খুঁজুন
                               
, ,
           

জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ড. ইউনূসের পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ঘটনাকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ বললেন উপদেষ্টা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেই ঘটেনি; সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কও একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে সরকার মনে করছে।

তিনি বলেন, ‘এগুলো প্রেসার গ্রুপের কাজ নয়, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। আমরা এভাবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে চাই। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তবে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে ভিডিও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে এবং ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর এ টেরোরিস্ট’ ও ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলতে শোনা যায়।

বিক্ষোভকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগও তোলেন। পরে একজন সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যান ড. ইউনূস।

ভিডিওতে দেখা ঘটনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এসে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোন। এ কারণেই ভারতকে তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে সরকারের কোনো সমস্যা নেই। বরং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও সরকারের নজরে

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।

ড. ইউনূসসহ জুলাই আন্দোলন এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেনস্তার ঘটনা নিয়ে কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপনার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও উপস্থাপনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে।

তবে কোন কোন প্রতিবেদন বা সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপনা নিয়ে সরকারের পর্যবেক্ষণ রয়েছে, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জানাননি তিনি।

ড. ইউনূসকে ঘিরে নিউইয়র্কের বিমানবন্দরের ঘটনাটি এবং এ ধরনের অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপদেষ্টা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করেছেন। এ ধরনের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন নোবেলজয়ীকে হেনস্তা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, দেশের মান-মর্যাদা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকলেও দেশের পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব। দেশের প্রতিনিধিত্বকারী বা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সংযম দেখানো প্রয়োজন।

বিবৃতিতে ডা. তাহের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত।

তিনি বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।

তবে বিমানবন্দরের ঘটনাটি সম্পর্কে বিবৃতিতে জামায়াতের নেতার বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনার অন্য পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এতে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. তাহের।

তিনি মনে করেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে জামায়াতের এই বিবৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটি ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নারী আসনের উপনির্বাচন: প্রার্থীদের ঋণখেলাপির তথ্য চাইল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
নারী আসনের উপনির্বাচন: প্রার্থীদের ঋণখেলাপির তথ্য চাইল ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঋণখেলাপি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে উদ্যোগ

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের নির্বাচনের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনেও ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট বিধান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে সংগ্রহ ও যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইসি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

২৬ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের নাম, পিতা-মাতা বা স্বামীর নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীদের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করা হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়ের আগেই যাচাইয়ের ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

২৭ অক্টোবরের আগেই তথ্য সরবরাহের নির্দেশ

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত আইনগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া এবং নির্বাচনী বিধান অনুসরণ নিশ্চিত করা।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচন

সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া আসনেই এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাঁর আসন শূন্য হওয়ার পর নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন এবং ২৭ অক্টোবর যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়। এসব ধাপ শেষে তফসিল অনুযায়ী ১২ নভেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বাংলাদেশকে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। পুরো বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে, যা আগামী কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।

১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে চলছে আলোচনা

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও অর্থের পরিমাণ, শর্ত কিংবা অর্থ ছাড়ের সময়সীমা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থমন্ত্রী জানান, চলমান আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়েই নয়, ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলো শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, চলমান কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারের নেওয়া নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’

অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রস্তাবটির বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশও নিজেদের অবস্থান ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

এই আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্র, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নিয়ে সরকারের অবস্থান

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তা জানতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। আপাতত অতিরিক্ত ঋণসহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে; চূড়ান্ত অর্থায়ন ও এর শর্ত নির্ধারণের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি