খুঁজুন
                               
, ,
           

নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথম ইউনিটের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোর অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে হলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ধাপগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুটি ইউনিটের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রকল্পটির সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি ইউনিট চালুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুর তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি সঠিক পথে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাব্য সময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বাড়াতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অর্জন, নতুন ধারণা তৈরি এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্যকে বাজারজাত করা এবং সেগুলোর রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ এবং মো. আব্দুল গফুর অংশ নেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে সভাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচিতি পর্ব এবং পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার (তারিখ যাচাই প্রয়োজন) পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বেন্ড শহরের ‘সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে’ এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির সময় এমন সহিংস ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ৫ থেকে ১১ বছর

বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্র্যান্টজ জানান, হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর। এ ছাড়া একজন শিক্ষকও নিহত হয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত ১৬ বছর বয়সী কিশোরও ঘটনাস্থলে মারা যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা অন্তত পাঁচ।

এ ঘটনায় ৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের বেন্ডের সেন্ট চার্লস মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভেতরে আর কেউ বিপদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মীরা।

বন্ধ দরজা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অভিযোগ

পুলিশ প্রধান মাইক ক্র্যান্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী বিদ্যালয়ের বন্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে। তবে সে ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান বা সাবেক শিক্ষার্থী ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হামলার উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং হামলাকারী কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

দুপুরে গুলির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশি অভিযান

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে একটি গাড়ি থেকে গুলির শব্দ বা গুলিবর্ষণের বিষয়ে প্রথম খবর আসে। অভিযোগে দীর্ঘ নলবিশিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্রধারী এক ব্যক্তির কথা জানানো হয়েছিল।

এর দুই মিনিট পর, দুপুর ১টা ১ মিনিটে বিদ্যালয়টি লকডাউন করা হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও শুরু হয়।

ঘটনার প্রাথমিক বিবরণে বলা হয়েছে, এক প্রত্যক্ষদর্শী নাগরিক হামলাকারীকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখে তার পিছু নেন। পরে তিনি হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ওই কিশোর ঘটনাস্থলে নিহত হয় বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ পরে সেখানে পৌঁছে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীর ভূমিকা, গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সরিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

হামলার পর বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে বাসে করে পার্শ্ববর্তী একটি চার্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার মতো ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কারণে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি যোগাযোগ এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তদন্তে এফবিআইয়ের সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে তদন্তে সহায়তা করতে সংস্থাটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

এ ধরনের তদন্তে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য, আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, সম্ভাব্য পূর্বপরিকল্পনা এবং হামলাকারীর সঙ্গে বিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে এই ঘটনায় তদন্তকারীরা কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

অরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা নাগরিকের সাহসিকতার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সামাজিক ও জননিরাপত্তা সমস্যা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এসব হামলায় শিশু, শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মী সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্দুক সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ’-এর হিসাবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩৬৯টি বড় ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ‘এভরিটাউন ফর গান সেফটি’র হিসাবে, চলতি বছরে মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত ১০০টি গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা, গণনার সময়সীমা ও সর্বশেষ হালনাগাদ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আগাম হুমকি শনাক্তকরণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট হামলার কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফল ও যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

নিহতদের পরিবারে শোক, তদন্তের অপেক্ষা

বেন্ডের এই হামলায় তিন শিশুর মৃত্যু আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন সামনে এনেছে। শিশুদের জন্য বিদ্যালয়কে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের নয়; জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ, কার্যকর যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর। অন্যদিকে, স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্য, আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ সম্পর্কে তদন্তকারীদের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএন/এসএ

সৌদিতে যুদ্ধের আতঙ্কে ওমরাহযাত্রীরা বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
সৌদিতে যুদ্ধের আতঙ্কে ওমরাহযাত্রীরা বিপাকে

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ করছেন হাজারো মুসল্লি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত ও হামলার আশঙ্কায় এবার তাঁদের অনেকের পবিত্র এই যাত্রা ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। বিমান চলাচলে বিঘ্ন, ফ্লাইট বাতিল এবং নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওমরাহযাত্রী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরা।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি বিমানবন্দর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলার সময় বিমানবন্দরে ওমরাহযাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। এতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি ২৪ জন আহত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হতাহতের তথ্য এবং হামলার স্থান ও পরিস্থিতি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পবিত্র যাত্রার মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক

ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থানরত মুসল্লিদের উদ্বেগের প্রধান কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশটিতে গেছেন। তাঁদের জন্য একদিকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা, অন্যদিকে নিরাপদে থাকা ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক মুসল্লি বলেন, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে বারবার সতর্কবার্তা আসছে, যা তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সৌদি আরবসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনাও করেন।

যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের সময় ভ্রমণকারীদের উদ্বেগ শুধু সরাসরি হামলার আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন, ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পরিবহন না পাওয়ার মতো বিষয়ও তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ায়।

মক্কা-মদিনা ঘিরে স্বস্তি থাকলেও যাত্রাপথে অনিশ্চয়তা

ইসলামের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালন করতে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এই দুই শহরকে লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

মক্কা ও মদিনায় সরাসরি হামলার খবর না থাকলেও সেখানে পৌঁছাতে কিংবা সেখান থেকে দেশে ফিরতে অনেক যাত্রীকে অন্য শহরের বিমানবন্দর ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রিয়াদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে তার প্রভাব ওমরাহযাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও পড়তে পারে।

এ কারণে যাত্রীরা শুধু পবিত্র শহরগুলোর পরিস্থিতি নয়, বরং তাঁদের ফ্লাইটের রুট, ট্রানজিট বিমানবন্দর এবং দেশে ফেরার সম্ভাব্য ব্যবস্থাও নিয়ে চিন্তিত।

ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনে বাড়ছে ভোগান্তি

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল কিংবা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।

ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের নতুন টিকিট সংগ্রহ, হোটেলে অতিরিক্ত অবস্থান এবং খাবারসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লি, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এমন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দোহা ও দুবাইগামী স্থলপথের পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। বিকল্প পথে যাতায়াতের চাহিদা বাড়লে পরিবহনব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে কোন রুটে কতটা ভাড়া বেড়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

ফ্লাইট না পেয়ে ভ্রমণ স্থগিত করছেন অনেকে

সৌদি আরবে অবস্থানরত আরেক মুসল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজনের ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁর কয়েকজন বন্ধু সৌদি আরবে আসতে পারেননি।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন যাঁদের ভ্রমণের তারিখ নির্ধারিত, হোটেল বুকিং করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফেরার প্রয়োজন রয়েছে। ওমরাহযাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিদেশি কর্মীরাও বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে যাঁদের ভিসার মেয়াদ, কর্মস্থলে যোগদানের সময় কিংবা দেশে ফেরার সঙ্গে জরুরি পারিবারিক বিষয় জড়িত, তাঁদের জন্য ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা বাড়তি চাপ তৈরি করে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভ্রমণ ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সৌদি ভ্রমণে সতর্কতা জারি বিভিন্ন দেশের

আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও ভ্রমণের আগে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনস, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের হালনাগাদ নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা জরুরি।

উদ্বেগের মধ্যে ওমরাহযাত্রীদের অপেক্ষা

ওমরাহ মুসলমানদের কাছে গভীর ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঞ্চয় করে কিংবা পরিবারের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এই সফরে যান। ফলে যাত্রার মাঝপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বা ফ্লাইট বাতিলের খবর তাঁদের জন্য মানসিক ও আর্থিক—দুই ধরনের চাপ তৈরি করে।

একদিকে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ইবাদত সম্পন্ন করার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে নিরাপদে যাতায়াত ও দেশে ফেরার নিশ্চয়তা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অনেকেরই ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নেই; বিমান চলাচল, পর্যটন, ব্যবসা এবং ধর্মীয় ভ্রমণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা, হতাহতের সংখ্যা এবং দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কালের আলো/জেএন/এসএ

মক্কার মসজিদে অপরাধে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
মক্কার মসজিদে অপরাধে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানিয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।

ঘটনাটি সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে এ ঘটনায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক ও অশালীন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

গ্রেপ্তার থেকে মৃত্যুদণ্ড, যেভাবে এগোয় বিচারিক প্রক্রিয়া

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে কথিত অপরাধের ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের শরিয়াহ আইনভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় এ শাস্তি দেওয়া হয়। তাআজির হলো এমন এক ধরনের শাস্তি, যার ধরন ও মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধিকার থাকে। তবে এ মামলায় আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ এবং দুই অভিযুক্তের বক্তব্য প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়নি।

উচ্চতর আদালতে বহাল থাকার পর কার্যকর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের রায়ের পর উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্ত, বিচার এবং উচ্চতর বিচারিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই মামলায় সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোর নাম, রায়ের তারিখ এবং রাজকীয় আদেশ জারির সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানাল সৌদি সরকার

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা এবং আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, পবিত্র স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশটির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মক্কা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। এ কারণে মক্কার মসজিদ ও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

প্রবাসীদের জন্য ঘটনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ নির্মাণ, সেবা, পরিবহন, ব্যবসা ও অন্যান্য খাতে কাজ করেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির আইন, ধর্মীয় স্থানের নিয়মকানুন এবং স্থানীয় বিধিবিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই নির্দিষ্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত না হওয়ায় অভিযোগের প্রকৃতি, ঘটনার পরিস্থিতি কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যের বাইরে অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না।

সব মিলিয়ে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত হলে অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এসএ