খুঁজুন
                               
, ,
           

টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন লিটন, ভাঙলেন ৬০ বছরের রেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন লিটন, ভাঙলেন ৬০ বছরের রেকর্ড

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ব্যাট ও গ্লাভস হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। একই টেস্টে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি, অন্য ইনিংসে ফিফটি করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি ডিসমিসাল করে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ব্যাট হাতে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও ছিলেন দুর্দান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে ক্যাচ ও স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে মোট ৯টি ডিসমিসাল করেন এই বাংলাদেশি ক্রিকেটার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে দুই ইনিংসে অন্তত একটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসালের এমন নজির আগে কোনো উইকেটরক্ষকের ছিল না।

এর আগে এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক ডেনিস লিন্ডসের। ১৯৬৬ সালে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। লিটনের অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস।

বাংলাদেশের ক্রিকেটেও লিটনের এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশোয়ার টেস্টে খালেদ মাসুদ পাইলট এক ম্যাচে ৮টি ডিসমিসাল করে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অক্ষুণ্ণ থাকা সেই রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে গেলেন লিটন।

ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখলেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার। তাঁর এই কীর্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও গর্বের এক অর্জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপের বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে দেশটির নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কৃষিপ্রযুক্তি, পাটশিল্প, সার কারখানার আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে উভয় দেশ লাভবান হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইউরোপের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখার উদ্যোগ

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

এ জন্য ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কৃষি ও পাটশিল্পে প্রযুক্তি সহযোগিতা

বৈঠকে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নেদারল্যান্ডসের উন্নত বীজপ্রযুক্তি, কৃষি গবেষণা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিশেষ করে আলু ও অন্যান্য সবজির গুণগত মান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং নতুন বাজার তৈরিতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও উঠে আসে।

পাটশিল্পের উন্নয়নেও ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। উন্নত পাটবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও মিশ্র তন্তুর কাপড় উৎপাদনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

সার কারখানা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ

বাংলাদেশের বিদ্যমান সার কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্ট্যামিকার্বনের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষি ও শিল্পপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিল্পের আধুনিকায়ন, সামুদ্রিক পরিবহন এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগ

বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নেও ডাচ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে লালদিয়া টার্মিনালসহ বন্দর উন্নয়ন, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণের বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।

এ ছাড়া নদী ও খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের গবেষণা সংস্থা ডেল্টারেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

ডাচ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট সুরক্ষা, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নয়ন নিয়েও মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণ ও নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে মণ্ডপে পাহারা দেবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে মণ্ডপে পাহারা দেবে বিএনপি

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করবে বিএনপি। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দলটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করবেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন।

খায়রুল কবির খোকন বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিএনপি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দলের নেতারা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা পূজা উদযাপন কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। শান্তিপূর্ণভাবে এ উৎসব উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে বিএনপি।

অতীতেও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দলের নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে খায়রুল কবির খোকন বলেন, এবারও যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বৈঠকে বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ কমিটির সদস্য জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, অপর্ণা রায় দাস, অমলেন্দু দাস অপু, জন গোমেজ, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, রমেশ দত্ত, পার্থ দে মণ্ডল, জয়দেব রায়, মিল্টন বৈদ্য ও গণেশ চন্দ্র রায় সাহস উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য, ৯৭ শতাংশই বিএনপিকে নিয়ে ছড়ানো অপতথ্য নেতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য, ৯৭ শতাংশই বিএনপিকে নিয়ে ছড়ানো অপতথ্য নেতিবাচক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে অন্তত ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার। এসব অপতথ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল তাঁর জন্য নেতিবাচক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক ও বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রিউমার স্ক্যানারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

শনাক্ত হওয়া এসব ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ছড়িয়ে পড়া ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

বিএনপিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য

রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছে বিএনপি। দলটি, এর সহযোগী সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের ঘিরে মোট ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অপতথ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে ছড়ানো অপতথ্যসংবলিত কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

বিএনপি সরকারকে ঘিরে ৪৯১টি অপতথ্য

রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারকে জড়িয়ে প্রথম তিন প্রান্তিকে মোট ৪৯১টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সরকার, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে ১৮৬টি অপতথ্য শনাক্ত হয়। আগের দুই প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ৩০৫।

সরকারকে ঘিরে শনাক্ত হওয়া এসব অপতথ্যের প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার

রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, গণমাধ্যমের নাম, লোগো ও শিরোনাম ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যান তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য শনাক্ত করার পাশাপাশি জনসাধারণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে রিউমার স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটির এসব পরিসংখ্যান দেশে রাজনৈতিক তথ্যপ্রবাহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি