খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।

ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করা নাসিমা খান বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশপর্বে যেসব শিল্পী নিজেদের অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। তিনি খান আতা নামেও পরিচিত ছিলেন। নাসিমাদের বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন আনিস এবং নাসিমার বাবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। একসময় আনিসই নাসিমার বাবাকে মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বাবার সম্মতি পাওয়ার পর অভিনয়জগতে পা রাখেন নাসিমা।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে।

একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। এতে তার সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ

১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।

এসব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘আসবন গ্যায়ে মতি’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন নাসিমা।

চলচ্চিত্র থেকে নাটকে

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে ষাটের দশকের ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে নাসিমা খানের নাম। দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রে কাজ করার পর জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তাকে নাটকে বেশি দেখা গেছে।

সময় ও বয়সের পরিবর্তনে অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও শিল্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট ছিল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে যারা অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদেরই একজন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিবাহী এক শিল্পীর জীবনাবসান ঘটল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব হলেন তিন নারী কূটনীতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব হলেন তিন নারী কূটনীতিক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি পেয়েছেন বিদেশে বাংলাদেশের মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া অভিজ্ঞ তিন নারী কূটনীতিক। তাঁরা হলেন ব্রুনাই দারুস সালামে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নওরীন আহসান, মিশরে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ এবং গ্রিসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁদের সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই তিন কর্মকর্তার পদোন্নতিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের তিন কর্মকর্তা

পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তার মধ্যে সামিনা নাজ ও নওরীন আহসান বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। নাহিদা রহমান সুমনা ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

তিনজনই বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের।

সামিনা নাজের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা

সামিনা নাজ একজন অভিজ্ঞ বাংলাদেশি কূটনীতিক। মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি ভিয়েতনাম ও লাওসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

কূটনৈতিক জীবনে ভারতের মুম্বাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ, ভারতের দিল্লি এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০১৩ সালে মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশ মিশনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নারী কূটনীতিকের নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।

নাহিদা রহমান সুমনার কূটনৈতিক পথচলা

নাহিদা রহমান সুমনা বর্তমানে গ্রিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এথেন্সে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চার বছর ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন।

দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া, কানাডার অটোয়া, ভারতের কলকাতা এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে তাঁর পেশাগত দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

নওরীন আহসানের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার

নওরীন আহসান ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া, নেদারল্যান্ডসের হেগ এবং কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি পেলেন এই কর্মকর্তা।

তিন নারী কূটনীতিকের এই পদোন্নতির মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের নির্দিষ্ট সচিব পদে দায়িত্ব বণ্টন সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ঢাকা থেকে পরিচালিত ৬১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি। রিয়াদ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের হিসাব যুক্ত হলে ভোগান্তিতে পড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১২টা ৭ মিনিটে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য জানায়।

সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত ২২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি এবং রিয়াদ এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

এসব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যাঁরা আগে থেকেই টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের অনেকের ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট স্থগিত ৩৯টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

এসব ফ্লাইটে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রীরা অন্য বিমানবন্দর হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তাঁদের যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট স্থগিতের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও রয়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচি পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রিয়াদ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের হিসাব যুক্ত হলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সৌদির বিমানবন্দর পরিস্থিতিতে প্রভাব

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ফ্লাইট চলাচলে এই বিঘ্ন ঘটেছে। বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে যাত্রা ও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেক যাত্রী।

পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাতায়াতের পরিকল্পনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য ফ্লাইটের সময়সূচি ও যাত্রার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে দেওয়া সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

মাত্র ছয় শব্দের এই পোস্টে কাকে বা কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি জামায়াত আমির। ফলে পোস্টটির বক্তব্য ও সম্ভাব্য ইঙ্গিত নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক সফর শেষে আলোচনায় জামায়াত আমির

সম্প্রতি তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে তুরস্ক সফর নিয়ে একাধিক পোস্টও দেখা গেছে। সেখানে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা প্যাক্টসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার ওপর গুরুত্ব

সফর নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত।

তুরস্ক সফরের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

৭ অক্টোবর তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন

গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন ডা. শফিকুর রহমান।

তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে ৯ অক্টোবর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাঁর দেওয়া নতুন ফেসবুক পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি