মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস চাইলেন ইনু
জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর ইনুর সাজা বাড়ানোর আবেদন করে আপিল করেছিল প্রসিকিউশন। ফলে একই মামলায় একদিকে ইনুর খালাস চেয়ে আপিল, অন্যদিকে সাজা বৃদ্ধির আবেদন রয়েছে।
গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিন নম্বর অভিযোগে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছয় ও সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল জানান, পৃথক দণ্ডাদেশ থাকলেও ইনুকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলায় গত ১৪ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিচারিক প্যানেলের স্বাক্ষরের পর রায় প্রকাশ করা হয়।
মামলার শুনানিতে ইনুর আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না বলেও সাক্ষীরা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ইনু সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও আসামিপক্ষের যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
এখন ইনুর খালাস চেয়ে করা আপিল এবং প্রসিকিউশনের সাজা বৃদ্ধির আবেদনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array