খুঁজুন
                               
, ,
           

শেষ কার্য দিবসে চাঙা পুঁজিবাজার, বাড়ল সূচক ও লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
শেষ কার্য দিবসে চাঙা পুঁজিবাজার, বাড়ল সূচক ও লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ডিএসইতে প্রধান মূল্যসূচক ২২ পয়েন্ট বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ২২ পয়েন্ট ,বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন অন্য দুই সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৬ পয়েন্টে। সূচকগুলোর এই উত্থান দিনের লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

ডিএসইতে লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট মিলিয়ে মোট ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবস বুধবার (১৪ অক্টোবর) লেনদেন হয়েছিল ৪১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার।

সে হিসাবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৮৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ায় দিনের সামগ্রিক চিত্রে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

২৪০ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪০টির দর বেড়েছে, ৯০টির দর কমেছে এবং ৫৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা ইউনিটের দর বেড়েছে। বাজারের এই প্রবণতা দিনের সূচকের উত্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

লেনদেনের শীর্ষে যেসব প্রতিষ্ঠান

দিনের লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল সায়হাম টেক্সটাইল, সোনালী আঁশ, বিএসআরএম স্টিল, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ফার ইস্ট নিটিং, ইভেন্সি টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা, সেনা ইন্স্যুরেন্স ও ওরিয়ন ইনফিউশন। লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান দিনের বাজার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল।

সিএসইতেও সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।বৃহস্পতিবার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৯টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৩৩টির দর কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দিনটিতে সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিটের মোট লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১৪ কোটি ২ লাখ টাকা।

দুই বাজারেই ইতিবাচক প্রবণতা

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসই ও সিএসই—উভয় বাজারেই সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ার পাশাপাশি সিএসইতেও দরবৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল বেশি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সংঘর্ষের জেরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি বিলুপ্ত

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সংঘর্ষের জেরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি বিলুপ্ত

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সংগঠন ও ইমারাত ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। গত ১৪ অক্টোবর মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দলটি। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জরুরি বৈঠকে কমিটি ভাঙার সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও অংশ নেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ের ঘটনার বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষে দলটির গঠনতন্ত্রের ১৬ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে ৬৩ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে মহানগরীর সংগঠন ও ইমারাত ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে চলবে কার্যক্রম

কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ সংগঠনের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। অর্থাৎ, ১৪ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংগঠনটির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি

কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। কমিটির সদস্যরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মহানগর কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর গাংচর ফারুকী হাউসের সামনে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে মহানগর জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারির একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর মহানগর জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের বিষয়।

পদ-পদবি ও সিটি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছিল। মহানগর কমিটির ভবিষ্যৎ পদ-পদবি এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের মধ্যে ১৪ অক্টোবর দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ মহানগরীর সংগঠন ও ইমারাত ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

প্রাচীন গ্রিক পুরাণ থেকে আধুনিক প্রেম, অ্যান কারসনের অনন্য সাহিত্যভুবন

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
প্রাচীন গ্রিক পুরাণ থেকে আধুনিক প্রেম, অ্যান কারসনের অনন্য সাহিত্যভুবন

প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র, আধুনিক মানুষের প্রেম, নিঃসঙ্গতা ও আত্মপরিচয়ের সংকট—এই ভিন্ন জগতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করেছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। ধ্রুপদি সাহিত্যের গভীর পাঠ এবং প্রচলিত সাহিত্যরীতির বাইরে গিয়ে লেখার স্বতন্ত্র ভঙ্গির জন্য পরিচিত এই সাহিত্যিক ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন পুরাণের চরিত্রগুলো কেবল অতীতের গল্পের অংশ হয়ে থাকে না; বরং সমকালীন মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অস্তিত্বের সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়।

কারসনের সাহিত্যজগতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড। গ্রিক পুরাণের লাল ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নের কাহিনিকে আধুনিক প্রেম, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানে রূপ দিয়েছেন তিনি। প্রচলিত পুরাণে যে চরিত্রকে দানব হিসেবে দেখা হয়, কারসনের লেখায় সেই চরিত্রই হয়ে ওঠে গভীর অনুভূতিসম্পন্ন এক মানুষ, যে নিজের ভিন্নতা নিয়ে সমাজের সঙ্গে লড়াই করে এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নিজেকে বুঝতে চায়।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে আধুনিক মানুষের মনোজগৎ

অ্যান কারসনের সাহিত্যচর্চার কেন্দ্রে রয়েছে প্রাচীন গ্রিক ভাষা, পুরাণ, কবিতা ও নাটক। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন তিনি। প্রাচীন সাহিত্য অনুবাদের পাশাপাশি নিজের কবিতা, প্রবন্ধ ও নিরীক্ষাধর্মী গদ্যে অতীতের উপাদানকে নতুন অর্থে ব্যবহার করেছেন।

কৈশোরে গ্রিক কবি সাফোর কবিতার সঙ্গে পরিচয় তাঁর সাহিত্যজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে একটি বইয়ের দোকানে সাফোর কবিতার গ্রিক-ইংরেজি সংস্করণ খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। গ্রিক ভাষার প্রতি আকর্ষণ এবং কবিতার খণ্ডিত অংশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি তাঁকে ভাষাটি গভীরভাবে শেখার অনুপ্রেরণা দেয়।

পরবর্তী সময়ে সাফোর টিকে থাকা কবিতার খণ্ডাংশ অনুবাদ করে ২০০০ সালে প্রকাশ করেন ইফ নট, উইন্টার: ফ্র্যাগমেন্টস অব সাফো। বইটিতে প্রাচীন কবিতার অসম্পূর্ণ অংশগুলোর মধ্য দিয়ে প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক অনুভূতির যে জগৎ ফুটে ওঠে, তা কারসনের অনুবাদদৃষ্টির পরিচয় বহন করে।

গ্রিক নাট্যকার ইউরিপিদিস, সফোক্লিস ও এসকাইলাসের রচনাও তাঁর সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ। এসব নাটক অনুবাদের পাশাপাশি তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে নতুন কাঠামো ও ভাষাভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন। ফলে তাঁর কাজ কেবল অনুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং প্রাচীন সাহিত্যকে সমকালীন পাঠকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার একটি সৃজনশীল প্রয়াসে পরিণত হয়েছে।

‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’: এক দানবের ভেতরে মানুষের গল্প

কারসনের বহুল আলোচিত বই অটোবায়োগ্রাফি অব রেড একটি কাব্যোপন্যাস। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরিয়ন গ্রিক পুরাণের সেই লাল ডানাওয়ালা দানব, যাকে বীর হারকিউলিস হত্যা করে। প্রাচীন কাহিনিতে গেরিয়ন মূলত হারকিউলিসের অভিযানের একটি প্রতিপক্ষ। কিন্তু কারসন চরিত্রটির দিকে তাকিয়েছেন ভিন্ন দৃষ্টিতে।

তিনি যেন প্রশ্ন তুলেছেন—যাকে পৃথিবী দানব বলে চিহ্নিত করে, তার নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার গল্পটি কেমন?

এই প্রশ্ন থেকেই গেরিয়ন কারসনের উপন্যাসে নতুন জীবন পায়। সে হয়ে ওঠে এমন এক কিশোর, যে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা মনে করে। তার পিঠে রয়েছে লাল ডানা, যা সে পোশাকের নিচে লুকিয়ে রাখে। ডানাগুলো কেবল পুরাণের অলৌকিক উপাদান নয়; এগুলো তার স্বাতন্ত্র্য, আত্মপরিচয় এবং সমাজের কাছে নিজের প্রকৃত সত্তা প্রকাশ করতে না পারার প্রতীক।

গেরিয়নের পরিবারেও রয়েছে নিঃসঙ্গতা ও ভয়ের অভিজ্ঞতা। বড় ভাইয়ের নির্যাতন এবং নিজের ভিন্নতা আড়াল করে রাখার চাপ তাকে ক্রমে অন্তর্মুখী করে তোলে। চারপাশের মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে না পারার অভিজ্ঞতা তার মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বাড়ায়।

নিজের ভেতরের জগৎকে বোঝার জন্য গেরিয়ন ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ক্যামেরার মাধ্যমে সে চারপাশের পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখতে এবং অভিজ্ঞতাগুলো ধরে রাখতে চায়। অন্যদের চোখে যা সাধারণ দৃশ্য, তার কাছে তা হয়ে ওঠে অনুভূতি ও অর্থের নতুন ক্ষেত্র।

হারকিউলিসের প্রেম ও প্রত্যাখ্যানের ক্ষত

গেরিয়নের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে হারকিউলিসের সঙ্গে পরিচয়ের পর। কৈশোরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গেরিয়ন নিজের আকাঙ্ক্ষা ও পরিচয়কে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। কিন্তু সম্পর্কটি স্থায়ী হয় না। হারকিউলিস অন্য একজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেরিয়নকে ছেড়ে চলে যায়।

এই প্রত্যাখ্যান গেরিয়নের কাছে কেবল প্রেম হারানোর অভিজ্ঞতা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নিজের অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রশ্ন। সে যেন নিজের ভিন্নতাকে ভালোবাসার অযোগ্য হওয়ার কারণ হিসেবে দেখতে শুরু করে।

কারসনের উপন্যাসে লাল ডানার প্রতীকটি এখানেই বিশেষ তাৎপর্য পায়। গেরিয়নের ডানা যেমন তার স্বাতন্ত্র্যকে প্রকাশ করে, তেমনি তা আড়াল করার চেষ্টা তার নিজের পরিচয়কে গোপন রাখার মানসিক চাপেরও প্রতিফলন। ডানাকে লুকিয়ে রাখা মানে নিজের এমন একটি অংশকে আড়াল করা, যেটিকে সে একদিকে ভালোবাসে, অন্যদিকে সামাজিক প্রত্যাখ্যানের ভয়ে প্রকাশ করতে সাহস পায় না।

এইভাবে প্রাচীন পুরাণের একটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে কারসন আধুনিক মানুষের প্রেম, যৌনপরিচয়, আত্মসম্মান ও বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। গেরিয়নের গল্পে ব্যক্তিগত কষ্টের পাশাপাশি রয়েছে সেই সামাজিক বাস্তবতার ইঙ্গিত, যেখানে প্রচলিত ধারণার বাইরে থাকা মানুষকে প্রায়ই নিজের পরিচয় আড়াল করে চলতে হয়।

লাল ডানা কি শেষ পর্যন্ত মুক্তির প্রতীক?

গেরিয়নের জীবনে হারকিউলিসের প্রত্যাখ্যান দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করলেও তার গল্প শেষ পর্যন্ত কেবল বেদনার মধ্যে আটকে থাকে না। সময়ের ব্যবধানে পুরোনো সম্পর্কের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি সে নিজের পরিচয় ও আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে বোঝার সুযোগ পায়।

কাহিনির শেষভাগে গেরিয়নের জীবনে গ্রহণযোগ্যতার একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা আসে। হারকিউলিসের নতুন সঙ্গী আনকাশ তার লাল ডানা দেখে তাকে প্রত্যাখ্যান না করে গ্রহণ করে। এই অভিজ্ঞতা গেরিয়নের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ এত দিন যে বৈশিষ্ট্যকে সে লজ্জা ও ভয়ের সঙ্গে লুকিয়ে রেখেছিল, অন্য একজনের কাছে সেটিই ঘৃণার কারণ হয় না।

উপন্যাসের শেষ দিকে আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে গেরিয়নের ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার চিত্রটি আত্মমুক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। আগুন, ডানা ও উড্ডয়নের এই চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে সে যেন নিজের পরিচয়কে আর অপরাধ হিসেবে দেখতে চায় না। অন্যের স্বীকৃতির জন্য নিজের অস্তিত্ব অস্বীকার করার পরিবর্তে সে নিজের স্বাতন্ত্র্যকে গ্রহণ করতে শেখে।

এই মুক্তি অবশ্য কেবল একটি প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বিষয় নয়। এটি নিজের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ভয়, লজ্জা ও অপরাধবোধের সঙ্গে বোঝাপড়ারও গল্প। কারসনের সাহিত্যিক কৃতিত্ব হলো, তিনি পুরাণের পরিচিত চরিত্রকে ব্যবহার করে এমন একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যা সমকালীন পাঠকের কাছেও প্রাসঙ্গিক।

ভাষা ও আঙ্গিকে স্বতন্ত্র অ্যান কারসন

অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের বিশেষত্ব শুধু বিষয়বস্তুতে নয়, লেখার আঙ্গিকেও। কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, নাট্যরূপ ও দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনার মধ্যে তিনি প্রায়ই প্রচলিত সীমারেখা অতিক্রম করেন। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য যেমন উপস্থিত থাকে, তেমনি থাকে আধুনিক মানুষের ব্যক্তিগত সংকট ও অনুভূতির জটিলতা।

তাঁর রচনায় পাঠককে সব প্রশ্নের সহজ উত্তর দেওয়া হয় না। বরং খণ্ডিত স্মৃতি, সংক্ষিপ্ত বাক্য, পৌরাণিক অনুষঙ্গ এবং ভিন্ন ভিন্ন সাহিত্যরীতির সংমিশ্রণে তৈরি হয় বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা। ফলে তাঁর লেখা একই সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান ও আবেগের জগৎ হয়ে ওঠে।

সাফোর কবিতা অনুবাদ থেকে শুরু করে গ্রিক ট্র্যাজেডির পুনর্নির্মাণ কিংবা অটোবায়োগ্রাফি অব রেড—সব ক্ষেত্রেই কারসন প্রাচীন সাহিত্যকে কেবল ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দেখেননি। বরং সেসব রচনার মধ্যে এমন অনুভূতি ও প্রশ্ন খুঁজেছেন, যা সময়ের পরিবর্তনেও মানুষের জীবনে ফিরে আসে।

ব্যক্তিগত জীবন, অসুস্থতা ও সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতা

কানাডায় জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন শিক্ষকতা, গবেষণা, অনুবাদ ও লেখালেখিতে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও বার্ড কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন তিনি। তাঁর সাহিত্যজীবন প্রমাণ করে, প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গভীর গবেষণাও আধুনিক সৃজনশীলতার নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

জীবনের পরবর্তী সময়ে পারকিনসনস রোগের সঙ্গে তাঁর লড়াইয়ের কথাও সামনে এসেছে। এই স্নায়বিক রোগ চলাফেরা ও হাতের সূক্ষ্ম কাজকে কঠিন করে তুলতে পারে। তবু তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের পাঠ, অনুসন্ধান এবং প্রচলিত রীতিকে নতুনভাবে দেখার প্রবণতা।

২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার তাঁর সাহিত্যকর্মের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুরস্কারটির অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের একাংশ চিকিৎসাসেবামূলক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসকে দেওয়ার এবং বাকি অর্থের একটি অংশ দিয়ে এক বন্ধুকে বাড়ি কিনতে সহায়তা করার কথা ভেবেছেন তিনি।

পুরাণের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের গল্প

অ্যান কারসনের সাহিত্যভুবনে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্রগুলো নতুন অর্থে ফিরে আসে। গেরিয়নের লাল ডানা হয়ে ওঠে ভিন্নতার প্রতীক; হারকিউলিসের প্রত্যাখ্যান প্রকাশ করে প্রেম ও আত্মসম্মানের জটিলতা; আর শেষের উড্ডয়ন ইঙ্গিত দেয় নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করার সম্ভাবনার দিকে।

এই কারণেই অটোবায়োগ্রাফি অব রেড কেবল পুরাণের আধুনিক পুনর্কথন নয়। এটি এমন এক সাহিত্যিক অনুসন্ধান, যেখানে প্রশ্ন করা হয়—মানুষকে কে বা কারা দানব হিসেবে চিহ্নিত করে, ভালোবাসার জন্য কেন কাউকে নিজের পরিচয় লুকাতে হয়, আর অন্যের স্বীকৃতি ছাড়াও কি নিজের অস্তিত্বকে গ্রহণ করা সম্ভব?

অ্যান কারসনের সাহিত্য সেই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর দেয় না। বরং পাঠককে নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ফিরে তাকাতে আহ্বান জানায়। প্রাচীন গ্রিসের একটি দানবের লাল ডানার মধ্য দিয়ে তিনি তাই আধুনিক মানুষের হৃদয়ের গল্প বলেন—যেখানে প্রেম আছে, প্রত্যাখ্যান আছে, নিঃসঙ্গতা আছে, আবার নিজের মতো করে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

মাতৃত্বের বিরতি শেষে এবার বাংলাদেশের নেতৃত্বে নিশি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
মাতৃত্বের বিরতি শেষে এবার বাংলাদেশের নেতৃত্বে নিশি

মাতৃত্বের কারণে একসময় আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল ইসমেতারা নিশির। ছয় বছর পর সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই ফিরছেন তিনি। তবে এবার প্রত্যাবর্তনটা কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক হিসেবে। পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ আনসারের এই খেলোয়াড়ের সামনে এবার ঘরের মাঠে দলকে ফাইনালে তোলার বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি। চার দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে নিশির কাঁধে।

২০১৯ সালে সুযোগ এসেও খেলা হয়নি

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছিল নিশির সামনে। কিন্তু তখন তাঁর সন্তান ছোট থাকায় জাতীয় দলে জায়গা হয়নি। মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ছয় বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান। এবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। ফলে এবারের টুর্নামেন্ট নিশির কাছে শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার উপলক্ষ নয়, নিজের সামর্থ্য প্রমাণেরও সুযোগ। তবে ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অধিনায়ক। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে ভালো খেলা উপহার দিয়ে বাংলাদেশকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

তিন মাসের নিবিড় অনুশীলনে নতুন কৌশল

আসন্ন টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রস্তুতিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ দল। এবারই প্রথম বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার অধীনে টানা তিন মাসের নিবিড় অনুশীলনে আধুনিক হ্যান্ডবলের বিভিন্ন কৌশল শেখার সুযোগ হয়েছে তাঁদের। নিশির মতে, এই প্রশিক্ষণ দলের জন্য বড় প্রাপ্তি। দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় অনুশীলন করায় খেলোয়াড়েরা নিজেদের খেলার ধরন ও কৌশল আরও উন্নত করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ তিন মাস আমরা নিবিড় অনুশীলন করেছি। এবারই প্রথম কোনো বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি, এর আগে এমন সুযোগ কখনো হয়নি। কোচের কাছ থেকে আমরা আধুনিক অনেক কৌশল শিখেছি। কোর্টে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলে দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে চান খেলোয়াড়েরা। এখন অনুশীলনে শেখা কৌশল প্রতিযোগিতার ম্যাচে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটিই হবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফাইনালের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ভারত

অধিনায়ক হিসেবে নিশির লক্ষ্য পরিষ্কার—ফাইনালে খেলা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে ভারতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। একই সঙ্গে নেপাল ও মালদ্বীপকেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে চান না তিনি। নিশির মূল্যায়নে, নেপালের রক্ষণভাগ বেশ শক্তিশালী। অন্যদিকে মালদ্বীপের খেলাতেও আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। তাই প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরতে হবে বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকলেও নিজেদের দল নিয়ে আশাবাদী নিশি। তাঁর মতে, বর্তমান স্কোয়াডের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের অনেকে ২০১৯ সালের দলেও ছিলেন। অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রস্তুতির সমন্বয়ে দলটি ভালো ফল করতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। নিশি বলেন, “দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৯ সালের দলেও অনেকেই খেলেছে। তবে তখন আমার সন্তান ছোট থাকায় আমি দলে থাকতে পারিনি। বর্তমানে দল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারলে আশা করি ভারতের সঙ্গে আমরাই ফাইনাল খেলব।”

নারী হ্যান্ডবলে ভালো খেলোয়াড় তৈরির ভাবনা

নিশির ভাবনা শুধু আসন্ন প্রতিযোগিতার সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলে ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন, সে বিষয়েও নিজের মত তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলের অনেক খেলোয়াড় জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসেন। স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই তাঁদের হ্যান্ডবলের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত কৌশল শেখার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের বিকাশ আরও দ্রুত হতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিশি। তাঁর বিশ্বাস, খেলোয়াড়দের ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সবাই মূলত জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসি, স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই আমাদের প্রাথমিক শেখা। শুরু থেকেই যদি দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পে এমন বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা যায়, তবে মেয়েরা গোড়াতেই আধুনিক হ্যান্ডবলের সঠিক পাঠ পাবে। শুরুটাই যদি সেরা মানের হয়, তবে মেয়েরা আরও দ্রুত উন্নতি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।”

ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন থেকে দলীয় সাফল্যের স্বপ্ন

মাতৃত্বের কারণে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসময় খেলা হয়নি, সেখানেই এবার অধিনায়ক হিসেবে ফিরছেন নিশি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ব্যক্তিগত জীবনের একটি নতুন অধ্যায় হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলের প্রত্যাশা। ১৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে বাংলাদেশের সামনে থাকবে ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপের চ্যালেঞ্জ। তিন মাসের নিবিড় প্রস্তুতি, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং অধিনায়ক নিশির নেতৃত্ব কাজে লাগিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে দল।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি