খুঁজুন
                               
, ,
           

হুতিদের হামলায় চাপে সৌদি, কী হবে পাল্টা কৌশল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
হুতিদের হামলায় চাপে সৌদি, কী হবে পাল্টা কৌশল?

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলায় বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে সৌদি আরব। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার মুখে পড়ার পর গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে কীভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে ভাবছে রিয়াদ। বিমান হামলা জোরদার করা, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে আরও সহায়তা দেওয়া কিংবা সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানো—প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে রয়েছে সামরিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি।

সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হুতিদের হামলা শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবও এতে যুক্ত হয়েছে। ফলে সৌদি আরবের সামনে এখন এমন কৌশল বেছে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যাতে নিজেদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

রিয়াদে হামলার পর বাড়ছে পাল্টা জবাবের চাপ

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিতে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করে সৌদি আরব। তবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর তৎপরতার পরও হুতিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়িয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী হামলার ঘটনায় হতাহত ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের খবরও সামনে আসে।

হুতিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিচ্ছে। এতে শুধু দেশটির নিরাপত্তাই নয়, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বের ওপর কঠোর জবাব দেওয়ার চাপ বাড়ছে।

স্থলযুদ্ধে জড়ানো নিয়ে বড় উদ্বেগ

সৌদি আরব এখন পর্যন্ত মূলত বিমান হামলার মাধ্যমে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিয়েছে। দেশটি সরাসরি বড় আকারে স্থলসেনা মোতায়েন করা থেকে বিরত থেকেছে। কিন্তু রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলার পর এই অবস্থান কত দিন বজায় রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সৌদি রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষক ও লেখক আলী শিহাবি সিএনএনকে বলেছেন, হুতিদের হুমকি দীর্ঘমেয়াদে মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রণক্ষেত্রে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দক্ষতা এবং সৌদি আরবের বিমান হামলার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে ইয়েমেনে সরাসরি সেনা পাঠালে সৌদি আরবকে দুর্গম ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের সংঘাতে সামরিক সাফল্য নিশ্চিত করা কঠিন। পাশাপাশি প্রাণহানি, বিপুল ব্যয় এবং নিরাপত্তাহীনতা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব নিজেদের বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সেই ভাবমূর্তি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে শক্তিশালী হুতিরা

একসময় ছোট ধর্মভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে পরিচিত হুতি গোষ্ঠী গত দুই দশকে শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ইরানের সহায়তায় তাদের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতাও তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অভিযোগ, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়িয়েছে। ইয়েমেনের এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নতুন কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।

প্রতিবেদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে অবস্থানরত একটি গোষ্ঠী তাদের ক্লড এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা নিয়েছে। তবে ওই গোষ্ঠীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং তাদের সঙ্গে হুতিদের সরাসরি সম্পর্কও নিশ্চিত করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সমর্থন চেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তুরস্কের মতো কয়েকটি দেশও সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সরাসরি বিমান হামলায় যোগ দেয়নি। তবে নতুন গঠিত যৌথ কমান্ডের অধীনে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আলী শিহাবির মতে, মার্কিন স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ধরনের সহায়তা সৌদি আরবের সামরিক অভিযানেও কার্যকর হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হলে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ সামরিক অংশগ্রহণ ছাড়া সৌদি আরবকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা

সৌদি আরবের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ছড়িয়ে রয়েছে। এসব স্থাপনা তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজার, পণ্য পরিবহন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনাকেও চাপে ফেলতে পারে।

সামরিক শক্তি প্রয়োগ নাকি কূটনৈতিক সমাধান

সৌদি আরবের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে হুতিদের হামলা প্রতিরোধ করা যায়, অথচ নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে না হয়। বিমান হামলা জোরদার করলে হুতিদের সামরিক সক্ষমতায় আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এতে পাল্টা হামলার ঝুঁকিও থেকে যায়। অন্যদিকে, স্থলযুদ্ধে প্রবেশ করলে সংঘাতের ব্যয় ও সময় দুটিই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা—সবকিছুই সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃতি বিবেচনায় নিয়ে রিয়াদকে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সিএনএনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সৌদি আরবের জন্য বিষয়টি শুধু প্রতিশোধ নেওয়ার নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষারও।

কালের আলো/এসএ

নিউ ইয়র্কের রাতে পুরস্কার হাতে চার তারকার উদযাপন

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
নিউ ইয়র্কের রাতে পুরস্কার হাতে চার তারকার উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর যেন কখনো ঘুমায় না। রাতের ঝলমলে আলো, ব্যস্ত সড়ক আর উৎসবমুখর পরিবেশের সেই শহরেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন ঢাকাই শোবিজের চার পরিচিত মুখ। নির্মাতা রায়হান রাফী, অভিনেত্রী তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলাকে একসঙ্গে দেখা গেছে পুরস্কারের ট্রফি হাতে উদযাপনের মুহূর্তে।

১০ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে প্রত্যেকেই পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার হাতে নিয়ে শহরের রাতের আলোয় ক্যামেরাবন্দী হন চার তারকা। তাঁদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

পুরস্কার হাতে তারকাদের আনন্দঘন মুহূর্ত

ছবিতে তিন অভিনেত্রীকে দেখা গেছে ঝলমলে পোশাকে। অন্যদিকে রায়হান রাফীর পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট ও কালো জ্যাকেট। প্রত্যেকের হাতেই ছিল পুরস্কারের ট্রফি। তাঁদের হাসিমুখ ও উচ্ছ্বাসে ফুটে উঠেছে অর্জন উদযাপনের আনন্দ।

নিউ ইয়র্কের রাতের আলোয় তোলা ছবিগুলোতে পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তও ধরা পড়েছে। বিদেশের মাটিতে একসঙ্গে এমন অর্জন উদযাপন তাঁদের কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন দুই অভিনেত্রী।

মাহির কাছে স্মরণীয় এক রাত

ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে সামিরা খান মাহি লিখেছেন, নিউ ইয়র্ক সিটির একটি রাত তাঁর কাছে অর্জন, বন্ধুত্ব ও সুন্দর স্মৃতি উদযাপনের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

ভিন্ন একটি শহরে এসে পুরস্কার পাওয়া এবং সেই আনন্দ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। হাসি-আনন্দে ভরা এই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

বন্ধুত্বের গল্প শোনালেন তমা মির্জা

একই ধরনের ছবি প্রকাশ করেছেন তমা মির্জাও। ক্যাপশনে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে নিউ ইয়র্কে একসঙ্গে প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, পুরস্কার গ্রহণ এবং নিজেদের অর্জন ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বন্ধুদের সঙ্গে এই মুহূর্ত উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তমা লিখেছেন, দীর্ঘ পথচলায় কিছু বন্ধুত্ব জীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলে। একসঙ্গে থাকার আনন্দ এবং বন্ধুদের পাশে পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, কাজেও রয়েছে যোগাযোগ

তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলার বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ঢাকায় একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের বন্ধুত্বের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় একাধিক প্রকল্পে অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। কাজের সূত্রে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ পুরস্কার গ্রহণের পাশাপাশি চার তারকার একসঙ্গে সময় কাটানো এবারের সফরকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। পুরস্কার, বন্ধুত্ব ও আনন্দের এই মুহূর্তগুলোই এখন তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উঠে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

হিমঘরে নাসিমা খানের মরদেহ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
হিমঘরে নাসিমা খানের মরদেহ

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দেশে ফেরার পর এ আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত অভিনেত্রীর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফিরলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

এক ছেলে বিদেশে, অন্য ছেলে নিখোঁজ

নাসিমা খানের পারিবারিক জীবনে নেমে এসেছে এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অন্যদিকে, ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

জীবনের শেষ সময়ে দুই ছেলের কারও সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর। বড় ছেলে দেশে ফেরার পর মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন অন্যতম। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই কাজ করেছেন তিনি।

১৯৫৯ সালে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’-এর মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাসিমা খান। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অভিনয় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

কালের আলো/এসএ

অতীতের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
অতীতের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

দীর্ঘদিন আইনি অভিভাবকত্বের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং সপ্তাহের সাত দিন কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অতীত জীবনের মানসিক যন্ত্রণা, স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।

৪৪ বছর বয়সী এই গায়িকা জানান, ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর আইনি অভিভাবকত্বের আওতায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপনের সুযোগ ছিল সীমিত।

সপ্তাহে সাত দিন কাজ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও সীমিত

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্রিটনি স্পিয়ার্স দাবি করেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাঁকে সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করতে হয়েছে। এত পরিশ্রমের পরও নিজের ইচ্ছামতো কোথাও গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার মতো স্বাধীনতা তাঁর ছিল না বলে জানান তিনি।

অতীতের এসব অভিজ্ঞতা এখনো তাঁকে ক্ষুব্ধ করে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন এই গায়িকা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, পেশাগত ব্যস্ততা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী জীবন কাটানোর সুযোগ তিনি পাননি।

নিয়ন্ত্রণমুক্ত জীবনে নিজের মতো ভ্রমণ

কঠোর নিয়মকানুন থেকে মুক্ত হওয়ার পর গত কয়েক বছরে নিজের মতো করে একা ভ্রমণ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটনি। পোস্টে নিজের স্বাধীন জীবন, আধ্যাত্মিক চিন্তা এবং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতার পর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে নতুনভাবে উপভোগ করার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতের কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের জীবনকে নিজের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছেন এই তারকা।

পুরোনো অ্যালবামের ২৫ বছর পূর্তি, প্রকাশিত অপ্রকাশিত গান

এদিকে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সংগীতজীবন নিয়েও ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে তাঁর ২০০১ সালের অ্যালবাম ‘ব্রিটনি’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘শি’ল নেভার বি মি’ নামে একটি অপ্রকাশিত গান ভক্তদের জন্য প্রকাশ করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এবং পুরোনো গান প্রকাশ—দুই ঘটনাই সম্প্রতি ব্রিটনিকে আলোচনায় রেখেছে। সংগীতজীবনের পাশাপাশি নিজের স্বাধীনতা ও অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যও ভক্তদের আগ্রহ তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ