খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের পরিচয় নয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁকে পূজায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মানুষ হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব’

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাঁকে মানুষের জন্য কাজ করার একটি সুযোগ দিয়েছেন। নিজের অবস্থান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন, ধর্মের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে তাঁর ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা দিতে।

তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার রয়েছে এবং যা তাঁর প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে সেই অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করাই তাঁর দায়িত্ব। নাগরিকদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে। এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে ছিলেন

দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। জাতির সংকটময় সময়ে মানুষ যখন ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে দেখেননি, তখন অন্যান্য ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে পার্থক্য করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে ছিলেন। তাই নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।

নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মী

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মীরাও নির্যাতিত হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমানের বক্তব্যে নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোয় ধন্যবাদ

মতবিনিময় সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।

তাঁরা আরও জানান, বিএনপিকে ভোট দিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি বলে তাঁদের মনে হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তাঁরা।

  • বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

মতবিনিময় সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্যসহ সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও সভায় অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারই গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সঞ্চয়পত্রে ফিরছে বিনিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
সঞ্চয়পত্রে ফিরছে বিনিয়োগ

বেশি সুদের আশায় ব্যাংকে টাকা রেখেছিলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোক্তার হোসেন। দীর্ঘদিন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পর একসময় ব্যাংকের আমানতে ঝুঁকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও ফিরেছেন সরকারি এ সঞ্চয়মাধ্যমে। অবসরজীবনের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তার এ সিদ্ধান্ত। শুধু মোক্তার হোসেন নন, মুনাফার আকর্ষণ ও ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় সঞ্চয়পত্রে নতুন করে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিক্রির পরিসংখ্যানেও। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এতে একদিকে সরকারি সঞ্চয়মাধ্যমটির প্রতি বাড়তি আগ্রহের চিত্র ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয় সিদ্ধান্তে মুনাফা ও নিরাপত্তার গুরুত্বও সামনে এসেছে।

  • দুই মাসে নিট বিক্রি ২ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে
  • জুলাই-আগস্টে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ
  • ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি ও আকর্ষণীয় মুনাফায় বাড়ছে আগ্রহ

দুই মাসে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে ৮৯১ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে ৮৯০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

এর মধ্যে জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধের তুলনায় ২ হাজার ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বেশি ছিল। আগস্টে নিট বিক্রি হয়েছে ৪০৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ২৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট অর্থপ্রাপ্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বলতে নতুন বিক্রির বিপরীতে আগের বিনিয়োগের আসল পরিশোধ সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থকে বোঝায়। ফলে এ পরিসংখ্যান শুধু বিনিয়োগের প্রবণতা নয়, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহের চিত্রও তুলে ধরে।

মুনাফার আকর্ষণ ও নিরাপত্তার বিবেচনা
মোক্তার হোসেন জানান, পেনশনের অর্থের পাশাপাশি জমি বিক্রির টাকা ব্যাংকে রেখেছিলেন সংসারের খরচ মেটানোর জন্য। কিন্তু ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আবারও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। তার কাছে নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার পাশাপাশি সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পেছনে ব্যাংক খাত নিয়ে উদ্বেগ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ প্রবণতাকে ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে মুনাফার হার, বিনিয়োগের মেয়াদ, নগদায়নের সুবিধা ও অর্থের নিরাপত্তা—সবকিছুই প্রভাব ফেলে।

বর্তমানে নির্দিষ্ট শর্তে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। চলতি জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে বিদ্যমান মুনাফার হার বহাল রেখেছে সরকার। ফলে নিয়মিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র আকর্ষণীয় থাকতে পারে।

আগের অর্থবছরের দুর্বল প্রবণতা কাটানোর ইঙ্গিত
চলতি অর্থবছরের আগে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ সংগ্রহ ছিল তুলনামূলক কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে নিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা। অথচ মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রথম দুই মাসে নিট বিক্রির উল্লম্ফন সরকারের ঋণ সংগ্রহের হিসাবে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। তবে বছরের বাকি সময়ে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও নতুন বিক্রির বিপরীতে আসল-মুনাফা পরিশোধের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। জুলাই শেষে তা ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

আস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতাই মূল বিবেচনা
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহে সহায়ক হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বুঝতে আরও সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে আস্থা ধরে রাখা এবং সঞ্চয়কারীদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়া মানেই ব্যাংক থেকে সমপরিমাণ অর্থ সরে আসা নয়।

সব মিলিয়ে, মুনাফার আকর্ষণ, নিরাপত্তার বিবেচনা ও বিনিয়োগকারীদের পছন্দের পরিবর্তনে সঞ্চয়পত্রের বাজারে নতুন গতি দেখা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সরকারি ঋণ সংগ্রহে সঞ্চয়পত্রের ভূমিকা বাড়তে পারে। তবে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র—উভয় ক্ষেত্রেই আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়কারীদের স্বার্থ রক্ষার প্রধান শর্ত।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

এক ছাগল থেকে দুই খামার, ফরিদের সাফল্যের গল্প

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
এক ছাগল থেকে দুই খামার, ফরিদের সাফল্যের গল্প

ইউটিউবে ছাগল পালনের একটি ভিডিও দেখে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই আগ্রহ থেকেই প্রায় ছয় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে আফ্রিকান বোয়ার জাতের একটি ছাগল কিনেছিলেন শেখ ফরিদ। সাত বছরের ব্যবধানে সেই একটি ছাগল থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর খামার গড়ার যাত্রা। এখন গাজীপুর ও সিলেটে তাঁর দুটি খামারে রয়েছে বিদেশি জাতের ১২৫টি ছাগল। এসব ছাগলের বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি। ছাগল পালন থেকে বছরে তাঁর আয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর পূর্বপাড়া গ্রামে নিজের বাড়ির আঙিনায় ‘মা গট ফার্ম’ নামে একটি খামার গড়ে তুলেছেন ফরিদ। পাশাপাশি সিলেটেও রয়েছে তাঁর আরেকটি খামার। শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস। নিয়মিত পরিচর্যা, ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গড়ে তোলা খামারটি স্থানীয়ভাবে সম্ভাবনাময় উদ্যোগের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ইউটিউবের ভিডিও থেকে খামার গড়ার স্বপ্ন

শেখ ফরিদ জানান, প্রায় সাত বছর আগে ইউটিউবে ছাগল পালনবিষয়ক একটি ভিডিও দেখে বিদেশি জাতের ছাগল পালনের প্রতি আগ্রহী হন তিনি। পরে প্রায় ছয় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে অনলাইনে অর্ডার করে আফ্রিকান বোয়ার জাতের একটি ছাগল কেনেন। সেই ছাগল দিয়েই শুরু হয় তাঁর খামার গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথচলা।

শুরুর দিকে খামারে ছাগলের সংখ্যা ছিল খুবই কম। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, খাবারের ব্যবস্থা এবং খামার পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন তিনি।

প্রথম তিন বছরের মধ্যে তাঁর খামারে ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫০টিতে। এ সময় কিছু ছাগল বিক্রিও করেন। পাঁচ বছর পর খামারে ছাগলের সংখ্যা বেড়ে হয় প্রায় ৮০টি। পরে খামার সম্প্রসারণের মাধ্যমে গাজীপুরের পাশাপাশি সিলেটেও ছাগল পালন শুরু করেন।

বর্তমানে গাজীপুরের খামারে রয়েছে ৫০টি এবং সিলেটের খামারে ৭৫টি ছাগল। দুই খামার মিলিয়ে মোট ছাগলের সংখ্যা ১২৫টি।

বোয়ার, কালাহারি ও বারবারি জাতের ছাগল

ফরিদের খামারে আফ্রিকান বোয়ার, কালাহারি ও বারবারি জাতের ছাগল পালন করা হচ্ছে। জাত, বয়স ও শারীরিক গঠন অনুযায়ী এসব ছাগলের দাম ৩৫ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বলে জানান তিনি।

বিদেশি জাতের ছাগল পালনে খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। ফরিদের খামারেও ছাগলের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশেও এসব জাতের ছাগল পালন করে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

খাবারে ঘাস, সাইলেজ ও দানাদার পুষ্টি

ছাগলের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ফরিদের খামারে বিভিন্ন ধরনের খাবার ব্যবহার করা হয়। খাবারের তালিকায় রয়েছে নেপিয়ার ও জার্মান ঘাস, সাইলেজ, ভুট্টার সাইলেজ এবং বিভিন্ন ধরনের দানাদার খাবার।

দানাদার খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাঙা ভুট্টা, সয়াবিন, অ্যাংকার, ছোলা, বুটের ভুসি ও মসুরের ভুসি। ছাগলের বয়স, শারীরিক গঠন ও পুষ্টির প্রয়োজন বিবেচনায় খাবারের মান ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া হয়।

খামারে ছাগল সুস্থ রাখা এবং কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সুষম খাবারের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা ও চিকিৎসা

ছাগলকে রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত রাখতে খামারে নিয়মিত টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ফরিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাগলকে এফএমডি, গোট পক্স ও পিপিআর রোগের টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কৃমিনাশক, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও মিনারেল সরবরাহ করা হয়।

খামারে রোগ ছড়িয়ে পড়লে একসঙ্গে অনেক ছাগল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন ফরিদ।

বছরে আয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা

শেখ ফরিদ জানান, বর্তমানে তাঁর দুই খামারে থাকা ছাগলগুলোর বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি। ছাগল বিক্রি ও খামারের অন্যান্য আয় মিলিয়ে বছরে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে তাঁর।

তবে এই আয়কে পুরোপুরি নিট মুনাফা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছাগলের খাবার, চিকিৎসা, পরিচর্যা, শ্রমিক ও খামার ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় রয়েছে। এসব ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ নির্ধারিত হয়।

ফরিদের ভাষ্য, একটি ছাগল দিয়ে শুরু করা উদ্যোগ আজ তাঁর কাছে শুধু ব্যবসা নয়, স্বপ্ন ও ভালোবাসার জায়গা। শুরুতে অনেক কিছুই শিখতে হয়েছে। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করে খামার বড় করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একটা ছাগল দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন গাজীপুর ও সিলেটে আমার দুটি খামারে ১২৫টি ছাগল রয়েছে। ছাগল পালনকে শুধু ব্যবসা হিসেবে দেখি না, এটি এখন আমার স্বপ্ন ও ভালোবাসার জায়গা। শুরুতে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা করতে পারলে ছাগল পালন থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।’

সফলতায় পাশে প্রাণিসম্পদ বিভাগ

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলিম বলেন, শেখ ফরিদ আফ্রিকান বোয়ারসহ বিদেশি জাতের ছাগল পালনে সফলতা অর্জন করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর খামার নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, খামার সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

একটি ছাগল দিয়ে শুরু হওয়া শেখ ফরিদের উদ্যোগ এখন দুটি খামারে ১২৫টি ছাগলে বিস্তৃত। তাঁর এই যাত্রা দেখাচ্ছে, আগ্রহের সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পরিচর্যা যুক্ত হলে শখের উদ্যোগও আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় হামলা, ভাঙল জানালার কাচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় হামলা, ভাঙল জানালার কাচ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের রাজধানীর উত্তরার বাসায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে একদল লোক তাঁর বাসার সামনে গিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে বাড়ির সামনের জানালাসহ কয়েকটি স্থানের কাচ ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

জি এম কাদেরের অভিযোগ, মিছিলকারীরা তাঁর বাসার সামনে গিয়ে হইচই শুরু করেন এবং তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বাসার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে বাইরে থেকে বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকেন।

‘আমাকে ভারত ও আওয়ামী লীগের দালাল বলেছে’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জি এম কাদের বলেন, মিছিল নিয়ে এসে লোকজন তাঁর বাসার সামনে হইচই করেন এবং তাঁর নাম ধরে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে না পেরে বাইরে থেকে বাসা লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়েন তাঁরা। এতে জানালাসহ বাড়ির কয়েকটি জায়গার কাচ ভেঙে যায়।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা তাঁকে ‘ভারত ও আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে গালিগালাজ করেন। তবে হঠাৎ কেন তাঁর বাসায় হামলা চালানো হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

জি এম কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে পুলিশ ও অন্য লোকজন ঘটনাস্থলে এলে মিছিলকারীরা সেখান থেকে চলে যান।

হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, কারা এ হামলা চালিয়েছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে বাসা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিম বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান।

হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর জি এম কাদেরের বাসায় হামলার কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ তদন্ত করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি