খুঁজুন
                               
, ,
           

টানা তৃতীয় দিন রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
টানা তৃতীয় দিন রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

একের পর এক হামলায় উদ্বেগ

গত কয়েক দিনে রিয়াদে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। হামলার ঘটনায় বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ধারাবাহিক হামলার কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পরিবহনব্যবস্থার নিরাপত্তাও আলোচনায় এসেছে।

রিয়াদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা সৌদি আরবের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

খামিস মুশাইতও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য

সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বিবৃতি অনুযায়ী, শুধু রিয়াদ নয়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত লক্ষ্য করেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনী এসব হামলা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছে।

একই সময়ে একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

হুতিদের হামলার জবাব নিয়ে আলোচনা

ধারাবাহিক হামলার পর হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিরোধের প্রভাব শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব রয়েছে।

রিয়াদকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ

ছয় বছর পর অভিনয়ে ফিরছেন বিপাশা বসু

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ছয় বছর পর অভিনয়ে ফিরছেন বিপাশা বসু

দীর্ঘ ছয় বছরের বিরতি ভেঙে অভিনয়ে ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু। নির্মাতা হংসল মেহতার পরিচালনায় নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি ওয়েব সিরিজের শুটিং শুরু করেছেন তিনি। সিরিজটিতে আরও অভিনয় করছেন সানি কৌশল ও বিশাল জেঠওয়া। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এর। তবে সিরিজটির নাম, বিপাশার চরিত্র এবং মুক্তির তারিখ এখনো প্রকাশ করেননি নির্মাতারা।

দীর্ঘদিন পর বিপাশার অভিনয়ে ফেরার খবরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। বিয়ের পর থেকে বড় পর্দা ও ওয়েব সিরিজে তাঁর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। এ সময় পরিবার ও মেয়েকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এবার অপরাধ ও পুলিশি তদন্তের পটভূমিতে নির্মিত নতুন সিরিজের মাধ্যমে অভিনয়জগতে ফিরছেন বলিউডের এই পরিচিত মুখ।

ছোট শহর, মাদক ব্যবসা ও অপরাধজগতের গল্প

গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সিরিজটির চিত্রনাট্য লিখেছেন কাশ্যপ কাপুর ও রাঘব রাজ কাক্কার। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রভলীন সান্ধু। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলমাইটি মোশন পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে সিরিজটি।

গল্পের পটভূমি একটি ছোট শহর, যা ধীরে ধীরে মহাদেশের হেরোইন ব্যবসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথে। মাদক ব্যবসার বিস্তার, অপরাধজগতের প্রভাব এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তৎপরতায় শহরটির পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সেই অস্থির পরিবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের লড়াই নিয়েই এগোবে কাহিনি।

সিরিজে সানি কৌশলকে দেখা যাবে একজন সৎ ও আপসহীন পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে শুধু অপরাধীদেরই নয়, নিজের বিভাগের ভেতরে ও বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও মোকাবিলা করতে হবে। একদিকে পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের সততা ও মানবিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখার চ্যালেঞ্জ—এই দ্বন্দ্বই তাঁর চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠবে।

তবে বিপাশা বসু ও বিশাল জেঠওয়ার চরিত্র নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গল্পে তাঁদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে কিংবা সানি কৌশলের চরিত্রের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠবে, তা আপাতত গোপন রেখেছেন নির্মাতারা।

বিয়ের পর পরিবারেই বেশি সময় দিয়েছেন বিপাশা

২০১৬ সালের এপ্রিলে অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে বিয়ে হয় বিপাশা বসুর। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ের কাজ কমিয়ে দেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠেন এই অভিনেত্রী। ২০২২ সালের নভেম্বরে বিপাশা ও করণের ঘরে জন্ম নেয় তাঁদের কন্যাসন্তান দেবী।

মাতৃত্বের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝেমধ্যে ভক্তদের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন বিপাশা। তবে নিয়মিত অভিনয়ে তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে নতুন সিরিজের শুটিংয়ে তাঁর অংশগ্রহণকে অভিনয়জীবনে প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘ডেঞ্জারাস’-এর পর নতুন কাজ

বিপাশা বসুকে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য পর্দার কাজগুলোর একটিতে দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ ‘ডেঞ্জারাস’-এ। করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে অভিনীত ক্রাইম থ্রিলারধর্মী সিরিজটি ছিল তাঁর ওটিটি অঙ্গনের কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ভৌতিক সিনেমা ‘অ্যালোন’-এ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিপাশা। সেখানে সঞ্জনা ও অঞ্জনা নামের যমজ দুই বোনের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। সিনেমাটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন করণ সিং গ্রোভার। ভৌতিক ও থ্রিলারধর্মী গল্পে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থাকায় নতুন সিরিজেও তাঁর চরিত্র নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে নতুন কাজটিতে বিপাশাকে ঠিক কোন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে, সেটি এখনো অজানা। তিনি কি অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত কোনো চরিত্রে অভিনয় করবেন, নাকি গল্পের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করবেন—এ বিষয়ে নির্মাতারা কোনো তথ্য দেননি।

প্রত্যাবর্তন ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ

হংসল মেহতা বাস্তবঘনিষ্ঠ ও অপরাধনির্ভর গল্প নির্মাণের জন্য পরিচিত। তাঁর পরিচালনায় নতুন এই সিরিজে বিপাশা বসুর অংশগ্রহণ তাই দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। অন্যদিকে সানি কৌশল ও বিশাল জেঠওয়ার উপস্থিতিও সিরিজটির প্রতি আগ্রহ তৈরি করছে।

এখনো সিরিজটির নাম, পূর্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের তালিকা এবং মুক্তির সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিপাশার চরিত্রের ধরন কিংবা গল্পে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন একটি প্রকল্পে কাজ শুরু করায় তাঁর ভক্তদের অপেক্ষা যে বেড়েছে, তা বলাই যায়।

কালের আলো/এসএ

২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৭৬, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৭৬, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

রাজধানীজুড়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দুটি মোটরসাইকেল, দুটি ব্যাগ ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগে পরিচালিত এসব অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তারে শীর্ষে মিরপুর বিভাগ

ডিএমপির বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মিরপুর বিভাগ থেকে ১১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৭৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭০ জন, লালবাগ বিভাগে ৬৫ জন এবং ওয়ারী বিভাগে ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৫ জন এবং রমনা ও উত্তরা বিভাগ থেকে ২৬ জন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দুজন এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিভাগভিত্তিক এসব অভিযানে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার

অভিযানকালে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৮১৮ পিস ইয়াবা, ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১৪ পুরিয়া হেরোইন, ১০ লিটার দেশীয় মদ এবং তিন বোতল বিদেশি মদ।

মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি দুটি মোটরসাইকেল, দুটি ব্যাগ ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার করা এসব সামগ্রী কোন কোন ঘটনা বা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

৫১টি মামলা, চলছে আইনগত প্রক্রিয়া

ডিএমপির অভিযানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় মোট ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন ও মামলাভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে হবে ‘বিশেষ আদালত’: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে হবে ‘বিশেষ আদালত’: আইনমন্ত্রী

প্রবাসী বাংলাদেশিদের হয়রানি, ভোগান্তি ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিদেশে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বৈধতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরুর দুই দিনব্যাপী ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা জরুরি। বিদেশে কাজ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে কঠিন ও অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয়। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও হয়রানি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিশেষ আদালতের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সমস্যা থাকলে তাঁদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশেষ আদালত কীভাবে গঠন করা হবে, কোথায় এর কার্যক্রম চলবে কিংবা কোন ধরনের মামলা এর আওতায় আসবে—এসব বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি।

কঠিন জীবনযাপনের কথা তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

প্রবাসী শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের কষ্টের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাঁদের জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধাও অনেক ক্ষেত্রে সীমিত থাকে।

একজন শ্রমিকের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকালে বাথরুমে যাওয়ার জন্যও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপর কাজ শুরুর আগে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম শেষে বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ সামলাতে হয় তাঁদের।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, আবাসন ও দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে আসে। তাঁর মতে, বিদেশে শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি তাঁদের অধিকার সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় রামরুর ভূমিকা

অনুষ্ঠানে বেসরকারি সংস্থা রামরুর দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, রামরুর ৩০ বছরের যাত্রা পেরিয়ে বর্তমান অবস্থানে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে এ দীর্ঘ সময়ের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য।

অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় রামরু দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রবাসী শ্রমিকেরা। তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষি ও পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির আলোচনায় প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিবাসনের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়েছে এবং দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তির বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে।

অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ

প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে বিশেষ আদালতের উদ্যোগ, বৈধ কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতায় সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইনি সহায়তার পাশাপাশি বিদেশে তাঁদের কর্মপরিবেশ, আবাসন, বেতন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যার প্রতিকার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এর এখতিয়ার, কার্যপদ্ধতি ও প্রবাসীদের জন্য সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি