টানা তৃতীয় দিন রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
একের পর এক হামলায় উদ্বেগ
গত কয়েক দিনে রিয়াদে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। হামলার ঘটনায় বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ধারাবাহিক হামলার কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পরিবহনব্যবস্থার নিরাপত্তাও আলোচনায় এসেছে।
রিয়াদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা সৌদি আরবের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।
খামিস মুশাইতও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বিবৃতি অনুযায়ী, শুধু রিয়াদ নয়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত লক্ষ্য করেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনী এসব হামলা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছে।
একই সময়ে একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের হামলার জবাব নিয়ে আলোচনা
ধারাবাহিক হামলার পর হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিরোধের প্রভাব শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব রয়েছে।
রিয়াদকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array