হুথি হামলায় সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে বিপর্যয়, বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলার খবরের পাশাপাশি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে সৌদি আরবের ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায় হুথিরা। এতে ভবনটির একাংশে আগুন ধরে গেলেও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা নতুন করে তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হামলার পর ভবনটির একাংশে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজধানী রিয়াদে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ায় কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন।
এসব ঘটনায় জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত চার দফা হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ১৩ জন নিহত এবং চার শতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে হতাহতের এই সংখ্যা, বিমানবন্দরে হামলার বিবরণ এবং ফ্লাইট চলাচল বন্ধের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখানে নেই। ফলে এসব তথ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলে যাত্রী পরিবহন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জনসমক্ষে আসা বন্ধ করেছেন এবং তাঁকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে যুবরাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তাঁর অবস্থান নিয়ে এসব তথ্যের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি আরবের রাজকীয় স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কার খবর সত্য হলে তা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
হুথিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-সাবাহ তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও রাজকীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয় হুথিরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হুথিরা জ্বালানি ডিপো ও প্রশাসনিক ভবনকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জোটটি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সানার আল-সাবাহ থেকে হোদেইদাহ ও রাস ইসা বন্দর পর্যন্ত হুথিদের স্থাপনা ধ্বংস করা হতে পারে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও বন্দরকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার প্রভাব সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থায় পড়তে পারে।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামো দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলা হলে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকায় হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা জোরদার করা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে হামলার প্রকৃত মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array