সময়ের সেরা ফুটবলারদের আলোচনায় লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি এখন নিয়মিত উচ্চারিত হয় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের নাম। গোল করার ধারাবাহিকতা ও রেকর্ড গড়ার ক্ষমতায় নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন এই দুই তারকা। এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক রাতেই নতুন ইতিহাস গড়লেন হালান্ড ও এমবাপ্পে। তাঁদের কীর্তিতে পেছনে পড়ে গেছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির দুটি রেকর্ড।
৬০ ম্যাচে ৬১ গোল, হালান্ডের অবিশ্বাস্য কীর্তি
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে প্যারিস সাঁ জার্মেইয়ের (পিএসজি) বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। দল ৪-২ গোলে হেরে গেলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
এই দুই গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১। আর এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর লেগেছে মাত্র ৬০ ম্যাচ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে দ্রুততম ৬০ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে লিওনেল মেসি ৮০ ম্যাচে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
বয়সের হিসাবেও মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন হালান্ড। ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকার। মেসির ক্ষেত্রে বয়সটি ছিল ২৬ বছর ৮৬ দিন। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মেসিকে পেছনে ফেলেছেন হালান্ড।
১০০ ম্যাচে সবচেয়ে কম বয়সী এমবাপ্পে
একই রাতে আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এএস রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর শততম উপস্থিতি। আর এই মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
এমবাপ্পের বয়স তখন ২৭ বছর ২৯৮ দিন। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন মেসি, যিনি ২৮ বছর ৮৪ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
শুধু শততম ম্যাচ খেলেই থামেননি এমবাপ্পে। রোমার বিপক্ষে গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের গোলসংখ্যা ৭২-এ নিয়ে গেছেন তিনি। এতে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রাউল গঞ্জালেজকে পেছনে ফেলে এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন ফরাসি তারকা।
রোমার মাঠে রিয়ালের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাতটি দলীয়ভাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এমবাপ্পের জন্য। রোমার মাঠে একপর্যায়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
শেষ আট মিনিটে তিনটি গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রিয়াল। এমবাপ্পের গোলের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের আক্রমণাত্মক ফুটবল ম্যাচটিকে নাটকীয় করে তোলে। ফলে শততম ম্যাচে ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে জয়ও উদ্যাপন করতে পেরেছেন ফরাসি তারকা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গোলদাতাদের তালিকায় এমবাপ্পের অগ্রগতি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ৭২। এই গোলসংখ্যা তাঁকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে তুলে দিয়েছে। তাঁর পেছনে নেমে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা রাউল গঞ্জালেজ, যাঁর গোলসংখ্যা ৭১।
এ তালিকায় এমবাপ্পের সামনে রয়েছেন আরও চার কিংবদন্তি। শীর্ষে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ১৪১ গোল নিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে মেসি, তাঁর গোল ১২৯টি। এরপর রবার্ট লেভানদোভস্কির ১০৯ এবং করিম বেনজেমার ৯০ গোল।
এমবাপ্পের সামনে এখন লক্ষ্য আরও ওপরে ওঠা। বয়স ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আগামী মৌসুমগুলোতে গোলের এই ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে হালান্ডের নতুন রেকর্ড
পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন হালান্ড। সিটির হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৩৮, যা এসেছে মাত্র ৪১ ম্যাচে।
এর আগে ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোর দখলে। তিনি ৬৪ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছিলেন। হালান্ড তুলনামূলক কম ম্যাচেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের রাতেও দলীয়ভাবে হতাশ হতে হয়েছে সিটিকে। নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে যায় তারা। প্রথমার্ধে তিন গোল হজম করার পর বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল সিটি। হালান্ডের জোড়া গোলও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি।
মেসির রেকর্ডে চাপ, নতুন প্রজন্মের উত্থান
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বহু বছর ধরে গোল ও ম্যাচসংক্রান্ত নানা রেকর্ডের মালিক ছিলেন মেসি। কিন্তু হালান্ড ও এমবাপ্পের মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে সেই রেকর্ডগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছেন।
হালান্ডের ক্ষেত্রে গোল করার অসাধারণ গতি তাঁকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, এমবাপ্পে অল্প বয়সেই শততম ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের বাইরেও তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে দলকে শিরোপা জেতানো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো প্রতিযোগিতায় গোলের রেকর্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতার সাফল্যও নির্ধারণ করবে তাঁদের উত্তরাধিকার।
কালের আলো/এএন/এস এ
আপনার মতামত লিখুন
Array