খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষামন্ত্রী

ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশি কারিকুলামে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলকে নিজস্ব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সমমানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষার সর্বস্তরে সমতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কার্যকর পাঠদান জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের ৫০ নম্বর ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের জন্য ভর্তির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নুরুল ইসলাম জানান, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুযোগ সীমিত। তাঁদের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভর্তি নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের সভাপতি মোর্শেদুল ইসলাম দেশের উচ্চশিক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শৌচাগারে ঢুকলেই সময় গণনা, বাইরে থেকেই দেখছেন সবাই!

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
শৌচাগারে ঢুকলেই সময় গণনা, বাইরে থেকেই দেখছেন সবাই!

শৌচাগার ব্যবহারে কতক্ষণ সময় লাগছে, তা এবার বাইরে থেকেই দেখতে পাচ্ছেন অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা। চীনের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে নারী শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের বাইরে বসানো হয়েছে ডিজিটাল টাইমার। কেউ কক্ষে প্রবেশ করলে ডিসপ্লেতে সময় গণনা শুরু হয়। আর কক্ষ খালি থাকলে দেখা যায় সবুজ সংকেত।

ব্যতিক্রমী এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরের ইউনগাং গুহামন্দির পর্যটন এলাকায়। ২০২৪ সালের ১ মে থেকে চালু হওয়া এ ব্যবস্থা নিয়ে ওই বছরের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন এবং চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পর্যটকদের চাপ সামলানো ও শৌচাগার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

কক্ষে ঢুকলেই শুরু হয় সময় গণনা

শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের দরজার ওপরে স্থাপন করা হয়েছে এলইডি ডিসপ্লে। কক্ষটি খালি থাকলে সবুজ সংকেত দেখা যায়। কেউ ভেতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করলে ডিসপ্লেতে লাল সংকেতের পাশাপাশি মিনিট ও সেকেন্ডের হিসাবে সময় দেখানো হয়।

এতে বাইরে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা বুঝতে পারেন কোন কক্ষটি খালি, কোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখানে কতক্ষণ ধরে কেউ অবস্থান করছেন। ফলে অযথা দরজায় ধাক্কা দেওয়া বা খালি কক্ষ খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

তবে এই টাইমার চালু হওয়ার পর অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে—নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে কি ব্যবহারকারীকে বের হয়ে আসতে বাধ্য করা হবে?

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পর্যটনকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শৌচাগার ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়। পাঁচ বা দশ মিনিটের মতো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়নি। সময় বেশি লাগলে কাউকে মাঝপথে বের করে দেওয়ার প্রশ্নও নেই।

নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শৌচাগারের ভেতরে কেউ দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষে অবস্থানের বিষয়টি নজরে আসতে পারে।

অর্থাৎ, শুধু ভিড় ব্যবস্থাপনা নয়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এই প্রযুক্তি চালুর পেছনে বিবেচনায় ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে টাইমার কতক্ষণ ধরে চললে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়, কিংবা এ ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম যুক্ত আছে কি না—প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পর্যটকেরা দেখছেন সুবিধা ও অস্বস্তি—দুই দিকই

ডিজিটাল টাইমার নিয়ে পর্যটকদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ মনে করছেন, এ ব্যবস্থায় কক্ষ খালি আছে কি না সহজে বোঝা যাবে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শৌচাগার ব্যবহারের সময় প্রকাশ্যে দেখানো অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এক পর্যটক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটি উন্নত মনে হলেও ডিসপ্লেতে ব্যবহারের সময় দেখানোর কারণে তাঁর নিজেকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকা ব্যক্তির মতো মনে হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অতিরিক্ত শৌচাগার নির্মাণের পরিবর্তে এ ধরনের ব্যবস্থা কতটা প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, জরুরি পরিস্থিতিতে কারও খোঁজ নিতে এটি সহায়ক হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

বছরে ৩০ লাখের বেশি পর্যটকের গন্তব্য

চীনের অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র ইউনগাং গুহামন্দির। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই স্থাপনায় রয়েছে অসংখ্য বৌদ্ধ ভাস্কর্য ও পাথরে খোদাই করা গুহা। ইউনেস্কো ২০০১ সালে স্থানটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সিএনএনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পর্যটনকেন্দ্রটিতে প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থী গিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার। পর্যটকের এই উল্লেখযোগ্য চাপের কারণে শৌচাগারসহ দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

সব মিলিয়ে, শৌচাগারের বাইরে ডিজিটাল টাইমার স্থাপনের উদ্যোগটি প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থাপনার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তবে এ ধরনের ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

কালের আলো/জেএন

শুটিংয়ে একসঙ্গে বিস্ফোরিত আটটি বোমা, ভয়াবহ স্মৃতি জানালেন আমিন খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
শুটিংয়ে একসঙ্গে বিস্ফোরিত আটটি বোমা, ভয়াবহ স্মৃতি জানালেন আমিন খান

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খানের জীবনে অভিনয় করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা আজও দুঃসহ স্মৃতি হয়ে আছে। ‘জ্যান্ত কবর’ সিনেমার শুটিংয়ে পেট্রোল বোমার আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন—হয়তো আর বাঁচবেন না এই অভিনেতা।

সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে সেই দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন আমিন খান। তিনি জানান, সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল গাজীপুরের একটি শুটিং হাউসে। ছবির শেষ দৃশ্য ধারণের সময়ই ঘটে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা।

একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয় আটটি বোমা

আমিন খানের ভাষ্য অনুযায়ী, দৃশ্যটির পরিকল্পনা ছিল—তিনি দৌড়ে সামনে এগিয়ে যাবেন, আর তাঁর পেছনে একের পর এক পেট্রোল বোমা বিস্ফোরিত হবে। শুটিংয়ের জন্য মাটিতে ছয়-সাতটি পেট্রোল বোমা রাখা হয়েছিল। প্রতিটিতে প্রায় ৩০ লিটার করে পেট্রোল ছিল বলে জানান তিনি।

দৃশ্য ধারণের সময় ক্যামেরা ও অ্যাকশনের নির্দেশ পাওয়ার পর দৌড় শুরু করেন অভিনেতা। প্রথমে তাঁর পেছনের বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর হঠাৎ সামনে ও চারপাশে প্রায় আটটি বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।

আমিন খান বলেন, ‘একটি সিকোয়েন্স ছিল এমন—মাটিতে ছয়-সাতটি পেট্রোল বোমা রাখা ছিল। প্রতিটিতে প্রায় ৩০ লিটার করে পেট্রোল দেওয়া ছিল। আমি সেগুলোর মাঝখান দিয়ে দৌড়ে আসব, আর আমার পেছনে একের পর এক বোমা বিস্ফোরিত হবে। প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে আমাকে দৌড়াতে হতো। ক্যামেরা, অ্যাকশন বলার পর দৌড় শুরু করলাম। প্রথমে আমার পেছনের বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর হঠাৎ আমার সামনে ও চারপাশের প্রায় আটটি বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে যায়।’

আগুনে পুড়ে যায় শরীরের বিভিন্ন অংশ

বিস্ফোরণের পর আগুন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান আমিন খান। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি চুল ও মুখমণ্ডলও পুড়ে যায়। গলার নিচে, পিঠে ও হাতে এখনো সেই পোড়ার দাগ রয়েছে।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়ে পুরো আগুন আমার শরীরের ওপর পড়ে। আমার সারা শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। চুলসহ শরীরের অনেক অংশ পুড়ে গিয়েছিল। চেহারার সামনের অংশের চামড়া পুড়ে গোলাকার হয়ে গিয়েছিল। গলার নিচে, পিঠে ও হাতেও এখনো সেই পোড়ার দাগ রয়েছে।’

শরীরে আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায়ও ক্যামেরার নির্ধারিত জায়গা পার হয়ে দৌড়াতে থাকেন তিনি। পরে একটি কক্ষে ঢুকে মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এরপর নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেন, পুরো মুখ পুড়ে কালো হয়ে গেছে।

আড়াই মাস ছিলেন আলাদা কক্ষে

দুর্ঘটনার পর ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তি হন আমিন খান। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে বাংলাদেশের তৎকালীন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং মুখে নতুন করে দাগ পড়া এড়াতে তাঁকে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে জানান অভিনেতা।

সেই সময়ের পরিস্থিতি স্মরণ করে আমিন খান জানান, দুর্ঘটনার পর উপস্থিত অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা নেই।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও ‘জ্যান্ত কবর’-এর শুটিংয়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আমিন খানের জীবনের অন্যতম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে আছে। শরীরে রয়ে যাওয়া পোড়ার দাগ আজও সেই দুঃসহ দিনের স্মৃতি বহন করছে।

কালের আলো/জেএন

প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।

ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করা নাসিমা খান বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশপর্বে যেসব শিল্পী নিজেদের অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। তিনি খান আতা নামেও পরিচিত ছিলেন। নাসিমাদের বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন আনিস এবং নাসিমার বাবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। একসময় আনিসই নাসিমার বাবাকে মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বাবার সম্মতি পাওয়ার পর অভিনয়জগতে পা রাখেন নাসিমা।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে।

একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। এতে তার সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ

১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।

এসব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘আসবন গ্যায়ে মতি’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন নাসিমা।

চলচ্চিত্র থেকে নাটকে

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে ষাটের দশকের ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে নাসিমা খানের নাম। দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রে কাজ করার পর জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তাকে নাটকে বেশি দেখা গেছে।

সময় ও বয়সের পরিবর্তনে অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও শিল্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট ছিল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে যারা অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদেরই একজন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিবাহী এক শিল্পীর জীবনাবসান ঘটল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি