খুঁজুন
                               
, ,
           

হুতিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন সৌদি যুবরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
হুতিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন সৌদি যুবরাজ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য ইসরায়েলের দেওয়া একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবকে এ সামরিক উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত রিয়াদ তাতে সম্মতি দেয়নি। ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতায় জড়ানোর বিষয়ে যুবরাজের অনাগ্রহের পেছনে সৌদি জনগণের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইস্তাম্বুলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কোনো আগ্রহ দেখাননি। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য সামরিক সহযোগিতা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে তীব্র জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাতেও মেলেনি সৌদির সম্মতি

ইসরায়েলের প্রস্তাবের বিষয়ে সৌদি আরবের সম্মতি আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল বলে হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সৌদি আরবকে পাশে পেতে চাইলেও রিয়াদ এ ধরনের সহযোগিতায় যুক্ত হতে রাজি হয়নি।

এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। একদিকে হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সহযোগিতার রাজনৈতিক ও জনমতগত পরিণতি বিবেচনা করতে হচ্ছে দেশটির নেতৃত্বকে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা রিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কৌশলগত হিসাব ছিল ইসরায়েলের

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্রের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথও সহজ করতে পারত। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সেই সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন সংকট একটি বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। সৌদি আরবের অবস্থান অনুযায়ী, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

এই অবস্থান সৌদি আরবের কূটনীতিতে ফিলিস্তিন ইস্যুর গুরুত্ব তুলে ধরে। ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বা সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা থাকলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে রিয়াদ তার ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসতে চায় না। ফলে সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘটনাকে কেবল নিরাপত্তার হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন; এর সঙ্গে সৌদি আরবের আঞ্চলিক নেতৃত্ব, জনমত এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে রাজনৈতিক অবস্থানও জড়িত।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

সৌদি আরবের ওপর হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটেই ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরটি সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) একই বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১১ জন।

বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলা এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বের অনাগ্রহের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বোঝা যায়, হুতিদের মোকাবিলার প্রশ্নে রিয়াদের সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করছে না; বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ২০১৪ সালে

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে (সেপ্টেম্বর ২০১৪), যখন হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানা এবং বেশ কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে এবং সংঘাত ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ২০১৫ সালের মার্চে (মার্চ ২০১৫) দেশটির গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। এর মধ্য দিয়ে সংঘাতের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘ সংঘর্ষ ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলে।

হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের কারণে সৌদি আরব বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা দেশটির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক হামলার খবর সেই উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।

যুদ্ধবিরতির পরও কাটেনি সংঘাতের আশঙ্কা

দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালের এপ্রিলে (এপ্রিল ২০২২) জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত হয়ে আসে। সংঘাতের তীব্রতা কমে যাওয়ায় ইয়েমেন ও আশপাশের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

তবে যুদ্ধবিরতির পরও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইয়েমেনের সংঘাতের মূল কারণগুলো অমীমাংসিত থাকায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ঝুঁকি থেকেই গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে (জুলাই ২০২৬) এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই অস্থিরতারই প্রতিফলন।

এ অবস্থায় সৌদি আরবের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে হুতিদের হামলা প্রতিরোধ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক হিসাবও সামলাতে হবে। ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘটনা সেই জটিল পরিস্থিতিরই একটি অংশ।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি অবস্থানই বড় বাধা

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রশ্নে সৌদি আরবের ঘোষিত অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে একই রয়েছে। রিয়াদ একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানকে এ ধরনের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার মতো উদ্যোগও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

সৌদি নেতৃত্বের আশঙ্কা, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হলে দেশের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে। হারেৎজের প্রতিবেদনে যুবরাজের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পেছনে এ ধরনের জনমতের বিষয়টিই বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও নিরাপত্তা সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু ফিলিস্তিন প্রশ্নে মতপার্থক্য এবং সৌদি জনগণের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এ প্রক্রিয়াকে জটিল করে রেখেছে।

সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন পথে

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলার খবর এবং ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক বৈধতা, জনমত এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক লক্ষ্যও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

তবে সৌদি আরবের সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সুনির্দিষ্ট কারণ ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত।

সব মিলিয়ে, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবকে পাশে পাওয়ার ইসরায়েলি উদ্যোগ আপাতত সফল হয়নি বলে হারেৎজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান, সৌদি জনমত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব—এই তিনটি বিষয় ভবিষ্যতে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু

কালের আলো/এসএ

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে পাঠদান। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে। ফলে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাইয়ের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রড দৃশ্যমান হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে। পুরো শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপদে বসে পড়াশোনা করার মতো পরিবেশ নেই। দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি, আমাদের বাচ্চারাও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে পাঠদান করছি। ভবন সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা হবে।’

গত ২০ জুন পাশের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে প্রকাশ দাস নামে এক দপ্তরি কাম প্রহরী আহত হওয়ার ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল হাই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সংসদ সদস্যের নজরে আনার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

মাধবপুরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ সংস্কার করতে হবে। সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকায় কমলেও সারা দেশে বেড়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ঢাকায় কমলেও সারা দেশে বেড়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন

এবার রাজধানী ঢাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা কমলেও সারা দেশে বেড়েছে পূজামণ্ডপ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার সারা দেশে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ১ হাজার ৫০০টি।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি। সে হিসাবে রাজধানীতে এবার তিনটি পূজামণ্ডপ কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, এবারের দুর্গাপূজার কয়েকটি বিশেষত্ব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পূজার ছুটি কমপক্ষে তিন দিন করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এ ছাড়া এবার পূজা ছয় দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছর পূজা পাঁচ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হলেও এবার মহাসপ্তমী দুই দিন হওয়ায় উৎসবের সময় বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ও সরকারি বরাদ্দ বেড়েছে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সরকারি দল ও বিরোধী দল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সন্তোষ শর্মা বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা দেখছেন না। সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে দেশের বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি রামু, নাসিরনগর, ২০২১ সালের কুমিল্লার ঘটনা ও সুনামগঞ্জের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পালিত হবে। দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে আগমন করবেন এবং নৌকায় গমন করবেন। বিজয়া দশমীতে বিকেল ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন এবং সারা দেশে বিজয়ার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

১,৮০০ পূজামণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা, প্রস্তুতিতে সমন্বয় ও পেশাদারত্বে জোর মহাপরিচালকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
১,৮০০ পূজামণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা, প্রস্তুতিতে সমন্বয় ও পেশাদারত্বে জোর মহাপরিচালকের

শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মাঠে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দূরবর্তী মণ্ডপগুলোর জন্য ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা, সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু এবং প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’—সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নিয়েছে সীমান্তরক্ষী এ বাহিনী।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ে মণ্ডপ পরিদর্শন, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন এবং উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

  • রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে মহাপরিচালক
  • সীমান্তে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা
  • সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপে’ নিরাপত্তা সমন্বয়ে জোর

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বাহিনীর এসব প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় নিশ্চিত করতেই তাঁর এ পরিদর্শন।

সীমান্তের ১,৮০০ মণ্ডপে নিরাপত্তা, দূরবর্তী এলাকায় ১৮টি বেস ক্যাম্পের পরিকল্পনা
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবির প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে মণ্ডপ পরিদর্শন করেছে এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছে।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনায় দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিজিবি পালন করছে। ইতোমধ্যে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা সরেজমিনে পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছেন। সীমান্তের যেসব পূজামণ্ডপ বিজিবির বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত, সেসব স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবির সদর দপ্তর, রিজিয়ন, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ বক্তব্যে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবির পরিকল্পিত ও এলাকাভিত্তিক প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বিওপি থেকে দূরে অবস্থিত মণ্ডপগুলোর জন্য বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে সংগঠিত করার উদ্যোগ। একই সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে আগাম যোগাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমন্বয় জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’: প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা
বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা তদারকি ও দ্রুত সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিজিবি সদর দপ্তরে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।’

সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম এবং অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয় নিরাপত্তা কার্যক্রমে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগকেও দুর্গাপূজার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্ত:বাহিনী সমন্বয়ে গুরুত্ব
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির প্রস্তুতি শুধু মণ্ডপকেন্দ্রিক উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিজিবির সদস্যরা পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে সারা দেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হতে পারে।’

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের তাৎপর্য হলো, নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আগাম প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং জরুরি সাড়াদানের সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

রমনা কালীমন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময়, সম্প্রীতির বার্তা
নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান বিজিবি মহাপরিচালক। এ সময় তিনি রমনা কালীমন্দির সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ধর্মীয় উৎসবের সময় সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা, পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবি মহাপরিচালকের এ পরিদর্শনে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিজিবির ঘোষিত প্রস্তুতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সীমান্তবর্তী মণ্ডপের নিরাপত্তা, দূরবর্তী এলাকায় বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা, সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়—এই কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ও কার্যকর সমন্বয় দুর্গোৎসবের সময় নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে বিজিবির এ প্রস্তুতি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাহিনীটির ভূমিকার প্রতিফলন। মাঠপর্যায়ের তৎপরতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ও স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

বিজিবি মহাপরিচালকের পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম, ঢাকা সেক্টর কমান্ডার, কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদসহ বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/টিইকে/এমকে