খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়, গুরুত্ব পাচ্ছে জিয়ার ‘উই রিভল্ট’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়, গুরুত্ব পাচ্ছে জিয়ার ‘উই রিভল্ট’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বর্ণনায় নতুন সংযোজন আসছে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে এবার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার পর মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হচ্ছে। এতে তাঁর ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা, বাঙালি সেনাসদস্যদের সংগঠিত করা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে স্থান পাচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিমার্জিত বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার পাশাপাশি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার প্রচার এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তাঁর পরবর্তী ঘোষণার বিবরণও রাখা হয়েছে। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আগের সংস্করণের তুলনায় আরও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

  • স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট ও কালুরঘাটের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বাহিনী
  • বীরশ্রেষ্ঠদের অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করছে এনসিটিবি
  • চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিক্ষার বই

ইতিহাসের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধও স্থান পাচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলা ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েও নতুন বিষয়বস্তু যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে চারটি নতুন বই। সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস, সংস্কৃতি, কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিক্ষার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।

‘উই রিভল্ট’ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা
২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহ করেন। পাঠ্যবইয়ে তাঁর বিদ্রোহের মুহূর্তটি বোঝাতে ‘উই রিভল্ট’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ ‘আমরা বিদ্রোহ করছি’।

এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি ব্যাটালিয়নের বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করেন। বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের সামনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরুর কথা জানান তিনি। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে সামরিক প্রতিরোধ সংগঠিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হলে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন বইয়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ঘোষণা দেওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তাঁর আরেকটি ঘোষণার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন সংস্করণে শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা নয়, এর পেছনের প্রেক্ষাপট, সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যদের বিদ্রোহ এবং বেতারকেন্দ্রের মাধ্যমে ঘোষণার প্রচারের ঘটনাগুলোও ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

আগের পাঠ্যবইয়ে কী ছিল
স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন সময়ের পাঠ্যবইয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ২০২২ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ওই বর্ণনায় স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত বইয়ে বলা হয়, ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরদিন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তবে সেখানে ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা, বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি সেনাসদস্যদের সংগঠিত করার ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন সংস্করণে এসব বিষয় যুক্ত হওয়ায় স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বিবরণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময়ের পাঠ্যবইয়ে এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের উপস্থাপনার পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর, ব্রিগেড ও বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী
নতুন শিক্ষাবর্ষের ইতিহাসভিত্তিক বিষয়বস্তুতে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স সম্পর্কে তথ্য যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা যুদ্ধ পরিচালনার কাঠামো, বিভিন্ন বাহিনীর ভূমিকা এবং সম্মুখযুদ্ধের সংগঠিত রূপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। একই সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসকে শুধু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা বা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোও পাঠ্যক্রমে স্থান পাচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও এবারের পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য দিক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাঁর নিজের লেখার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চার বই
ইতিহাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশের বিষয়েও নতুন সংযোজন আসছে। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। ‘খেলাধুলা’ বইটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দিতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বইয়ের লক্ষ্য শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও উপভোগ্য করে তোলা। এ ছাড়া বাংলা ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়েও নতুন বিষয়বস্তু সংযোজন করা হচ্ছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তন শুধু ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর বিস্তার ঘটছে।

ছাপা হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এনসিটিবির পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ছাপার কার্যক্রম চলছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু বই ছাপাও হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে এসব বই পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে নতুন বিষয়বস্তুগুলো আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠদান কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। বিশেষ করে ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝতে সহায়তা করবে।

ইতিহাসের পাঠে আরও বিস্তৃত পরিসর
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক আফসান চৌধুরী মনে করেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের পাশাপাশি সমাজের ইতিহাস বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসচর্চার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় অনেক সময় ইতিহাসের চেয়ে রাজনীতির চর্চা বেশি প্রাধান্য পায়। তাই সমাজের ইতিহাসের চর্চা বাড়ানো জরুরি।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান এবং যুদ্ধকালীন সামাজিক অভিজ্ঞতাও পাঠ্যবইয়ে গুরুত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বিস্তারিত বিবরণ, ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণার উল্লেখ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স এবং বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী যুক্ত করার উদ্যোগ ইতিহাসের পাঠকে আরও বিস্তৃত করছে। পাশাপাশি ৭ নভেম্বর ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মতো রাজনৈতিক অধ্যায় এবং সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষার নতুন বই শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সমাজ সম্পর্কে জানার আরও সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

ক্ষমতার ছয় মাসেই এক দফা আন্দোলন, বিরোধীদের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ছয় মাসেই এক দফা আন্দোলন, বিরোধীদের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী

রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না করে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং জাতীয় সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিবর্তে সরকারের সমালোচনা, ভুল সংশোধনের পরামর্শ এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা উচিত।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদের এক দফা আন্দোলনের সমালোচনা

বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, সামাজিক অন্যায়-অবিচার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতিতে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিরোধী দলের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি হাস্যকর, অরাজনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

‘ভোট দিলে সরকারে, না দিলে বিরোধী দলে’

নির্বাচন ও ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিনা ভোটে কিংবা ‘দিনের ভোট রাতে’ করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।তিনি বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যেই সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে সরকার আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে। জনগণ ভোট দিলে সরকার গঠন করবে, আর ভোট না দিলে বিরোধী দলে চলে যাবে।

মীর শাহে আলমের ভাষ্য, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর নির্বাচনে ভোট চাইতে যেতে চায় সরকার। উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেই সরকার পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের পকেটে নেই’

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, একসময় ধারণা করা হতো, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত। তবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বেশি ভোট পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এর মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন যে তাঁরা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি অন্ধ আনুগত্যশীল নন; তাঁরা দেশের সচেতন নাগরিক।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আত্মীয় মনে করে। তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপনের সুযোগ তৈরি করতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

দুর্গাপূজায় ছুটি বৃদ্ধি ও মন্দিরে চাল বরাদ্দের কথা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি এক দিন বাড়ানো, মন্দিরে চাল বরাদ্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আরও আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে পারেন।

২০ অক্টোবর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: প্রতিমন্ত্রী

মীর শাহে আলম জানান, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুদান বিতরণ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

৬৫ পূজামণ্ডপে অনুদান, দুস্থ নারীদের শাড়ি বিতরণ

শুক্রবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ করা হয়।শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন তৌফিক, সদস্যসচিব রোকন উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রামনারায়ণ কানু এবং সনাতন ধর্মীয় নেতা নয়ন চন্দ্র।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার (তারিখ যাচাই প্রয়োজন) পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বেন্ড শহরের ‘সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে’ এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির সময় এমন সহিংস ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ৫ থেকে ১১ বছর

বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্র্যান্টজ জানান, হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর। এ ছাড়া একজন শিক্ষকও নিহত হয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত ১৬ বছর বয়সী কিশোরও ঘটনাস্থলে মারা যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা অন্তত পাঁচ।

এ ঘটনায় ৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের বেন্ডের সেন্ট চার্লস মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভেতরে আর কেউ বিপদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মীরা।

বন্ধ দরজা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অভিযোগ

পুলিশ প্রধান মাইক ক্র্যান্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী বিদ্যালয়ের বন্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে। তবে সে ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান বা সাবেক শিক্ষার্থী ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হামলার উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং হামলাকারী কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

দুপুরে গুলির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশি অভিযান

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে একটি গাড়ি থেকে গুলির শব্দ বা গুলিবর্ষণের বিষয়ে প্রথম খবর আসে। অভিযোগে দীর্ঘ নলবিশিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্রধারী এক ব্যক্তির কথা জানানো হয়েছিল।

এর দুই মিনিট পর, দুপুর ১টা ১ মিনিটে বিদ্যালয়টি লকডাউন করা হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও শুরু হয়।

ঘটনার প্রাথমিক বিবরণে বলা হয়েছে, এক প্রত্যক্ষদর্শী নাগরিক হামলাকারীকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখে তার পিছু নেন। পরে তিনি হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ওই কিশোর ঘটনাস্থলে নিহত হয় বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ পরে সেখানে পৌঁছে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীর ভূমিকা, গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সরিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

হামলার পর বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে বাসে করে পার্শ্ববর্তী একটি চার্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার মতো ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কারণে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি যোগাযোগ এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তদন্তে এফবিআইয়ের সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে তদন্তে সহায়তা করতে সংস্থাটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

এ ধরনের তদন্তে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য, আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, সম্ভাব্য পূর্বপরিকল্পনা এবং হামলাকারীর সঙ্গে বিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে এই ঘটনায় তদন্তকারীরা কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

অরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা নাগরিকের সাহসিকতার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সামাজিক ও জননিরাপত্তা সমস্যা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এসব হামলায় শিশু, শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মী সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্দুক সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ’-এর হিসাবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩৬৯টি বড় ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ‘এভরিটাউন ফর গান সেফটি’র হিসাবে, চলতি বছরে মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত ১০০টি গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা, গণনার সময়সীমা ও সর্বশেষ হালনাগাদ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আগাম হুমকি শনাক্তকরণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট হামলার কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফল ও যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

নিহতদের পরিবারে শোক, তদন্তের অপেক্ষা

বেন্ডের এই হামলায় তিন শিশুর মৃত্যু আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন সামনে এনেছে। শিশুদের জন্য বিদ্যালয়কে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের নয়; জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ, কার্যকর যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর। অন্যদিকে, স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্য, আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ সম্পর্কে তদন্তকারীদের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএন/এসএ

সৌদিতে যুদ্ধের আতঙ্কে ওমরাহযাত্রীরা বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
সৌদিতে যুদ্ধের আতঙ্কে ওমরাহযাত্রীরা বিপাকে

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ করছেন হাজারো মুসল্লি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত ও হামলার আশঙ্কায় এবার তাঁদের অনেকের পবিত্র এই যাত্রা ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। বিমান চলাচলে বিঘ্ন, ফ্লাইট বাতিল এবং নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওমরাহযাত্রী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরা।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি বিমানবন্দর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলার সময় বিমানবন্দরে ওমরাহযাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। এতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি ২৪ জন আহত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হতাহতের তথ্য এবং হামলার স্থান ও পরিস্থিতি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পবিত্র যাত্রার মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক

ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থানরত মুসল্লিদের উদ্বেগের প্রধান কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশটিতে গেছেন। তাঁদের জন্য একদিকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা, অন্যদিকে নিরাপদে থাকা ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক মুসল্লি বলেন, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে বারবার সতর্কবার্তা আসছে, যা তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সৌদি আরবসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনাও করেন।

যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের সময় ভ্রমণকারীদের উদ্বেগ শুধু সরাসরি হামলার আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন, ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পরিবহন না পাওয়ার মতো বিষয়ও তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ায়।

মক্কা-মদিনা ঘিরে স্বস্তি থাকলেও যাত্রাপথে অনিশ্চয়তা

ইসলামের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালন করতে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এই দুই শহরকে লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

মক্কা ও মদিনায় সরাসরি হামলার খবর না থাকলেও সেখানে পৌঁছাতে কিংবা সেখান থেকে দেশে ফিরতে অনেক যাত্রীকে অন্য শহরের বিমানবন্দর ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রিয়াদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে তার প্রভাব ওমরাহযাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও পড়তে পারে।

এ কারণে যাত্রীরা শুধু পবিত্র শহরগুলোর পরিস্থিতি নয়, বরং তাঁদের ফ্লাইটের রুট, ট্রানজিট বিমানবন্দর এবং দেশে ফেরার সম্ভাব্য ব্যবস্থাও নিয়ে চিন্তিত।

ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনে বাড়ছে ভোগান্তি

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল কিংবা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।

ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের নতুন টিকিট সংগ্রহ, হোটেলে অতিরিক্ত অবস্থান এবং খাবারসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লি, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এমন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দোহা ও দুবাইগামী স্থলপথের পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। বিকল্প পথে যাতায়াতের চাহিদা বাড়লে পরিবহনব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে কোন রুটে কতটা ভাড়া বেড়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

ফ্লাইট না পেয়ে ভ্রমণ স্থগিত করছেন অনেকে

সৌদি আরবে অবস্থানরত আরেক মুসল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজনের ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁর কয়েকজন বন্ধু সৌদি আরবে আসতে পারেননি।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন যাঁদের ভ্রমণের তারিখ নির্ধারিত, হোটেল বুকিং করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফেরার প্রয়োজন রয়েছে। ওমরাহযাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিদেশি কর্মীরাও বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে যাঁদের ভিসার মেয়াদ, কর্মস্থলে যোগদানের সময় কিংবা দেশে ফেরার সঙ্গে জরুরি পারিবারিক বিষয় জড়িত, তাঁদের জন্য ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা বাড়তি চাপ তৈরি করে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভ্রমণ ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সৌদি ভ্রমণে সতর্কতা জারি বিভিন্ন দেশের

আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও ভ্রমণের আগে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনস, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের হালনাগাদ নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা জরুরি।

উদ্বেগের মধ্যে ওমরাহযাত্রীদের অপেক্ষা

ওমরাহ মুসলমানদের কাছে গভীর ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঞ্চয় করে কিংবা পরিবারের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এই সফরে যান। ফলে যাত্রার মাঝপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বা ফ্লাইট বাতিলের খবর তাঁদের জন্য মানসিক ও আর্থিক—দুই ধরনের চাপ তৈরি করে।

একদিকে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ইবাদত সম্পন্ন করার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে নিরাপদে যাতায়াত ও দেশে ফেরার নিশ্চয়তা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অনেকেরই ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নেই; বিমান চলাচল, পর্যটন, ব্যবসা এবং ধর্মীয় ভ্রমণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা, হতাহতের সংখ্যা এবং দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কালের আলো/জেএন/এসএ