খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদি আরবে ফিরতে পারছেন না প্রবাসীরা, ঢাকায় আটকা ৩ হাজার যাত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সৌদি আরবে ফিরতে পারছেন না প্রবাসীরা, ঢাকায় আটকা ৩ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেও সৌদি আরবে যেতে পারছেন না অনেকে। অন্যদিকে, দেশে ফেরার অপেক্ষায় রিয়াদে আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি যাত্রী।

বাংলানিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা-রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার ও শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের কারণে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন প্রবাসীরা।

বিমানবন্দরে আসা অনেক যাত্রী আগে থেকেই টিকিট কেটে নির্ধারিত সময়ে যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছে ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে বিপাকে পড়েন তাঁরা। পরবর্তী ফ্লাইট কখন ছাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় তাঁদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ঢাকায় সৌদিগামী প্রায় তিন হাজার যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, রিয়াদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আটকা পড়েছেন প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ছুটি শেষে কাজে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরি, ভিসার মেয়াদ ও নিয়োগকর্তার শর্ত নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বিকল্প পথেও অনিশ্চয়তা

সৌদি আরবে পৌঁছাতে অনেক যাত্রী বিকল্প রুট খুঁজছেন। কেউ ঢাকা থেকে মদিনা বা জেদ্দাগামী ফ্লাইটের খোঁজ করছেন, আবার কেউ তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিকল্প পথের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এসব পথে যাত্রা করেও গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীরাও বিপাকে পড়েছেন। অনেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিমানবন্দরে এসে এখন বাড়ি ফিরে যাবেন, নাকি পরবর্তী ফ্লাইটের অপেক্ষায় ঢাকায় থাকবেন—সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। টিকিট পরিবর্তন, অর্থ ফেরত ও বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও অনেকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে যোগাযোগ করছেন।

ফ্লাইট স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপর কখন ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ফ্লাইটের সময় নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার খবরও এসেছে। এতে সৌদি আরবের আকাশপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরা এবং সেখান থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

ধারণক্ষমতা ২৫০ শয্যার। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। শয্যা না পেয়ে কেউ মেঝেতে, কেউ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। খাবার, ওষুধ ও শৌচাগারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে।

হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় অনেক শিশুকে নিয়ে স্বজনেরা মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

শয্যা, ওষুধ ও খাবার নিয়ে অভিযোগ

ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামের সুজেদা বেগম তাঁর অসুস্থ শিশুকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার জ্বর ও বমি নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এখানে ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনতে হয়। খাবারের মানও ভালো না। বেড পাইনি, তিন দিন ধরে মেঝেতে আছি।’

দিরাই উপজেলার ফয়সল বলেন, তাঁর শিশুকে সর্দি-কাশির কারণে আট দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আরেকটি শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভাতের কষ্ট, ওষুধ নাই। বাথরুমে দুর্গন্ধ। সিরিয়াল ধরে বাথরুম ব্যবহার করতে হয়। তিন বেলার মধ্যে এক বেলা খাবার দেয়, সকালের নাশতা দেয় না। হাসপাতাল ছেড়ে অন্য কোথাও চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবছি।’

হামে আক্রান্ত রোগী নিয়েও উদ্বেগ

দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি এলাকার ইকবাল হোসেন তাঁর হামে আক্রান্ত ভাগনিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কেবিন নেই। বারান্দায় নিয়ে আছি। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। খুব কষ্টে আছি।’

শিশু রোগীর চাপের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।

জনবল সংকটে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগই শিশু। হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল দিয়ে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সুবিধার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ১৩ অক্টোবরের এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

রোববার বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ছাড়া সংস্থাটির অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন।

চার সদস্যের প্রতিনিধিদল

সূত্র জানায়, বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো বাংলাদেশের চিঠিতে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়েছে। ওই তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম নেই। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বৈঠকের আগে ১২ অক্টোবর বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তা সহযোগিতা

এবারের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মানব পাচার, মাদক পাচার ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ—বিমসটেকের সদস্য সাতটি দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ জোটটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এবারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষে জয়টা প্রায় হাতছাড়া হতে বসেছিল বাংলাদেশের। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জমে ওঠে রোমাঞ্চ। তবে শেষ ওভারে স্নায়ুর পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সকে দারুণ এক জয় এনে দেন আবু জায়েদ রাহি। তার আগে বল হাতে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এনামুল হক জুনিয়র।

এই দুই বোলারের নৈপুণ্যে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত চ্যাম্পিয়ন্সকে ৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

ব্যাটিংয়ে ১৪১ রানের পুঁজি

রোববার রাতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ভারতের ইনিংস থামে ১৩৮ রানে।

ব্যাটিংয়ে শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩০ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর ছন্দ হারায় দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

রনি তালুকদার ২৫ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে চারটি চার ও দুটি ছক্কা। নাসির হোসেন ২১ বলে ২৪ রান করে দলের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি আনেন। শেষ দিকে আরাফাত সানির ৩৮ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

ভারতের হয়ে তিনটি উইকেট নেন পীযুশ চাওলা। পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান পান দুটি করে উইকেট।

শুরুতেই চাপে ভারত

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। ৪ রানে আম্বাতি রাইডুর বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিং। এরপর রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানেই পাঁচ ব্যাটারকে হারায় ভারত। একপর্যায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে দলটি।

ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ এবং ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে এনামুল হক জুনিয়রের স্পিনে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

শেষ দিকে জমে ওঠে রোমাঞ্চ

এনামুলের ঘূর্ণিতে ভারত চাপে পড়লেও শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জয়ের আশা আবারও জেগে ওঠে। বাংলাদেশের জয় তখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তবে শেষ ওভারে বল হাতে দায়িত্ব নেন আবু জায়েদ রাহি। চাপের মুহূর্তে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা আটকে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

এনামুল হক জুনিয়রের চার উইকেট এবং রাহির শেষ ওভারের দৃঢ়তায় রোমাঞ্চকর এই জয় পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগও তৈরি হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের সামনে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি