খুঁজুন
                               
, ,
           

চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় আগুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় মনজুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ভবনটির ছয়তলায় একটি দোকানে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার দুই মিনিট পর, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা।

ছয়তলার একটি দোকানে আগুন

ফায়ার সার্ভিস জানায়, চকবাজারের ছোট কাটারায় এসি মসজিদের পাশে অবস্থিত মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় একটি দোকানে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলটির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।

আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে।

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা দোকান ও ভবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের কার্যক্রম চলছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানা যেতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে রিট, আটক হওয়ার পর আর এগোলেন না গুলশান আরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে রিট, আটক হওয়ার পর আর এগোলেন না গুলশান আরা

গ্রেপ্তারের আগে বিদেশ যেতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা। বিদেশযাত্রায় তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আদালতকে জানানোর পর আবেদনটি আর চালাতে চাননি তাঁর আইনজীবীরা। পরে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ হিসেবে খারিজ করে দেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় আবেদনটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।

  • গ্রেপ্তারের তথ্য আদালতকে জানানোর পর আবেদন খারিজ
  • সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গুলশান আরা মূলত বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে তাঁকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। আবেদনটি ওই বেঞ্চে আইটেম নম্বর চার হিসেবে ছিল এবং আদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, গুলশান আরার পক্ষে আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, এর মধ্যে একটি পরবর্তী ঘটনা ঘটেছে। সেটি হলো, একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হেফাজতে আছেন। এ কারণে তাঁরা মামলাটি আর চালাতে চান না। পরে তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি ‘নট প্রেস’ করে দিয়েছেন, অর্থাৎ আবেদনটি খারিজ করেছেন।

কী অভিযোগে গ্রেপ্তার?
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান আরাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানো, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার এবং অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি গুলশান আরার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

রিট খারিজের তাৎপর্য কী?
গুলশান আরার রিট আবেদনটি খারিজ হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গ্রেপ্তারের পর মামলার পরিস্থিতি পরিবর্তন। তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি হেফাজতে থাকায় বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত আবেদনটি আর চালানোর প্রয়োজন নেই। সে পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেস’ করেন।
আইনগতভাবে ‘নট প্রেস’ বলতে সাধারণত আবেদনকারী বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে আবেদনটি আর এগিয়ে না নেওয়ার বিষয়টি বোঝায়। এ ধরনের আদেশকে মামলার মূল অভিযোগের বিষয়ে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না। একইভাবে, বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে করা রিট খারিজ হওয়াও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না।

ঘটনাটি একই সঙ্গে দুটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় সামনে এনেছে—একদিকে বিদেশযাত্রায় বাধা না দেওয়ার আবেদন, অন্যদিকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও হেফাজত। প্রথম আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়েছে আইনজীবীদের আর না এগোনোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে; অপরদিকে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিচার পৃথক বিষয়। এখন সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

১ হাজার কোটি টাকার পায়রা সেতু থমকে, দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
১ হাজার কোটি টাকার পায়রা সেতু থমকে, দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু ঘিরে স্বপ্ন ছিল দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের। সেতুটি নির্মিত হলে পটুয়াখালীর সঙ্গে পিরোজপুর, খুলনা ও মোংলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ার কথা। ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। এখনো শুরু হয়নি মূল সেতুর পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ।

প্রায় ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে একদিকে পড়ে আছে অর্ধনির্মিত অবকাঠামো ও মরিচাধরা নির্মাণযন্ত্র, অন্যদিকে নদীর দুই পাড়ের মানুষকে প্রতিদিন পারাপার হতে হচ্ছে নৌযানে। কেন থেমে আছে সেতুর কাজ, তা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেও রয়েছে স্পষ্ট বিরোধ। ঠিকাদার বলছে, নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কাজ এগোচ্ছে না। অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, সরকারের অর্থায়নে ঘাটতি নেই; ঠিকাদারের অর্থসংকট ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে।

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থমকে মূল কাজ

২০২০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের পর পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির সংশোধিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২৬ শতাংশ। মাঠপর্যায়ে ১০ দশমিক ৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে তিনতলা টোল ও অফিস ভবন এবং নির্মাণ ইয়ার্ড। এ ছাড়া ছয়টি টেস্ট পাইল, ৬০টি সার্ভিস পাইল, ছয়টি পাইল ক্যাপ ও তিনটি পিয়ার কলাম নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেতুর মূল নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। নির্মাণস্থলে পড়ে রয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অর্ধনির্মিত অবকাঠামো। এত বড় প্রকল্পের কাজ কেন থেমে আছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নকশা পরিবর্তনে বাড়ে জটিলতা, সময় যায় আরও ১৮ মাস

প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশাসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মূল্যায়নেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া কিছু নকশা চুক্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ঠিকাদার ও পরামর্শকের মধ্যে সমন্বয় ও সমঝোতার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের সংশোধিত চুক্তিতে সড়কের বাঁক মসৃণ করা, সেতুর স্প্যানের দৈর্ঘ্য বাড়ানো এবং টোল মনিটরিং সুবিধায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন শর্ত পূরণ করতে ঠিকাদারকে নকশা নতুন করে তৈরি করতে হয়। এতে আরও প্রায় ১৮ মাস সময় চলে যায়।

নকশা চূড়ান্ত করা নিয়ে এই দীর্ঘসূত্রতা প্রকল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে বর্তমানে নকশার অনুমোদন কতটা সম্পন্ন হয়েছে এবং কাজ পুনরায় শুরু করতে আর কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নিয়ে ঠিকাদার ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

ঠিকাদারের দাবি, নকশা প্রস্তুত; অর্থসংকট সাময়িক

সেতু নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফারহান খান চৌধুরী বলেন, পায়রা সেতু বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম সেতু এবং এর নকশা তৈরির কাজও করছে তাঁদের প্রতিষ্ঠান।

তাঁর ভাষ্য, প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে নকশার ড্রয়িং সম্পন্ন করেছেন। নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে বাকি কাজ শেষ করা হবে। ভায়াডাক্টের পাইলের কাজ শেষ হয়েছে এবং কিছু অংশে পাইল ও পাইল ক্যাপ নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্ষাকাল শেষ হলে বাকি কাজ শুরু করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলেন এই কর্মকর্তা। অর্থনৈতিক সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন খাতেই অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের অর্থসংকট সাময়িক এবং দ্রুত তা কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন তাঁরা।

সাব-কন্ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে লেনদেন প্রসঙ্গে ফারহান খান চৌধুরী জানান, কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ পরিশোধ করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের লেনদেন চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।

প্রকল্প পরিচালকের দাবি, অর্থসংকট ঠিকাদারের; চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. তোফাজ্জল হোসেন ঠিকাদারের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের তহবিলে কোনো ঘাটতি নেই; বরং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থসংকট রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালকের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কয়েকটি বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেছে এবং সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবে না বলে জানিয়েছে। তাঁর মতে, এভাবে কাজ বন্ধ রাখা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, চুক্তিতে কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। ঠিকাদারের উত্থাপিত দাবি নিষ্পত্তির জন্য বোর্ড গঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তোফাজ্জল হোসেন আরও জানান, নকশার যেসব বিষয়ে আগে মতপার্থক্য ছিল, সেগুলোতে সমঝোতা হয়েছে এবং নকশা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মূল সেতুর সাব-স্ট্রাকচার ও ভায়াডাক্টের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাই শুধু নকশার সমস্যার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না—এমন বক্তব্য সঠিক নয় বলে মনে করেন প্রকল্প পরিচালক।

তাঁর অভিযোগ, কম দর দিয়ে কাজ নেওয়ার কারণে লোকসানের আশঙ্কা থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে এটি প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য; ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নকশা ও অর্থসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি বাতিল হলে বাড়তে পারে সময় ও ব্যয়

প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শুরু না করলে কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রকল্পের সময় ও ব্যয়—দুটিই বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, নকশা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা এবং ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের বিরোধ মিলিয়ে নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চুক্তি বাতিল বা নতুন ঠিকাদার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলে নতুন করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় নিতে পারে।

ফলে সেতু নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সহজ করা—এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

সেতু না থাকায় বাড়ছে যাতায়াতের খরচ

পায়রা নদীর দুই পাড়ের মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত এখনো নির্ভর করছে ট্রলার ও স্পিডবোটের ওপর। এতে সময় ও অর্থ—দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপার এবং রাতের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

কৃষক মজিবর মৃধা বলেন, সেতু না থাকায় নদীর দুই পাড়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বাড়ছে। জরুরি প্রয়োজনে নদী পার হতেও বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা। আর স্পিডবোটে জনপ্রতি ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত লাগে। রাতের বেলা কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় পারাপারের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি খরচও বেড়ে যায়।

একটি সেতু নির্মিত হলে এসব দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি পটুয়াখালীর সঙ্গে পিরোজপুর, খুলনা ও মোংলার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেই সম্ভাবনা এখনো অধরা।

অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন, উত্তর চান নদীর দুই পাড়ের মানুষ

পায়রা সেতু প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, টোল ও অফিস ভবন নির্মাণ এবং প্রাথমিক অবকাঠামোর কিছু কাজ সম্পন্ন হলেও মূল সেতুর নির্মাণকাজে স্থবিরতা কাটেনি। একদিকে নকশা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা, অন্যদিকে অর্থসংকট ও চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি জটিল অবস্থায় রয়েছে।

আইএমইডির মূল্যায়নে নকশা ও সমন্বয়সংক্রান্ত সমস্যার কথা উঠে এসেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছে, আর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের অর্থসংকট ও চুক্তি লঙ্ঘনকে কাজ বন্ধ থাকার কারণ হিসেবে তুলে ধরছে।

তবে এসব বিরোধের বাইরে নদীর দুই পাড়ের মানুষের চাওয়া একটাই—সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হোক এবং শেষ হোক। ১ হাজার ৪২ কোটি টাকার প্রকল্পে অগ্রগতি বাড়িয়ে প্রতিশ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা বাস্তবে রূপ দেওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কত দিন ট্রলার-স্পিডবোটে নদী পার হতে হবে? কবে পায়রা নদীর ওপর দাঁড়াবে প্রতিশ্রুত সেতু?

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সৌদিতে দুই বাংলাদেশি নিহত, হাসপাতালে ২৪ জনের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সৌদিতে দুই বাংলাদেশি নিহত, হাসপাতালে ২৪ জনের বেশি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পথপরিক্রমা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, জ্বালানি সরবরাহ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি।

সৌদিতে চিকিৎসাধীন ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে চলমান সংঘাতের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সামনে এনেছে। তবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।

অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সংঘাতময় পরিস্থিতির দ্রুত অবসান এবং যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এবং বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির অবসানে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সরবরাহে বিকল্প উৎসের উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছেন।

তবে আপাতত বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা যায়নি বলে জানান শামা ওবায়েদ। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরবরাহ সচল রাখা এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

চাকরি হারাচ্ছেন প্রবাসীরা, রেমিট্যান্স নিয়েও উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। আবার অনেকে সেখানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। সৌদি আরবেই ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দক্ষ ও বৈধ অভিবাসন বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হওয়ায় সেখানে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসীদের আয়, কর্মসংস্থান এবং দেশে পাঠানো অর্থের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজা এবং দক্ষ কর্মী তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সৌদি রুটে ১০ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ৩৪৩১ যাত্রী

এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতি গোষ্ঠীর হামলার কারণে বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের মোট ১০টি ফ্লাইটের চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।

এর ফলে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের যাত্রাসূচি ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বিআইআইএসএসের সেমিনারে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা

‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পথপরিক্রমা’ শীর্ষক সেমিনারে বিআইআইএসএসের গবেষকেরা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মানবিক প্রভাব, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি এবং শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ও উদ্যোগের বিষয়গুলো উঠে আসে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি