খুঁজুন
                               
, ,
           

দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
দিল্লির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ১৩ অক্টোবরের এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

রোববার বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ছাড়া সংস্থাটির অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন।

চার সদস্যের প্রতিনিধিদল

সূত্র জানায়, বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো বাংলাদেশের চিঠিতে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়েছে। ওই তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম নেই। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বৈঠকের আগে ১২ অক্টোবর বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তা সহযোগিতা

এবারের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মানব পাচার, মাদক পাচার ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ—বিমসটেকের সদস্য সাতটি দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ জোটটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এবারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রীর নির্দেশ

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ার অপারেটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

যাত্রীদের আগাম তথ্য দেওয়ার নির্দেশ

মন্ত্রী বলেন, ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এয়ার অপারেটরদের যাত্রীদের যথাযথভাবে দেখভাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানো যায়।

তিনি বলেন, ফ্লাইটের বিষয়ে যাত্রীদের আগেভাগে জানাতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যে বিমানবন্দরে এসে পড়েছেন, তাঁদের ভোগান্তি কমাতেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় ফ্লাইটের পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে আগাম তথ্য দেওয়া এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থগিত ফ্লাইটগুলো কখন চালু হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জ্বালানি, কৃষি ও জলবায়ু অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
জ্বালানি, কৃষি ও জলবায়ু অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্ব

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।

তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাঁদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।

কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের সঙ্গে একমত হন।

তেল ও এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার আগ্রহ

বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে দেশটি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার নিয়েও আলোচনা হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনাও উঠে আসে।

কারিগরি শিক্ষা ও নার্সিং প্রশিক্ষণে সহযোগিতা

বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় কানাডা। বর্তমানে এ খাতে দেশটির কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় যৌথ উদ্যোগ

ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা।

এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) মাধ্যমে চলমান কার্যক্রমের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর ফলে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এসব তথ্য কৃষি খাতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখবে।

তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও কার্যকর করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ উন্নত করার পাশাপাশি এর সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলারের আগ্রহ

বাংলাদেশের জলবায়ু মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের কথা বৈঠকে উঠে আসে।

কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহ রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশের উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রশংসা, কানাডা সফরের আমন্ত্রণ

বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। তাঁদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পায়রা নদীতে  ইলিশ শিকার

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পায়রা নদীতে  ইলিশ শিকার

মা-ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার হাজিরহাট ও রাজাগঞ্জের মধ্যবর্তী নদী এলাকায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকায় জেলেদের ইলিশ ধরতে দেখা গেছে। প্রশাসনের অভিযান চলার কথা থাকলেও প্রকাশ্যে মাছ শিকারের এমন দৃশ্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চলছে মাছ শিকার

রবিবার দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে নদীতে এ চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা হচ্ছে। পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এ তৎপরতা চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরার নৌকাগুলোতে শক্তিশালী ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে জেলেরা দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারছেন। অন্যদিকে, অভিযান পরিচালনাকারী দলের পক্ষে একসঙ্গে সব এলাকায় নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জনবলসংকট, টহল দল মাত্র একটি

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, তাঁদের টহল দল কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকা ঘুরে এসেছে। জনবলসংকট এবং মাত্র একটি টহল দল থাকায় সব জায়গায় সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে টহল দল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় ব্যস্ত ছিলেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় জানিয়েছে, এর আগে ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মিত অভিযানে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ১১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। তবে জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুতগতির নৌযানের সংকটের কারণে অবৈধ মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন ঘাটে ইলিশ মজুতের অভিযোগ

নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে ধরা ইলিশের একটি অংশ গোপনে কেনাবেচা ও মজুত করা হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয় সূত্রগুলোর। উপজেলার হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরিঘাট, ভাঙ্গার মাথা, আঙ্গারিয়া বন্দর, পাতাবুনিয়ার হাট, জেলেপাড়া, উত্তর মুরাদিয়া ও জোয়ারগরবদিসহ বিভিন্ন ঘাটে বরফের বাক্সে ইলিশ মজুত রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাঙ্গাশিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বলেন, এভাবে নির্বিচারে মা-ইলিশ ধরা চলতে থাকলে অচিরেই নদীগুলো ইলিশশূন্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে বাজারে ইলিশ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মা-ইলিশ শিকার করা হলে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাঁদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, পর্যাপ্ত জনবল এবং দ্রুতগতির টহল নৌযানের ব্যবস্থা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ধরা ইলিশের কেনাবেচা ও মজুত বন্ধে ঘাটগুলোতেও অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি