খুঁজুন
                               
, ,
           

হুথি হামলায় সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে বিপর্যয়, বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
হুথি হামলায় সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে বিপর্যয়, বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলার খবরের পাশাপাশি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে সৌদি আরবের ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায় হুথিরা। এতে ভবনটির একাংশে আগুন ধরে গেলেও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা নতুন করে তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হামলার পর ভবনটির একাংশে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে রাজধানী রিয়াদে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ায় কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন।

এসব ঘটনায় জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত চার দফা হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ১৩ জন নিহত এবং চার শতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে হতাহতের এই সংখ্যা, বিমানবন্দরে হামলার বিবরণ এবং ফ্লাইট চলাচল বন্ধের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখানে নেই। ফলে এসব তথ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলে যাত্রী পরিবহন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জনসমক্ষে আসা বন্ধ করেছেন এবং তাঁকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যুবরাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তাঁর অবস্থান নিয়ে এসব তথ্যের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবের রাজকীয় স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কার খবর সত্য হলে তা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

হুথিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-সাবাহ তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও রাজকীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয় হুথিরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথিরা জ্বালানি ডিপো ও প্রশাসনিক ভবনকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জোটটি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সানার আল-সাবাহ থেকে হোদেইদাহ ও রাস ইসা বন্দর পর্যন্ত হুথিদের স্থাপনা ধ্বংস করা হতে পারে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও বন্দরকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার প্রভাব সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থায় পড়তে পারে।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামো দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলা হলে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকায় হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা জোরদার করা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে হামলার প্রকৃত মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বাংলাদেশে ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার
বাংলাদেশে প্রায় ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদন ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্ট’-এর বরাতে প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। একই তথ্যে বলা হয়েছে, যৌন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৪৫ শতাংশ শৈশবেই এ পেশায় প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন।

শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের জন্য এ তথ্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। কারণ, শিশুদের যৌন শোষণ শুধু তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, বরং শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

প্রেমের ফাঁদ ও চাকরির প্রলোভনে শোষণের ঝুঁকি

প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন, চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা কর্মকাণ্ডের আড়ালে শিশুদের যৌন শোষণের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। অপরাধীরা কখনো বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলে, আবার কখনো ভালো ভবিষ্যৎ বা আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার শিশুদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারণা, প্রলোভন কিংবা শোষণের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের সচেতন করা জরুরি।

বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রমে বিপুল অবৈধ মুনাফা

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রম থেকে বছরে প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধ মুনাফা হয়। এর মধ্যে আনুমানিক ১৭২ বিলিয়ন ডলার আসে বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে।

এই পরিসংখ্যান মানবশোষণের অর্থনৈতিক বাংলাদেশে ৩০ হাজার কন্যাশিশু বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকারব্যাপ্তি তুলে ধরে। মানুষের অসহায়ত্ব ও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত এ ধরনের অপরাধের প্রভাব ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমাজের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের ওপরও পড়ে।

শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

শিশুদের যৌন শোষণ ও পাচার প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ তৈরি, অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতারণা বা শোষণের লক্ষণ শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজ হওয়া, প্রলোভন দেখিয়ে কোথাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কিংবা শোষণের সন্দেহজনক ঘটনা দেখা গেলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং তাকে দোষারোপ না করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াও জরুরি।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যাগুলোর ভিত্তি, সময়কাল ও হিসাবের পদ্ধতি মূল প্রতিবেদন থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে শিশুদের যৌন শোষণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা, সচেতনতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

কালের আলো /জেএন/এসএ

একসময় ফেলনা, এখন পাটখড়িতেই কৃষকের বাড়তি আয়

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
একসময় ফেলনা, এখন পাটখড়িতেই কৃষকের বাড়তি আয়
পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর একসময় পাটখড়িকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না কৃষকেরা। রান্নার জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া তৈরির কাজে ব্যবহার করে বাকি অংশ অনেক সময় ফেলে রাখা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। পাটখড়ির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ায় এখন এটিও হয়ে উঠছে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস। পাটের আঁশ বিক্রির পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি করেও অর্থ পাচ্ছেন তাঁরা।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পাটখড়ি সংগ্রহ, শুকানো ও বিক্রিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। পাট কাটার পর কৃষকেরা এখন পাটখড়ি যত্ন করে তুলে রাখছেন। কেউ বাড়ির উঠানে, কেউ রাস্তার পাশে, আবার কেউ খোলা জায়গায় স্তূপ করে রোদে শুকাচ্ছেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকারেরা সেসব পাটখড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

ফেলনা পণ্য থেকে বাড়তি আয়ের উৎস

সালথা উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, পাট কাটার পর আঁশ ছাড়ানোর পাশাপাশি পাটখড়ি সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিচ্ছেন কৃষকেরা। আগে যে পাটখড়ি অনেক সময় অবহেলায় পড়ে থাকত, এখন সেটিই বিক্রির উপযোগী করে তুলতে রোদে শুকানো হচ্ছে। ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারলে পরে তা বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, পাট চাষে বীজ, সার, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়। পাটের আঁশ বিক্রি থেকে মূল আয় আসে। এর সঙ্গে পাটখড়ি বিক্রির অর্থ যুক্ত হওয়ায় মোট আয় কিছুটা বাড়ছে। ফলে পাটখড়ি আর শুধু কৃষিকাজের উপজাত নয়, বরং কৃষকের কাছে বাড়তি মূল্য পাওয়ার একটি সুযোগ হয়ে উঠেছে।

পাটখড়ি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা

সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড়গ্রাম এলাকার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, আগে পাটের আঁশ বিক্রি করাই ছিল প্রধান বিষয়। পাটখড়ি অনেক সময় পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকেই পাটখড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পাট চাষ থেকে বাড়তি লাভ হচ্ছে।

আরেক কৃষক আজাদ শেখ বলেন, পাটখড়ি শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারলে পরে বিক্রি করা যায়। এতে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যায়, যা পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে কাজে লাগে।

কৃষকদের মতে, পাটখড়ি বিক্রির সুযোগ বাড়ায় এখন এটি ফেলে রাখার বদলে যত্ন করে সংরক্ষণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে দাম তুলনামূলক কম থাকলেও পরে চাহিদা বাড়লে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রতি পাটখড়ি ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সালথায় প্রতি মোটা পাটখড়ি ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ১০০ মোটা পাটখড়ির দাম ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা। বাজারে চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

তবে পাটখড়ির দাম ও বিক্রির পরিমাণ নির্ভর করে এর মান, শুকানোর অবস্থা এবং বাজারের চাহিদার ওপর। তাই সঠিকভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষকেরা তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান।

চাহিদা থাকায় সক্রিয় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

স্থানীয় পাটখড়ি ব্যবসায়ী বাদল হোসেন বলেন, এ বছর পাটখড়ির চাহিদা ভালো। কৃষকদের কাছ থেকে পাটখড়ি সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছেন তাঁরা। চাহিদা থাকায় পাটখড়ি এখন আর ফেলনা পণ্য নয়।

ব্যবসায়ীদের এই তৎপরতায় কৃষকের বাড়ি থেকেই পাটখড়ি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষকদের আলাদাভাবে পরিবহন করে বাজারে নেওয়ার প্রয়োজনও কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে। একই সঙ্গে সংগ্রহ, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্যও আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হতে পারে। পাটখড়ির বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করা সম্ভব।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, পাট বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। কৃষকদের পাটখড়ি সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, পাটের উপজাত হিসেবে পাটখড়ির অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো গেলে পাট চাষে কৃষকের লাভের পরিমাণও বাড়তে পারে।

পাটখড়িকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, পাটখড়িকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হওয়া প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক। একসময় ফেলে দেওয়া পাটখড়ি এখন কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাটচাষিদের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধা তদারকি করা হচ্ছে। পাট ও পাটখড়ির সঠিক সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, যাতে কৃষকেরা তাঁদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পাটখড়ির সঠিক ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা আরও উন্নত করা গেলে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে। এতে পাটের আঁশের ওপর নির্ভরশীল আয়ের বাইরে কৃষকের হাতে অর্থ আসবে, পাশাপাশি গড়ে উঠতে পারে নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।

একসময় অবহেলায় পড়ে থাকা পাটখড়ির এই পরিবর্তন কৃষিপণ্যের প্রতিটি অংশকে কাজে লাগানোর গুরুত্বও তুলে ধরছে। পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা ও বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো গেলে সালথার পাটচাষিদের জন্য পাটখড়ি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ

কক্সবাজার যাত্রায় নতুন সুবিধা, যেসব স্টেশনে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার যাত্রায় নতুন সুবিধা, যেসব স্টেশনে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ট্রেনযাত্রা আরও সহজ করতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে বর্ধিত এ সেবা চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন না করেই সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

রেলওয়ের এ সিদ্ধান্তে শুধু পর্যটক নয়, মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সাধারণ যাত্রীদেরও যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর পাশাপাশি মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এই পথে রেল যোগাযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কখন ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস?

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের মতো বিরতিহীনভাবে চলবে না। যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে থামবে ট্রেনটি।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফলে রাতে যাত্রা করে সকালে পর্যটন নগরীতে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

যেসব স্টেশনে থামবে ট্রেনটি

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে মহানগর এক্সপ্রেস নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।

এতে এসব এলাকার যাত্রীদের জন্য কক্সবাজারে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। আগে যাঁদের গন্তব্যে পৌঁছাতে একাধিক ট্রেন ব্যবহার করতে হতো, তাঁদের জন্য নতুন সেবাটি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তবে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি আর চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে থামবে না। ফলে ওই স্টেশনের যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

থাকছে এসি ও নন-এসি আসনের ব্যবস্থা

যাত্রীদের চাহিদা ও বাজেট বিবেচনায় মহানগর এক্সপ্রেসে বিভিন্ন শ্রেণির আসন থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা বা এসি চেয়ার, এসি সিট এবং এসি বার্থ।

এতে সাধারণ আসন থেকে শুরু করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আসন ও শোয়ার সুবিধাসহ আসন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ যাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণির আসন থাকার বিষয়টি যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগে বাড়ছে বিকল্প

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রয়েছে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস।

এই সেবাগুলোর সঙ্গে মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাতায়াতের বিকল্প বাড়বে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতির কারণে বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি রেলপথে পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন ট্রেনসেবা যাতায়াতের বিকল্প বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যাত্রার আগে যাত্রীদের বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচি, টিকিটের প্রাপ্যতা ও ভাড়ার তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত সেবা ২৬ অক্টোবর চালুর কথা জানানো হয়েছে। যাত্রা শুরুর আগে রেলওয়ের কোনো পরিবর্তিত নির্দেশনা থাকলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এসএ