খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়ানো ৪১০ অপতথ্যের ৮৭ শতাংশই নেতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়ানো ৪১০ অপতথ্যের ৮৭ শতাংশই নেতিবাচক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে অন্তত ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার। এসব অপতথ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল তাঁর জন্য নেতিবাচক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক ও বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রিউমার স্ক্যানারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

শনাক্ত হওয়া এসব ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ছড়িয়ে পড়া ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

বিএনপিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য

রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছে বিএনপি। দলটি, এর সহযোগী সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের ঘিরে মোট ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অপতথ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে ছড়ানো অপতথ্যসংবলিত কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

বিএনপি সরকারকে ঘিরে ৪৯১টি অপতথ্য

রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারকে জড়িয়ে প্রথম তিন প্রান্তিকে মোট ৪৯১টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সরকার, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে ১৮৬টি অপতথ্য শনাক্ত হয়। আগের দুই প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ৩০৫।

সরকারকে ঘিরে শনাক্ত হওয়া এসব অপতথ্যের প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার

রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, গণমাধ্যমের নাম, লোগো ও শিরোনাম ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যান তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য শনাক্ত করার পাশাপাশি জনসাধারণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে রিউমার স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটির এসব পরিসংখ্যান দেশে রাজনৈতিক তথ্যপ্রবাহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ক্লড এআইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে বিপদে ১৬ বছরের কিশোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
ক্লড এআইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে বিপদে ১৬ বছরের কিশোর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্য নিয়ে পাহাড়ে হাইকিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল কানাডার ১৬ বছর বয়সী কিশোর ব্রাইস ভিনসেন্ট গ্যারিলুক। কিন্তু সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিপজ্জনক পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়ে তাকে। পরে হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জামের সাহায্যে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। গত ৩ অক্টোবর কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্রাউন মাউন্টেনে এ ঘটনা ঘটে।

হাইকিংয়ের রুট পরিকল্পনায় সে অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই চ্যাটবট ক্লড ব্যবহার করেছিল। তবে শুধু ক্লড নয়, গুগল ম্যাপসসহ অন্য অ্যাপও ব্যবহার করেছিল কিশোরটি। তার ধারণা ছিল, সে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। কিন্তু একপর্যায়ে মূল হাইকিং রুট থেকে অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন একটি খাড়া এলাকায় পৌঁছায়, যেখান থেকে সামনে এগোনো কিংবা নিরাপদে পেছনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিপজ্জনক পাহাড়ি পথে গিয়ে আটকে পড়ে কিশোর

 

নর্থ শোর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাইস গ্রাউস মাউন্টেন থেকে যাত্রা শুরু করে ক্রাউন মাউন্টেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। নর্থ শোর রেসকিউয়ের ব্যবস্থাপক পল মার্কি জানান, এই পথ বেশ কঠিন এবং সাধারণত হাইকিং শেষ করতে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে।

কিন্তু পথে চলতে গিয়ে ব্রাইস এমন একটি বিপজ্জনক রুটে ঢুকে পড়ে, যা পর্বতারোহীদের কাছে ‘উইডোমেকার’ নামে পরিচিত। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিশোরটি জানায়, ভুলবশত সে ‘উইডোমেকার অ্যারেট’ নামের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলে গিয়েছিল।

একপর্যায়ে পাহাড়ের খাড়া দেয়ালের নিচে পাথরের সরু একটি জায়গায় আটকে পড়ে সে। সেখান থেকে নিচে পড়ে গেলে গুরুতর আহত হওয়া কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল যে নিজের উদ্যোগে নিরাপদে ফিরে আসার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

তবে ব্রাইস এ ঘটনার জন্য এআইকে পুরোপুরি দায়ী করেনি। তার ধারণা ছিল, ব্যবহৃত অ্যাপগুলো তাকে সঠিক পথই দেখাচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ি পথের বাস্তব পরিস্থিতি এবং ডিজিটাল মানচিত্রের নির্দেশনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় সে বিপদের মুখে পড়ে।

তিন ঘণ্টার অভিযানে হেলিকপ্টারে উদ্ধার

৩ অক্টোবর স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ব্রাইসের আটকে পড়ার খবর পায় নর্থ শোর রেসকিউ। দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করায় সাধারণভাবে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। ফলে উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।

পাহাড়ের ঢাল অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় হেলিকপ্টারটি কিশোরের অবস্থানের পাশে সরাসরি অবতরণ করতে পারেনি। এ কারণে উদ্ধারকর্মীরা কিছুটা ওপরের দিকে নেমে দড়ির সাহায্যে নিচে পৌঁছান। পরে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ব্রাইসকে বিপজ্জনক স্থান থেকে বের করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসেন।

উদ্ধারকারী দল জানায়, নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার পর কিশোরটিকে হেলিকপ্টারে তুলে ক্লিভল্যান্ড ড্যামের কাছে উদ্ধারকারী ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর থেকে পুরো উদ্ধার অভিযানে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

নর্থ শোর রেসকিউয়ের ব্যবস্থাপক পল মার্কি জানান, উদ্ধারের সময় কিশোরটি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিল। পাহাড়ের ওই বিপজ্জনক অবস্থান থেকে জীবিত ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে সে আতঙ্কে ছিল।

ছেলের বিপদের কথা শুনে আতঙ্কিত মা

পাহাড়ে আটকে পড়ার পর ব্রাইস প্রথমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য চায়। পুলিশ বিষয়টি নর্থ শোর রেসকিউকে জানায়। উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর অপেক্ষায় থাকার সময় সে তার মা জোয়েলের সঙ্গেও ফোনে কথা বলে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোয়েল বলেন, তার ছেলে ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই হাইকিংয়ে বের হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টার পাঠাতে হয়েছে। কোনো মা-বাবাই চান না, তাঁদের সন্তান পাহাড়ে আটকে পড়ে এমন বিপদের মধ্যে পড়ুক।

হাইকিংয়ে এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করার পরামর্শ

ঘটনার পর হাইকিংয়ে এআইয়ের দেওয়া নির্দেশনার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন উদ্ধারকারীরা। তাঁদের মতে, এআই চ্যাটবট তথ্য ও পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু পাহাড়ি পথের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা তার নেই। কোনো রুট দেখতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে সেখানে খাড়া ঢাল, বিপজ্জনক পাথর কিংবা চলাচলের অনুপযোগী অংশ থাকতে পারে।

এ কারণে দুর্গম এলাকায় যাওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য মানচিত্র, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং অভিজ্ঞ হাইকারদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আবহাওয়া, দিনের আলো, পথের কঠিনতা এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত গাইডের সহায়তা নেওয়া উচিত।

এআইয়ের দেওয়া রুট ব্যবহার করলেও সেটি বাস্তব ও নির্ভরযোগ্য কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় শুধু ডিজিটাল নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

এআইয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিপদে পড়ার ঘটনা নতুন নয়

ডিজিটাল মানচিত্র কিংবা এআইয়ের পরামর্শ অনুসরণ করে দুর্গম এলাকায় বিপদে পড়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রোজভিলের তিন অনভিজ্ঞ হাইকার গুগল জেমিনাইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে মাউন্ট শাস্তা পর্বতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালের আগস্টে গুগল ম্যাপসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে গিয়ে এক নার্সিং শিক্ষার্থী খাবার ও পানি ছাড়া সেন্ট্রাল অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে আটকা পড়েছিলেন।

এসব ঘটনা দেখায়, প্রযুক্তির সাহায্য ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ করতে পারে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প নয়। এআইয়ের পরামর্শ ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তাই পাহাড়ে হাইকিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা অপরিহার্য।

কালের আলো/এসএ

চিনি খাওয়া কমছে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি ক্রয়ক্ষমতার সংকট?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
চিনি খাওয়া কমছে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি ক্রয়ক্ষমতার সংকট?
বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে চিনির ব্যবহার কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। এই পরিবর্তনের পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, চিনির দাম এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তবে চিনির ব্যবহার কমে যাওয়াকে সরাসরি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিস্তার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও এ প্রবণতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। পরের মৌসুমে, অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২২ লাখ ৩৭ হাজার টনে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ব্যবহার আরও কমে ২০ লাখ ৪৫ হাজার টনে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তা দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার টনে। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে চিনির ব্যবহার ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টন হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান দেশের চিনির বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে মোট ব্যবহার কমার অর্থ এই নয় যে দেশের প্রত্যেক মানুষ আগের তুলনায় কম চিনি খাচ্ছেন। জনসংখ্যা, শিল্পকারখানায় চিনির ব্যবহার, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন এবং বাজার পরিস্থিতিও সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ডায়াবেটিস ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে চিনির ব্যবহার কমার প্রবণতার পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২০১১ সালের প্রায় ৮৪ লাখ থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এ সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।

২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আক্রান্তদের ৩৯ দশমিক ১ শতাংশের রোগ শনাক্ত হয়নি, সংখ্যায় যা প্রায় ৫৪ লাখ ২৬ হাজার। ফলে অনেক মানুষ রোগ সম্পর্কে না জেনেই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন চালিয়ে যেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০১১ সালে দেশে উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ২৬ শতাংশ, যা ২০১৭-১৮ সালের জরিপে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি তিনজনের একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ সিরোসিসের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের বিস্তারের সঙ্গে চিনির ব্যবহার কমা বা বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হলে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। এসব রোগের ঝুঁকিতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয়ও ভূমিকা রাখে।

চায়ে চিনি কমালেই কি কমবে স্বাস্থ্যঝুঁকি?

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক ভারসাম্যহীনতা ফ্যাটি লিভার ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ কারণে দৈনন্দিন খাবারে বাড়তি চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে চা একটি নিয়মিত অনুষঙ্গ। চায়ে চিনি কমানো বা ধীরে ধীরে চিনি ছাড়া চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বাড়তি চিনি গ্রহণ কমানোর একটি উপায় হতে পারে। তবে শুধু চায়ের চিনির দিকে নজর দিলেই চলবে না। বিস্কুট, কেক, বেকারি পণ্য, কোমল পানীয়, মিষ্টি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চিনি থাকতে পারে।

খাদ্যপণ্যের লেবেল পড়ে চিনি বা যুক্ত চিনির পরিমাণ যাচাই করা, কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

চিনির দাম ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও কি বড় কারণ?

চিনির ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবারগুলো খাদ্য কেনার ক্ষেত্রে নতুন করে হিসাব করতে বাধ্য হয়। সে ক্ষেত্রে চিনি ও চিনিযুক্ত খাবারের ব্যবহার কমে যেতে পারে।

তবে ব্যবহার কমার কতটা অংশ স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে এবং কতটা অংশ মূল্যস্ফীতি বা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে ঘটেছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলতে হলে ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাস, আয়, বাজারদর ও কেনাকাটার ধরন নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। শুধু জাতীয় পর্যায়ের মোট ব্যবহার থেকে মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণ নিশ্চিত করা যায় না।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে চিনি কমানো জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটে মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার বা পুষ্টিকর বিকল্প থেকেও বঞ্চিত হলে সেটিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি বলা যাবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদনেও বড় পরিবর্তন

দেশের চিনির বাজারে পরিবর্তনের আরেকটি দিক হলো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর উৎপাদন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে এসব চিনিকলে উৎপাদন ছিল ৮২ হাজার টনের বেশি। ২০২২-২৩ মৌসুমে তা কমে মাত্র ২১ হাজার ৩১৪ টনে নেমে আসে। পরে ২০২৫-২৬ মৌসুমে নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে উৎপাদন দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৩২৬ টনে।

উৎপাদনের এই ওঠানামা চিনিশিল্পের সক্ষমতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারের চাহিদা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদন কমা এবং দেশের মোট চিনির ব্যবহার কমে যাওয়াকে একই ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশে চিনির সরবরাহে বেসরকারি খাত ও আমদানিরও ভূমিকা রয়েছে।

চিনির ব্যবহার কমা কি সত্যিই সুসংবাদ?

বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে, যদি এর পেছনে থাকে সচেতনভাবে বাড়তি চিনি কমানো ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। কিন্তু একই প্রবণতা যদি মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাজারদর বৃদ্ধি ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফল হয়, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তাই চিনির ব্যবহার কমার প্রকৃত কারণ বুঝতে বাজারের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মানুষের আয়, খাদ্যব্যয়, চিনিযুক্ত পণ্যের বিক্রি এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহ দেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, দেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও অর্থনৈতিক চাপ—দুই কারণই ভূমিকা রাখতে পারে। কোনটির প্রভাব বেশি, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ

বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সালাহউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সালাহউদ্দিন আহমেদ

দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

দাফনের পর তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় তাঁর ছেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চান।

বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে সেখানে জড়ো হন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। জানাজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা সাবেক এই সংসদ সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

নয়াপল্টনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদের মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর নিজ এলাকা রাজধানীর শ্যামপুরের লাল মসজিদে। সেখানে বিকেল ৩টায় তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জুরাইন কবরস্থানে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ ও হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সহসম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহীনসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা শোক প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ রাজধানীর শ্যামপুরের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি