খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএসএফের হাতে আটক ২ পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনল বিজিবি

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএসএফের হাতে আটক ২ পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনল বিজিবি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের পর তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

পতাকা বৈঠকে হস্তান্তর, পরে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয় বিজিবি

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৫৯-এর কাছে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এবং বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের ওই বৈঠকে বিএসএফ আটক দুই পুলিশ সদস্যকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশ পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এতে সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

মাদক উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছিলেন পুলিশের সদস্যরা। এ সময় সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে ভারতীয় নাগরিকেরা তাঁকে আটক করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সহকর্মীকে ছাড়াতে গিয়ে আটক হন এএসআই ইমরান

কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান আটক হওয়ার পর তাঁকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে এএসআই মো. ইমরান হোসেনও আটক হন। এরপর দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। আটক দুই সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈঠক শেষে তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি জানিয়েছেন। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে কোনো সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রাচীন গ্রিক পুরাণ থেকে আধুনিক প্রেম, অ্যান কারসনের অনন্য সাহিত্যভুবন

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
প্রাচীন গ্রিক পুরাণ থেকে আধুনিক প্রেম, অ্যান কারসনের অনন্য সাহিত্যভুবন

প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র, আধুনিক মানুষের প্রেম, নিঃসঙ্গতা ও আত্মপরিচয়ের সংকট—এই ভিন্ন জগতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করেছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। ধ্রুপদি সাহিত্যের গভীর পাঠ এবং প্রচলিত সাহিত্যরীতির বাইরে গিয়ে লেখার স্বতন্ত্র ভঙ্গির জন্য পরিচিত এই সাহিত্যিক ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন পুরাণের চরিত্রগুলো কেবল অতীতের গল্পের অংশ হয়ে থাকে না; বরং সমকালীন মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অস্তিত্বের সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়।

কারসনের সাহিত্যজগতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড। গ্রিক পুরাণের লাল ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নের কাহিনিকে আধুনিক প্রেম, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানে রূপ দিয়েছেন তিনি। প্রচলিত পুরাণে যে চরিত্রকে দানব হিসেবে দেখা হয়, কারসনের লেখায় সেই চরিত্রই হয়ে ওঠে গভীর অনুভূতিসম্পন্ন এক মানুষ, যে নিজের ভিন্নতা নিয়ে সমাজের সঙ্গে লড়াই করে এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নিজেকে বুঝতে চায়।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে আধুনিক মানুষের মনোজগৎ

অ্যান কারসনের সাহিত্যচর্চার কেন্দ্রে রয়েছে প্রাচীন গ্রিক ভাষা, পুরাণ, কবিতা ও নাটক। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন তিনি। প্রাচীন সাহিত্য অনুবাদের পাশাপাশি নিজের কবিতা, প্রবন্ধ ও নিরীক্ষাধর্মী গদ্যে অতীতের উপাদানকে নতুন অর্থে ব্যবহার করেছেন।

কৈশোরে গ্রিক কবি সাফোর কবিতার সঙ্গে পরিচয় তাঁর সাহিত্যজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে একটি বইয়ের দোকানে সাফোর কবিতার গ্রিক-ইংরেজি সংস্করণ খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। গ্রিক ভাষার প্রতি আকর্ষণ এবং কবিতার খণ্ডিত অংশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি তাঁকে ভাষাটি গভীরভাবে শেখার অনুপ্রেরণা দেয়।

পরবর্তী সময়ে সাফোর টিকে থাকা কবিতার খণ্ডাংশ অনুবাদ করে ২০০০ সালে প্রকাশ করেন ইফ নট, উইন্টার: ফ্র্যাগমেন্টস অব সাফো। বইটিতে প্রাচীন কবিতার অসম্পূর্ণ অংশগুলোর মধ্য দিয়ে প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক অনুভূতির যে জগৎ ফুটে ওঠে, তা কারসনের অনুবাদদৃষ্টির পরিচয় বহন করে।

গ্রিক নাট্যকার ইউরিপিদিস, সফোক্লিস ও এসকাইলাসের রচনাও তাঁর সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ। এসব নাটক অনুবাদের পাশাপাশি তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে নতুন কাঠামো ও ভাষাভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন। ফলে তাঁর কাজ কেবল অনুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং প্রাচীন সাহিত্যকে সমকালীন পাঠকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার একটি সৃজনশীল প্রয়াসে পরিণত হয়েছে।

‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’: এক দানবের ভেতরে মানুষের গল্প

কারসনের বহুল আলোচিত বই অটোবায়োগ্রাফি অব রেড একটি কাব্যোপন্যাস। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরিয়ন গ্রিক পুরাণের সেই লাল ডানাওয়ালা দানব, যাকে বীর হারকিউলিস হত্যা করে। প্রাচীন কাহিনিতে গেরিয়ন মূলত হারকিউলিসের অভিযানের একটি প্রতিপক্ষ। কিন্তু কারসন চরিত্রটির দিকে তাকিয়েছেন ভিন্ন দৃষ্টিতে।

তিনি যেন প্রশ্ন তুলেছেন—যাকে পৃথিবী দানব বলে চিহ্নিত করে, তার নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার গল্পটি কেমন?

এই প্রশ্ন থেকেই গেরিয়ন কারসনের উপন্যাসে নতুন জীবন পায়। সে হয়ে ওঠে এমন এক কিশোর, যে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা মনে করে। তার পিঠে রয়েছে লাল ডানা, যা সে পোশাকের নিচে লুকিয়ে রাখে। ডানাগুলো কেবল পুরাণের অলৌকিক উপাদান নয়; এগুলো তার স্বাতন্ত্র্য, আত্মপরিচয় এবং সমাজের কাছে নিজের প্রকৃত সত্তা প্রকাশ করতে না পারার প্রতীক।

গেরিয়নের পরিবারেও রয়েছে নিঃসঙ্গতা ও ভয়ের অভিজ্ঞতা। বড় ভাইয়ের নির্যাতন এবং নিজের ভিন্নতা আড়াল করে রাখার চাপ তাকে ক্রমে অন্তর্মুখী করে তোলে। চারপাশের মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে না পারার অভিজ্ঞতা তার মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বাড়ায়।

নিজের ভেতরের জগৎকে বোঝার জন্য গেরিয়ন ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ক্যামেরার মাধ্যমে সে চারপাশের পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখতে এবং অভিজ্ঞতাগুলো ধরে রাখতে চায়। অন্যদের চোখে যা সাধারণ দৃশ্য, তার কাছে তা হয়ে ওঠে অনুভূতি ও অর্থের নতুন ক্ষেত্র।

হারকিউলিসের প্রেম ও প্রত্যাখ্যানের ক্ষত

গেরিয়নের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে হারকিউলিসের সঙ্গে পরিচয়ের পর। কৈশোরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গেরিয়ন নিজের আকাঙ্ক্ষা ও পরিচয়কে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। কিন্তু সম্পর্কটি স্থায়ী হয় না। হারকিউলিস অন্য একজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেরিয়নকে ছেড়ে চলে যায়।

এই প্রত্যাখ্যান গেরিয়নের কাছে কেবল প্রেম হারানোর অভিজ্ঞতা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নিজের অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রশ্ন। সে যেন নিজের ভিন্নতাকে ভালোবাসার অযোগ্য হওয়ার কারণ হিসেবে দেখতে শুরু করে।

কারসনের উপন্যাসে লাল ডানার প্রতীকটি এখানেই বিশেষ তাৎপর্য পায়। গেরিয়নের ডানা যেমন তার স্বাতন্ত্র্যকে প্রকাশ করে, তেমনি তা আড়াল করার চেষ্টা তার নিজের পরিচয়কে গোপন রাখার মানসিক চাপেরও প্রতিফলন। ডানাকে লুকিয়ে রাখা মানে নিজের এমন একটি অংশকে আড়াল করা, যেটিকে সে একদিকে ভালোবাসে, অন্যদিকে সামাজিক প্রত্যাখ্যানের ভয়ে প্রকাশ করতে সাহস পায় না।

এইভাবে প্রাচীন পুরাণের একটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে কারসন আধুনিক মানুষের প্রেম, যৌনপরিচয়, আত্মসম্মান ও বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। গেরিয়নের গল্পে ব্যক্তিগত কষ্টের পাশাপাশি রয়েছে সেই সামাজিক বাস্তবতার ইঙ্গিত, যেখানে প্রচলিত ধারণার বাইরে থাকা মানুষকে প্রায়ই নিজের পরিচয় আড়াল করে চলতে হয়।

লাল ডানা কি শেষ পর্যন্ত মুক্তির প্রতীক?

গেরিয়নের জীবনে হারকিউলিসের প্রত্যাখ্যান দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করলেও তার গল্প শেষ পর্যন্ত কেবল বেদনার মধ্যে আটকে থাকে না। সময়ের ব্যবধানে পুরোনো সম্পর্কের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি সে নিজের পরিচয় ও আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে বোঝার সুযোগ পায়।

কাহিনির শেষভাগে গেরিয়নের জীবনে গ্রহণযোগ্যতার একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা আসে। হারকিউলিসের নতুন সঙ্গী আনকাশ তার লাল ডানা দেখে তাকে প্রত্যাখ্যান না করে গ্রহণ করে। এই অভিজ্ঞতা গেরিয়নের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ এত দিন যে বৈশিষ্ট্যকে সে লজ্জা ও ভয়ের সঙ্গে লুকিয়ে রেখেছিল, অন্য একজনের কাছে সেটিই ঘৃণার কারণ হয় না।

উপন্যাসের শেষ দিকে আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে গেরিয়নের ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার চিত্রটি আত্মমুক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। আগুন, ডানা ও উড্ডয়নের এই চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে সে যেন নিজের পরিচয়কে আর অপরাধ হিসেবে দেখতে চায় না। অন্যের স্বীকৃতির জন্য নিজের অস্তিত্ব অস্বীকার করার পরিবর্তে সে নিজের স্বাতন্ত্র্যকে গ্রহণ করতে শেখে।

এই মুক্তি অবশ্য কেবল একটি প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বিষয় নয়। এটি নিজের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ভয়, লজ্জা ও অপরাধবোধের সঙ্গে বোঝাপড়ারও গল্প। কারসনের সাহিত্যিক কৃতিত্ব হলো, তিনি পুরাণের পরিচিত চরিত্রকে ব্যবহার করে এমন একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যা সমকালীন পাঠকের কাছেও প্রাসঙ্গিক।

ভাষা ও আঙ্গিকে স্বতন্ত্র অ্যান কারসন

অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের বিশেষত্ব শুধু বিষয়বস্তুতে নয়, লেখার আঙ্গিকেও। কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, নাট্যরূপ ও দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনার মধ্যে তিনি প্রায়ই প্রচলিত সীমারেখা অতিক্রম করেন। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য যেমন উপস্থিত থাকে, তেমনি থাকে আধুনিক মানুষের ব্যক্তিগত সংকট ও অনুভূতির জটিলতা।

তাঁর রচনায় পাঠককে সব প্রশ্নের সহজ উত্তর দেওয়া হয় না। বরং খণ্ডিত স্মৃতি, সংক্ষিপ্ত বাক্য, পৌরাণিক অনুষঙ্গ এবং ভিন্ন ভিন্ন সাহিত্যরীতির সংমিশ্রণে তৈরি হয় বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা। ফলে তাঁর লেখা একই সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান ও আবেগের জগৎ হয়ে ওঠে।

সাফোর কবিতা অনুবাদ থেকে শুরু করে গ্রিক ট্র্যাজেডির পুনর্নির্মাণ কিংবা অটোবায়োগ্রাফি অব রেড—সব ক্ষেত্রেই কারসন প্রাচীন সাহিত্যকে কেবল ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দেখেননি। বরং সেসব রচনার মধ্যে এমন অনুভূতি ও প্রশ্ন খুঁজেছেন, যা সময়ের পরিবর্তনেও মানুষের জীবনে ফিরে আসে।

ব্যক্তিগত জীবন, অসুস্থতা ও সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতা

কানাডায় জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন শিক্ষকতা, গবেষণা, অনুবাদ ও লেখালেখিতে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও বার্ড কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন তিনি। তাঁর সাহিত্যজীবন প্রমাণ করে, প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গভীর গবেষণাও আধুনিক সৃজনশীলতার নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

জীবনের পরবর্তী সময়ে পারকিনসনস রোগের সঙ্গে তাঁর লড়াইয়ের কথাও সামনে এসেছে। এই স্নায়বিক রোগ চলাফেরা ও হাতের সূক্ষ্ম কাজকে কঠিন করে তুলতে পারে। তবু তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের পাঠ, অনুসন্ধান এবং প্রচলিত রীতিকে নতুনভাবে দেখার প্রবণতা।

২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার তাঁর সাহিত্যকর্মের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুরস্কারটির অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের একাংশ চিকিৎসাসেবামূলক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসকে দেওয়ার এবং বাকি অর্থের একটি অংশ দিয়ে এক বন্ধুকে বাড়ি কিনতে সহায়তা করার কথা ভেবেছেন তিনি।

পুরাণের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের গল্প

অ্যান কারসনের সাহিত্যভুবনে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্রগুলো নতুন অর্থে ফিরে আসে। গেরিয়নের লাল ডানা হয়ে ওঠে ভিন্নতার প্রতীক; হারকিউলিসের প্রত্যাখ্যান প্রকাশ করে প্রেম ও আত্মসম্মানের জটিলতা; আর শেষের উড্ডয়ন ইঙ্গিত দেয় নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করার সম্ভাবনার দিকে।

এই কারণেই অটোবায়োগ্রাফি অব রেড কেবল পুরাণের আধুনিক পুনর্কথন নয়। এটি এমন এক সাহিত্যিক অনুসন্ধান, যেখানে প্রশ্ন করা হয়—মানুষকে কে বা কারা দানব হিসেবে চিহ্নিত করে, ভালোবাসার জন্য কেন কাউকে নিজের পরিচয় লুকাতে হয়, আর অন্যের স্বীকৃতি ছাড়াও কি নিজের অস্তিত্বকে গ্রহণ করা সম্ভব?

অ্যান কারসনের সাহিত্য সেই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর দেয় না। বরং পাঠককে নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ফিরে তাকাতে আহ্বান জানায়। প্রাচীন গ্রিসের একটি দানবের লাল ডানার মধ্য দিয়ে তিনি তাই আধুনিক মানুষের হৃদয়ের গল্প বলেন—যেখানে প্রেম আছে, প্রত্যাখ্যান আছে, নিঃসঙ্গতা আছে, আবার নিজের মতো করে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

মাতৃত্বের বিরতি শেষে এবার বাংলাদেশের নেতৃত্বে নিশি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
মাতৃত্বের বিরতি শেষে এবার বাংলাদেশের নেতৃত্বে নিশি

মাতৃত্বের কারণে একসময় আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল ইসমেতারা নিশির। ছয় বছর পর সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই ফিরছেন তিনি। তবে এবার প্রত্যাবর্তনটা কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক হিসেবে। পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ আনসারের এই খেলোয়াড়ের সামনে এবার ঘরের মাঠে দলকে ফাইনালে তোলার বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি। চার দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে নিশির কাঁধে।

২০১৯ সালে সুযোগ এসেও খেলা হয়নি

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছিল নিশির সামনে। কিন্তু তখন তাঁর সন্তান ছোট থাকায় জাতীয় দলে জায়গা হয়নি। মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ছয় বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান। এবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। ফলে এবারের টুর্নামেন্ট নিশির কাছে শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার উপলক্ষ নয়, নিজের সামর্থ্য প্রমাণেরও সুযোগ। তবে ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অধিনায়ক। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে ভালো খেলা উপহার দিয়ে বাংলাদেশকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

তিন মাসের নিবিড় অনুশীলনে নতুন কৌশল

আসন্ন টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রস্তুতিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ দল। এবারই প্রথম বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার অধীনে টানা তিন মাসের নিবিড় অনুশীলনে আধুনিক হ্যান্ডবলের বিভিন্ন কৌশল শেখার সুযোগ হয়েছে তাঁদের। নিশির মতে, এই প্রশিক্ষণ দলের জন্য বড় প্রাপ্তি। দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় অনুশীলন করায় খেলোয়াড়েরা নিজেদের খেলার ধরন ও কৌশল আরও উন্নত করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ তিন মাস আমরা নিবিড় অনুশীলন করেছি। এবারই প্রথম কোনো বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি, এর আগে এমন সুযোগ কখনো হয়নি। কোচের কাছ থেকে আমরা আধুনিক অনেক কৌশল শিখেছি। কোর্টে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলে দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে চান খেলোয়াড়েরা। এখন অনুশীলনে শেখা কৌশল প্রতিযোগিতার ম্যাচে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটিই হবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফাইনালের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ভারত

অধিনায়ক হিসেবে নিশির লক্ষ্য পরিষ্কার—ফাইনালে খেলা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে ভারতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। একই সঙ্গে নেপাল ও মালদ্বীপকেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে চান না তিনি। নিশির মূল্যায়নে, নেপালের রক্ষণভাগ বেশ শক্তিশালী। অন্যদিকে মালদ্বীপের খেলাতেও আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। তাই প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরতে হবে বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকলেও নিজেদের দল নিয়ে আশাবাদী নিশি। তাঁর মতে, বর্তমান স্কোয়াডের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের অনেকে ২০১৯ সালের দলেও ছিলেন। অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রস্তুতির সমন্বয়ে দলটি ভালো ফল করতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। নিশি বলেন, “দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৯ সালের দলেও অনেকেই খেলেছে। তবে তখন আমার সন্তান ছোট থাকায় আমি দলে থাকতে পারিনি। বর্তমানে দল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারলে আশা করি ভারতের সঙ্গে আমরাই ফাইনাল খেলব।”

নারী হ্যান্ডবলে ভালো খেলোয়াড় তৈরির ভাবনা

নিশির ভাবনা শুধু আসন্ন প্রতিযোগিতার সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলে ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন, সে বিষয়েও নিজের মত তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলের অনেক খেলোয়াড় জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসেন। স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই তাঁদের হ্যান্ডবলের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত কৌশল শেখার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের বিকাশ আরও দ্রুত হতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিশি। তাঁর বিশ্বাস, খেলোয়াড়দের ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সবাই মূলত জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসি, স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই আমাদের প্রাথমিক শেখা। শুরু থেকেই যদি দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পে এমন বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা যায়, তবে মেয়েরা গোড়াতেই আধুনিক হ্যান্ডবলের সঠিক পাঠ পাবে। শুরুটাই যদি সেরা মানের হয়, তবে মেয়েরা আরও দ্রুত উন্নতি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।”

ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন থেকে দলীয় সাফল্যের স্বপ্ন

মাতৃত্বের কারণে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসময় খেলা হয়নি, সেখানেই এবার অধিনায়ক হিসেবে ফিরছেন নিশি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ব্যক্তিগত জীবনের একটি নতুন অধ্যায় হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলের প্রত্যাশা। ১৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে বাংলাদেশের সামনে থাকবে ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপের চ্যালেঞ্জ। তিন মাসের নিবিড় প্রস্তুতি, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং অধিনায়ক নিশির নেতৃত্ব কাজে লাগিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে দল।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

দেশ গড়তে ঐক্যের বিকল্প নেই, বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
দেশ গড়তে ঐক্যের বিকল্প নেই, বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে বাংলাদেশে উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে। নিয়মিত ও মৌলিক দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করতে পারলেও উন্নয়নের পথ সুগম হবে। অন্যথায় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধার মুখে পড়তে হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

গণতন্ত্র শক্তিশালী করাই এখন মূল কাজ

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। তিনি বলেন, অন্তত নিয়মিত দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশে উন্নয়ন করা যাবে। কিন্তু রুটিন ওয়ার্ক যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হবে। এ জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা এ মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান

দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। গত ১৭ বছরের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিল না। এখন নতুনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই যাত্রাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

‘রাজনৈতিক যুদ্ধ করেছি, এখন জীবনযুদ্ধে এগোতে হবে’

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক লড়াই করতে হয়েছে। এখন জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, যে যেখানে থাকুক না কেন, সবার দায়িত্ব হলো সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করা, দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়নের পথ সুগম হতে পারে।

২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ ছাইফ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন এবং লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটনসহ অন্য অতিথিরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি