খুঁজুন
                               
, ,
           

আইপিএলে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
আইপিএলে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পরবর্তী আসরে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে ঘিরে চেন্নাই সুপার কিংসের সমর্থকদের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তাঁর খেলা না-খেলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মূলত ধোনির নিজের ওপর।

চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাশী বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, ধোনি চেন্নাইয়ে আসার পর নিজের সিদ্ধান্তের কথা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানাবেন। ফলে পরবর্তী আইপিএলে দলের হয়ে খেলবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সমর্থকদের।

ধোনির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চেন্নাই

আইপিএলের নতুন আসর সামনে রেখে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কাশী বিশ্বনাথনকে। তবে অন্যবারের মতো এবারও সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। বরং এ বিষয়ে ধোনির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।

চেন্নাইয়ের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বনাথন বলেন, ‘এই প্রশ্নটা আপনাদের উচিত তাকে করা। আমারও তাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। সে চেন্নাইয়ে আসার পর তার সিদ্ধান্তের কথা আমাদের জানাবে।’

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ধোনির পরবর্তী আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজিও অপেক্ষা করছে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের মতামতের জন্য।

খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সিইও

ধোনি কি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আরও একটি আইপিএল খেলবেন? এই প্রশ্নের জবাবে বিশ্বনাথন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্বনাথন বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে চেন্নাইয়ের হয়ে তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনারা তো জানেন, সে এখনও একজন খেলোয়াড়।’

অর্থাৎ, ধোনির খেলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না চেন্নাই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন ধোনি নিজেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও খেলার বিষয়ে আগ্রহের মতো বিষয়গুলো পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে নতুন করে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানাননি ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও।

সবশেষ আইপিএলে মাঠে দেখা যায়নি ধোনিকে

ধোনিকে নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ, সর্বশেষ আইপিএল মৌসুমে তাঁকে একটি ম্যাচেও খেলতে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আসরের আগে চেন্নাই সুপার কিংস জানিয়েছিল, চোটের কারণে শুরুর কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ম্যাচের আগে ধোনিকে ঘিরে সমর্থকদের অপেক্ষা ও জল্পনা অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁর মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের অবসান ঘটেনি।

দীর্ঘদিন ধরে চেন্নাই সুপার কিংসের পরিচিত মুখ ধোনি। তাঁর নেতৃত্বে দলটি একাধিকবার আইপিএলের শিরোপা জিতেছে। ফলে মাঠে তাঁর উপস্থিতি শুধু একজন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নয়, চেন্নাইয়ের সমর্থকদের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

ধোনিকে ঘিরে সমর্থকদের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও আইপিএলে ধোনির অংশগ্রহণ তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং উইকেটকিপিংয়ের দক্ষতা চেন্নাইয়ের সমর্থকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এবারও ধোনি খেলবেন কি না, তা নিয়ে আগেভাগে কোনো নিশ্চয়তা দিতে চাইছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কাশী বিশ্বনাথনের বক্তব্যে সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অজানা।

সব মিলিয়ে পরবর্তী আইপিএলে ধোনিকে চেন্নাইয়ের জার্সিতে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। আপাতত তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয়।

কালের আলো/এসএ

২৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্নমত

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
২৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্নমত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ২৭ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাঠানো নাশতাসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ করেননি তিনি। তবে ডিবি পুলিশের মাধ্যমে বাইরে থেকে নিজের জন্য খাবার আনিয়েছেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীরা সেই খাবার তাঁর কাছে পৌঁছে দিতেও সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ক্যাম্পাসে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি অসুস্থ বলে দাবি করার পর দুজন চিকিৎসক তাঁর রক্তচাপ পরীক্ষা করেন। তবে পরীক্ষার পর উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেয়।

উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্নমত

মঙ্গলবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, তাঁর শরীর সুস্থ রয়েছে এবং এ মুহূর্তে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তাঁর রক্তচাপও স্বাভাবিক রয়েছে বলে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন। তবে উপাচার্য কিছুটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বা সাফোকেশনে ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আসা চিকিৎসক ডা. টিবলু দে উপাচার্যের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেই বলে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্যের রক্তচাপ ছিল ১০০/১৫০, যার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। উপাচার্য অসুস্থ বলে দাবি করা চিকিৎসককে ঘিরে ধরেন আন্দোলনকারীরা। পরে দুজন চিকিৎসককে একসঙ্গে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য ভেতরে পাঠান তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের খাবার নেননি, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে আনালেন

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, সকাল থেকে উপাচার্যের জন্য নাশতাসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পাঠানো হলেও তিনি সেগুলো গ্রহণ করেননি। পরে ডিবি পুলিশের মাধ্যমে বাইরে থেকে নিজের খাবার আনান তিনি।

তবে উপাচার্যের খাবার গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানাননি। বরং খাবার তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

চুয়েটের ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, ‘ভিসি বাইরের খাবার খাচ্ছেন, তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরাও সেই খাবার পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছি। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থই রয়েছেন।’

অবরুদ্ধ ভবনে পানির সংযোগ চালু

আন্দোলন চললেও মানবিক দিক বিবেচনায় উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখা ভবনের পানির সংযোগ চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। খাবার গ্রহণ না করা এবং শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও উপাচার্যের কাছে বাইরের খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক চিকিৎসক তাঁকে সুস্থ ও চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন, অন্য চিকিৎসক রক্তচাপের মাত্রা বিবেচনায় চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মাত্র ৩৪ বছরেই চলে গেলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা আরজে মিতে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
মাত্র ৩৪ বছরেই চলে গেলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা আরজে মিতে

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা ওয়াল্টার জুনিয়রওয়াল্টার জুনিয়র আর নেই। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন এই মার্কিন অভিনেতা, সমাজসেবক ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রতিনিধিরা। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেতার প্রতিনিধিরা তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। শন রেইলির দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানানো হয়, প্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবক ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী আরজে মিতের মৃত্যুতে তাঁরা শোকাহত।

তাঁর অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিনোদনজগতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে যাঁরা তাঁকে চিনেছিলেন, তাঁদের কাছে তিনি ছিলেন স্মরণীয় এক মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করেও আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার জুনিয়র চরিত্রে পরিচিতি

২০০৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজের মাধ্যমে দর্শকদের নজরে আসেন আরজে মিতে। সিরিজটিতে তিনি ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করেন। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিতি পায়।

সিরিজটিতে রসায়নের শিক্ষক ওয়াল্টার হোয়াইটের অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ে মাদকসম্রাট হয়ে ওঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। তবে পারিবারিক সম্পর্ক, সংকট ও আবেগের বিভিন্ন মুহূর্তে ওয়াল্টার জুনিয়র চরিত্রটির উপস্থিতিও সিরিজের গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরজে মিতে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটিকে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। সিরিজটির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অভিনয়ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। এই একটি চরিত্রই তাঁকে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়।

সেরিব্রাল পালসি নিয়েও গড়েছিলেন অভিনয়ের স্বতন্ত্র পরিচয়

আরজে মিতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সেরিব্রাল পালসি এমন একটি স্নায়বিক অবস্থা, যা ব্যক্তির চলাফেরা, পেশির নিয়ন্ত্রণ ও শরীরের সমন্বয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই অভিজ্ঞতা নিয়েই বিনোদনজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন মিতে।

তবে অভিনয়জীবনের সাফল্যের বাইরেও তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা। সমাজে প্রতিবন্ধিতাকে ঘিরে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির পক্ষে কাজ করেছেন তিনি।

সমাজসেবা ও প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন

অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন আরজে মিতে। শন রেইলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি এবং শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মিতে ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই অভিনেতা।

নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেছেন তিনি। অভিনয়জগতের পরিচিতি তাঁকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছিল, আর সেই পরিচিতিকে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

ফলে আরজে মিতের পরিচয় কেবল একজন টেলিভিশন অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিনোদনজগতে কাজ করার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততাও তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

টেলিভিশন ইতিহাসে আলোচিত সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’

২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচটি মৌসুমে প্রচারিত হয় ‘ব্রেকিং ব্যাড’। অপরাধ, পারিবারিক টানাপোড়েন, নৈতিক সংকট ও মানুষের পরিবর্তনের জটিল গল্পের কারণে সিরিজটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ওয়াল্টার হোয়াইটের জীবনের নাটকীয় পরিবর্তন এবং তাঁর পরিবারের ওপর সেই পরিবর্তনের প্রভাব কাহিনিটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়। ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের অভিনয়ের পাশাপাশি অন্যান্য অভিনয়শিল্পীর কাজও সিরিজটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস একবিংশ শতাব্দীর সেরা টেলিভিশন সিরিজের তালিকায় ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর নাম উল্লেখ করেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিরিজটি টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও প্রশংসিত কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অকালমৃত্যুতে শোক, অজানা রয়ে গেল কারণ

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আরজে মিতের মৃত্যু তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য বেদনাদায়ক সংবাদ। যে অভিনেতা পর্দায় একটি পরিচিত চরিত্রের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তাঁর অকালপ্রয়াণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর অভিনয়জীবন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড।

তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে অনুমাননির্ভর কোনো তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

অভিনয় ও প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজের মধ্য দিয়ে আরজে মিতে যে পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর সেই কাজই তাঁকে দর্শকদের স্মৃতিতে ধরে রাখবে।

কালের আলো/এসএ

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

সৌদির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
সৌদির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে আলোচনা

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং তাঁদের আবার কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ তৈরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আলোচনার উদ্যোগ

নুরুল হক নুর বলেন, অতীতেও এ ধরনের সমস্যা সমাধানে আলোচনা হয়েছে। তবে সৌদি আরব নিজেরাই যখন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত সময় নয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়ে সমাধান পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা কবে শুরু হবে কিংবা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা তিনি জানাননি। ফলে আপাতত বিষয়টি আলোচনার সম্ভাবনা হিসেবেই রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে কর্মহীন প্রবাসীরা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানান নুরুল হক নুর। তাঁর মতে, সংঘাত শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করার বিষয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেলে কিংবা কোনো কর্মী দেশে ফিরে এলে তাঁর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোতেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা ও মরদেহ ফেরাতে সহযোগিতা করছে সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসও আগের তুলনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রিয়াদে হামলার পর দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও জানান নুরুল হক নুর।

যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশ ও বাংলাদেশি দূতাবাসের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি