খুঁজুন
                               
, ,
           

বঙ্গোপসাগর ঘিরে নীল সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার, টেকসই উন্নয়নে অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগে জোর নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগর ঘিরে নীল সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার, টেকসই উন্নয়নে অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগে জোর নৌবাহিনী প্রধানের

বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে টেকসই অগ্রগতিতে রূপ দিতে প্রয়োজন সামুদ্রিক সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার, কার্যকর সমুদ্র শাসনব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্জনে পরিণত করার জন্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কার্যকর প্রয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।’ একই সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে ফেলোদের প্রতি আহ্বান

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) সেমিনার হলে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ ২০২৬-এর আওতায় ‘বঙ্গোপসাগরে টেকসই নীল অর্থনীতির বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি পদাধিকারবলে বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষকও।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার উপ-হাইকমিশনার ক্লিনটন পব। এ ছাড়া বিমরাডের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল ড. খোন্দকার আখতার হোসেন, অস্ট্রেলিয়ার উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো অংশ নেন।

জ্ঞান বিনিময় থেকে বাস্তব প্রয়োগ, নৌবাহিনী প্রধানের বিশেষ গুরুত্বারোপ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম জ্ঞান বিনিময় এবং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এই মূল্যবান সুযোগ লাভের জন্য ফেলোদের অভিনন্দন জানান। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, এ ফেলোশিপ আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ফেলোদের অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

সম্পদ আহরণ নয়, টেকসই সমৃদ্ধিই লক্ষ্য
বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই সমুদ্রের সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে সম্পদ আহরণের পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

নীল অর্থনীতির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সমুদ্রের সম্পদকে কতটা দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে তার ওপর। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগর বর্তমান প্রজন্মের সমৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সম্ভাবনার ভান্ডার হয়ে থাকবে। কর্মশালায় সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ এই লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় বাড়বে সামুদ্রিক সক্ষমতা
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগের পরিচালনায় এ ফেলোশিপের আয়োজন করেছে দেশটির উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রেলীয় জাতীয় সমুদ্রসম্পদ ও নিরাপত্তা কেন্দ্র। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সামুদ্রিক গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণের মানোন্নয়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণার ফল বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগও সম্প্রসারিত হতে পারে। এর ফলে সামুদ্রিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে ইতিবাচক অগ্রগতির ক্ষেত্র তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেকসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জ্ঞান, সহযোগিতা ও বাস্তব উদ্যোগেই টেকসই অগ্রগতি
বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টেকসই সমৃদ্ধিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। এ ক্ষেত্রে নৌবাহিনী প্রধানের বক্তব্যে জ্ঞান বিনিময় ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

ফেলোশিপে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হলে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে রূপ দেওয়ার পথও প্রসারিত হবে।

নৌবাহিনী প্রধানের আহ্বানের মূল কথা
এই কর্মশালা বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। নৌবাহিনী প্রধানের আহ্বানের মূল কথা—অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখা। এই আহ্বান বাস্তব উদ্যোগে প্রতিফলিত হলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পেতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে দেওয়া সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

মাত্র ছয় শব্দের এই পোস্টে কাকে বা কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি জামায়াত আমির। ফলে পোস্টটির বক্তব্য ও সম্ভাব্য ইঙ্গিত নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক সফর শেষে আলোচনায় জামায়াত আমির

সম্প্রতি তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে তুরস্ক সফর নিয়ে একাধিক পোস্টও দেখা গেছে। সেখানে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা প্যাক্টসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার ওপর গুরুত্ব

সফর নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত।

তুরস্ক সফরের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

৭ অক্টোবর তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন

গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন ডা. শফিকুর রহমান।

তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে ৯ অক্টোবর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাঁর দেওয়া নতুন ফেসবুক পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দক্ষ কর্মীদের জন্য ইইউতে সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
দক্ষ কর্মীদের জন্য ইইউতে সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপে নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইইউর অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ

বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর বাস্তবভিত্তিক, চাহিদানির্ভর ও কার্যকর কর্মী চলাচলের সুযোগ বা ‘মোবিলিটি করিডোর’ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মতে, দক্ষ কর্মীদের জন্য বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারিত হলে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

২০২৬-২০৩০ মেয়াদে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) গ্রহণ করেছে।

এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের পেছনে থাকা কারণগুলো মোকাবিলা করে বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় ইইউর উদ্যোগ

বৈঠকে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’-এর কথা তুলে ধরেন। এ উদ্যোগের আওতায় অভিবাসনের উৎসদেশ, ট্রানজিট দেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে কাজ করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। এর মধ্যে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং অভিবাসনকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রমের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

মানবপাচার ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ

মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় দুই পক্ষের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলার ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ।

বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়। আলোচনায় নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ তৈরি এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার গুরুত্ব উঠে আসে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও অংশীদারত্ব বাড়ানোর আগ্রহ

অভিবাসন ইস্যুর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে নিয়মিত সংলাপ ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জ্বালানি ও সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চান শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি ও সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চান শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার খাতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে তিনি আলজেরিয়ায় পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ছাড়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি। তিনি জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা আরও গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি