খুঁজুন
                               
, ,
           

শের-ই-বাংলা মেডিকেল

৫০০ শয্যার জনবল দিয়ে চিকিৎসা ৩ হাজার রোগীর, শেবাচিমে চরম সংকট

বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
৫০০ শয্যার জনবল দিয়ে চিকিৎসা ৩ হাজার রোগীর, শেবাচিমে চরম সংকট

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা ও জনবল সংকট। শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে, চলাচলের পথ এমনকি প্রবেশপথেও শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তদের অন্য রোগীদের সঙ্গে একই জায়গায় রাখতে হওয়ায় বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এখানে প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকছেন। অথচ হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল কাঠামো মূলত ৫০০ শয্যার উপযোগী। কয়েক বছর আগে হাসপাতালটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ভবনের হাঁটার পথ, লিফট ও শৌচাগারে যাওয়ার রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় রোগীদের শুয়ে থাকতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে ডেঙ্গু আক্রান্তদেরও আলাদা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থাও নেই।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাঁদের একই স্থানে রাখায় সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। অনেকে অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসক নিয়মিত পাওয়া যায় না এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের বড় অংশ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮১০। অক্টোবরের প্রথম নয় দিনের মধ্যে প্রতিদিনই ভর্তি রোগীর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি ছিল। ৫ অক্টোবর সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।

একই দিন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩৯। তাঁদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ৩০টি। ফলে বাড়তি রোগীদের সবাইকে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৩৬ জন। শূন্য রয়েছে ৮৭টি পদ। নার্সের ১ হাজার ৬২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১ হাজার ৪ জন।

এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ১৬১টি পদের মধ্যে কর্মরত ৮৭ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ৪৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২০৯ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে ৫৯৪টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৯৮টি। ঘাটতি সামাল দিতে ২২২ জন আউটসোর্সিং কর্মী কাজ করছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিদ্যমান জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৫০০টির কিছু বেশি শয্যার রোগীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে হাসপাতালের। অথচ এই জনবল দিয়েই প্রায় তিন হাজার ভর্তি রোগী এবং বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয় এক হাজার শয্যার হিসাব অনুযায়ী। ফলে একটি ওয়ার্ডে সাত দিনের জন্য সরবরাহ করা ওষুধ তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়। নিয়মিত ওষুধ না পাওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ।

শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. মাজহারুল রেজওয়ান জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাম্প্রতিক সভায় শয্যাসংখ্যা দুই হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

তবে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও ওষুধ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে রোগীদের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

ধারণক্ষমতা ২৫০ শয্যার। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। শয্যা না পেয়ে কেউ মেঝেতে, কেউ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। খাবার, ওষুধ ও শৌচাগারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে।

হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় অনেক শিশুকে নিয়ে স্বজনেরা মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

শয্যা, ওষুধ ও খাবার নিয়ে অভিযোগ

ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামের সুজেদা বেগম তাঁর অসুস্থ শিশুকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার জ্বর ও বমি নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এখানে ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনতে হয়। খাবারের মানও ভালো না। বেড পাইনি, তিন দিন ধরে মেঝেতে আছি।’

দিরাই উপজেলার ফয়সল বলেন, তাঁর শিশুকে সর্দি-কাশির কারণে আট দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আরেকটি শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভাতের কষ্ট, ওষুধ নাই। বাথরুমে দুর্গন্ধ। সিরিয়াল ধরে বাথরুম ব্যবহার করতে হয়। তিন বেলার মধ্যে এক বেলা খাবার দেয়, সকালের নাশতা দেয় না। হাসপাতাল ছেড়ে অন্য কোথাও চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবছি।’

হামে আক্রান্ত রোগী নিয়েও উদ্বেগ

দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি এলাকার ইকবাল হোসেন তাঁর হামে আক্রান্ত ভাগনিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কেবিন নেই। বারান্দায় নিয়ে আছি। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। খুব কষ্টে আছি।’

শিশু রোগীর চাপের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।

জনবল সংকটে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগই শিশু। হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল দিয়ে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সুবিধার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ১৩ অক্টোবরের এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

রোববার বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ছাড়া সংস্থাটির অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন।

চার সদস্যের প্রতিনিধিদল

সূত্র জানায়, বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো বাংলাদেশের চিঠিতে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়েছে। ওই তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম নেই। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বৈঠকের আগে ১২ অক্টোবর বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তা সহযোগিতা

এবারের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মানব পাচার, মাদক পাচার ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ—বিমসটেকের সদস্য সাতটি দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ জোটটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এবারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষে জয়টা প্রায় হাতছাড়া হতে বসেছিল বাংলাদেশের। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জমে ওঠে রোমাঞ্চ। তবে শেষ ওভারে স্নায়ুর পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সকে দারুণ এক জয় এনে দেন আবু জায়েদ রাহি। তার আগে বল হাতে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এনামুল হক জুনিয়র।

এই দুই বোলারের নৈপুণ্যে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত চ্যাম্পিয়ন্সকে ৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

ব্যাটিংয়ে ১৪১ রানের পুঁজি

রোববার রাতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ভারতের ইনিংস থামে ১৩৮ রানে।

ব্যাটিংয়ে শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩০ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর ছন্দ হারায় দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

রনি তালুকদার ২৫ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে চারটি চার ও দুটি ছক্কা। নাসির হোসেন ২১ বলে ২৪ রান করে দলের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি আনেন। শেষ দিকে আরাফাত সানির ৩৮ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

ভারতের হয়ে তিনটি উইকেট নেন পীযুশ চাওলা। পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান পান দুটি করে উইকেট।

শুরুতেই চাপে ভারত

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। ৪ রানে আম্বাতি রাইডুর বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিং। এরপর রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানেই পাঁচ ব্যাটারকে হারায় ভারত। একপর্যায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে দলটি।

ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ এবং ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে এনামুল হক জুনিয়রের স্পিনে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

শেষ দিকে জমে ওঠে রোমাঞ্চ

এনামুলের ঘূর্ণিতে ভারত চাপে পড়লেও শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জয়ের আশা আবারও জেগে ওঠে। বাংলাদেশের জয় তখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তবে শেষ ওভারে বল হাতে দায়িত্ব নেন আবু জায়েদ রাহি। চাপের মুহূর্তে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা আটকে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

এনামুল হক জুনিয়রের চার উইকেট এবং রাহির শেষ ওভারের দৃঢ়তায় রোমাঞ্চকর এই জয় পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগও তৈরি হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের সামনে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি