খুঁজুন
                               
, ,
           

এক কোটি কর্মীর লক্ষ্যে নতুন শ্রমবাজারের খোঁজ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
এক কোটি কর্মীর লক্ষ্যে নতুন শ্রমবাজারের খোঁজ

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বন্ধ শ্রমবাজার চালু, নতুন গন্তব্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় কয়েকটি বড় শ্রমবাজারে কর্মী গমনের গতি কমেছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিদেশে কর্মী গমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি জাপানসহ নতুন গন্তব্যে কর্মী পাঠানোর সুযোগ সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • মালয়েশিয়া-আমিরাতের শ্রমবাজার চালুর চেষ্টা
  • জাপানসহ বিকল্প গন্তব্যে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা
  • দক্ষতা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে গুরুত্ব

কর্মী গমনে গতি ফেরানোই চ্যালেঞ্জ
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন। চলতি বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মী গমন কমেছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০১ জন বা প্রায় ৩৩ শতাংশ।

সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে কর্মী নিয়োগ কমে আসা এ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বড় অংশ কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এসব বাজারে পরিবর্তন এলে সামগ্রিক কর্মী গমনেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে বিদ্যমান শ্রমবাজারে সুযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে প্রবেশের কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের এক কোটি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর্মী প্রেরণের সক্ষমতা ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

মালয়েশিয়া-আমিরাত চালুর উদ্যোগে প্রত্যাশা
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় নতুন কর্মী নিয়োগ ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ রয়েছে। বাজারটি পুনরায় চালুর বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। গত ২৮ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আশাবাদ জানায়।

তবে বাজার চালুর সময়সূচি, নিয়োগের শর্ত ও কর্মী নেওয়ার পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে মালয়েশিয়ার ২০২৬-৩০ মেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিদেশি শ্রমিকের অংশগ্রহণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। ফলে বাজার চালু হলেও কী পরিমাণ কর্মী যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতি ও মালয়েশিয়ার শ্রমনীতির ওপর।

অন্যদিকে, একসময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রাপ্তি সীমিত হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছুটিতে দেশে আসা কয়েক হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের তথ্যও সামনে এসেছে। দেশটিতে নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা জোরদার এবং বিদ্যমান কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের চ্যালেঞ্জে বিকল্প বাজারের গুরুত্ব
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে গেছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ জন কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩ জন। অর্থাৎ কর্মী গমন কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। কাতারে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ৮০ হাজার ৫৭০ থেকে কমে ৪৯ হাজার ৭৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। কুয়েতেও গত বছরের প্রায় ৩৪ হাজারের তুলনায় এ বছর গেছেন প্রায় ২২ হাজার কর্মী।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিয়োগ চাহিদার পরিবর্তন এ প্রবণতায় প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব দেশে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শ্রমসম্পর্ক ও কর্মীদের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নতুন সুযোগ তৈরির ভিত্তি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন দেশ ও পেশায় কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ রয়েছে।

জাপানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ
বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে জাপানকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ মে জাপান সফরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। তবে বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে গেছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন এবং চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ১ হাজার ৬০৮ জন।

জাপানের শ্রমবাজারে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভাষাগত দক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করা প্রয়োজন। দেশে বিএমইটির অধীনে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আরও ৫০টি কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের মান ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে দক্ষ কর্মী তৈরির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

দক্ষতা ও কূটনীতিতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এক কোটি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বর্তমানে বাংলাদেশের রয়েছে। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি মো. নুরুল হক বলেছেন, কর্মীদের উপযুক্ত বেতন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে। কয়েকটি দেশে সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জনে বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিবাসন কূটনীতি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করতে হবে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বন্ধ শ্রমবাজার চালুর প্রচেষ্টার পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের পথ আরও সুগম হতে পারে।

কালের আলো/এমএসএএকে

২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

ধারণক্ষমতা ২৫০ শয্যার। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। শয্যা না পেয়ে কেউ মেঝেতে, কেউ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। খাবার, ওষুধ ও শৌচাগারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে।

হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় অনেক শিশুকে নিয়ে স্বজনেরা মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

শয্যা, ওষুধ ও খাবার নিয়ে অভিযোগ

ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামের সুজেদা বেগম তাঁর অসুস্থ শিশুকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার জ্বর ও বমি নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এখানে ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনতে হয়। খাবারের মানও ভালো না। বেড পাইনি, তিন দিন ধরে মেঝেতে আছি।’

দিরাই উপজেলার ফয়সল বলেন, তাঁর শিশুকে সর্দি-কাশির কারণে আট দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আরেকটি শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভাতের কষ্ট, ওষুধ নাই। বাথরুমে দুর্গন্ধ। সিরিয়াল ধরে বাথরুম ব্যবহার করতে হয়। তিন বেলার মধ্যে এক বেলা খাবার দেয়, সকালের নাশতা দেয় না। হাসপাতাল ছেড়ে অন্য কোথাও চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবছি।’

হামে আক্রান্ত রোগী নিয়েও উদ্বেগ

দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি এলাকার ইকবাল হোসেন তাঁর হামে আক্রান্ত ভাগনিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কেবিন নেই। বারান্দায় নিয়ে আছি। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। খুব কষ্টে আছি।’

শিশু রোগীর চাপের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।

জনবল সংকটে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগই শিশু। হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল দিয়ে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সুবিধার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ১৩ অক্টোবরের এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

রোববার বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ছাড়া সংস্থাটির অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন।

চার সদস্যের প্রতিনিধিদল

সূত্র জানায়, বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো বাংলাদেশের চিঠিতে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়েছে। ওই তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম নেই। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বৈঠকের আগে ১২ অক্টোবর বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তা সহযোগিতা

এবারের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মানব পাচার, মাদক পাচার ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ—বিমসটেকের সদস্য সাতটি দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ জোটটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এবারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষে জয়টা প্রায় হাতছাড়া হতে বসেছিল বাংলাদেশের। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জমে ওঠে রোমাঞ্চ। তবে শেষ ওভারে স্নায়ুর পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সকে দারুণ এক জয় এনে দেন আবু জায়েদ রাহি। তার আগে বল হাতে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এনামুল হক জুনিয়র।

এই দুই বোলারের নৈপুণ্যে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত চ্যাম্পিয়ন্সকে ৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

ব্যাটিংয়ে ১৪১ রানের পুঁজি

রোববার রাতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ভারতের ইনিংস থামে ১৩৮ রানে।

ব্যাটিংয়ে শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩০ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর ছন্দ হারায় দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

রনি তালুকদার ২৫ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে চারটি চার ও দুটি ছক্কা। নাসির হোসেন ২১ বলে ২৪ রান করে দলের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি আনেন। শেষ দিকে আরাফাত সানির ৩৮ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

ভারতের হয়ে তিনটি উইকেট নেন পীযুশ চাওলা। পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান পান দুটি করে উইকেট।

শুরুতেই চাপে ভারত

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। ৪ রানে আম্বাতি রাইডুর বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিং। এরপর রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানেই পাঁচ ব্যাটারকে হারায় ভারত। একপর্যায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে দলটি।

ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ এবং ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে এনামুল হক জুনিয়রের স্পিনে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

শেষ দিকে জমে ওঠে রোমাঞ্চ

এনামুলের ঘূর্ণিতে ভারত চাপে পড়লেও শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জয়ের আশা আবারও জেগে ওঠে। বাংলাদেশের জয় তখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তবে শেষ ওভারে বল হাতে দায়িত্ব নেন আবু জায়েদ রাহি। চাপের মুহূর্তে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা আটকে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

এনামুল হক জুনিয়রের চার উইকেট এবং রাহির শেষ ওভারের দৃঢ়তায় রোমাঞ্চকর এই জয় পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগও তৈরি হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের সামনে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি