খুঁজুন
                               
, ,
           

শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

গ্রাম ও শহরের প্রতিটি শিশুর জন্য শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোনো শিশু যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা নেওয়ার উপযোগী শিশুদের শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করা এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের টিকার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইলেন্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকার আওতায় আনার নির্দেশ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির আওতা শতভাগে উন্নীত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রতিটি বাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে টিকা নেওয়ার উপযোগী শিশুদের চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করা জরুরি। দেশের কোনো এলাকার শিশুই যেন টিকা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে যেসব শিশু টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসছে না, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

টিকার গুণগত মান ও সংরক্ষণে নজরদারির তাগিদ

শুধু টিকার আওতা বাড়ানোই নয়, টিকার গুণগত মান বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, টিকা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

টিকা সরবরাহ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা যাতে না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর দিতে হবে।

পাশাপাশি টিকার কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়মিত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি টিকার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

১৯৭৯ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইপিআই

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংক্রামক রোগ ও মহামারির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

দেশে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হলে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, টিকার মান এবং শিশুদের টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে।

প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটের পরিকল্পনা

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে নগরবাসী—সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

এই সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও এক লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী।

তিনি আরও বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারির ফলাফল মূল্যায়ন দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মসূচির অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এবং ভ্যাকসিন-প্রতিরোধযোগ্য রোগের (ভিপিডি) নজরদারির যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল তুলে ধরা হয়। টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন, রোগ নজরদারি জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এ পর্যালোচনার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)। এই সদস্যপদ অর্জনের ফলে বাংলাদেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, রন্ধন প্রতিযোগিতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশ এবং শেফদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের ওয়ার্ল্ডশেফসের ন্যাশনাল মেম্বারশিপ অর্জনের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান।

এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শহীদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ এবং অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের প্রতিনিধিরা জানান, ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের শেফরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক রন্ধন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে।

রন্ধনশিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন, নতুন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং বৈশ্বিক পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ সদস্যপদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

দক্ষ শেফ তৈরিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা

দেশের রন্ধনশিল্পের অগ্রগতি এবং শেফদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দক্ষ রন্ধনশিল্পী তৈরি এবং এ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের শেফরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের রন্ধনশিল্পের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শেফদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ডশেফস

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিস বা ওয়ার্ল্ডশেফস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। শেফদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত উন্নয়নে সংগঠনটি ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের এই সদস্যপদ দেশের রন্ধনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কালের আলো/এসএ

জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যা সমাধানে মাঠে নামছে একাধিক সংস্থা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যা সমাধানে মাঠে নামছে একাধিক সংস্থা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পরিকল্পনার আওতায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা

সভায় জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনানুগ কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে সমন্বয় আনা সম্ভব হবে।

জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও সভায় আলোচনায় আসে।

দায়িত্ব ও কার্যক্রমে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরিকল্পনার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেক সংস্থার দায়িত্ব ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে মাস্টারপ্ল্যানের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা কিংবা কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে সভার বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতির
শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এর আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ লক্ষ্য অর্জনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত রাখার তাগিদ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্টদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

সৌজন্য সাক্ষাতে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতি এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ

সাক্ষাৎকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, সহকারী অধ্যাপক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নজরদারি এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ তৈরি এবং মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা এবং মাদক প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

কালের আলো/এসএ