খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের পরিচয় নয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁকে পূজায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মানুষ হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব’

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাঁকে মানুষের জন্য কাজ করার একটি সুযোগ দিয়েছেন। নিজের অবস্থান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন, ধর্মের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে তাঁর ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা দিতে।

তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার রয়েছে এবং যা তাঁর প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে সেই অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করাই তাঁর দায়িত্ব। নাগরিকদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে। এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে ছিলেন

দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। জাতির সংকটময় সময়ে মানুষ যখন ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে দেখেননি, তখন অন্যান্য ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে পার্থক্য করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে ছিলেন। তাই নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।

নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মী

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মীরাও নির্যাতিত হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমানের বক্তব্যে নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোয় ধন্যবাদ

মতবিনিময় সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।

তাঁরা আরও জানান, বিএনপিকে ভোট দিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি বলে তাঁদের মনে হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তাঁরা।

  • বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

মতবিনিময় সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্যসহ সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও সভায় অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারই গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়, গুরুত্ব পাচ্ছে জিয়ার ‘উই রিভল্ট’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়, গুরুত্ব পাচ্ছে জিয়ার ‘উই রিভল্ট’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বর্ণনায় নতুন সংযোজন আসছে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে এবার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার পর মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হচ্ছে। এতে তাঁর ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা, বাঙালি সেনাসদস্যদের সংগঠিত করা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে স্থান পাচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিমার্জিত বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার পাশাপাশি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার প্রচার এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তাঁর পরবর্তী ঘোষণার বিবরণও রাখা হয়েছে। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আগের সংস্করণের তুলনায় আরও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

  • স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট ও কালুরঘাটের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বাহিনী
  • বীরশ্রেষ্ঠদের অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করছে এনসিটিবি
  • চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিক্ষার বই

ইতিহাসের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধও স্থান পাচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলা ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েও নতুন বিষয়বস্তু যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে চারটি নতুন বই। সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস, সংস্কৃতি, কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিক্ষার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।

‘উই রিভল্ট’ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা
২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহ করেন। পাঠ্যবইয়ে তাঁর বিদ্রোহের মুহূর্তটি বোঝাতে ‘উই রিভল্ট’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ ‘আমরা বিদ্রোহ করছি’।

এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি ব্যাটালিয়নের বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করেন। বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের সামনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরুর কথা জানান তিনি। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে সামরিক প্রতিরোধ সংগঠিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হলে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন বইয়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ঘোষণা দেওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তাঁর আরেকটি ঘোষণার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন সংস্করণে শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা নয়, এর পেছনের প্রেক্ষাপট, সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যদের বিদ্রোহ এবং বেতারকেন্দ্রের মাধ্যমে ঘোষণার প্রচারের ঘটনাগুলোও ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

আগের পাঠ্যবইয়ে কী ছিল
স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন সময়ের পাঠ্যবইয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ২০২২ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ওই বর্ণনায় স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত বইয়ে বলা হয়, ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরদিন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তবে সেখানে ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা, বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি সেনাসদস্যদের সংগঠিত করার ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন সংস্করণে এসব বিষয় যুক্ত হওয়ায় স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বিবরণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময়ের পাঠ্যবইয়ে এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের উপস্থাপনার পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর, ব্রিগেড ও বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী
নতুন শিক্ষাবর্ষের ইতিহাসভিত্তিক বিষয়বস্তুতে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স সম্পর্কে তথ্য যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা যুদ্ধ পরিচালনার কাঠামো, বিভিন্ন বাহিনীর ভূমিকা এবং সম্মুখযুদ্ধের সংগঠিত রূপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। একই সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসকে শুধু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা বা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোও পাঠ্যক্রমে স্থান পাচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও এবারের পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য দিক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাঁর নিজের লেখার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চার বই
ইতিহাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশের বিষয়েও নতুন সংযোজন আসছে। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। ‘খেলাধুলা’ বইটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দিতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বইয়ের লক্ষ্য শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও উপভোগ্য করে তোলা। এ ছাড়া বাংলা ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়েও নতুন বিষয়বস্তু সংযোজন করা হচ্ছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তন শুধু ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর বিস্তার ঘটছে।

ছাপা হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এনসিটিবির পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ছাপার কার্যক্রম চলছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু বই ছাপাও হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে এসব বই পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে নতুন বিষয়বস্তুগুলো আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। বিশেষ করে ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝতে সহায়তা করবে।

ইতিহাসের পাঠে আরও বিস্তৃত পরিসর
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক আফসান চৌধুরী মনে করেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের পাশাপাশি সমাজের ইতিহাস বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসচর্চার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় অনেক সময় ইতিহাসের চেয়ে রাজনীতির চর্চা বেশি প্রাধান্য পায়। তাই সমাজের ইতিহাসের চর্চা বাড়ানো জরুরি।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান এবং যুদ্ধকালীন সামাজিক অভিজ্ঞতাও পাঠ্যবইয়ে গুরুত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বিস্তারিত বিবরণ, ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণার উল্লেখ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স এবং বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী যুক্ত করার উদ্যোগ ইতিহাসের পাঠকে আরও বিস্তৃত করছে। পাশাপাশি ৭ নভেম্বর ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মতো রাজনৈতিক অধ্যায় এবং সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষার নতুন বই শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সমাজ সম্পর্কে জানার আরও সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

ঢাকার ২৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরায় নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ঢাকার ২৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরায় নজরদারি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ২৫৭টি পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নজরদারি চালানো হবে। এ জন্য পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বডিওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের সিসি ক্যামেরা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে নাশকতা বা ভীতি সৃষ্টির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দায়িত্বে থাকবেন ২ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য

ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্য ২ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের ১৬ হাজারের বেশি সদস্য ও কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।

পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর নয়টি বড় পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে ৫০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে পূজামণ্ডপের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ রাখা হবে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো প্রস্তুত থাকবে।

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএমপি। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকেই পূজামণ্ডপগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ইনচার্জদের বডিওন ক্যামেরার মাধ্যমেও সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে দায়িত্ব পালনের সময় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা পাওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালানো হবে। বিশেষ করে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু চোখে পড়লে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

প্রস্তুত সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ও ডগ স্কোয়াড

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় বিশেষায়িত ইউনিটগুলো প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। এ জন্য সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব ইউনিট প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি উৎসবে অংশ নিতে আসা মানুষের চলাচল এবং আশপাশের এলাকার পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখা হবে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিসর্জন শোভাযাত্রায় বাড়তি পুলিশ

বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পুরো পথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মানুষের সমাগম ও চলাচল বাড়তে পারে। এ কারণে শোভাযাত্রার পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ।

গুজব ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রতিরোধেও পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা উসকানিমূলক তথ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে ছড়ানো তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার না করার আহ্বান

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা উচিত নয়। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনে পূজা উদযাপন কমিটি, মন্দির কর্তৃপক্ষ, স্বেচ্ছাসেবী এবং নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

১৬ অক্টোবর, বিশ্ব খাদ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন আগামী সমৃদ্ধি’। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিয়ে আলোচনা

কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং টেকসই খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্য সবার কাছে সহজলভ্য করা এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যের চাহিদা পূরণ, কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক কৃষিপদ্ধতি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্য

বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা দূর করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করা হয়।

দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো খাদ্য ও পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃষিতে উদ্ভাবন, ভবিষ্যতের খাদ্য চাহিদা

জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপের কারণে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।

টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের পুষ্টিমান বজায় রাখা, অপচয় কমানো এবং সবার জন্য সুষম খাবারের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য এসব ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি