খুঁজুন
                               
, ,
           

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতালিয়ান বিপর্যয়, ৮ ম্যাচে জয় মাত্র একটিতে

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতালিয়ান বিপর্যয়, ৮ ম্যাচে জয় মাত্র একটিতে

ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চলতি মৌসুমের শুরুতেই কঠিন সময় পার করছে ইতালির ক্লাবগুলো। লিগ পর্বের প্রথম দুই রাউন্ডে অংশ নেওয়া সিরি আ’র চার দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। আটটি ম্যাচ খেলে জয় এসেছে মাত্র একটিতে। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে ড্র ও পরাজয়ের ফলে ইউরোপীয় মঞ্চে ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রথম দুই রাউন্ডে চার দলের মধ্যে একমাত্র জয়টি পেয়েছে কোমো। নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচেই জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে ৪–১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল তারা। কিন্তু এরপরের ম্যাচগুলোতে ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

টানা চার ম্যাচে হার ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর

দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ দুই দিনের ম্যাচগুলোতে ইতালির চার ক্লাবই পরাজিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৪–৩ গোলে হেরেছে রোমা। অন্যদিকে ফেইনুর্দের বিপক্ষে ৩–২ গোলের পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে কোমোকে।

পরের ম্যাচগুলোতেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইতালিয়ান দলগুলো। ভিয়ারিয়ালের কাছে ৩–১ গোলে হেরেছে নাপোলি। আর ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে ৪–৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে ইন্টার মিলান।

চার ম্যাচেই গোলের দেখা পেলেও রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে দলগুলো। বিশেষ করে রোমা ও ইন্টারের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ফল নিজেদের পক্ষে রাখতে না পারা ইতালিয়ান ফুটবলের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনাকে আরও বাড়িয়েছে।

প্রথম রাউন্ডেও হতাশা, একমাত্র স্বস্তি কোমোর

দ্বিতীয় রাউন্ডের আগেই ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর পারফরম্যান্সে মিশ্র চিত্র ছিল। কোমো লাইপজিগকে ৪–১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করলেও রোমা ড্র করেছিল ফেনারবাচের বিপক্ষে। ইন্টার মিলান হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদের কাছে এবং নাপোলি পরাজিত হয়েছিল আর্সেনালের কাছে।

প্রথম রাউন্ডের একমাত্র জয়টিই এখন পর্যন্ত ইতালির ক্লাবগুলোর জন্য বড় স্বস্তি। দ্বিতীয় রাউন্ডে চার দলের পরাজয় সেই আশাবাদে ধাক্কা দিয়েছে।

তবে প্রতিযোগিতার শুরুতেই দুই রাউন্ডের ফলাফল দিয়ে পুরো মৌসুমের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। সামনে আরও ম্যাচ রয়েছে, যেখানে দলগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। কিন্তু শুরুতেই পয়েন্ট হারানোর কারণে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের ওপর চাপ বাড়বে।

ম্যাচের শেষ ভাগে কেন পিছিয়ে পড়ছে দলগুলো?

ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ম্যাচের শেষ ভাগে মনোযোগ ও রক্ষণাত্মক সংগঠন ধরে রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। রোমার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের জয়, ব্রুগের কাছে ইন্টারের পরাজয় এবং নাপোলির হার—সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রশ্ন উঠেছে।

আধুনিক ইউরোপীয় ফুটবলে উচ্চগতির খেলা, দ্রুত বল দখল এবং পুরো ম্যাচজুড়ে চাপ বজায় রাখার কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় ব্যবধান তৈরি করতে পারে। তবে ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর পরাজয়ের নির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রতিটি ম্যাচের কৌশল, খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, বদলি এবং রক্ষণাত্মক ভুল আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

সিরি আ’র ফুটবলের গতি ও খেলার সময় নিয়ে উন্নতির আলোচনা থাকলেও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তার প্রতিফলন কতটা ঘটছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ইতালিয়ান ক্লাবগুলো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দীর্ঘ লিগ পর্বে প্রাথমিক ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ থাকে। তবে পরপর ম্যাচে পয়েন্ট হারালে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সে কারণে রোমা, ইন্টার মিলান, নাপোলি ও কোমোর সামনে এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

বিশেষ করে ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশা বেশি। ইউরোপীয় মঞ্চে অতীতে সাফল্য পাওয়া দলগুলোর কাছ থেকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল দেখতে চান সমর্থকেরা।

প্রথম দুই রাউন্ড শেষে আট ম্যাচে মাত্র এক জয় ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর জন্য সতর্কবার্তা। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা এই হতাশাজনক সূচনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না।

কালের আলো/জেএন/এসএ

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে পাঠদান। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে। ফলে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাইয়ের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রড দৃশ্যমান হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে। পুরো শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপদে বসে পড়াশোনা করার মতো পরিবেশ নেই। দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি, আমাদের বাচ্চারাও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে পাঠদান করছি। ভবন সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা হবে।’

গত ২০ জুন পাশের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে প্রকাশ দাস নামে এক দপ্তরি কাম প্রহরী আহত হওয়ার ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল হাই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সংসদ সদস্যের নজরে আনার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

মাধবপুরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ সংস্কার করতে হবে। সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকায় কমলেও সারা দেশে বেড়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ঢাকায় কমলেও সারা দেশে বেড়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন

এবার রাজধানী ঢাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা কমলেও সারা দেশে বেড়েছে পূজামণ্ডপ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার সারা দেশে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ১ হাজার ৫০০টি।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি। সে হিসাবে রাজধানীতে এবার তিনটি পূজামণ্ডপ কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, এবারের দুর্গাপূজার কয়েকটি বিশেষত্ব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পূজার ছুটি কমপক্ষে তিন দিন করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এ ছাড়া এবার পূজা ছয় দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছর পূজা পাঁচ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হলেও এবার মহাসপ্তমী দুই দিন হওয়ায় উৎসবের সময় বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ও সরকারি বরাদ্দ বেড়েছে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সরকারি দল ও বিরোধী দল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সন্তোষ শর্মা বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা দেখছেন না। সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে দেশের বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি রামু, নাসিরনগর, ২০২১ সালের কুমিল্লার ঘটনা ও সুনামগঞ্জের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পালিত হবে। দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে আগমন করবেন এবং নৌকায় গমন করবেন। বিজয়া দশমীতে বিকেল ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন এবং সারা দেশে বিজয়ার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

১,৮০০ পূজামণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা, প্রস্তুতিতে সমন্বয় ও পেশাদারত্বে জোর মহাপরিচালকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
১,৮০০ পূজামণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা, প্রস্তুতিতে সমন্বয় ও পেশাদারত্বে জোর মহাপরিচালকের

শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মাঠে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দূরবর্তী মণ্ডপগুলোর জন্য ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা, সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু এবং প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’—সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নিয়েছে সীমান্তরক্ষী এ বাহিনী।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ে মণ্ডপ পরিদর্শন, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন এবং উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

  • রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে মহাপরিচালক
  • সীমান্তে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা
  • সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপে’ নিরাপত্তা সমন্বয়ে জোর

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বাহিনীর এসব প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় নিশ্চিত করতেই তাঁর এ পরিদর্শন।

সীমান্তের ১,৮০০ মণ্ডপে নিরাপত্তা, দূরবর্তী এলাকায় ১৮টি বেস ক্যাম্পের পরিকল্পনা
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবির প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে মণ্ডপ পরিদর্শন করেছে এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছে।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনায় দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিজিবি পালন করছে। ইতোমধ্যে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা সরেজমিনে পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছেন। সীমান্তের যেসব পূজামণ্ডপ বিজিবির বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত, সেসব স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবির সদর দপ্তর, রিজিয়ন, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ বক্তব্যে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবির পরিকল্পিত ও এলাকাভিত্তিক প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বিওপি থেকে দূরে অবস্থিত মণ্ডপগুলোর জন্য বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে সংগঠিত করার উদ্যোগ। একই সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে আগাম যোগাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমন্বয় জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’: প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা
বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা তদারকি ও দ্রুত সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিজিবি সদর দপ্তরে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।’

সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম এবং অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয় নিরাপত্তা কার্যক্রমে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগকেও দুর্গাপূজার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্ত:বাহিনী সমন্বয়ে গুরুত্ব
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির প্রস্তুতি শুধু মণ্ডপকেন্দ্রিক উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিজিবির সদস্যরা পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে সারা দেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হতে পারে।’

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের তাৎপর্য হলো, নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আগাম প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং জরুরি সাড়াদানের সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

রমনা কালীমন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময়, সম্প্রীতির বার্তা
নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান বিজিবি মহাপরিচালক। এ সময় তিনি রমনা কালীমন্দির সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ধর্মীয় উৎসবের সময় সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা, পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবি মহাপরিচালকের এ পরিদর্শনে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিজিবির ঘোষিত প্রস্তুতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সীমান্তবর্তী মণ্ডপের নিরাপত্তা, দূরবর্তী এলাকায় বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা, সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়—এই কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ও কার্যকর সমন্বয় দুর্গোৎসবের সময় নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে বিজিবির এ প্রস্তুতি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাহিনীটির ভূমিকার প্রতিফলন। মাঠপর্যায়ের তৎপরতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ও স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

বিজিবি মহাপরিচালকের পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম, ঢাকা সেক্টর কমান্ডার, কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদসহ বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/টিইকে/এমকে