খুঁজুন
                               
, ,
           

ছাড়পত্র ছাড়াই ঘের খনন, বিপন্ন নড়াইলের বিল ও জীববৈচিত্র্য

নড়াইল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
ছাড়পত্র ছাড়াই ঘের খনন, বিপন্ন নড়াইলের বিল ও জীববৈচিত্র্য

নড়াইলের বিভিন্ন বিল ও নিম্নাঞ্চলে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও সরকারি বিধিবিধান না মেনে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্যঘের খননের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে তিন ফসলি জমির অনেকগুলো এক বা দুই ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।

কৃষক ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, বিলের উন্মুক্ত স্থানে মাটি কেটে উঁচু বাঁধ নির্মাণ এবং গভীর ঘের তৈরি করায় বর্ষায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কুমড়ির বিল, চাচড়ীর বিল, পাটেরশরী বিল ও ইচ্ছামতীর বিলসহ অন্তত ১৮ থেকে ২০টি বিলে হাজার হাজার একর জমিতে চার থেকে আট মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকছে।

লোহাগড়া উপজেলার সুরুশুনা গ্রামের কৃষক তুহিন শেখ জানান, ইচ্ছামতি বিলে আগে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এখন একটির বেশি ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কুমড়ি বিলের কৃষক কামরুল ইসলাম ও চাচড়ী বিলের কৃষক আলমগীর বলেন, ঘেরের কারণে বিলে চাষাবাদের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৭টি বিলের মধ্যে অন্তত ২০টিতে অপরিকল্পিত ঘের খননের ফলে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি এক বা দুই ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জলাবদ্ধ জমির পরিমাণ ৩০০ একর।

পরিবেশ অধিদপ্তর নড়াইলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়া জানান, আইন অনুযায়ী পাঁচ একরের নিচে ঘের খননের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পাঁচ একরের বেশি হলে অবস্থানগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি ফি জমা দিয়ে এসব অনুমতি নিতে হয়। তবে তাঁর ভাষ্য, জেলার কোনো ঘেরই এই নিয়ম মানেনি।

জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নড়াইলের তিনটি উপজেলায় ৫৭টি বিলে মোট ৫ হাজার ৩৯১টি মৎস্যঘের রয়েছে। এসব ঘের থেকে আইন অনুযায়ী ফি আদায় করা গেলে বছরে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অপরিকল্পিত ঘেরের কারণে শুধু কৃষিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সংকুচিত হচ্ছে উন্মুক্ত জলাভূমি। এতে দেশীয় মাছ, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বিচরণ কমছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।

নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান সৈয়দ মোর্শেদ হাসান বলেন, উন্মুক্ত বিল পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির অন্যতম আশ্রয়স্থল। জলাশয়গুলো ব্যক্তিগত ঘেরে রূপ নেওয়ায় নিরাপদ খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে পাখির আগমন এবং জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

পরিবেশকর্মী যাযাবর মনিরের অভিযোগ, ঘেরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে আশপাশের খাল-বিলের পানি দূষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নড়াইলের সভাপতি শাহ আলম বলেন, উন্মুক্ত জলাশয় মাছ চাষের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব জলাশয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ হারান।

এনজিও স্বাবলম্বীর নির্বাহী পরিচালক কাজী হাফিজুর রহমান অপরিকল্পিত ও অবৈধ ঘেরের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, কৃষিজমিতে ঘের করতে হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ফসলি জমিতে ঘের তৈরি না করার জন্য চাষিদের নিয়মিত নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অপরিকল্পিত ঘের খনন নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদন নিশ্চিত করা না গেলে নড়াইলের কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির কাছ থেকে আরও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সহযোগিতা পায়নি বাংলাদেশ। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ফলে সরকার আরও অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার আশা করছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। আমদানি কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাও সম্প্রসারণ করতে চায় বাংলাদেশ।

বৈঠকে আলোচনার বিষয়গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না জানালেও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা উঠে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ জন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে পাঁচ শিশু এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

সন্দেহভাজন রোগী ২ লাখ ছাড়িয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৯৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ জনে।

একই সময়ে পরীক্ষাগারে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৮ জনের। এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৪০ জনে।

সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯০ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যু এবং হাসপাতালে রোগী ভর্তির ধারাবাহিকতা উঠে এসেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সিজেপির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
সিজেপির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে লোহার ফটক টপকে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর দিল্লি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে দলটির আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিজেপি নেতাদের আটক ও জেল হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতা বলে মন্তব্য করেছেন।

যেভাবে যন্তর মন্তরে ঢোকেন সিজেপি নেতারা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডে পুলিশের নজর এড়িয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। ওই এলাকায় প্রবেশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড ও পুলিশি পাহারা ছিল। এর মধ্যেই লোহার ফটক টপকে সিজেপি নেতারা তাঁদের ১০ থেকে ১২ জন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

যন্তর মন্তরে প্রবেশের পর তাঁরা জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ পরে তাঁদের আটক করে। দিনভর আটক রাখার পর গভীর রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সিজেপির অভিযোগ, আটক অবস্থায় দীর্ঘ সময় নেতাদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের যুক্তি, শর্ত ভেঙেছেন নেতারা

সিজেপির আইনজীবী অভীষ্ট হেলা গণমাধ্যমকে জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছে, নেতারা ফোন করে যন্তর মন্তরে লোকজন জড়ো করেন এবং অনুমোদিত বিক্ষোভস্থল নয়—এমন একটি এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আবারও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও পুলিশ যুক্তি দেয়।

পুলিশের দাবি, এর আগেও ওই নেতাদের আটক করা হয়েছিল। সে সময় শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান। কিন্তু যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর মাধ্যমে তাঁরা আগের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

এসব যুক্তির ভিত্তিতে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অজিঙ্ক শিন্ডেকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

‘ভিন্নমত দমন করতে চাইলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন’

দুই নেতাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য, নেতারা যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে কারাবন্দী হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ওদের কী অপরাধ? ওরা তো যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে?’ এরপর ভিন্নমত দমনের সমালোচনা করে তিনি জরুরি অবস্থা প্রকাশ্যে ঘোষণা করার চ্যালেঞ্জ জানান এবং সরকারের বিরুদ্ধে কাপুরুষোচিত কৌশলের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া

সিজেপি নেতাদের জেল হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ছাত্র, যুবক, সাংবাদিক কিংবা ইন্ডিয়া জোট—আন্দোলনের ব্যানার আলাদা হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকেরা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছেন। যন্তর মন্তর দেশের জনগণের জায়গা উল্লেখ করে তিনি সেটি আবারও জনগণের জন্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন কি এক পথে?

সিজেপি ও বিরোধী জোট ইন্ডিয়া একই ধরনের দাবিতে আন্দোলন করলেও পৃথক কর্মসূচি পালন করায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, কিংবা তারা কেন একসঙ্গে আন্দোলন করছে না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল।

গত মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী তাঁর বাসভবনে আয়োজিত চা-চক্রের আমন্ত্রণপত্র এবং পরে গণমাধ্যমের সামনে এ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। বুধবারের এক্স পোস্টেও তিনি জানান, ব্যানার আলাদা হলেও আন্দোলনের উদ্দেশ্য এক।

সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। নাগপুরে দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিজেপি একটি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা ‘প্রেশার গ্রুপ’। দলটি নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী।

অভিজিতের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন চুরির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় থাকতে সহায়তা করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন বলে জানান তিনি। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল হবে সিজেপি?

সিজেপি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। জবাবে অভিজিৎ দিপক জানান, আপাতত এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিজেপি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবেই কাজ করতে চায়।

যন্তর মন্তরে প্রবেশের ঘটনায় দুই নেতার জেল হেফাজত, রাহুল গান্ধীর প্রতিবাদ এবং সিজেপি-ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য—সব মিলিয়ে ভারতের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ