খুঁজুন
                               
, ,
           

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করেছেন। এ ধরনের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন নোবেলজয়ীকে হেনস্তা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, দেশের মান-মর্যাদা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকলেও দেশের পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব। দেশের প্রতিনিধিত্বকারী বা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সংযম দেখানো প্রয়োজন।

বিবৃতিতে ডা. তাহের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত।

তিনি বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।

তবে বিমানবন্দরের ঘটনাটি সম্পর্কে বিবৃতিতে জামায়াতের নেতার বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনার অন্য পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এতে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. তাহের।

তিনি মনে করেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে জামায়াতের এই বিবৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটি ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

অসুস্থতার প্রতিটি কষ্টে মুমিনের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
অসুস্থতার প্রতিটি কষ্টে মুমিনের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ
সুস্থতা মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নেয়ামত। সুস্থ শরীর মানুষের দৈনন্দিন কাজ, ইবাদত-বন্দেগি ও কল্যাণকর কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এ কারণে ইসলাম ধর্মে সুস্থতার জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অসুস্থতা কিংবা বিপদ-আপদে পড়লেও মুমিনের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, রোগ-ব্যাধি ও দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করলে তা গুনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সুস্থতা আল্লাহর বড় নেয়ামত

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা চাইতে উৎসাহিত করতেন।

সুনানে তিরমিযি ও সুনানে নাসায়িতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈমানের পর নিরাপত্তা ও সুস্থতা মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান নেয়ামত।

তাই একজন মুমিনের উচিত সুস্থতার সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং সেই সুস্থতাকে ইবাদত, সৎকর্ম ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো।

অসুস্থতা মুমিনের জন্য পরীক্ষাও হতে পারে

ইসলামের দৃষ্টিতে অসুস্থতা জীবনের একটি পরীক্ষা। এ সময় ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছে রোগমুক্তির প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

কোনো মুমিন অসুস্থ হলে তার উচিত হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের আশা রাখা। রোগের কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করলে সেই কষ্ট তার গুনাহ মোচন এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সুনানে আবু দাউদে উম্মুল আলা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গিয়ে সুসংবাদ দেন। তিনি বলেন, আগুন যেভাবে সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়, তেমনি আল্লাহ কোনো মুসলিমের অসুস্থতার মাধ্যমে তার গুনাহ দূর করে দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯২)

বিপদ-আপদেও গুনাহ মাফের সুসংবাদ

শুধু অসুস্থতা নয়, জীবনের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদও মুমিনের গুনাহ মোচনের কারণ হতে পারে।

সহিহ বুখারিতে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট কিংবা অন্য কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে, এমনকি তার শরীরে কাঁটা ফুটলেও, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৪১; সহিহ মুসলিম: ২৫৭২)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুমিনের জীবনের কষ্ট অর্থহীন নয়। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধারণ করলে দুঃখ-কষ্টও তার জন্য আখিরাতের কল্যাণের কারণ হতে পারে।

নবীজি (সা.)-এর অসুস্থতা থেকেও রয়েছে শিক্ষা

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) একবার অসুস্থ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখতে গিয়ে তাঁর জ্বরের তীব্রতা অনুভব করেন। তিনি নবীজিকে বলেন, আপনি তো প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছেন।

জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, সাধারণ মানুষের তুলনায় তিনি দ্বিগুণ জ্বরে আক্রান্ত হন। তখন ইবনে মাসউদ (রা.) তাঁর জন্য দ্বিগুণ সওয়াবের কথা বললে নবীজি (সা.) তা স্বীকার করেন।

সহিহ বুখারির বর্ণনায় আরও এসেছে, কোনো মুসলিম রোগ-ব্যাধি বা অন্য কোনো কষ্টে আক্রান্ত হলে আল্লাহ তার গুনাহ ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়। (সহিহ বুখারি: ৫৬৬৭)

এই শিক্ষা মুমিনকে অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর রহমতের আশা রাখতে উৎসাহিত করে।

সুখে শুকরিয়া, দুঃখে ধৈর্য

ইসলামে শুধু বিপদে ধৈর্য ধারণের কথা বলা হয়নি; বরং সুস্থতা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রাচুর্যের সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকারও নির্দেশনা রয়েছে।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আর বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর। (সহিহ মুসলিম: ৭২২৯)

অর্থাৎ, সুস্থতার সময় ইবাদত ও সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করা এবং অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া—দুটিই একজন মুমিনের জন্য কল্যাণের পথ হতে পারে।

অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি

অসুস্থতাকে গুনাহ মাফের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে দেখার অর্থ এই নয় যে চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং অসুস্থ হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং একই সঙ্গে আল্লাহর কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করা উচিত।

রোগের কষ্টে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একইভাবে সুস্থ অবস্থায় আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে তা ভালো কাজে ব্যবহার করাও মুমিনের দায়িত্ব।

কালের আলো/এসএ

বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ব্যয় বাড়ল ৭৬৫ কোটি, বড় অঙ্কের কেনাকাটায় সায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ব্যয় বাড়ল ৭৬৫ কোটি, বড় অঙ্কের কেনাকাটায় সায়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক খাতে ব্যয় বাড়ছে ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে নির্মাণকাজে অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং পরামর্শক সেবায় ৪০৫ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে বিমানবন্দরের নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। একই বৈঠকে ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি, ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনা এবং নয়টি এলএনজি কার্গো আমদানির দর প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে অংশ নিয়ে সভাপতিত্ব করেন।

  • শাহজালালের নির্মাণ ও পরামর্শক ব্যয়ে সংশোধন
  • অনুমোদন পেল সার আমদানির ছয় প্রস্তাব,
  • চিনি কেনা ও ৯ কার্গো এলএনজির দর

নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের নির্মাণকাজের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রকল্পটির নির্মাণকাজের মূল চুক্তিমূল্য ছিল ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির পর সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম। এতে যৌথভাবে রয়েছে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি।

পরামর্শক খাতে অতিরিক্ত ৪০৫ কোটি টাকা
বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরামর্শক সেবার ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে অতিরিক্ত ৪০৫ কোটি টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। পরামর্শক সেবার মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৭৭১ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে জাপানের নিপ্পন কোয়ি কোম্পানি লিমিটেড ও ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেড, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস পিটিই লিমিটেড এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শক দল।

২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন
বৈঠকে ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপি—এই তিন ধরনের মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির ছয়টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও কানাডা থেকে সার আমদানি।

ইউরিয়া সার : সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের দাম ৪৪৬ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। এতে ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, সিএফআর ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ৪২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের দাম ৫৩১ দশমিক ৬৭ ডলার। এ প্রস্তাবে ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

এমওপি সার: রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রুডিনটর্গ) থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি পৃথক চালানে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। প্রতি টনের দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ ডলার। দুই চালানে মোট ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

ডিএপি সার: সৌদি আরবের মা-এডেন থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি টনের দাম ৮৬১ দশমিক ৫০ ডলার। এতে ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

১০ হাজার টন চিনি কিনতে ব্যয় ১০৩ কোটি টাকা
দেশীয় বাজার থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ই-জিপির মাধ্যমে ৫০ কেজির বস্তায় সরবরাহের জন্য প্রতি প্রস্তাবে পাঁচ হাজার টন করে চিনি কেনা হবে। উভয় প্রস্তাবেই সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড। প্রথম প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দুটি প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দামের পার্থক্য এক টাকা। সব মিলিয়ে ১০ হাজার টন চিনি কিনতে মোট ব্যয় হবে ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আসবে এলএনজি কার্গো
বৈঠকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো আমদানির দর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কার্গোর সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব এলএনজি কার্গো আমদানি করা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির অনুমোদিত দর জেকেএমের (জাপান-কোরিয়া মার্কার) তুলনায় ০.১০ মার্কিন ডলার কম। বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও চিনি আমদানি এবং এলএনজি সরবরাহের দর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাবের নিষ্পত্তি হয়েছে।

শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

গ্রাম ও শহরের প্রতিটি শিশুর জন্য শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোনো শিশু যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা নেওয়ার উপযোগী শিশুদের শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করা এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের টিকার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইলেন্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকার আওতায় আনার নির্দেশ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির আওতা শতভাগে উন্নীত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রতিটি বাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে টিকা নেওয়ার উপযোগী শিশুদের চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করা জরুরি। দেশের কোনো এলাকার শিশুই যেন টিকা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে যেসব শিশু টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসছে না, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

টিকার গুণগত মান ও সংরক্ষণে নজরদারির তাগিদ

শুধু টিকার আওতা বাড়ানোই নয়, টিকার গুণগত মান বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, টিকা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

টিকা সরবরাহ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা যাতে না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর দিতে হবে।

পাশাপাশি টিকার কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়মিত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি টিকার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

১৯৭৯ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইপিআই

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংক্রামক রোগ ও মহামারির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

দেশে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হলে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, টিকার মান এবং শিশুদের টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে।

প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটের পরিকল্পনা

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে নগরবাসী—সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

এই সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও এক লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী।

তিনি আরও বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারির ফলাফল মূল্যায়ন দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মসূচির অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এবং ভ্যাকসিন-প্রতিরোধযোগ্য রোগের (ভিপিডি) নজরদারির যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল তুলে ধরা হয়। টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন, রোগ নজরদারি জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এ পর্যালোচনার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি