খুঁজুন
                               
, ,
           

নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির ফরম বিতরণ শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির ফরম বিতরণ শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ফরম বিতরণ, শনিবার জমা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত ৩২৩ নম্বর মহিলা আসন-২৩-এ আগামী ১২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নারী প্রার্থীদের শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফরম সংগ্রহের পর তা যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে আসন শূন্য

গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন, অর্থাৎ সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩, শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এরপর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনটি শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

১২ নভেম্বর উপনির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করছে বিএনপি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

বলিউড অভিনেতা ও আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্বধারী এই অভিনেতার বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিধির আওতায় ইমরানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে নোটিশের বিষয়ে ইমরান খান বা তাঁর প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন ও তথ্য কারচুপির অভিযোগ তুলে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীর আহ্বানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

সমাবেশে অংশ নেন ইমরান খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সঙ্গী ও অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন অভিনেত্রী জাইন মেরি খান। একপর্যায়ে মুম্বাই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইমরানসহ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশের ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভটি ছিল ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কেন দেশ ছাড়ার নোটিশ?

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা কিরিট সোমাইয়া এ বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি ইমরানকে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

ওই অভিযোগের পর ফরেনার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ও মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে নোটিশের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি, এর বিরুদ্ধে ইমরানের কোনো আপিল বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে দেশ ছাড়ার নির্দেশের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং ইমরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ওপর।

ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইমরান

বলিউডে ‘জানে তু… ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ইমরান খান জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে।

২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, নাগরিক না হলেও সচেতনতা তৈরির কাজে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান, কারণ তিনি নিজেকে ভারতেরই অংশ মনে করেন।

তবে পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি। বর্তমান ঘটনায় তাঁর মার্কিন নাগরিকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের ভ্যান থেকে দিয়েছিলেন মজার বার্তা

১০ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ইমরান। পুলিশের ভ্যান থেকে হাসিমুখে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি একটু ঘুরে আসতে যাচ্ছি!’

তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে ওই সময়কার রসিক মন্তব্যের বাইরে দেশ ছাড়ার নোটিশ নিয়ে অভিনেতার বর্তমান অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগেও প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা

চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারতের ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং এ নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায়ও সরব হয়েছিলেন ইমরান খান। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান আগেও আলোচনায় এসেছে।

তবে এবারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা মূলত বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতে অবস্থান ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণের বিষয়কে ঘিরে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং ইমরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে এলে নোটিশের আইনি দিক ও পরবর্তী পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

এখন নজর ২৮ অক্টোবরের দিকে

ইমরান খানের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ২৮ অক্টোবর। এর মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়তে হবে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়বেন, নাকি নোটিশের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন—তা এখনো জানা যায়নি।

বলিউডের পরিচিত এই অভিনেতাকে ঘিরে ঘটনাটি শুধু বিনোদনজগতেই নয়, বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আইনি সীমা নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইমরানের বক্তব্যের দিকেই এখন নজর থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এসএ

সব সবজি ৫০ টাকার মধ্যে এলেই বলব, দাম কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
সব সবজি ৫০ টাকার মধ্যে এলেই বলব, দাম কমেছে

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ দামে দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম—প্রায় সব ধরনের পণ্য কিনতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাজারে কিছুটা কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। উত্তরবঙ্গ থেকে নতুন করে সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায় সামনে দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। তবে সবজির বাজারে সামান্য স্বস্তি ফিরলেও আদা-রসুনের দাম আবার বেড়েছে। পেঁয়াজের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি, মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের বাজার এখনো চড়া।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে কোনো কোনো সবজির দাম কমলেও অধিকাংশ পণ্য এখনো অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। ফলে সবজির দামে সামান্য পরিবর্তন এলেও সামগ্রিক নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।

সর্বনিম্ন ৩০, সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা কেজি সবজি

মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি টমেটো ১৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ১২০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা এবং চায়না গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় নতুন আলুর দাম ছিল ১২০ টাকা। লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড পটল ৬০ টাকা, দেশি পটল ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা এবং বরবটি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কচুর লতি ৮০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড শসার দাম ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি।

মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ও লেবুর দাম ৪০ টাকা।

দাম তালিকায় পেঁপে, মূলা ও কয়েকটি সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও টমেটো, গাজর, শিম, বেগুন ও কাঁচা মরিচের মতো পণ্যে ক্রেতাদের বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সবজির দাম বেশি থাকায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর বাজারের খরচ কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উত্তরবঙ্গের সবজি আসায় দাম কমার আশা

বাজারে সবজির দাম কমার কারণ হিসেবে উত্তরবঙ্গ থেকে নতুন করে সরবরাহ বাড়ার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাঁদের আশা, সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে কিছু সবজির দাম আরও কমতে পারে।

সবজি বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, ‘বাজারে উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি আসতে শুরু করেছে। এ কারণে দাম অনেকটাই কমে গেছে।’

দাম আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেই শিম ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। আজকে আছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। এমন সবকিছুর দামই এখন কমবে। আর যেসব সবজির এখন মৌসুম নয়, সেগুলোর দাম তো বেশিই থাকবে।’

বিক্রেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সরবরাহ বাজারে আসায় কিছু সবজির দামে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে মৌসুম, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে সব ধরনের সবজির দাম একই হারে কমবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।

‘সব সবজি ৫০ টাকার মধ্যে এলেই বলা যাবে দাম কমেছে’

সবজির দাম কিছুটা কমলেও তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বাজার করতে আসা ক্রেতারা। তাঁদের মতে, কয়েকটি সবজির দাম কমলেই সামগ্রিক বাজারের চাপ কমে না। প্রতিদিনের রান্নায় প্রয়োজনীয় অধিকাংশ সবজি সাশ্রয়ী দামে পাওয়া গেলেই সাধারণ মানুষ প্রকৃত স্বস্তি পাবেন।

বাজার করতে আসা কাউসার হোসেন বলেন, ‘সবজির দাম সামান্য কমেছে। তবে সব সবজি যখন ৫০ টাকার মধ্যে আসবে, তখন ধনী-গরিব সবার কিনতে সমস্যা হবে না। তখনই বলা যাবে, দাম কমেছে। এর আগে বলা যাচ্ছে না যে দাম কমেছে।’

তাঁর বক্তব্যে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা উঠে এসেছে। বাজারে পণ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো কেনার সামর্থ্য না থাকলে দাম কমার সুফল সবার কাছে পৌঁছায় না। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে একাধিক পণ্যের বাড়তি দাম একসঙ্গে সংসারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করে।

আদা-রসুনের দাম আবার বেড়েছে, বাড়ছে পেঁয়াজও

সবজির দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও আদা ও রসুনের বাজারে উল্টো চিত্র। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পেঁয়াজের দামেও বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার ক্রস জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার উভয় ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

চায়না রসুনের দামও বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি চায়না রসুন ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। চায়না আদার দাম আগে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা থাকলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে দেশি রসুনের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা। লাল ও সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। বগুড়ার আলুর দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

‘হঠাৎ করে দাম বাড়বে কেন?’

আদার দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতা মো. ইউসুফ। তাঁর দাবি, পাইকারি বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত দেখা গেলেও দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘কালকে আদা এনেছি ১৩০ টাকা কেজি আর আজকে আনলাম ১৭০ টাকা কেজি। তাহলে কত টাকা বাড়লো? তাও আবার ভেজা আদা। এটা শুকালেই ওজন আরও কমে যাবে। তাহলে কীভাবে হয়? হঠাৎ করে এরকম বেড়ে যাবে তার কারণটা কী? এমন তো না যে আমদানি কমেছে। পাইকারদের কাছে গিয়ে তো দেখি না যে মাল কম আছে। মাল তো ভরপুর আছে। তাহলে দাম বাড়বে কেন?’

বিক্রেতার এ বক্তব্যে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। তবে আদা-রসুনের দাম বাড়ার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সরবরাহ, আমদানি, পরিবহন ব্যয় এবং পাইকারি বাজারের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।

ডিমের দাম সামান্য কমেছে, মুরগি এখনো চড়া

সবজির পাশাপাশি ডিমের দামেও সামান্য কমতির কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দাম এখনো বেশি। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, কক মুরগি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৬৫০ টাকা।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংসের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ২৫০ টাকা।

ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা।

সহিদ ডিম ঘরের বিক্রেতা সামিউল ইসলাম বলেন, ‘ডিমের দাম আজকে সামান্য কমেছে। আসলে এখন ডিমের দাম কমারই সময়। কিন্তু তারপরও এত দিন ধরে দাম বাড়তি থেকেছে।’

ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি ও অন্যান্য মাংসের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফলে প্রাণিজ আমিষের এসব উৎসের মধ্যে তুলনামূলক কম দামের পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই

মাছের বাজারেও অধিকাংশ পণ্যের দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। বৃহস্পতিবার আকার ও ওজনভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কালিবাউশ মাছের দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি বাতাসি মাছ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, কাজলি মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মেনি মাছের দাম প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

মাছের ধরন ও আকার অনুযায়ী দামে বড় ব্যবধান থাকলেও তালিকায় থাকা অনেক মাছ কিনতে ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে মাছ-মাংসের বাজারে সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজে পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

উচ্চমূল্যে অপরিবর্তিত মুদি পণ্যের বাজার

সবজি, মাছ ও মাংসের পাশাপাশি মুদি পণ্যের দামও ক্রেতাদের চাপে রেখেছে। বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডালের মধ্যে ছোট মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারির ডাল ৮৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং মাষকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেলের বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৫ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কৌটাজাত ও খোলা ঘি প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত ও খোলা চিনি ১১০ টাকা কেজি, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৭০ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও দাম বেশি। প্রতি কেজি এলাচ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং জিরা ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজুবাদামের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা।

সবজি কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি

মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজারের চিত্র বলছে, উত্তরবঙ্গ থেকে সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম কমার আভাস মিলেছে। তবে টমেটো, গাজর, শিম ও কাঁচা মরিচের মতো সবজির দাম এখনো বেশি। এর সঙ্গে আদা-রসুনের মূল্যবৃদ্ধি, মাছ-মাংসের চড়া দাম এবং মুদি পণ্যের উচ্চমূল্য মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রেমিট্যান্সে গতি, রিজার্ভে শক্তি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্সে গতি, রিজার্ভে শক্তি

দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক দায় মেটানোর সক্ষমতা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য আনতে নীতিগতভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আগস্টে দেশে প্রবাস-আয় এসেছে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। জুলাইয়েও রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার। এই প্রবাহের ইতিবাচক প্রভাব শুধু রিজার্ভের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াচ্ছে, আমদানি দায় পরিশোধে সহায়তা করছে এবং বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সংকট তৈরির ঝুঁকি কমাচ্ছে।

  • প্রবাস-আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহে বাড়ছে ডলারের জোগান
  • রেমিট্যান্স প্রায় ৩০০ কোটি ডলার, রিজার্ভ ৩৭.৩৫ বিলিয়ন
  • বাজারের উদ্বৃত্ত বৈদেশিক মুদ্রা কিনে সঞ্চিতি শক্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্সের ডলার যেভাবে শক্তি জোগায় অর্থনীতিকে
প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে প্রাপকের হিসাবে টাকা জমা দেয়। একই সময়ে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদে ডলার যুক্ত হয়। এই ডলার পরে আমদানি বিল পরিশোধ, বিদেশি সরবরাহকারীর পাওনা মেটানো কিংবা অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হয়।

কোনো ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডলার থাকলে তা আন্তঃব্যাংক বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। আবার বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াতে পারে। বিপরীতে আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় পরিশোধের জন্য ডলারের চাহিদা বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ করে। এই ব্যবস্থার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ অর্থনীতির বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকেও সহায়তা করে। অর্থাৎ, রেমিট্যান্সের প্রতিটি ডলার সরাসরি রিজার্ভে জমা না হলেও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

৩৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভে নতুন আস্থা
রিজার্ভের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জুন শেষে তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। জুলাই শেষে কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারে নামলেও আগস্ট শেষে আবার বেড়ে ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

রেমিট্যান্সের প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার সম্মিলিত প্রভাব রিজার্ভের এই অবস্থান তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের প্রয়োজনীয় আমদানি অব্যাহত রাখা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে সময়মতো অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। তবে রিজার্ভের উন্নতি ধরে রাখতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসগুলোকে শক্তিশালী রাখা এবং ব্যয়ের চাপ কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা জরুরি।

আমদানি ব্যয় মিটিয়েও ডলারের জোগান বাড়ছে
দেশে ডলারের চাহিদার বড় অংশ আসে আমদানি ব্যয় থেকে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আমদানি বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪৪ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৩৭ কোটি ডলার, যা এক বছরের ব্যবধানে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, জুলাইয়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪৩৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। আমদানি ব্যয় বাড়লেও রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে সহায়তা দিচ্ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উদ্বৃত্ত ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনে নেয়। সম্প্রতি প্রায় তিন মাসের বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর চারটি ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত ডলারের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহের সময় বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে গেলে বাজারে ডলার বিক্রি করার সক্ষমতাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ছয়টি ব্যাংকের কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা।

ডলার কেনা ও বিক্রির এই পদক্ষেপ দেখায়, বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারছে। এতে বিনিময় হারের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সামলানো এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার সুযোগ বাড়ে।

প্রবাস-আয় এবার উৎপাদনশীল বিনিয়োগে কাজে লাগানোর সুযোগ
অর্থনীতি-বিশ্লেষক মাজেদুল হকের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ বাড়ায় এবং রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। রিজার্ভের উন্নতি আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অর্থায়নে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে আর্থিক সক্ষমতা দৃঢ় হলে বিদেশি অংশীদারদের কাছেও দেশের অবস্থান ইতিবাচক হয়।

তাঁর মতে, প্রবাস-আয়ের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করা গেলে কর্মসংস্থান, আয় ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখা সম্ভব। ক্ষুদ্র উদ্যোগ, শিল্প, কৃষি ও অন্যান্য আয় সৃষ্টিকারী খাতে বিনিয়োগ বাড়লে রেমিট্যান্সের সুফল সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, আর্থিক খাতের আস্থা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন/এমকে