চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ ভিনিসিয়ুস
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আবারও স্প্যানিশ ফুটবলের রেফারিদের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। নিজের ওপর আরোপিত চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি মাঠে বারবার ফাউলের শিকার হয়েও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের যথাযথ শাস্তি না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, মাঠে আক্রমণাত্মক ও সৃজনশীল ফুটবল খেলা খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে রেফারিদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানার সময় নিয়েও ক্ষুব্ধ ভিনিসিয়ুস। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে রোমার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পরই তিনি শাস্তির বিষয়টি জানতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামে পৌঁছে নিষেধাজ্ঞার খবর
ভিনিসিয়ুসের অভিযোগ, চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল। অথচ ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। সিদ্ধান্ত জানানোর সময় নিয়ে তাঁর অসন্তোষের পাশাপাশি নতুন নিয়ম সম্পর্কে খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
মার্কার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বক্তব্যে ভিনিসিয়ুস বলেন, শাস্তি ঘোষণার সময়টি তাঁর কাছে মোটেও উপযুক্ত মনে হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লা লিগায় নতুন নিয়ম বা পরিবর্তন কার্যকর হলে সাধারণত কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু এবার সংশ্লিষ্ট নিয়মটি সম্পর্কে তাঁদের পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়নি।
নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ও তা জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং এবং শৃঙ্খলাবিধি প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
‘আমি ফাউলের শিকার হই, কার্ড দেখি আমিই’
শুধু নিষেধাজ্ঞার সময় নয়, মাঠে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভিনিসিয়ুস। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নিয়মিত ফাউলের শিকার হলেও অনেক সময় উল্টো তাঁকেই কার্ড দেখানো হয়।
ব্রাজিলিয়ান তারকার অভিযোগ, তিনি কখনো অন্য খেলোয়াড়ের ওপর সহিংস আচরণ করেননি। অথচ মাঠে তাঁর প্রতি রেফারিদের আচরণ অনেক সময় কঠোর বলে মনে হয়।
ভিনিসিয়ুসের মতে, প্রতিপক্ষের সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো শোনা ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করার চেষ্টা করেন বলেই সমর্থকেরা তাঁকে অপছন্দ করতে পারেন—এটি তিনি মেনে নেন। কিন্তু মাঠের দায়িত্বে থাকা রেফারিদের সিদ্ধান্তে কেন একই ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা যায়, তা বুঝতে পারেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘৫০০ বার ফাউল, লালকার্ড মাত্র পাঁচটি’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে একটি পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেছেন ভিনিসিয়ুস। তাঁর দাবি, একটি পরিসংখ্যানে দেখেছেন, তাঁকে প্রায় ৫০০ বার ফাউল করা হয়েছে। এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে মাত্র পাঁচটি লালকার্ড দেখানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হলুদ কার্ডের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
এই পরিসংখ্যানের উৎস, সময়সীমা কিংবা গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই সংখ্যাগুলোকে ভিনিসিয়ুসের উল্লেখ করা তথ্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। তবে তাঁর বক্তব্যের মূল অভিযোগ স্পষ্ট—বারবার ফাউলের শিকার হওয়ার পরও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।
ভিনিসিয়ুসের মতো দ্রুতগতির ও ড্রিবলিংয়ে দক্ষ ফরোয়ার্ডদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা প্রায়ই শারীরিক চ্যালেঞ্জ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ফাউল শনাক্ত করা, কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে রেফারিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ইয়ামাল ও আলভারেজের সুরক্ষার দাবিও ভিনিসিয়ুসের
নিজের অভিযোগের মধ্যেই অন্য দুই তারকার কথাও উল্লেখ করেছেন ভিনিসিয়ুস। বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজের মতো খেলোয়াড়দেরও সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ভিনিসিয়ুসের বক্তব্য অনুযায়ী, মাঠে যারা ভিন্নধর্মী দক্ষতা দিয়ে খেলায় প্রভাব রাখেন, তাঁদের প্রতিপক্ষের অতিরিক্ত শারীরিক বাধার মুখে পড়তে হয়। এ ধরনের খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে তাঁরা আরও স্বাধীনভাবে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবেন।
তাঁর এই মন্তব্যে শুধু ব্যক্তিগত অসন্তোষ নয়, বরং মাঠে সৃজনশীল ও আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও উঠে এসেছে।
রেফারিং নিয়ে পুরোনো বিতর্কে নতুন মাত্রা
স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফাউল, হলুদ কার্ড, লালকার্ড কিংবা ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসের মতো আলোচিত তারকার ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের আলোচনায় উঠে আসে।
তবে মাঠে কোনো ফাউল বা কার্ডের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার ভিডিও, ফুটবলের নিয়ম এবং রেফারির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। খেলোয়াড়ের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই এককভাবে সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে না।
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অসন্তোষ এবং রেফারিদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ তুলে ভিনিসিয়ুস এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর দাবি, শুধু তাঁকে নয়, ইয়ামাল ও আলভারেজের মতো খেলোয়াড়দেরও মাঠে যথাযথ সুরক্ষা দিতে হবে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না।
কালের আলো/জেএন/এসএ



আপনার মতামত লিখুন
Array