খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারত থেকে এলো ১৮ নতুন রেলকোচ, যুক্ত হবে ট্রেনের বহরে

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ভারত থেকে এলো ১৮ নতুন রেলকোচ, যুক্ত হবে ট্রেনের বহরে

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেনের বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রাথমিক পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে কোচগুলো নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে এগুলো যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে। কোচগুলো গ্রহণ করেন প্রকল্প পরিচালক জয়দুল ইসলাম। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, দেশে প্রবেশের পর কোচগুলোর প্রাথমিক পরিদর্শন, শুল্কসংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রথম চালানে চার ধরনের ১৮ কোচ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহ চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে চার ধরনের ১৮টি কোচ এসেছে। ভারতের রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে এসব কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগে আরও অগ্রগতি হবে। প্রথম চালানে আসা ১৮টি কোচের মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, দুটি এসি স্লিপার কোচ এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। অর্থাৎ, সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি এসি সুবিধায় ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্যও কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে।

নতুন চালানে থাকা ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ সাধারণ শ্রেণির যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। তিনটি এসি চেয়ার কোচে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বসে ভ্রমণের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া দুটি এসি স্লিপার কোচে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার সুবিধা রয়েছে। চালানে থাকা দুটি এসি পাওয়ার কারের বিশেষ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং যাত্রীদের মালামাল বহনের জায়গা। ট্রেন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালামাল বহনের ব্যবস্থাও এসব কোচের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

সৈয়দপুর কারখানায় হবে কারিগরি পরীক্ষা

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে দেশে প্রবেশের পর কোচগুলোকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। শুল্কসংক্রান্ত ছাড়পত্রসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কোচগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে কোচগুলোর প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন, কার্যক্ষমতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ সম্পন্ন করা হবে। এসব ধাপ শেষ হওয়ার পরই কোচগুলো যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করার উপযোগী হবে। পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে প্রবেশের পর কোচগুলো যাচাই করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোচগুলোতে কোনো ধরনের ত্রুটি দেখা যায়নি।

২০০ কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তি করা হয়েছে। এর প্রথম চালানে ১৮টি কোচ দেশে এসেছে। বাকি কোচগুলো সরবরাহের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে রেলবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কোচগুলো যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত হলে রেলওয়ের বিদ্যমান বহরে অতিরিক্ত আসন ও বিভিন্ন শ্রেণির ভ্রমণসুবিধা যোগ হবে। তবে কোন রুটে এবং কবে থেকে এসব কোচ ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান
ইংল্যান্ড নারী জাতীয় কাবাডি দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান। ব্যবসা ও টেলিভিশনের জগতে পরিচিতি অর্জনের পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় এসেছেন মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড় থাকা এই তরুণী। আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তাঁর।

আনিসা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিনায়ক হওয়ার খবর জানিয়েছেন। তাঁর বাবা ইয়াওর খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আনিসা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি খেলা হিসেবে কাবাডি শেখার মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা তাঁকে আজ জাতীয় দলের নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক

অধিনায়ক হওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে আনিসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হয়েছি। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি সোসাইটিতে যোগ দেওয়ার সময় এই খেলায় আমি ছিলাম সম্পূর্ণ নতুন। কখনো কল্পনাও করিনি, নতুন একটি খেলা শেখার সিদ্ধান্ত আমাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে আসবে।’

আনিসার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে কাবাডিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে জায়গা করে নেন ইংল্যান্ড নারী জাতীয় দলে। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপেও ইংল্যান্ডের দলে ছিলেন তিনি।

এবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো নতুন অর্জন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলের নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি নিজের দক্ষতা ও নেতৃত্বের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় সুযোগ।

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আনিসার পারিবারিক শিকড়

আনিসা খানের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে। তাঁর বাবা ইয়াওর খান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে প্রথমে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। পরে আবাসন ব্যবসায়ও নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

ইয়াওর খান যুক্তরাজ্যে পরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনিসা সবার ছোট। যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠলেও তাঁর পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর নতুন দায়িত্বের খবর তাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

এলএসইতে পড়াশোনা, অ্যাকসেঞ্চারে চাকরি

কাবাডির পাশাপাশি পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনেও এগিয়েছেন আনিসা। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। পরে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারে কাজ করেন।

চাকরির পাশাপাশি নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার আগ্রহ থেকে করোনা মহামারির সময় খাবারের ব্যবসা ‘বোম্বে পিৎজা’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব, ব্যবসা পরিচালনা এবং খেলাধুলা—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন আনিসা।

তাঁর জীবনযাত্রার এই বৈচিত্র্যই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা, করপোরেট চাকরি, উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ এবং আন্তর্জাতিক কাবাডি—ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।

‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ রানারআপ হয়ে পরিচিতি

২০২৫ সালে বিবিসি ওয়ানের জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান আনিসা। ব্রিটিশ ব্যবসায়ী লর্ড অ্যালান সুগারের আড়াই লাখ পাউন্ডের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় রানারআপ হন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পান আনিসা। টেলিভিশনের পর্দায় পরিচিতি বাড়লেও কাবাডির প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনিসা জানিয়েছেন, এলএসইতে পড়াশোনা শেষ করা, অ্যাকসেঞ্চারে চাকরি, বোম্বে পিৎজা প্রতিষ্ঠা এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশ নেওয়ার মতো নানা অভিজ্ঞতার মধ্যেও কাবাডি তাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

১৪ দেশের প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন আনিসা

আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড নারী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা আনিসার। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডসহ ১৪টি দেশের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে এটি তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলের খেলোয়াড়দের সমন্বয়, কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে তাঁকে।

মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড় থেকে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও টেলিভিশন জগৎ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কাবাডির নেতৃত্ব—আনিসা খানের পথচলা নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এবার কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল কেমন পারফরম্যান্স করে, সেদিকেই থাকবে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর।

কালের আলো/জেএন/এসএ

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের তাগিদ বিমানমন্ত্রীর

জামালপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের তাগিদ বিমানমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমানে কিছু নিষিদ্ধ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অপতথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। তিনি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সংবাদমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বিএনপি সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করার রাজনীতি করে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে। তবে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন। দেশের জনশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত।” এই ৪০ কোটি হাত দেশের জন্য কাজ করলে অচিরেই বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বহির্বিশ্বে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হয়েছে। ওই সাক্ষাতে ট্রাম্প বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলেও জানান তিনিশারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সরকারি সহায়তা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

‘ক্যারিয়ার শেষ’ বলে কটাক্ষ, চার বছর পর পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
‘ক্যারিয়ার শেষ’ বলে কটাক্ষ, চার বছর পর পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই
টেলিভিশনে দীর্ঘদিন কাজ করলেই কি একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়? পর্দা থেকে কিছুদিন দূরে থাকলেই কি তাঁকে ‘ওভারএক্সপোজড’ বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়? এমন প্রশ্ন তুলে নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময় নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেশমি দেশাই। দীর্ঘ চার বছর পর ছোট পর্দায় ফিরতে যাওয়ার আগে তিনি জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিরতি নেওয়ার পরও কীভাবে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল।

চার বছরের বিরতি, এবার নতুন শোতে প্রত্যাবর্তন

স্টার প্লাসের নতুন শো ‘সায়োনি’র মাধ্যমে ছোট পর্দায় ফিরতে চলেছেন রেশমি দেশাই। প্রত্যাবর্তনের আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিরতির সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।

রেশমির ভাষ্য, টেলিভিশনে কাজ করার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন হয়। তাই অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে নিজের জন্য সময় বের করতে চেয়েছিলেন তিনি। নতুন কিছু শেখা এবং নিজের দক্ষতা ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সবাই ইতিবাচকভাবে দেখেননি। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, অভিনয়জগতে তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে।

‘মানুষ ভেবেছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ’

বিরতি নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রেশমি বলেন, ‘আমি ইচ্ছে করেই বিরতি নিয়েছিলাম। কারণ টিভি একটানা দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির ব্যাপার। আমি চেয়েছিলাম কিছু বিষয় নতুনভাবে শিখতে, নিজের ওপর কাজ করতে। কিন্তু মানুষ ভুল বুঝে ভেবেছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ।’

অভিনেত্রীর দাবি, এই বিরতির সময় তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। কেউ কেউ সরাসরি তাঁকে ‘ওভারএক্সপোজড’ মুখ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে বলেও অনেকে মনে করতেন।

রেশমির মতে, একজন শিল্পীর কাজের মূল্যায়ন শুধু পর্দায় তাঁর উপস্থিতির সংখ্যা দিয়ে করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত উন্নতি, নতুন কিছু শেখা কিংবা নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্য বিরতি নেওয়া মানেই পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়া নয়।

টেলিভিশন অভিনেতাদের নিয়ে কেন এত স্টেরিওটাইপ?

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা শিল্পীদের নিয়ে প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেছেন রেশমি। তাঁর মতে, টেলিভিশন অভিনেতারা বিপুল দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেলেও তাঁদের নানা ধরনের পূর্বধারণা ও নেতিবাচক তকমার মুখোমুখি হতে হয়।

রেশমি বলেন, ‘অনেকে আমাকে সরাসরি বলেছে, তুমি তো একটা ওভারএক্সপোজড মুখ, তোমার ক্যারিয়ার শেষ। মানুষ ভুলে যায় যে টেলিভিশন আমাদের একটা বিশাল বড় প্ল্যাটফর্ম দেয়, যা অন্য কোনো মাধ্যম পারে না। অথচ টিভি অভিনেতাদের নানা ট্যাবু ও স্টেরিওটাইপের শিকার হতে হয়।’

তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে টেলিভিশন অভিনেতাদের পেশাগত অবস্থান নিয়ে সমাজ ও বিনোদনজগতের একাংশের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি। দীর্ঘদিন কোনো মাধ্যমে কাজ করাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার বদলে অনেক সময় সেটিকেই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় বলে মনে করেন তিনি।

নারীদের শুধু সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করার বিরোধিতা

শোবিজে নারী শিল্পীদের উপস্থাপনের ধরন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেশমি দেশাই। তাঁর মতে, অনেক প্রকল্পে নারীদের অভিনয়দক্ষতা কিংবা চরিত্রের গুরুত্বের চেয়ে তাঁদের সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

রেশমির ভাষায়, ‘অনেক প্রোজেক্টেই নারীদের শুধু সেক্সি বা সুন্দর দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়—যা অত্যন্ত ভুল। একজন নারী শিল্পী এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু। কঠোর পরিশ্রম করে যারা নিজেদের জায়গা তৈরি করেন, তাঁদের সঠিক সম্মান দেওয়া উচিত।’

একজন অভিনেত্রীর পরিচয় শুধু তাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা পর্দায় উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না—এমন অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি। অভিনয়শিল্পীদের শ্রম, দক্ষতা ও পেশাগত অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত রেশমি

দীর্ঘ বিরতির পর ‘সায়োনি’র মাধ্যমে ছোট পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু নতুন একটি কাজ শুরু করার বিষয় নয়; বরং বিরতি ও নেতিবাচক মন্তব্যের পর আবারও দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার উপলক্ষ।

ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে রেশমি বুঝিয়ে দিয়েছেন, একজন শিল্পীর পথচলা সব সময় সরলরেখায় এগোয় না। কখনো বিরতি, কখনো নতুন করে শেখা, আবার কখনো প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও সেই যাত্রার অংশ। এবার নতুন শোতে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে কেমন সাড়া পায়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

কালের আলো/জেএন/এসএ