জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ড. ইউনূসের পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ঘটনাকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ বললেন উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেই ঘটেনি; সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কও একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে সরকার মনে করছে।
তিনি বলেন, ‘এগুলো প্রেসার গ্রুপের কাজ নয়, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। আমরা এভাবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে চাই। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তবে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে এবং ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর এ টেরোরিস্ট’ ও ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলতে শোনা যায়।
বিক্ষোভকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগও তোলেন। পরে একজন সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যান ড. ইউনূস।
ভিডিওতে দেখা ঘটনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এসে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোন। এ কারণেই ভারতকে তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে সরকারের কোনো সমস্যা নেই। বরং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও সরকারের নজরে
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।
ড. ইউনূসসহ জুলাই আন্দোলন এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেনস্তার ঘটনা নিয়ে কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপনার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও উপস্থাপনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে।
তবে কোন কোন প্রতিবেদন বা সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপনা নিয়ে সরকারের পর্যবেক্ষণ রয়েছে, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জানাননি তিনি।
ড. ইউনূসকে ঘিরে নিউইয়র্কের বিমানবন্দরের ঘটনাটি এবং এ ধরনের অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপদেষ্টা।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array