খুঁজুন
                               
, ,
           

পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ে বাবর-রিজওয়ানের বিকল্প মাজ সাদাকাত?

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ে বাবর-রিজওয়ানের বিকল্প মাজ সাদাকাত?

পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য থাকলেও পাওয়ার প্লেতে ধীরগতির শুরু, অতিরিক্ত সতর্কতা এবং রান তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার কারণে বারবার চাপে পড়েছে দলটি। আধুনিক টি-টুয়েন্টিতে যেখানে শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেখানে পাকিস্তানের ব্যাটিং কৌশল নিয়ে প্রশ্নও বেড়েছে।

এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে একসময় বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের নিয়েও নতুন করে ভাবতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এবার সেই জায়গায় সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছেন তরুণ ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে নতুন মাত্রা যোগ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন আলোচনায় মাজ সাদাকাত?

টি-টুয়েন্টিতে অন্তত এক হাজার রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাত্র ২২ জনের ব্যাটিং গড় ৩০-এর বেশি এবং স্ট্রাইক রেট ১৫০-এর ওপরে। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তালিকায় পাকিস্তানের একমাত্র ব্যাটসম্যান সাদাকাত।

এই পরিসংখ্যান তাঁর ব্যাটিংয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—একদিকে নিয়মিত রান করার সামর্থ্য, অন্যদিকে দ্রুত রান তোলার দক্ষতা। আধুনিক টি-টুয়েন্টিতে সফল ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে এই দুই গুণই প্রত্যাশা করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাদাকাতের অভিজ্ঞতা এখনো সীমিত। ফলে তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতায় রূপ দেওয়াই হবে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।

গত মাসে এশিয়ান গেমসে টি-টুয়েন্টি অভিষেকের পর পাকিস্তানের হয়ে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অল্প সময়েই ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন এই তরুণ। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তাঁর পারফরম্যান্স নির্বাচক ও সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

৮ ইনিংসে ৪৫১ রান, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯৫

গত এক মাসে সাদাকাতের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। আট ইনিংসে করেছেন ৪৫১ রান, যেখানে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৯৪.৩৯। অর্থাৎ শুধু উইকেটে টিকে থাকার জন্য নয়, দ্রুত রান তুলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্যও দেখিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) জ্যামাইকা কিংসম্যানের হয়ে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন সাদাকাত। বিশেষত্ব হলো, তাঁর দুই শতরানের ইনিংসই এসেছে টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ও ফাইনালে। চাপের ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামর্থ্যকে আরও সামনে এনেছে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টুয়েন্টি সিরিজেও ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। প্রথম দুই ম্যাচে করেছেন দুটি ফিফটি। এর মধ্যে একটি ইনিংস ছিল ৯৬ রানের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সীমিত সুযোগ পেয়েও এমন পারফরম্যান্স দেখানো পাকিস্তানের টপ অর্ডারের জন্য আশাব্যঞ্জক।

তিন নম্বরে খেলেই বদলে দিতে পারেন ব্যাটিংয়ের চিত্র

সাদাকাত মূলত ওপেনার হলেও সর্বশেষ সিরিজে তাঁকে খেলানো হয়েছে তিন নম্বরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে ছিলেন সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। দলের বর্তমান বিন্যাসে তাই তিন নম্বর পজিশনেই সাদাকাতের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের ওপেনিং জুটির সমস্যা শুধু রান না পাওয়ার নয়, বরং ইনিংসের শুরুতে রান তোলার গতি কমে যাওয়া। অন্তত ৪৫০ রান করা জুটিগুলোর মধ্যে ফখর জামান ও সাহিবজাদা ফারহানের চেয়ে দ্রুত রান তোলা পাকিস্তানের আর কোনো ওপেনিং জুটি নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুজনেরই শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে ব্যাটিং করার প্রবণতা রয়েছে। প্রথম সাত-আট বল দেখে খেলার পর আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। এতে পাওয়ার প্লের প্রথমার্ধে রান তোলার গতি কমে যেতে পারে।

এই জায়গাতেই সাদাকাতের উপস্থিতি কার্যকর হতে পারে। ওপেনাররা ধীরগতিতে শুরু করলেও তিন নম্বরে নেমে দ্রুত রান তুলে স্কোরবোর্ড সচল রাখতে পারবেন তিনি। আবার দুই ওপেনার ভালো সূচনা এনে দিলে সেই গতিকে আরও বাড়িয়ে বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ার সুযোগও থাকবে।

অর্থাৎ সাদাকাতের ভূমিকা শুধু ব্যক্তিগত রান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পুরো টপ অর্ডারের কৌশল বদলে দিতে পারে। পাওয়ার প্লের পরপরই রান তোলার গতি ধরে রাখতে পারলে পাকিস্তান মাঝের ওভারগুলোতে আরও ভালো অবস্থানে থাকতে পারে।

পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়েই কার্যকর

টি-টুয়েন্টিতে তিন নম্বরে ব্যাটিং করা সহজ নয়। কখনো দ্রুত রান তুলতে হয়, কখনো উইকেট পড়ে গেলে ইনিংস সামলাতে হয়। পাশাপাশি পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই কার্যকর হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। সাদাকাতের পরিসংখ্যান তাঁকে এই পজিশনের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।

সব ধরনের টি-টুয়েন্টিতে পেস বোলারদের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং গড় ৩৭.২১ এবং প্রতি ওভারে রান তোলার হার ১০.৩৯। স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাটিং গড় ৩৭.৫৮ এবং প্রতি ওভারে রান তোলার হার ৯.৪৪। অর্থাৎ পেস কিংবা স্পিন—কোনো একটি নির্দিষ্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁর কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ নয়।

এই ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ যদি পেস দিয়ে আক্রমণ করে, সাদাকাত দ্রুত রান তুলতে পারেন; আবার স্পিনারদের বিপক্ষেও রান করার সামর্থ্য থাকায় মাঝের ওভারগুলোতে তাঁকে আটকে রাখা সহজ হবে না। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারছেন কি না, সেটিই হবে তাঁর সামর্থ্য যাচাইয়ের বড় মাপকাঠি।

মাঠের চারপাশে শট খেলার দক্ষতা

সাদাকাতের ব্যাটিংয়ের আরেকটি বড় শক্তি হলো মাঠের বিভিন্ন দিকে শট খেলার ক্ষমতা। শুধু সোজা ব্যাটে কিংবা মিড উইকেটের ওপর দিয়ে বড় শট খেলার ওপর নির্ভর করেন না তিনি। অফ সাইডেও তাঁর শটের বৈচিত্র্য রয়েছে, যা বোলারদের জন্য লাইন ও লেংথ ঠিক রাখা কঠিন করে তুলতে পারে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংসে সামনের পা ও পেছনের পায়ে ভর করে পয়েন্টের সামনে ও পেছনে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন সাদাকাত। দাসুন শানাকার অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল রিভার্স প্যাডল করে উইকেটকিপার ও শর্ট থার্ডম্যানের মাঝের ফাঁক দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান তিনি। পরে নুয়ান তুষারার বলেও শর্ট ফাইন লেগের ওপর দিয়ে র‍্যাম্প শট খেলেন।

এ ধরনের শট খেলার দক্ষতা টি-টুয়েন্টিতে বাড়তি সুবিধা দেয়। বোলাররা একদিকে ফিল্ডার সাজিয়ে চাপ তৈরি করতে চাইলে ব্যাটসম্যান অন্যদিকে রান বের করে নিতে পারেন। সাদাকাতের শট নির্বাচনের বৈচিত্র্য তাঁকে শুধু বড় শটনির্ভর ব্যাটসম্যানের চেয়ে আলাদা করে তুলতে পারে।

পাকিস্তানের তিন নম্বর পজিশনের দীর্ঘদিনের সংকট

২০২৫ সালের শুরু থেকে পাকিস্তান টি-টুয়েন্টি দলে তিন নম্বর পজিশনে ৪৮ ম্যাচে ১০ জন ব্যাটসম্যানকে খেলানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এত পরিবর্তনের পরও এই জায়গায় স্থায়ী কাউকে খুঁজে পায়নি দলটি।

টি-টুয়েন্টিতে তিন নম্বর ব্যাটসম্যানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনারদের দ্রুত বিদায়ের পর তাঁকে ইনিংস সামলাতে হয়। আবার শুরু ভালো হলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যেতে হয়, যাতে রান তোলার গতি কমে না যায়। এই দুই ধরনের পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে দলকে বারবার ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করতে হয়।

সাদাকাতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান সামনে এনেছে। তাঁর ব্যাটিংয়ে আগ্রাসন আছে, পেস ও স্পিনের বিপক্ষে কার্যকারিতা রয়েছে এবং মাঠের বিভিন্ন দিকে শট খেলার সামর্থ্যও দেখা গেছে। এসব গুণ তাঁকে তিন নম্বর পজিশনের জন্য আশাব্যঞ্জক বিকল্প করে তুলেছে।

বাবর-রিজওয়ান যুগের পর নতুন পথ খুঁজছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ে পরিবর্তনের আলোচনা নতুন নয়। বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানরা দীর্ঘদিন দলকে ভরসা দিয়েছেন। কিন্তু আধুনিক টি-টুয়েন্টিতে শুধু উইকেট ধরে রেখে ইনিংস গড়াই যথেষ্ট নয়; পাওয়ার প্লে থেকে শুরু করে শেষ ওভার পর্যন্ত রান তোলার গতি বজায় রাখাও জরুরি।

এই বাস্তবতায় সাদাকাতের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানের উত্থান পাকিস্তানের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে তাঁকে বাবর বা রিজওয়ানের সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার আগে তাঁর ভূমিকা ও ধারাবাহিকতা বিচার করা প্রয়োজন। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি তিন নম্বরে স্থায়ী হতে পারেন, আবার পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন আসতে পারে।

আপাতত সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সাদাকাত এমন এক সময়ে আলোচনায় এসেছেন, যখন পাকিস্তান টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের ব্যাটিং কৌশল নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে।

সম্ভাবনা আছে, তবে ধারাবাহিকতার পরীক্ষাও বাকি

আট ইনিংসে ৪৫১ রান, প্রায় ১৯৫ স্ট্রাইক রেট এবং সিপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি—সাদাকাতের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

তবে মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলে তাঁকে পাকিস্তানের ব্যাটিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান ঘোষণা করা তাড়াহুড়া হবে। প্রতিপক্ষের বোলাররা তাঁর ব্যাটিং বিশ্লেষণ করে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসবে। কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেট ধরে রাখা, চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে দ্রুত রান তোলার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হবে তাঁকে।

সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে পাকিস্তানের তিন নম্বর পজিশনের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন মাজ সাদাকাত। তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম অন্তত সেই সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এসএ

ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য
একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান, সামান্য ফটোগ্রাফিক কাগজ আর সূর্যের আলো—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানের জগতে বিস্ময় জাগানো এক ছবি। কোনো আধুনিক ক্যামেরা কিংবা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং ভুলে পড়ে থাকা একটি ক্যান-ক্যামেরা টানা আট বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারণ করেছে আকাশে সূর্যের চলার পথ। ছবিটিতে সূর্যের ২ হাজার ৯৫৩টি আলাদা আলোর রেখা দেখা গেছে, যা পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনকে তুলে ধরে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারের বেফোর্ডবেরি অবজারভেটরিতে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আলোকচিত্রী রেজিনা ভালকেনবর্গ ২০১২ সালে সেখানে একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান দিয়ে তৈরি পিনহোল ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ক্যামেরাটি যে এত দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের গতিপথের ছবি ধারণ করবে, তা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না।

কীভাবে তৈরি হলো আট বছরের ছবি?

২০১২ সালে অবজারভেটরিতে ক্যান দিয়ে তৈরি ক্যামেরাটি স্থাপন করেন রেজিনা ভালকেনবর্গ। ক্যামেরাটির ভেতরে রাখা হয়েছিল আলোকসংবেদনশীল ফটোগ্রাফিক কাগজ। ছোট একটি ছিদ্র দিয়ে আলো প্রবেশ করে সেই কাগজে ছবি তৈরি করার কথা ছিল। এই পদ্ধতিকে বলা হয় পিনহোল ফটোগ্রাফি।

তবে ক্যামেরাটি স্থাপনের পর সেটি দীর্ঘদিন সেখানেই পড়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটির কথা ভুলে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে ক্যামেরার ভেতরে থাকা ফটোগ্রাফিক কাগজে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। এভাবেই একটি সাধারণ ক্যান হয়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি আলোকচিত্র ধারণের মাধ্যম।

সূর্যের গতিপথে ধরা পড়ল ঋতু পরিবর্তনের ছাপ

পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করে এবং পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে আকাশে সূর্যের আপাত অবস্থান ও দৈনিক পথ বদলে যায়। গ্রীষ্মে সূর্য সাধারণত আকাশে তুলনামূলক উঁচু পথে চলে, আর শীতকালে তার পথ থাকে নিচু।

ক্যান-ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে এই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো ফটোগ্রাফিক কাগজে পড়ায় তৈরি হয় একের পর এক উজ্জ্বল রেখা। রেখাগুলোর অবস্থান ও দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আকাশপথের পরিবর্তন বোঝা যায়।

ছবিটিতে মোট ২ হাজার ৯৫৩টি আলোর রেখা শনাক্ত করা হয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু রেখার মধ্যে ফাঁকও দেখা যায়। মেঘ সূর্যের আলো আটকে দেওয়ায় এমন ফাঁক তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

২০২০ সালে খুঁজে পাওয়া গেল ভুলে যাওয়া ক্যামেরা

২০১২ সালে স্থাপন করা ক্যামেরাটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। তখন সেটির ভেতরে তৈরি হওয়া ছবিটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের সূর্যপথ একটিমাত্র আলোকচিত্রে ধরা পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যামেরাটির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। এত দীর্ঘ সময় ধরে আলো ধারণ করার কারণে ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এটি শুধু একটি সুন্দর দৃশ্য নয়; দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আকাশের পরিবর্তন নথিবদ্ধ করারও এক অনন্য উদাহরণ।

ছবিটির নাম সোলারগ্রাফ

দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আপাত গতিপথ ধারণ করার এই বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ছবিকে বলা হয় ‘সোলারগ্রাফ’। এতে সাধারণত একটি ছোট ছিদ্রযুক্ত ক্যামেরা ও আলোকসংবেদনশীল কাগজ ব্যবহার করা হয়। সূর্যের আলো প্রতিদিন কাগজে রেখা তৈরি করে, আর দীর্ঘ সময় ধরে সেই রেখাগুলো একত্র হয়ে একটি ছবিতে পরিণত হয়।

এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এতে ব্যয়বহুল ক্যামেরা বা জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো পড়তে থাকায় আলোকসংবেদনশীল কাগজের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়ার প্রভাব ছবির ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণ ক্যান থেকে অসাধারণ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ছবির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। দীর্ঘতম ফটোগ্রাফিক এক্সপোজারের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে ছবিটি আলোচনায় আসে।

ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, বিজ্ঞান ও আলোকচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের জন্য সব সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। কখনো সাধারণ উপকরণ, দীর্ঘ সময় এবং প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম মিলেই তৈরি করতে পারে ব্যতিক্রমী ফলাফল।

যে ক্যান-ক্যামেরাটি একসময় ভুলে পড়ে ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আট বছরেরও বেশি সময়ের সূর্যপথকে এক ফ্রেমে ধরে রাখে। ছবিটি যেন একটি মুহূর্তের দৃশ্য নয়, বরং সময়ের সঙ্গে আকাশের পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস—যেখানে প্রতিটি আলোর রেখা সূর্যের আরেকটি দিনের সাক্ষ্য বহন করে।

কালের আলো/এএন/এসএ

৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার আলোচনায় এসেছেন ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগের কারণে। ৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের বাজারের খরচ জোগাবেন এই অভিনেত্রী। তাঁর আশা, এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাশমিকা। এত দিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ালেও সেসব কাজ প্রকাশ্যে আনতেন না তিনি। তবে এবার মনে হয়েছে, তাঁর কাজের কথা জানলে অন্যরাও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

‘জয়াম্মার সঙ্গে আমার মিল রয়েছে’

ইনস্টাগ্রামে নিজের উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে রাশমিকা তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রণবালি’র চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই চরিত্রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

রাশমিকা লেখেন, ‘আপনারা অনেকেই জানতে চান, জয়াম্মার সঙ্গে আমার কোনো মিল আছে কি না। আমার উত্তর—হ্যাঁ। আর এটি তার মধ্যে অন্যতম। আমি সব সময়ই এমন ছিলাম, জয়াম্মাও এমন।’

অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে নিজের ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের জন্য কিছু করার এই আগ্রহ নতুন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

এক বছর সহায়তা পাবে ৪০০ পরিবার

রাশমিকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪০০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। অর্থাৎ একবার সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে পরিবারগুলোর পাশে থাকার পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। এই খাতে সহায়তা পেলে পরিবারগুলো অন্য প্রয়োজন মেটাতে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে বলে আশা করছেন রাশমিকা।

কর্মসূচির আওতায় কী কী খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে প্রতিটি পরিবারের জন্য কত টাকা ব্যয় করা হবে কিংবা পুরো কর্মসূচিতে মোট কত অর্থ খরচ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

‘ছোট্ট একটি ভালো কাজও বদলে দিতে পারে জীবন’

নিজের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশমিকা জানান, আগে এ ধরনের কাজের কথা সাধারণত প্রকাশ্যে আনতেন না। বিষয়গুলো তাঁর নিজের এবং দলের কয়েকজন সদস্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এবার মনে হয়েছে, উদ্যোগটি প্রকাশ্যে এলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

অভিনেত্রীর মতে, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাঁদের পক্ষে সম্ভব, তাঁদের সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেও এমন উদ্যোগকে দেখছেন রাশমিকা। তাঁর আশা, নিজের কাজের কথা জানার পর অনুসারীদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন।

পরিবারগুলোর মুখের হাসিই বড় প্রাপ্তি

পেশাগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক আঘাত ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে রাশমিকাকে। তবে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ আনন্দের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশমিকার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের উপকার করতে পারার তৃপ্তি অন্য অনেক প্রাপ্তির চেয়ে আলাদা। সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর আনন্দ তাঁর নিজের কষ্টকেও সার্থক করে তোলে। এই অনুভূতিই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে আরও উৎসাহিত করে।

অভিনেত্রীর এই উদ্যোগ বিনোদনজগতের তারকাদের সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সহায়তার পরিমাণ এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

মুক্তির অপেক্ষায় ‘রণবালি’

এদিকে পেশাগত জীবনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রাশমিকা মান্দানা। তাঁর নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের বিশেষ মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সিনেমাটিতে রাশমিকার সহশিল্পী তাঁর স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রণবালি’র গল্পে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ‘গ্রেট মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ’-এর পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমাটি ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একদিকে নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ, অন্যদিকে ৪০০ পরিবারের খাদ্যসামগ্রীর ব্যয় বহনের উদ্যোগ—দুই কারণেই এখন আলোচনায় রাশমিকা। অভিনয়ের বাইরে মানুষের জন্য কাজ করার যে আগ্রহের কথা তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিরাপত্তাজনিত কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত পাঁচ দিনে ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য জানান।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ৪২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে বাতিল হওয়া ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি ছিল সরাসরি ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৬১টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শুধু ঢাকা থেকে যাত্রা করা যাত্রীরাই নন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযোগকারী ফ্লাইটে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট, হোটেল বুকিং ও অন্যান্য ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা

বেবিচক জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এ ধরনের বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমান সংস্থা থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি ও বাতিলের তথ্য জেনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে, তাঁদেরও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি