খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্লড এআইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে বিপদে ১৬ বছরের কিশোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
ক্লড এআইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে বিপদে ১৬ বছরের কিশোর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্য নিয়ে পাহাড়ে হাইকিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল কানাডার ১৬ বছর বয়সী কিশোর ব্রাইস ভিনসেন্ট গ্যারিলুক। কিন্তু সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিপজ্জনক পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়ে তাকে। পরে হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জামের সাহায্যে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। গত ৩ অক্টোবর কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্রাউন মাউন্টেনে এ ঘটনা ঘটে।

হাইকিংয়ের রুট পরিকল্পনায় সে অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই চ্যাটবট ক্লড ব্যবহার করেছিল। তবে শুধু ক্লড নয়, গুগল ম্যাপসসহ অন্য অ্যাপও ব্যবহার করেছিল কিশোরটি। তার ধারণা ছিল, সে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। কিন্তু একপর্যায়ে মূল হাইকিং রুট থেকে অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন একটি খাড়া এলাকায় পৌঁছায়, যেখান থেকে সামনে এগোনো কিংবা নিরাপদে পেছনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিপজ্জনক পাহাড়ি পথে গিয়ে আটকে পড়ে কিশোর

নর্থ শোর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাইস গ্রাউস মাউন্টেন থেকে যাত্রা শুরু করে ক্রাউন মাউন্টেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। নর্থ শোর রেসকিউয়ের ব্যবস্থাপক পল মার্কি জানান, এই পথ বেশ কঠিন এবং সাধারণত হাইকিং শেষ করতে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে।

কিন্তু পথে চলতে গিয়ে ব্রাইস এমন একটি বিপজ্জনক রুটে ঢুকে পড়ে, যা পর্বতারোহীদের কাছে ‘উইডোমেকার’ নামে পরিচিত। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিশোরটি জানায়, ভুলবশত সে ‘উইডোমেকার অ্যারেট’ নামের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলে গিয়েছিল।

একপর্যায়ে পাহাড়ের খাড়া দেয়ালের নিচে পাথরের সরু একটি জায়গায় আটকে পড়ে সে। সেখান থেকে নিচে পড়ে গেলে গুরুতর আহত হওয়া কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল যে নিজের উদ্যোগে নিরাপদে ফিরে আসার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

তবে ব্রাইস এ ঘটনার জন্য এআইকে পুরোপুরি দায়ী করেনি। তার ধারণা ছিল, ব্যবহৃত অ্যাপগুলো তাকে সঠিক পথই দেখাচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ি পথের বাস্তব পরিস্থিতি এবং ডিজিটাল মানচিত্রের নির্দেশনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় সে বিপদের মুখে পড়ে।

তিন ঘণ্টার অভিযানে হেলিকপ্টারে উদ্ধার

৩ অক্টোবর স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ব্রাইসের আটকে পড়ার খবর পায় নর্থ শোর রেসকিউ। দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করায় সাধারণভাবে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। ফলে উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।

পাহাড়ের ঢাল অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় হেলিকপ্টারটি কিশোরের অবস্থানের পাশে সরাসরি অবতরণ করতে পারেনি। এ কারণে উদ্ধারকর্মীরা কিছুটা ওপরের দিকে নেমে দড়ির সাহায্যে নিচে পৌঁছান। পরে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ব্রাইসকে বিপজ্জনক স্থান থেকে বের করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসেন।

উদ্ধারকারী দল জানায়, নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার পর কিশোরটিকে হেলিকপ্টারে তুলে ক্লিভল্যান্ড ড্যামের কাছে উদ্ধারকারী ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর থেকে পুরো উদ্ধার অভিযানে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

নর্থ শোর রেসকিউয়ের ব্যবস্থাপক পল মার্কি জানান, উদ্ধারের সময় কিশোরটি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিল। পাহাড়ের ওই বিপজ্জনক অবস্থান থেকে জীবিত ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে সে আতঙ্কে ছিল।

ছেলের বিপদের কথা শুনে আতঙ্কিত মা

পাহাড়ে আটকে পড়ার পর ব্রাইস প্রথমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য চায়। পুলিশ বিষয়টি নর্থ শোর রেসকিউকে জানায়। উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর অপেক্ষায় থাকার সময় সে তার মা জোয়েলের সঙ্গেও ফোনে কথা বলে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোয়েল বলেন, তার ছেলে ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই হাইকিংয়ে বের হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টার পাঠাতে হয়েছে। কোনো মা-বাবাই চান না, তাঁদের সন্তান পাহাড়ে আটকে পড়ে এমন বিপদের মধ্যে পড়ুক।

হাইকিংয়ে এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করার পরামর্শ

ঘটনার পর হাইকিংয়ে এআইয়ের দেওয়া নির্দেশনার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন উদ্ধারকারীরা। তাঁদের মতে, এআই চ্যাটবট তথ্য ও পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু পাহাড়ি পথের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা তার নেই। কোনো রুট দেখতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে সেখানে খাড়া ঢাল, বিপজ্জনক পাথর কিংবা চলাচলের অনুপযোগী অংশ থাকতে পারে।

এ কারণে দুর্গম এলাকায় যাওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য মানচিত্র, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং অভিজ্ঞ হাইকারদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আবহাওয়া, দিনের আলো, পথের কঠিনতা এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত গাইডের সহায়তা নেওয়া উচিত।

এআইয়ের দেওয়া রুট ব্যবহার করলেও সেটি বাস্তব ও নির্ভরযোগ্য কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় শুধু ডিজিটাল নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

এআইয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিপদে পড়ার ঘটনা নতুন নয়

ডিজিটাল মানচিত্র কিংবা এআইয়ের পরামর্শ অনুসরণ করে দুর্গম এলাকায় বিপদে পড়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রোজভিলের তিন অনভিজ্ঞ হাইকার গুগল জেমিনাইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে মাউন্ট শাস্তা পর্বতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালের আগস্টে গুগল ম্যাপসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে গিয়ে এক নার্সিং শিক্ষার্থী খাবার ও পানি ছাড়া সেন্ট্রাল অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে আটকা পড়েছিলেন।

এসব ঘটনা দেখায়, প্রযুক্তির সাহায্য ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ করতে পারে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প নয়। এআইয়ের পরামর্শ ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তাই পাহাড়ে হাইকিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা অপরিহার্য।

কালের আলো/এসএ

কক্সবাজার যাত্রায় নতুন সুবিধা, যেসব স্টেশনে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার যাত্রায় নতুন সুবিধা, যেসব স্টেশনে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ট্রেনযাত্রা আরও সহজ করতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে বর্ধিত এ সেবা চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন না করেই সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

রেলওয়ের এ সিদ্ধান্তে শুধু পর্যটক নয়, মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সাধারণ যাত্রীদেরও যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর পাশাপাশি মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এই পথে রেল যোগাযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কখন ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস?

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের মতো বিরতিহীনভাবে চলবে না। যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে থামবে ট্রেনটি।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফলে রাতে যাত্রা করে সকালে পর্যটন নগরীতে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

যেসব স্টেশনে থামবে ট্রেনটি

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে মহানগর এক্সপ্রেস নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।

এতে এসব এলাকার যাত্রীদের জন্য কক্সবাজারে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। আগে যাঁদের গন্তব্যে পৌঁছাতে একাধিক ট্রেন ব্যবহার করতে হতো, তাঁদের জন্য নতুন সেবাটি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তবে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি আর চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে থামবে না। ফলে ওই স্টেশনের যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

থাকছে এসি ও নন-এসি আসনের ব্যবস্থা

যাত্রীদের চাহিদা ও বাজেট বিবেচনায় মহানগর এক্সপ্রেসে বিভিন্ন শ্রেণির আসন থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা বা এসি চেয়ার, এসি সিট এবং এসি বার্থ।

এতে সাধারণ আসন থেকে শুরু করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আসন ও শোয়ার সুবিধাসহ আসন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ যাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণির আসন থাকার বিষয়টি যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগে বাড়ছে বিকল্প

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রয়েছে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস।

এই সেবাগুলোর সঙ্গে মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাতায়াতের বিকল্প বাড়বে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতির কারণে বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি রেলপথে পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন ট্রেনসেবা যাতায়াতের বিকল্প বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যাত্রার আগে যাত্রীদের বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচি, টিকিটের প্রাপ্যতা ও ভাড়ার তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত সেবা ২৬ অক্টোবর চালুর কথা জানানো হয়েছে। যাত্রা শুরুর আগে রেলওয়ের কোনো পরিবর্তিত নির্দেশনা থাকলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

 

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন

বহুপ্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পন্ন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংসদীয় কমিটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় গঙ্গা চুক্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে কমিটি।

বৈঠকে দেশের সার্বিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিদ্যমান চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে, নাকি নতুন করে নবায়ন করা হবে—সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও এ-সংক্রান্ত সার্বিক প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

পানি সম্পদ ব্যবস্থার অন্যতম বড় উদ্যোগ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরে সংসদীয় কমিটির সরাসরি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিদর্শনের পর কাজের অগ্রগতি আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, সব প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করে আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই বহুকাঙ্ক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

বৈঠকের শুরুতে স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত ও অনুমোদন করা হয়। এরপর পূর্ববর্তী বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র নদ এবং জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন প্রতিরোধ’ এবং ‘জামালপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর বামতীর, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও আলাই নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ’ শীর্ষক প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন ও মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা পরিচালনা করা হয়।

এছাড়া রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনঃখনন, নদীর পানি দূষণমুক্ত ও অবৈধ দখলমুক্তকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার লক্ষ্যে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর অবস্থিত বিভিন্ন পোল্ডারের (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি এবং ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্পের ২য় সংশোধিত অগ্রগতি এবং দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।

ওই বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, মাজহারুল ইসলাম, ফরিদুল কবীর তালুকদার, মো. ইজ্জত উল্লাহ, অলি উল্লাহ এবং মশিউর রহমান খান অংশ নেন। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বোর্ডের প্রধানরা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সাত বছর পর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণে বাধা কাটল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
সাত বছর পর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণে বাধা কাটল

প্রায় ৭ বছর বন্ধ থাকা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ​ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যে চলমান কাজ এবং তার নিচে দিয়ে চার লেন বিশিষ্ট রেলপথ উন্নয়নের কাজ একটি আইনি জটিলতায় বিগত সাত বছর যাবৎ বন্ধ ছিল। আজ ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা এ উন্নয়ন কাজের পথে আইনি বাধা দূর হলো।

​আদালত আদেশ দিয়েছেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং তার নিচে চার লেন বিশিষ্ট রেললাইন করতে সরকারের উন্নয়ন কাজ পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। এটা রেলওয়ের জায়গা হলেও রিটকারীরা এই অংশের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিয়ারাবাগ, মগবাজার পিয়ারাবাগ অংশের একটু অল্প একটু জায়গা দাবি করেন। এই একই জায়গার দাবিদার বাংলাদেশ রেলওয়েও। এই দাবি এবং পাল্টা দাবির কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত আসলে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এই অংশটুকুর ওপর কোনো উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হয়নি।

রিটকারীর মোস্তাফিজুর রহমানের মূল দাবি ছিল, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে তিনি যে মামলা করেছিলেন একই বছরের ২৯ মার্চ সেই মামলায় তার পক্ষে রায় এসেছে। তখন ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়ায় সরকার প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও আদেশ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয় এবং এ বছরের ২ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের পক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়।

​এই রায়টি চ্যালেঞ্জ করে এ এম মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্ট বিভাগে ১৩৮৯২ অব ২০২৬ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করলে চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ স্থিতাবস্থা জারি করেন। ফলে কাজ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়।

​হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, ডিসি ও সেটেলমেন্ট অফিসারের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন নম্বর ৯৯৪ অব ২০২৬ দায়ের করা হয়। অবকাশকালীন বিচারপতির বিশেষ অনুমতি নিয়ে আজ বিকেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত স্থিতিবস্থার আদেশ তুলে নেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ