খুঁজুন
                               
, ,
           

‘বিদায় মেনে নিতে পারছে না রোনালদো’, বিস্ফোরক মন্তব্য রুনির

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
‘বিদায় মেনে নিতে পারছে না রোনালদো’, বিস্ফোরক মন্তব্য রুনির
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে একসময় বিদায় নিতে হবে প্রতিটি খেলোয়াড়কেই। তবে পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সেই বাস্তবতা সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ ওয়েন রুনি। পর্তুগাল জাতীয় দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে যাওয়া এবং পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দেওয়ার ঘটনায় রোনালদোর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই ফুটবলার।

রোনালদোর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন রুনির

‘স্টিক টু ইউনাইটেড’ অনুষ্ঠানে রোনালদোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন রুনি। তাঁর মতে, পর্তুগাল দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সময়ে বিবৃতি প্রকাশ—দুটিই ছিল ভুল। এতে জাতীয় দলের কোচ, সতীর্থ এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি অসম্মান প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

রুনি বলেন, রোনালদো বিশ্বের অন্যতম বড় মাপের ফুটবলার। সে কারণেই তাঁর এমন সিদ্ধান্তের কারণ বুঝতে পারছেন না তিনি। রুনির প্রশ্ন, একজন অভিজ্ঞ ও কিংবদন্তি খেলোয়াড় হিসেবে রোনালদোর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল কি না।

মেসির প্রসঙ্গ টেনে রোনালদোকে সমালোচনা

রোনালদোর আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রসঙ্গও টেনেছেন রুনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলজীবনের আবেগঘন মুহূর্তের সময়ই রোনালদো পর্তুগালের অনুশীলন শিবির ছেড়ে চলে যান। একই সময়ে রোনালদোর বিবৃতি প্রকাশের সিদ্ধান্তও তাঁর কাছে যথাযথ মনে হয়নি।

রুনির ভাষায়, রোনালদোর মতো বড় খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দলের সামগ্রিক পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মানের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

কোচ ও সতীর্থদের প্রতি অসম্মান দেখেছেন রুনি

রুনির মতে, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় ব্যক্তিগত প্রত্যাশা পূরণ না হলেও কোচ ও সতীর্থদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি। রোনালদোর সাম্প্রতিক আচরণ সেই জায়গায় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, কোচ ও সতীর্থদের যেভাবে হেয় করা হয়েছে, তা একেবারেই ভুল। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিও অসম্মান দেখানো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ফুটবলার, সতীর্থ কিংবা কোচ—যে দৃষ্টিকোণ থেকেই ঘটনাটি দেখা হোক না কেন, তাঁর কাছে পুরো বিষয়টি ছিল হতাশাজনক।

আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার বাস্তবতা মেনে নেওয়ার তাগিদ

রোনালদোর বয়স ও দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে রুনি বলেন, প্রতিটি খেলোয়াড়কেই একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়তে হয়। এমনকি পেশাদার ফুটবলজীবন থেকেও বিদায় নেওয়ার সময় আসে। এটি খেলাটির স্বাভাবিক নিয়ম।

রুনির মতে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোনালদো এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তাঁর এমন পরিস্থিতি সামলানোর ধরন দেখতে অস্বস্তিকর বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই ইংলিশ ফুটবলার।

কেন পর্তুগালের অনুশীলন শিবির ছেড়েছিলেন রোনালদো?

সম্প্রতি পর্তুগাল জাতীয় দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে আলোচনায় আসেন রোনালদো। পরে এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, নরওয়ের বিপক্ষে অসলোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন কোচ হোর্হে জেসুস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, খেলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রত্যাশা তৈরি হওয়ার পরও তাঁকে ম্যাচের আগে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

সমর্থকদের কাছে না যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ

নরওয়ে-পর্তুগাল ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় না করে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়ার বিষয়েও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রোনালদো। পাশাপাশি জাতীয় দলের অনুশীলন শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

নিজের আচরণের দায় স্বীকার করে রোনালদো বলেন, তাঁর এমনটা করা উচিত হয়নি এবং এ ঘটনার সম্পূর্ণ দায় তাঁর নিজের। তাঁর এই বক্তব্যে ভুল স্বীকারের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়েও অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত পর্তুগিজ অধিনায়ক

বিবৃতিতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সম্ভাব্য শাস্তি নিয়েও কথা বলেছেন রোনালদো। তাঁর মতে, নিজের কর্মকাণ্ডের পরিণতি কী হবে, তা ফেডারেশনেরই মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এমনকি নিজের শাস্তি কমানোর পক্ষেও তিনি নন বলে জানিয়েছেন।

রোনালদো বলেন, তিনি দলের অধিনায়ক হওয়ায় তাঁর দায়িত্ব অন্য খেলোয়াড়দের তুলনায় বেশি। তাই তাঁর ভুলকে আরও গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ক্ষমা চাইলেও নিজের কাজের পরিণতি ভোগ করতে হবে—এ বিষয়টি তিনি মেনে নিয়েছেন।

কোচের সঙ্গে সমঝোতা নিয়েও অভিযোগ

বিবৃতিতে কোচের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার বিষয়টিও তুলে ধরেন রোনালদো। তাঁর দাবি, নিজের ভুলের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন কোচ হোর্হে জেসুস। দুজনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল যে সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজের ভুল স্বীকার করবেন এবং রোনালদোর প্রশংসা করবেন।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, পেলে বা দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো একজন খেলোয়াড়কে দিয়ে ওয়ার্মআপ করিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামানো ভুল হয়েছে—এমন বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল কোচের। তবে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রোনালদোর বক্তব্য ও রুনির সমালোচনা—দুই দিক থেকেই ঘটনাটি এখন পর্তুগাল দলের ভেতরের শৃঙ্খলা, অধিনায়কের দায়িত্ব এবং একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। রোনালদো নিজের ভুলের দায় স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা বললেও তাঁর আচরণকে দলের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন রুনি।

কালের আলো/এসএ

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণে চীনা ব্যাংকের সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণে চীনা ব্যাংকের সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী

বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে দ্রুত অর্থায়নের জন্য চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) নেটওয়ার্ক উন্নয়নে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এ জন্য বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, স্মার্ট গ্রিড স্থাপন এবং ডিপিডিসির নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে চীনা ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৬-এর আওতায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ তুলে ধরে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতেও দ্রুত অর্থায়নের অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভূমিতে স্থাপিত ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

বৈঠকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দুই পক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়।

এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ ও বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবুজায়ন এবং বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এ ছাড়া সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের যেসব স্থানে সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংসদ প্লাজা এবং এর সংলগ্ন এলাকার নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে পাঠদান। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে। ফলে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাইয়ের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রড দৃশ্যমান হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে। পুরো শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপদে বসে পড়াশোনা করার মতো পরিবেশ নেই। দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি, আমাদের বাচ্চারাও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে পাঠদান করছি। ভবন সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা হবে।’

গত ২০ জুন পাশের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে প্রকাশ দাস নামে এক দপ্তরি কাম প্রহরী আহত হওয়ার ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল হাই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সংসদ সদস্যের নজরে আনার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

মাধবপুরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ সংস্কার করতে হবে। সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি