খুঁজুন
                               
, ,
           

জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধিতে স্বস্তি নেই

সঞ্চয় ফুরোচ্ছে, মধ্যবিত্ত নামছে নিম্নবিত্তের কাতারে

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
সঞ্চয় ফুরোচ্ছে, মধ্যবিত্ত নামছে নিম্নবিত্তের কাতারে

গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজারে সকালে ক্রেতার ভিড় থাকে। তবে সেই ভিড়ের অনেকেই পণ্য কিনতে নয়, দাম জানতে আসেন। কেউ সবজির ঝুড়ি থেকে আধা কেজি তুলে আবার নামিয়ে রাখেন, কেউ ডিমের দাম শুনে চলে যান ডালের দোকানে। মাসের পর মাস ধরে চলা এই চিত্র যেন জানিয়ে দিচ্ছে, সংসারের আয়-ব্যয়ের হিসাব আর মিলছে না। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় সামলাতে গিয়ে ফুরিয়ে আসছে সঞ্চয়। অনেকে বাধ্য হচ্ছেন ঋণ করতে, কমাতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় খরচও। এই চাপে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে মধ্যবিত্তের আর্থিক নিরাপত্তা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে, আগস্টে যা ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ খাবারের পাশাপাশি বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের মতো খাতেও ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। একই সময়ে মানুষের আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে আয় বাড়লেও ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না অনেকেই। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপও পণ্য ও সেবার দামে প্রভাব ফেলছে।

আয় বাড়লেও কমছে সংসারের স্বস্তি

গাইবান্ধা পৌর এলাকায় রিকশা চালান সাহারুল ইসলাম (৪৫)। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন তিনি। পাঁচ বছর আগেও এই আয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার মোটামুটি ভালোই চলত। এখন ঘরভাড়া, চাল-সবজি এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।

সংসারের ব্যয় সামলাতে তাঁর স্ত্রী এখন আশপাশের বাড়িতে কাজ করেন। ছোট ছেলে স্কুলের ফাঁকে দোকানে ফরমাশ খাটে। পরিবারের মোট আয় আগের তুলনায় বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি। সাহারুল বলেন, ‘আয় বাড়ছে, কিন্তু শান্তি বাড়ছে না। সবজির দোকানে যেতেই এখন ভয় লাগে।’

শুধু দিনমজুর কিংবা রিকশাচালক নন, নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবীরাও একই সংকটে পড়েছেন। শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাজ্জাদ মাহমুদের (৩৮) বেতন কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু মাসের ২০ তারিখ পার হলেই শুরু হয় ধারদেনার চিন্তা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শারমিন শাম্মী (৪২) বলেন, ‘বাসাভাড়া আর গাড়িভাড়া হুট করে বাড়ানো যায়, বেতন তো ইচ্ছেমতো বাড়ে না। শখ-আহ্লাদ দূরে থাক, টিকে থাকাই এখন কঠিন।’

একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বাড়িভাড়া, বাজার, সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয়ের সুযোগ থাকত। এখন অনেক পরিবারের হিসাব প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাস শেষে সঞ্চয় তো দূরের কথা, ধারদেনা না করে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সঞ্চয় ভেঙে চলছে সংসার

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। যাঁদের আয় কাগজে-কলমে বেড়েছে, তাঁরাও বাস্তবে আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন।

তাঁর মতে, অনেক পরিবার জমানো টাকা তুলে সংসারের খরচ চালাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সস্তা পণ্য কিনছে। এমনকি চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে।

গাইবান্ধার পাড়া-মহল্লায় এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট। মাছ-মাংস কেনা কমেছে অনেক পরিবারে। ডিম, ডাল ও সবজি হয়ে উঠেছে ভরসা। ছোটখাটো অসুস্থতায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বদলে অনেকে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনছেন। বাইরে খাওয়া কিংবা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মতো ব্যয় বাদ পড়ছে মাসিক বাজেট থেকে। কেউ সন্তানকে তুলনামূলক ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে কম খরচের স্কুলে ভর্তি করছেন। কেউ আত্মীয়স্বজনের কাছে সাহায্য চাইছেন, আবার কেউ ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপে সবচেয়ে জটিল অবস্থায় পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। উচ্চ আয়ের মানুষের ব্যয় সংকোচনের সুযোগ থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। কিন্তু মধ্যবিত্তের বড়ো একটি অংশ এসব সহায়তার বাইরে থেকে যায়। ফলে সঞ্চয় শেষ হয়ে গেলে আর্থিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার বিকল্পও সীমিত হয়ে পড়ে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক মর্যাদা রক্ষার চাপ। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই নিজেদের সংকটের কথা প্রকাশ করতে চান না। সহায়তার প্রয়োজন হলেও কেউ কেউ টিসিবির পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়াতে দ্বিধা করেন। ফলে তাঁদের আর্থিক সংকট অনেক সময় পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

লেখক ও গবেষক জহুরুল কাইয়ুমের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ মানুষের সামাজিক অবস্থানকে নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আজ যিনি মধ্যবিত্ত, সঞ্চয় শেষ হয়ে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে তাঁর জীবনযাত্রা নিম্নবিত্তের পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।

কৃষিপ্রধান জেলাতেও বাড়ছে চাপ

গাইবান্ধা কৃষিপ্রধান জেলা। ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও চরাঞ্চলের ফসলের ওপর নির্ভর করে এখানকার অর্থনীতির বড়ো একটি অংশ। তারপরও বাজারের বাড়তি দামের চাপ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না জেলার মানুষ। কারণ, মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু শহরের ভোক্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উৎপাদন থেকে পরিবহন, পাইকারি বাজার ও খুচরা বিক্রি—পুরো সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

কৃষকদের সেচের ডিজেল, বিদ্যুৎ, সার ও পরিবহন বাবদ বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। অথচ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তাঁদের সব সময় নিশ্চয়তা থাকে না। আবার সেই কৃষকই বাজারে গিয়ে চাল, তেল, ডাল, মাছ ও ওষুধ কিনতে উচ্চ দামের মুখোমুখি হচ্ছেন। অর্থাৎ উৎপাদক ও ভোক্তা—দুই ভূমিকাতেই তাঁদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানি, শিক্ষক ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়ও নির্ভর করে বাজারে মানুষের কেনাকাটার সক্ষমতার ওপর। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে মানুষ যখন কেনাকাটা কমিয়ে দেন, তখন বেচাকেনাও কমে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন ছোট ব্যবসায়ীরা, সংকুচিত হয় স্থানীয় অর্থনীতির গতি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও বাধাগ্রস্ত হয়।

নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকা চরাঞ্চলের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। একটি দুর্যোগেই তাঁদের বছরের সঞ্চয় শেষ হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে নতুন করে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার সুযোগও কমে যায়।

সংকটের প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতেও

ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে ব্যবসা ও বিনিয়োগেও। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের চাহিদা কমে যাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পথও সংকুচিত হয়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায়ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব পরিবারের বাজেটের বড়ো অংশ খাবারের পেছনে ব্যয় হয়। প্রকৃত আয় কমে গেলে খাবারের ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত থাকায় অন্য প্রয়োজনীয় খাত থেকে খরচ কাটতে হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের অব্যবস্থাপনা এবং পণ্য বিতরণে ত্রুটিও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে। তাই বাজার তদারকি জোরদার, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক সহায়তা

গাইবান্ধার মতো জেলায় মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কৃষি উপকরণের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও এমন সহায়তা প্রয়োজন, যাতে সঞ্চয় শেষ হওয়ার আগেই তারা আর্থিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

গাইবান্ধার বাজারে সন্ধ্যা নামলে দোকানিরা বাতি জ্বালান, ক্রেতারা হাতে থলে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু অনেকের থলে এখন আগের তুলনায় হালকা। সেই হালকা থলে শুধু কম কেনাকাটার চিত্র নয়; এটি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসা ক্রয়ক্ষমতা, ফুরিয়ে যাওয়া সঞ্চয় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতেরও প্রতীক।

মাস শেষে ঘরে চাল থাকবে কি না, সন্তানের স্কুলের ফি দেওয়া যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অসংখ্য পরিবার। বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে এই চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফসলের মাঠে উৎপাদন থাকলেও তাতে ঘরে ঘরে স্বস্তি ফিরবে না, যদি মানুষের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো অর্থ না থাকে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
২৫০ শয্যার হাসপাতালে হাজারো রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

ধারণক্ষমতা ২৫০ শয্যার। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। শয্যা না পেয়ে কেউ মেঝেতে, কেউ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। খাবার, ওষুধ ও শৌচাগারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে।

হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় অনেক শিশুকে নিয়ে স্বজনেরা মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

শয্যা, ওষুধ ও খাবার নিয়ে অভিযোগ

ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামের সুজেদা বেগম তাঁর অসুস্থ শিশুকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার জ্বর ও বমি নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এখানে ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনতে হয়। খাবারের মানও ভালো না। বেড পাইনি, তিন দিন ধরে মেঝেতে আছি।’

দিরাই উপজেলার ফয়সল বলেন, তাঁর শিশুকে সর্দি-কাশির কারণে আট দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আরেকটি শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভাতের কষ্ট, ওষুধ নাই। বাথরুমে দুর্গন্ধ। সিরিয়াল ধরে বাথরুম ব্যবহার করতে হয়। তিন বেলার মধ্যে এক বেলা খাবার দেয়, সকালের নাশতা দেয় না। হাসপাতাল ছেড়ে অন্য কোথাও চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবছি।’

হামে আক্রান্ত রোগী নিয়েও উদ্বেগ

দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি এলাকার ইকবাল হোসেন তাঁর হামে আক্রান্ত ভাগনিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কেবিন নেই। বারান্দায় নিয়ে আছি। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। খুব কষ্টে আছি।’

শিশু রোগীর চাপের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।

জনবল সংকটে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগই শিশু। হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল দিয়ে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সুবিধার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ১৩ অক্টোবরের এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

রোববার বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ছাড়া সংস্থাটির অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন।

চার সদস্যের প্রতিনিধিদল

সূত্র জানায়, বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো বাংলাদেশের চিঠিতে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়েছে। ওই তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম নেই। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বৈঠকের আগে ১২ অক্টোবর বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তা সহযোগিতা

এবারের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মানব পাচার, মাদক পাচার ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ—বিমসটেকের সদস্য সাতটি দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ জোটটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এবারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
৩ রানের নাটকীয় জয়, ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষে জয়টা প্রায় হাতছাড়া হতে বসেছিল বাংলাদেশের। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জমে ওঠে রোমাঞ্চ। তবে শেষ ওভারে স্নায়ুর পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সকে দারুণ এক জয় এনে দেন আবু জায়েদ রাহি। তার আগে বল হাতে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এনামুল হক জুনিয়র।

এই দুই বোলারের নৈপুণ্যে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত চ্যাম্পিয়ন্সকে ৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

ব্যাটিংয়ে ১৪১ রানের পুঁজি

রোববার রাতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ভারতের ইনিংস থামে ১৩৮ রানে।

ব্যাটিংয়ে শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩০ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর ছন্দ হারায় দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

রনি তালুকদার ২৫ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে চারটি চার ও দুটি ছক্কা। নাসির হোসেন ২১ বলে ২৪ রান করে দলের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি আনেন। শেষ দিকে আরাফাত সানির ৩৮ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

ভারতের হয়ে তিনটি উইকেট নেন পীযুশ চাওলা। পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান পান দুটি করে উইকেট।

শুরুতেই চাপে ভারত

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। ৪ রানে আম্বাতি রাইডুর বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিং। এরপর রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানেই পাঁচ ব্যাটারকে হারায় ভারত। একপর্যায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে দলটি।

ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ এবং ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে এনামুল হক জুনিয়রের স্পিনে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

শেষ দিকে জমে ওঠে রোমাঞ্চ

এনামুলের ঘূর্ণিতে ভারত চাপে পড়লেও শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। পবন নেগি ও পীযুশ চাওলার ব্যাটে জয়ের আশা আবারও জেগে ওঠে। বাংলাদেশের জয় তখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তবে শেষ ওভারে বল হাতে দায়িত্ব নেন আবু জায়েদ রাহি। চাপের মুহূর্তে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা আটকে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

এনামুল হক জুনিয়রের চার উইকেট এবং রাহির শেষ ওভারের দৃঢ়তায় রোমাঞ্চকর এই জয় পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগও তৈরি হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের সামনে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি