এই নতুন সাজেও মভ রঙের সেই সমন্বয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রচারণায় ‘কে বিউটি’র নতুন পণ্য

নিজের পোস্টে ক্যাটরিনা ‘কে বিউটি’র ‘হাইড্রালাশাস লিপ গ্লস স্টেইন’ (Hydraluscious Lip Gloss Stain)-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। পণ্যটির শেডের নাম ‘টেন্ডার’ (Tender)। মভ রঙকে কেন্দ্র করে সাজানো প্রচারণায় এই লিপ পণ্যটিকে বিশেষভাবে সামনে এনেছেন তিনি।

লিপ গ্লস ও লিপ স্টেইন মেকআপের এমন দুটি ধরন, যা ঠোঁটে রং ও উজ্জ্বলতার ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে। পণ্যের ধরন ও ফিনিশ অনুযায়ী এগুলোর উপস্থাপনাও আলাদা হয়। ক্যাটরিনার এবারের প্রচারণায় ঠোঁটের সাজকে সামগ্রিক লুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ব্র্যান্ডের প্রচারণায় ক্যাটরিনার উপস্থিতি তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমেরও অংশ। নিজের পরিচিতি ও ফ্যাশন-সচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে প্রসাধন পণ্যকে দর্শকের সামনে তুলে ধরছেন তিনি। ফলে এই পোস্টে বিনোদন ও সৌন্দর্যচর্চা—দুই দিকই একসঙ্গে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের বাজারে কে বিউটি

ক্যাটরিনার পোস্ট অনুযায়ী, ‘কে বিউটি’র সংশ্লিষ্ট পণ্য যুক্তরাজ্যের বিউটি রিটেইলার ‘স্পেস এনকে’ (Space NK)-তে পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে ব্র্যান্ডটির পণ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্যপণ্যের বাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তারকাদের প্রচারণা বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পরিচিত অভিনেত্রী বা উদ্যোক্তারা যখন নিজেদের ব্র্যান্ডের পণ্য তুলে ধরেন, তখন ভক্তদের পাশাপাশি সৌন্দর্যচর্চায় আগ্রহী মানুষেরও মনোযোগ তৈরি হয়।

ক্যাটরিনার ক্ষেত্রেও তাঁর অভিনয়জীবনের পরিচিতি এবং সৌন্দর্যচর্চা নিয়ে আগ্রহ ব্র্যান্ডটির প্রচারণাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। তবে পোস্টটি ঘিরে পণ্যের বিক্রি বা বাজারে সাড়ার নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

অভিনয়ের বাইরে উদ্যোক্তা ক্যাটরিনা

বলিউডে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ক্যাটরিনা কাইফ। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন ক্ষেত্রেও কাজ করছেন তিনি। ‘কে বিউটি’ সেই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার মাধ্যমে প্রসাধন ও মেকআপের বাজারে নিজের ব্র্যান্ড পরিচিতি তুলে ধরছেন অভিনেত্রী।

তারকাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড চালুর প্রবণতা আন্তর্জাতিক বিনোদনজগতে নতুন নয়। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্র্যান্ডের প্রচারণা, পণ্যের উপস্থাপনা ও বাজার সম্প্রসারণে সরাসরি যুক্ত থাকা উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের ভূমিকারই অংশ। ক্যাটরিনার সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই দিকটি স্পষ্ট।

নতুন ছবিতে মভ রঙের আভিজাত্য, ‘টেন্ডার’ শেডের লিপ গ্লস স্টেইনের প্রচারণা এবং যুক্তরাজ্যের বাজারে পণ্য তুলে ধরার বার্তা—সব মিলিয়ে আলোচনায় এসেছে ক্যাটরিনার নতুন উপস্থিতি। ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চায় আগ্রহী ভক্তদের কাছে তাঁর এই পোস্ট হয়ে উঠেছে নতুন লুক দেখার পাশাপাশি ‘কে বিউটি’র পণ্য সম্পর্কে জানারও একটি উপলক্ষ।

কালের আলো/এসএ

‘ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে ট্রাইব্যুনালের ধমক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
‘ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে ট্রাইব্যুনালের ধমক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমেদ। সাক্ষ্য দেওয়ার একপর্যায়ে তাঁকে উদ্দেশ করে পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ এ সময় পলককে কথা কম বলতে বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রোববার (১১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের সময় এ ঘটনা ঘটে। মামলার আসামি জয় পলাতক থাকলেও পলক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।

  • জয়-পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিটিআরসির কর্মকর্তার সাক্ষ্য
  • ইন্টারনেট বন্ধ ও আন্দোলন দমনে ভূমিকার অভিযোগ ঘিরে শুনানি

ইন্টারনেট চালুর বৈঠক নিয়ে আপত্তি
সাক্ষ্যের একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ আসে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে থ্রি-জি ও ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে সাক্ষ্যের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

বক্তব্যের এ অংশ নিয়ে আপত্তি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি, বিষয়টি মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। তাই ওই অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন জানান তাঁরা। সাক্ষীও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে সম্মতি দেন। এ সময় সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।’

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউটর প্রশ্ন করে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছেন। তাই বক্তব্যের কোনো অংশ বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে ‘হোস্টাইল’ করতে হবে। জবাবে মাহদী আহমেদ জানান, সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়েছিল—এমন বক্তব্য আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তবে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তিনি নিজে জানেন না। ২৮ জুলাইয়ের বৈঠকের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

তিন অভিযোগে বিচার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়ের নির্দেশনা ও অনুমোদনে পলক ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনটি পোস্ট দেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, এসব পোস্ট আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে উসকানি সৃষ্টি করেছিল।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও জয়ের নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে পলক আন্দোলন দমনে ইন্টারনেটের গতি কমানো এবং ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এতে আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং তাঁদের শনাক্ত ও দমন করা সহজ হয়। একই অভিযোগে ১৯ জুলাই রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ২৬ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আসামিদের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও রয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শিশু জাবির ইব্রাহিমসহ ৩২ জনকে গুলি করে হত্যা এবং বহু মানুষকে আহত করার ঘটনায় জয় ও পলকের নির্দেশ, জ্ঞাতসার বা সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারাদেশে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি আহত হন। এসব ঘটনায় জয় ও পলকের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে