খুঁজুন
                               
, ,
           

সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে আরও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। আকাশ প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের নিদানিয়ায় অবস্থিত কক্সবাজার এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে (সিএডিএফআর) বিমান বাহিনীর ৩০১ স্যাম ইউনিট এই মহড়া পরিচালনা করে। মহড়া সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সফল মহড়া পেশাদারিত্বের ইতিবাচক প্রতিফলন
একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর শক্তি শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এসব সরঞ্জাম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রস্তুতির একটি ইতিবাচক দিককে তুলে ধরেছে।

  • কক্সবাজারে লাইভ ফায়ারিং পরিদর্শন বিমান বাহিনী প্রধানের
  • আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি লাইভ মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সফলভাবে মহড়া সম্পন্ন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই স্বীকৃতি বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব
মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ, আধুনিকায়নকে কেবল সরঞ্জাম সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করার অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি
একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আকাশসীমার সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নজরদারি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, উপযুক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বিত প্রস্তুতি অপরিহার্য। এফএম-৯০-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাস্তব ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের অনুশীলন নিয়মিত পরিচালিত হলে সদস্যদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মহড়া পরিদর্শনকালে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল শরিফুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম মাহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঘাঁটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যৎ সক্ষমতার ভিত্তি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম এবং এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়—প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে নতুন সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি উন্নয়নে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান হালনাগাদ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে সফল এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রমে একটি উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা। আধুনিকায়ন, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বিত চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার পথনকশা প্রস্তুত হচ্ছে।

কালের আলো/এএএএমকে

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশটির মোট আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পণ্যের সনদায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে বহুমুখীকরণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য এখনো সীমিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বছরে প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপুল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অংশীদারত্ব ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পোশাকের বাইরে যেসব খাতে সম্ভাবনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের এসব খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ক্রেতা তৈরি এবং পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) রপ্তানিমুখী উৎপাদনে যুক্ত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক মান ও সনদায়নে ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ অনুসরণযোগ্য করা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে আরও উন্নতি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই চলে না; ক্রেতাদের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত শর্ত এবং শ্রমসংক্রান্ত বিধিবিধানও মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে নতুন বাজারে প্রবেশ কিংবা বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো, পণ্যের সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন শর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অব্যাহত সুবিধা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিশ্চয়তা দেবে।

কর্মশালায় ব্রিটিশ সরকারের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ স্কিমের আওতায় প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার কর্মশালায় ডিসিটিএস নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে এলডিসি উত্তরণের পরও প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর জোর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান যাচাই, সনদায়ন, আমদানি বিধিবিধান এবং বাজারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের গভীর ধারণা অর্জন এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণই বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উৎপাদনব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন খাতে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি