ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের নতুন কর্মসূচি, দিল্লিতে বড় পদযাত্রার ডাক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্র দলগুলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের কর্মসূচিতে বিরোধী নেতারা দিল্লিতে প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে জোটটি।
সিইসির পদত্যাগে অনড় বিরোধীরা
কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে সি ভেনুগোপাল শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে আসছে। বাদ পড়া নামগুলোর ক্ষেত্রে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ব্যক্তি কিংবা যাচাই করা যায়নি—এমন তথ্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে কমিশন।
দিল্লিতে ধরপাকড় ঘিরে উত্তেজনা
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক বিরোধী নেতা পুলিশের হাতে আটক হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।
এ ছাড়া বামপন্থী নেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। বিরোধী নেতারা পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে ও তাঁর দলের নেতাদের দীর্ঘ সময় গাড়িতে আটকে রেখেছিল। তবে এটি তাঁর বক্তব্য; পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিরোধী ঐক্য আরও জোরদারের চেষ্টা
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধী জোটের তৎপরতা বেড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই অবস্থান করছেন এবং কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো—ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হচ্ছে।
সোমবারের কর্মসূচিতে কতসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেবেন এবং পদযাত্রা কোন পথে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। তবে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচি ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
কালের আলো/জেএন

আপনার মতামত লিখুন
Array