খুঁজুন
                               
, ,
           

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপের বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে দেশটির নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কৃষিপ্রযুক্তি, পাটশিল্প, সার কারখানার আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে উভয় দেশ লাভবান হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইউরোপের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখার উদ্যোগ

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

এ জন্য ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কৃষি ও পাটশিল্পে প্রযুক্তি সহযোগিতা

বৈঠকে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নেদারল্যান্ডসের উন্নত বীজপ্রযুক্তি, কৃষি গবেষণা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিশেষ করে আলু ও অন্যান্য সবজির গুণগত মান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং নতুন বাজার তৈরিতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও উঠে আসে।

পাটশিল্পের উন্নয়নেও ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। উন্নত পাটবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও মিশ্র তন্তুর কাপড় উৎপাদনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

সার কারখানা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ

বাংলাদেশের বিদ্যমান সার কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্ট্যামিকার্বনের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষি ও শিল্পপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিল্পের আধুনিকায়ন, সামুদ্রিক পরিবহন এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগ

বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নেও ডাচ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে লালদিয়া টার্মিনালসহ বন্দর উন্নয়ন, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণের বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।

এ ছাড়া নদী ও খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের গবেষণা সংস্থা ডেল্টারেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

ডাচ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট সুরক্ষা, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নয়ন নিয়েও মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণ ও নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সুন্দরবনে কুমিরের ভয়, অবশেষে ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর ‘ফেউ ২’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে কুমিরের ভয়, অবশেষে ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর ‘ফেউ ২’

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দর্শকদের সামনে আসতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ফেউ’র দ্বিতীয় সিজন। নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরেই সিরিজটির বাকি অংশ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে নতুন সিজন ঘিরে দর্শকদের মধ্যে আবারও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সিরিজটির প্রথম সিজন মুক্তির পর থেকেই পরবর্তী অংশ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন দর্শকেরা। বিশেষ করে রহস্য, ইতিহাস ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মিশেলে নির্মিত গল্পটি যেভাবে এগিয়েছে, তাতে দ্বিতীয় সিজনে কী ঘটবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্মাতা ও প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবনে শুটিং, কুমিরের ভয় আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডা

‘ফেউ’ সিরিজের শুটিং করতে গিয়ে কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সুন্দরবনের দুর্গম পরিবেশে টানা প্রায় এক মাস শুটিং হয়েছিল সিরিজটির। এর মধ্যে ২০ দিনেরও বেশি সময় শুটিংয়ে অংশ নেন চঞ্চল। রাতের তীব্র ঠান্ডা, লঞ্চে থাকা এবং চারপাশে কুমিরের উপস্থিতি মিলিয়ে শুটিংয়ের দিনগুলো তাঁর জন্য ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং।

নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, শুটিংয়ের সময় প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল। রাতে লঞ্চে ঘুমানোর সময় শীতের পোশাক পরেও ঠান্ডা অনুভব করতেন তিনি। তবে তাঁর কাছে ঠান্ডার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ ছিল কুমির।

অভিনেতার ভাষ্য, ‘আমরা যখন শুটিং করেছি তখন ছিল প্রচণ্ড ঠান্ডা। মাস খানেক সুন্দরবনে শুটিং হয়েছে, যার মধ্যে আমি ছিলাম ২০ দিনের বেশি। রাতে যখন লঞ্চে ঘুমাতাম, খুব ঠান্ডা লাগত। আমি শীতের জামা-কাপড় পরেই ঘুমাতাম। তবে ঠান্ডার চেয়েও ভয়ের বিষয় ছিল কুমির।’

লঞ্চের পাশেই কুমির, রাতে চলত শুটিং

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে শুটিংয়ের সময় বন্য প্রাণীর উপস্থিতি বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন তৈরি করেছিল। চঞ্চল জানান, তাঁদের লঞ্চ যেখানে নোঙর করা ছিল, সেখানে কুমির দেখা যেত। সকালে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই কুমিরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী ও পাখি চোখে পড়ত।

শুটিংয়ের জন্য লঞ্চ থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে নির্ধারিত স্থানে যেতে হতো শিল্পী ও কলাকুশলীদের। শুধু দিনের আলোতেই নয়, রাতেও শুটিং করতে হয়েছে তাঁদের। ফলে দুর্গম পরিবেশ, যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা এবং বন্য প্রাণীর উপস্থিতির কারণে পুরো কাজটি ছিল বেশ কঠিন।

চঞ্চল চৌধুরীর বর্ণনায়, ‘আমাদের লঞ্চ যেখানে নোঙর করা ছিল, সেখানে ছিল কুমিরটা। সকালে জানালা দিয়ে মুখ বের করলেই কুমির এবং আরও বিভিন্ন পশু-পাখি দেখা যেত। আমরা লঞ্চ থেকে শুটিং স্পটে যেতাম ছোট ছোট ট্রলারে। রাতেও শুটিং করতে হতো, খুব কঠিন পরিস্থিতি ছিল।’

অভিনেতার এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, ‘ফেউ’র গল্পকে পর্দায় বাস্তবসম্মত করে তুলতে নির্মাণসংশ্লিষ্টদের প্রকৃতির প্রতিকূল পরিবেশেও কাজ করতে হয়েছে।

ইতিহাসের ছায়ায় নির্মিত ‘ফেউ’র গল্প

‘ফেউ’ নির্মিত হয়েছে ১৯৭৯ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মরিচঝাঁপি দ্বীপে ঘটে যাওয়া গণহত্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ছায়া অবলম্বনে। তবে বাস্তব ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হলেও সিরিজটির গল্প কাল্পনিক।

সিরিজটির গল্প লিখেছেন সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান। চিত্রনাট্য করেছেন সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ।

প্রথম সিজনে দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাওয়া একদল হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের আশ্রয় নেওয়ার কাহিনি তুলে ধরা হয়। গল্পে ডুমুরঝাঁপি নামের একটি স্থানে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। তাঁদের উচ্ছেদ করতে খাবার ও পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘরে আগুন দেওয়া, নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা গল্পের নির্মম বাস্তবতাকে সামনে আনে।

এই পরিস্থিতির ছবি তুলে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেন মোংলা চার্চের রেভারেন্ড ফটোগ্রাফার সুনীল। কিন্তু একসময় তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার রহস্যই পরবর্তী সময়ে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

বাবার খোঁজে ড্যানিয়েল, রহস্যের কেন্দ্রে পুরোনো ছবি

প্রথম সিজনের গল্পে সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে সামনে আসে সুনীলের ছেলে ড্যানিয়েল। বাবার নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই যুগ পর সুনীলের তোলা কিছু ছবির সন্ধানে নামে সে। ছবিগুলোর সূত্র ধরে ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে অতীতের নানা ঘটনা ও অজানা তথ্য।

একপর্যায়ে ড্যানিয়েল জানতে পারে, যাঁকে তার বাবার কবর বলে জানানো হয়েছিল, সেখানে আসলে কবর দেওয়া হয়েছিল একটি গাছের গুঁড়ি। এই তথ্য তার অনুসন্ধানকে নতুন দিকে নিয়ে যায়। বাবার প্রকৃত পরিণতি জানতে শুরু হয় ড্যানিয়েলের যাত্রা।

সুনীল বেঁচে আছেন, নাকি বহু আগেই মারা গেছেন—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় গল্প। পাশাপাশি পুরোনো ছবি, ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি এবং ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রহস্য আরও গভীর হয়।

দ্বিতীয় সিজনে এই রহস্যের কী পরিণতি হবে, ড্যানিয়েল কি বাবার সন্ধান পাবে, আর অতীতের কোন কোন অজানা ঘটনা সামনে আসবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকেরা।

২০২৫ সালে প্রথম সিজন, এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছিল ‘ফেউ’র প্রথম সিজন। সে সময় জানা গিয়েছিল, সিরিজটির দুই সিজনের শুটিং একটানা সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে প্রথম সিজন মুক্তির পর দর্শকদের ধারণা ছিল, খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না পরবর্তী অংশের জন্য।

কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় সিজনের মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এতে দর্শকদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে। প্রথম সিজনের গল্প অসমাপ্ত থাকায় এবং সুনীলের নিখোঁজ হওয়ার রহস্যের সমাধান না আসায় পরবর্তী অংশ নিয়ে আগ্রহও বজায় রয়েছে।

এবার নির্মাতা ও চরকি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরেই সিরিজটির সম্পূর্ণ গল্প দর্শকদের সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নির্মাতাও অপেক্ষায়, তবে চূড়ান্ত হয়নি মুক্তির তারিখ

দ্বিতীয় সিজনের মুক্তি নিয়ে নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান জানিয়েছেন, তিনিও সিরিজটির বাকি অংশ দর্শকদের সামনে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে পুরো পরিকল্পনা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

নির্মাতার ভাষ্য, ‘আমি নিজেও অপেক্ষায় আছি ফেউ সিরিজের বাকি অংশের জন্য। এই বছরে আমরা ফেউ-এর সম্পূর্ণটা রিলিজ দিতে চাই। কিন্তু পুরো পরিকল্পনাটা এখনো অফিশিয়ালি কনফার্ম হয়নি। কনফার্ম হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

চরকি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, চলতি বছরেই দ্বিতীয় সিজন মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও আভাস পাওয়া গেছে।

তবে পরিকল্পনা থাকলেও নির্দিষ্ট মুক্তির দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তাই দর্শকদের আপাতত অপেক্ষা করতে হচ্ছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।

চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয়ে আরও যাঁরা

‘ফেউ’ সিরিজে চঞ্চল চৌধুরী ছাড়াও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তাহমিনা অথৈ, তানভীর অপূর্ব, হোসেন জীবন, রিজভি রিজু ও এ কে আজাদ সেতুসহ আরও অনেকে।

শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী, ইতিহাসের ছায়ায় নির্মিত রহস্যময় গল্প এবং সুন্দরবনের দুর্গম পরিবেশে শুটিং—সব মিলিয়ে সিরিজটি দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় সিজনে ড্যানিয়েলের অনুসন্ধান কোন পরিণতির দিকে যায় এবং সুনীলকে ঘিরে থাকা রহস্যের কতটা সমাধান মেলে।

চরকি ও নির্মাতার পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরেই ‘ফেউ’র দ্বিতীয় সিজন মুক্তি পেলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে দর্শকদের। তবে চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণার আগ পর্যন্ত মুক্তির সময়সূচি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

কালের আলো/এসএ

চতুর্থ ইনিংসে কঠিন পরীক্ষায় আফগানিস্তান, চোটে মাঠ ছাড়লেন অধিনায়ক শহীদি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
চতুর্থ ইনিংসে কঠিন পরীক্ষায় আফগানিস্তান, চোটে মাঠ ছাড়লেন অধিনায়ক শহীদি

বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। তবে ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন আফগান ব্যাটাররা।

দিনের খেলার তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে দৌড়ে রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো শহীদির পায়ে লাগে। ২০ রান করা এই ব্যাটার আগের দিনও পায়ের সমস্যায় ভুগছিলেন। নতুন করে চোট পাওয়ার পর মাঠে ফিজিও প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। পরে ফিজিওর সহায়তায় ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়েন শহীদি।

শহীদির বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামা ইকরাম আলিখিলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অটল। প্রায় পুরো সেশন উইকেট ধরে রাখতে পারলেও লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ইকরামকে হারায় আফগানিস্তান। ৩৩ রান করে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ফলে ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। এতে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে এখন আফগানিস্তানকে একদিকে যেমন ব্যাট হাতে লড়াই করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের চোটের ধাক্কা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ ঘিরে নতুন শঙ্কা, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের নতুন ছক?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ ঘিরে নতুন শঙ্কা, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের নতুন ছক?

বাংলাদেশে ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ নামে নতুন একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন গঠনের পরিকল্পনার তথ্য সামনে আসার পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সংগঠনটির সঙ্গে বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তেজগাঁওয়ে হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদী তৎপরতায় সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে।’

  • তেজগাঁওয়ের মসজিদ থেকে ২৩ জন আটক
  • খেলাফত প্রতিষ্ঠায় সংগঠন গঠনের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
  • বিদেশি যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা

তেজগাঁওয়ের অভিযান ঘিরে তদন্ত
গত ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর তেজগাঁও কলেজের একটি মসজিদ থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কথিত বৈঠক চলাকালে তাঁদের আটক করা হয়। পরে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শুরু করেন। তদন্তে নতুন সংগঠন গঠনের পরিকল্পনার তথ্য সামনে আসায় এর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, অর্থায়ন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করতে গোয়েন্দারা তদন্ত চালাচ্ছেন।

পলাতক জঙ্গিদের নিয়ে উদ্বেগ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে অন্তত ৬৯০ জন বন্দি পালিয়ে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জঙ্গিবাদের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্ত তিনজন কট্টর জঙ্গি নেতার সন্ধান তখনও পাওয়া যায়নি। পলাতক বন্দিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা এবং তাঁদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এদিকে, তেজগাঁওয়ের ঘটনার পরদিন রাজধানীর মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় বাসে অগ্নিসংযোগ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পিকআপে আগুন এবং বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি তৎপরতার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।

উগ্রবাদ নিয়ে কী বলছেন পর্যবেক্ষকেরা
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, বাংলাদেশে উগ্রবাদ নতুন কোনো বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত প্রায় দুই বছরে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কতটা কার্যকরভাবে নজরদারিতে ছিল, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি‘
ইতেহাদুলউম্মাহ’ গঠনের পরিকল্পনার তথ্য, কারাগার থেকে পালানো জঙ্গিদের সন্ধান এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে উগ্রবাদ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। গোয়েন্দা নজরদারি, অনলাইন প্রচারণা পর্যবেক্ষণ, অর্থায়নের উৎস শনাক্ত এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধের প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি তদন্তের স্বচ্ছতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সংগঠনটির প্রকৃত তৎপরতা এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তদন্তের ফলাফলই বাংলাদেশের নিরাপত্তাঝুঁকির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে।

কালের আলো/আরআই/এমএইচ